২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ইংরেজী
Clear

22°C

Chittagong

Clear

Humidity: 68%

Wind: 17.70 km/h

  • 23 Nov 2017

    Partly Cloudy 27°C 16°C

  • 24 Nov 2017

    Mostly Sunny 27°C 18°C

রবিবার, 02 মার্চ 2014 23:06

সুরের মূর্ছনায় দু'পার বাংলার সাংস্কৃতিক সঙ্গম

লিখেছেনঃ সুবল বড়ুয়া

জিয়া নেহি মানত’ সুরের মূর্ছনায় এপার বাংলা এবং ওপার বাংলার সংস্কৃতিকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে

সদারঙ্গ উচ্চাঙ্গ সংগীত পরিষদ বাংলাদেশের আয়োজনে আধারে আলোর ঝলকে ওপার বাংলাসহ দেশীয় ওস্তাদ-শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর সুরের মূর্ছনায় পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সপ্তদশ সদারঙ্গ জাতীয় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত সম্মেলন ২০১৪। চট্টগ্রাম নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শেষ দিনে সুরের স্রোতধারায় দেশবরেণ্য পণ্ডিত, ওস্তাদ ও উপছে পড়া দর্শক শ্রোতার উপস্থিতির মধ্য দিয়ে উচ্চাঙ্গ সংগীতানুষ্ঠান শেষ হয়। পরিবেশনের মধ্যে ছিল রাগে খেয়াল, তবলা, সেতার, বাঁশি ও তানপুরা। সমগ্র অনুষ্ঠান প্রফেসর ইমেরিটাস ড. জামাল নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করা হয়।
ঘড়ির কাটা সন্ধ্যা ৭টার পাঁচ মিনিট বাকি। সংগীত শিল্পী অনিমেশ চক্রবর্তীর পরিচয়ে পর্দার আড়ালে মাইক্রোফোনে একজন বলে উঠল, উপস্থিত সকলকে সাদর সম্ভাষণ। শুরুতেই পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি রাঙামাটি শিল্পকলা একাডেমির স্বনামধন্য শিক্ষক মুজিবুল হক বুলবুলকে। ফুলেল শুভেচ্ছাও প্রদান করা হয় তাকে। এবার মূল সংগীতানুষ্ঠানের প্রারম্ভেই কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ক্যাপ্টেন ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম, পণ্ডিত বিজন চক্রবর্তীসহ উপস্থিত দর্শক শ্রোতাম-লীদের। সংগীতানুষ্ঠানের শুরুতেই উস্তাদ নিরোদ বরণ বড়ুয়া রচিত পটদ্বীপ রাগ মিশ্রিত বাংলা রাগ প্রধান গান ‘ ডাকে শুধু মুরলিয়া’ সমবেত কন্ঠে সংগীত পরিবেশন করেন রাঙামাটি থেকে আগত প্রায় ৩০ জন শিল্পী। এরপর মঞ্চে আসেন উস্তাদ নিরোদ বরণ বড়ুয়ার তনয়া শিল্পী ফাল্গুনী বড়ুয়া অলি। গেয়ে উঠে ‘পাগ লাগন দে’ মালকোষ রাগে খেয়াল। একতালে বিলম্বিত লয়ে ও ত্রিতালে মধ্য লয়ে প্রায় ৩২ মিনিট মনোমুগ্ধকর পরিবেশন করেন এ শিল্পী। শিল্পীকে তবলায় সঙ্গত করেন শিল্পী রাজীব চক্রবর্তী।  
এরপর মঞ্চে আসেন নারায়নগঞ্জের আহমেদ ব্রাদার (তিন সহোদর)। দুর্গা রাগ মিশ্রিত কম্পোজিশনে সুরেলা বাঁশির মূর্ছনায় যন্ত্র সংগীত পরিবেশন করেন তবলায় সবুজ আহমেদ, বেহালায় শান্ত আহমেদ, বাঁশিতে কামরুল আহমেদ। খুব সুন্দর মনোমুগ্ধকর যন্ত্র সংগীত পরিবেশন করে তিন সহোদর। উল্লেখ্য তিন সহোদরের প্রায় ২৮ মিনিটের কম্পোজিশন যাদুতে যুগলবন্দী উপস্থিত দর্শক শ্রোতাদের মনে দোলা দিয়েছে।  মোবাইল ফোনে সময় দেখতেই, দেখি সন্ধ্যা ০৮.১৮মি, মঞ্চে উঠলেন চট্টগ্রামের ওস্তাদ সুরবন্ধু অশোক চৌধুরী। তিনি ভূপেশ্বরী রাগে প্রায় ৩২ মিনিট খেয়াল পরিবেশন করেন। গলায় যেন সুরের যাদু। যা দর্শক শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেন।

এবার সঞ্চালক বলে উঠল, মঞ্চে আসছে ভারতীয় উপমহাদেশের রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সারেঙ্গী সাধক শিল্পী বিজয় কুমার মিশ্র। চারুকেশী রাগে প্রায় পৌনে এক ঘন্টা সারেঙ্গীর  সুর যেন এপার বাংলা এবং ওপার বাংলার সংস্কৃতিকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। এ যন্ত্রশিল্পীকে তবলায় সংগত করেন ওপার বাংলার স্বনামধন্য যন্ত্রশিল্পী (তবলা) শিল্পী শুভেন্দু দাশ। সর্বশেষ মঞ্চে উঠেন ওপার বাংলার মহারাষ্ট্রের অমরাবতী মহিলা মহাবিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের প্রধান ওস্তাদ ড. স্নেহাশীষ জে দাশ। ‘জিয়া নেহি মানত’ আভো গি কানাডা রাগে খেয়াল পরিবেশন করেন। একতালে বিলম্বিত লয়ে ও ত্রিতাল মধ্য লয়ে ‘আরজ মরি সোন’। সোয়া একঘন্টা মনোমুগ্ধকর পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এ শিল্পী দর্শক শ্রোতাদের মন কেড়ে চলে যায়। শিল্পী ও শ্রোতাগণ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উস্তাদ স্বর্ণময় চক্রবর্তীর একান্ত এ প্রয়াসকে সাধুবাদ জানান। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় ‘লঘু সংগীতে উচ্চাঙ্গ সংগীতের প্রভাব’ শীর্ষক সেমিনার চবি ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক তপনজ্যোতি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। উস্তাদ স্বর্ণময় চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন চবি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর রাশিদা খানম, ওপার বাংলার অমরাবতী মহিলা মহাবিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের প্রধান ওস্তাদ ড. স্নেহাশীষ জে দাশ, সারেঙ্গী সাধক শিল্পী বিজয় কুমার মিশ্র, ওপার বাংলার যন্ত্রশিল্পী শুভেন্দু দাশ প্রমুখ।

 

Additional Info

  • Image: Image