২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১৬ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ ২০১৭ইংরেজী
শনিবার, 19 জুলাই 2014 18:21

ধ্বজাগ্র সূত্রের উৎপত্তি ও বঙ্গানুবাদ

লিখেছেনঃ ইলা মুৎসুদ্দি

ধ্বজাগ্র সূত্রের উৎপত্তি ও বঙ্গানুবাদ

১-২। যে পরিত্রাণ মন্ত্র পুনঃপুনঃ স্মরণ করিলে জীবগণ ভূমিতে আশ্রয় পাওয়ার মত আকাশেও আশ্রয় লাভ করিয়া থাকে, যাহা স্মরণে অসংখ্য জীব যক্ষ চোরাদির নানা উপদ্রব হইতে রক্ষা পাইয়া থাকে; সেই ধ্বজাগ্র পরিত্রাণ আমরা পাঠ করিতেছি.
বঙ্গানুবাদ
০১। আমি এইরূপ শুনিয়াছি- এক সময় ভগবান বুদ্ধ শ্রাবস্তীতে জেতবন উদ্যানে অনাথপিণ্ডিক নির্মিত বিহারে বাস করিতেছিলেন। তথায় একদিন ভগবান ভিক্ষুগণকে “হে ভিক্ষুগণ” বলিয়া সম্বোধন করিলে ভিক্ষুগণ “ভদন্ত” বলিয়া প্রত্যুত্তর প্রদান করিলেন। তখন ভগবান বলিলেন-
০২। ভিক্ষগণ! অতীতে একবার দেবতা ও অসুরের মধ্যে সংগ্রাম উপস্থিত হইলে দেবরাজ ইন্দ্র ত্রয়ত্রিংশ স্বর্গবাসী দেবগণকে সম্বোধন করিয়া বলিয়াছিলেন, মহাশয়গণ! যদি সংগ্রামক্ষেত্রে গিয়া দেবগণের ভয় বা রোমাঞ্চ উৎপন্ন হয় তবে আমার ধ্বজাগ্রভাগ দর্শন করা উচিত। আমার ধ্বজাগ্র দর্শন করিলে তোমাদের ভয় বা রোমাঞ্চ দূরীভুত হইবে।
০৩। যদি আমার ধ্বজাগ্র দর্শন না কর, তবে দেবরাজ প্রজাপতির ধ্বজাগ্র দর্শন করা উচিত। দেবরাজ প্রজাপতির ধ্বজাগ্র দর্শন করিলে তোমাদের ভয় বা রোমাঞ্চ সবই দূরীভূত হইবে।
০৪। যদি দেবরাজ প্রজাপতির ধ্বজাগ্র দর্শন না কর, তবে দেবরাজ বরূণের ধ্বজাগ্র দর্শন করা উচিত। দেবরাজ বরূনের ধ্বজাগ্র দর্শন করিলে তোমাদের ভয় বা রোমাঞ্চ সবই দূরীভূত হইবে।
০৫। যদি দেবরাজ বরূণের ধ্বজাগ্র দর্শন না কর, তবে দেবরাজ ঈশানের ধ্বজাগ্র দর্শন করা উচিত। দেবরাজ ঈশানের ধ্বজাগ্র দর্শন করিলে তোমাদের ভয় বা রোমাঞ্চ সবই দূরীভূত হইবে।
০৬। হে ভিক্ষুগণ! দেবেন্দ্র শক্রের ধ্বজাগ্র বা দেবরাজ প্রজাপতির ধ্বজাগ্র বা দেবরাজ বরূণের ধ্বজাগ্র বা দেবরাজ ঈশানের ধ্বজাগ্র দর্শন করিলে ভয় বা রোমাঞ্চ দূর হইতেও পারে নাও হইতে পারে। তাহার কারণ কি? কারণ দেবেন্দ্র শত্র“ লোভহীন, দেষহীন ও মোহহীন নহে। ভীরূ; স্তব্ধ, ত্রাসযুক্ত ও পলায়নকারী।
০৭। হে ভিক্ষুগণ! আমি কিন্তু এইরূপ বলিতেছিঃ- অরণ্য, বৃক্ষমূল কিংবা শূন্যাগারে যেখানেই তোমরা যাও না কেন যদি তোমাদের ভয়, স্তব্ধতা ও রোমাঞ্চ উৎপন্ন হয়; তবে তোমরা আমাকে স্মরণ করিও। “সেই ভগবান অর্হৎ, সম্যকসম্বুদ্ধ বিদ্যাচরণ সম্পন্ন, সুগত, লোকবিদ, অনুত্তর, পুরুষদম্য সারথী, দেবমনুষ্যগণের শাস্তা বুদ্ধ এবং ভগবান।” ভিক্ষুগণ! আমাকে স্মরণ করিলে তোমাদেও ভয়, স্তব্ধতা ও রোমাঞ্চ সবই দূরীভূত হইবে।
০৮। যদি আমাকে স্মরণ না কর তবে ধর্মকে স্মরণ করিও। “ভগবান বুদ্ধ কর্তৃক ধর্ম সু-আখ্যাত, প্রত্যক্ষফলপ্রদ, ফলদানে অকালিক ‘এস, দেখ’ বলিয়া আহ্বান করিবার যোগ্য, নির্বাণের উপনয়কারী ও বিজ্ঞগণ কর্তৃক স্বয়ং জ্ঞাতব্য।” হে ভিক্ষুগণ! ধর্মকে অনুস্মরণ করিলে তোমাদের ভয়, স্তব্ধতা ও রোমাঞ্চ সবই দূরীভূত হইবে।
০৯। যদি ধর্মকে অনুস্মরণ না কর, তবে এইরূপে সঙ্ঘকে অনুস্মরণ করিও। “সুপথে উপনীত ভগবান বুদ্ধেও শ্রাবকসঙ্ঘ, ঋজুপথে, নির্বাণপথে ও সমীচীন পথে উপনীত বুদ্দের শ্রাবকসঙ্ঘ এবং তাঁহারা আহ্বানের উপযুক্ত, দানের যোগ্য পাত্র, দক্ষিণার উপযোগী, অঞ্জলীর যোগ্য ও জগতে সর্বশ্রেষ্ঠ পুণ্যক্ষেত্র।” হে ভিক্ষুগণ! সঙ্ঘকে করিলে তোমাদের ভয়, স্তব্ধতা ও রোমাঞ্চ সবই দূরীভূত হইবে।
১০। তাহার কারণ কি? হে ভিক্ষুগণ, তথাগত অর্থাৎ সম্যক সম্বুদ্ধ লোভ-দ্বেষ ও মোহহীন এবং ভীরূ, স্তব্ধ, ত্রাসযুক্ত ও পলায়ণপর নহেন। ভগবান বুদ্ধ ভিক্ষুদিগকে এই কথা বলিয়া অতঃপর অপর গাথা বলিলেন।
১১। হে ভিক্ষুগণ! বনে অথবা বৃক্ষমূলে, কিংবা শূন্যাগারে অবস্থানকালে সম্বুদ্ধকে অনুস্মরণ করিলে তোমাদের কোন ভয় থাকিবে না।
১২। যদি লোকজ্যেষ্ঠ নরার্ষভ বুদ্ধকে স্মরণ না কর, তবে সকল দুঃখ হইতে নিস্ক্রমনের কারণ সম্ভূত বুদ্ধদেশিত ধর্মকে স্মরণ করিবে।
১৩। যদি নির্বাণ পথগামী বুদ্ধদেশিত ধর্ম স্মরণ না কর তবে অনুত্তর পুণ্যক্ষেত্র সঙ্ঘকে অনুস্মরণ করিবে।
১৪। হে ভিক্ষুগণ! এইরূপে বুদ্ধ,ধর্ম ও সঙ্ঘকে যাহারা স্মরণ করে তাহাদের ভয়, স্তব্ধতা বা রোমাঞ্চ হইবে না.

Source: Soshanvumi Meditation Practiciing Center.Karaiyanagor

Additional Info

  • Image: Image