২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৯ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৭ইংরেজী
মঙ্গলবার, 28 জানুয়ারী 2014 03:13

জয়মঙ্গল অষ্ট গাথার বিষয়বস্তু

লিখেছেনঃ সৈকত মিত্র বড়ুয়া

জয়মঙ্গল অষ্ট গাথায় তথাগত মহাকরুণিক সম্যক সম্বুদ্ধের জীবনের আটটি ঘটনার কথা উল্লেখ রয়েছে। আমার এই ক্ষুদ্রতম জ্ঞানে আজকে অনেকদিন ধরে আপনাদের " জয়মঙ্গল অষ্ট গাথার " সংঘটিত আটটি ঘটনার বিবরণ ধারাবাহিক ভাবে উপস্হাপন করার মধ্যেদিয়ে ধর্মদানপূর্বক পূণ্য অর্জনের প্রয়াস ব্যক্ত করেছি। আজকের বর্ণনায়- জয়মঙ্গল অট্ঠগাথার বিষয়বস্তু সমুহ আলোচনা করব। সময় নিয়ে পড়ার অনুরোধ থাকল সবার প্রতি।

 

নবম গাথা-
এতাপি বুদ্ধ-জয়মঙ্গল-অট্ঠগাথা,
যো বাচকো দিনে দিনে সরতেমতন্দি।
হিত্বাননেক বিবিধানি চুপদ্দবানি,
মোক্খং সুখং অধিগমেয়্য নরো সপঞ্ঞো।

অনুবাদ : যে আবৃত্তিকারী বুদ্ধের এই জয়মঙ্গল অষ্টগাথা বিনয় এবং শ্রদ্ধা সহকারে প্রতিদিন পাঠ এবং স্মরণ করবেন তিনি প্রজ্ঞাবান মানুষ হবেন। এতে করে তার চিত্ত হবে পরিশুদ্ধ এবং ঐ প্রজ্ঞাবান সত্ব নানান প্রকারের অপ্রত্যাশিত এবং যত প্রকারের গ্রহ দোষ,মহামারি,অশুভ শক্তি,মারেরউপদ্রব,নানান প্রকার ভয় ভীতি, আপদ-বিপদ হতে মুক্তি লাভ করবেন। এবং অধিকতর সুখ এবং লোকোত্তর বিমুক্তি লাভ করবেন।

জয়মঙ্গল অট্ঠগাথার বিষয়বস্তু :
জয়মঙ্গল-অট্ঠগাথা অর্থাৎ ভগবান তথাগত সম্যক সম্বুদ্ধের জয়সূচক লোককল্যাণকর মঙ্গল কথাময় অট্ঠগাথা নামক সূত্রে সর্বমোট নয়টি গাথা রয়েছে। এদর মধ্যে প্রথম আটটি গাথায় ভগবান তথাগত সম্যক সম্বুদ্ধের অত্যধিকআশ্চর্যকর আটটি ঘটনার কথা বর্ণনা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা করা হয়েছে। সর্বশেষ অর্থাৎ নবম গাথায় ভগবান বুদ্ধের জীবনের কোন ঘটনার কথা বর্ণিত হয় নি। এটিকে সূত্রের 'নিগমন-গাথা' রূপে প্রয়োগ করা হয়েছে। এ গাথার মধ্যমে আবৃত্তিকারী ও শ্রবণের সপরিণাম সম্পর্কে উভয়কে অবগত করা হয়। পালি ত্রিপিটক এবং বুদ্ধ-জীবনী জাতক সম্পর্কে যাদের মোটামোটি ধারণা আছে তাদের এই গাথা সমুহের অর্থ বুঝতে কোন প্রকার অসুবিধা হয় না। এ গাথা শ্রবণে এবং আবৃত্তিতে মহা মঙ্গলদায়ক। তাই শ্রদ্ধাবান, প্রজ্ঞাবান বৌদ্ধ জনসাধারণ প্রতিদিন সকাল বিকাল বুদ্ধের এই জয় গাথা পাঠ এবং শ্রবণ করা উচিৎ। এতে করে তার চিত্ত হবে পরিশুদ্ধ এবং ঐ প্রজ্ঞাবান সত্ব নানান প্রকারের অপ্রত্যাশিত এবং যত প্রকারের গ্রহ দোষ,মহামারি,অশুভ শক্তি,মারেরউপদ্রব,নানান প্রকার ভয় ভীতি, আপদ-বিপদ হতে মুক্তি লাভ করবেন। এবং অধিকতর সুখ এবং লোকোত্তর বিমুক্তি লাভ করবেন। সুত্রপাঠ সুর করে করলে অনেকটা সুন্দর এবং শ্রুতিমধুর হয়। তাই সুর করে শুদ্ধ উচ্চরণ করে সূত্রপাঠ করলে দেবগণ অত্যধিক আনন্দিত হন। এবং মানবের কল্যাণে সধা সবসময় সৎ কাজে উপস্থিত থাকেন। প্রতিদিন বুদ্ধ-বন্দনাদি শেষ করে পরলোকগত জ্ঞাতিগণ ও দেবগণরে উদ্দেশ্যে পূণ্যদান করতে হয়। এতে করে জ্ঞাতিগণ সুখী হয় এবং দেবগণ সর্বদা আনন্দিত এবং কৃতজ্ঞতা বশত যে কোন ধরণের বিপদ হতে রক্ষা করে থাকেন।
আমার এই ক্ষুদ্রতম জ্ঞানে এতদিন ধরে আপনাদের " জয়মঙ্গল অষ্ট গাথার " সংঘটিত আটটি ঘটনার বিবরণ ধারাবাহিক ভাবে উপস্হাপন করার মধ্যেদিয়ে ধর্মদানপূর্বক পূণ্য অর্জনের প্রয়াস ব্যক্ত করেছি। যদি অপ্রত্যাশিত ভাবে কোন প্রকার ভূল হয়ে থাকে মার্জন দৃষ্টি পূর্বক দেখবেন।

মানব জীবন অতীব দূর্লব। আর সেই দূর্লব মানব জীবনকে স্বার্থক করেছেন তথাগত গৌতম বুদ্ধ।
হিংসা নীতি বর্জন করে অহিংসার বাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্ব পরিমন্ডলে। সমগ্র মানব জাতিকে দেখিয়েছেন দুঃখ, দুঃখ হতে মুক্তির পথ, দুঃখ নিরোধ, দুঃখ নিরোধের উপায়। দেব, ব্রহ্মা ও মানুষের মুক্তির কল্যাণে তথাগত সম্যকসম্বুদ্ধ স্থান, কাল, পাত্র ভেদে সদ্ধর্ম দেশনা করতেন। মৈত্রী দিয়ে জয় করেছেন সমস্ত অশুভ শক্তিকে। এবং আলোকিত করেছেন এই বিশ্ব পরিমন্ডলকে। জগতে দেখিয়েছেন মুক্তির আলো। তথাগত সেই সম্যক সম্বুদ্ধকে জানান নতশীর করজোরে বন্দনা জ্ঞাপন।

উপরোক্ত জয় গাথা বর্ণনায় আমার, আপনার প্রত্যেকের নিরন্তর জয়মঙ্গল হোক। জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক, দুঃখ হীন হোক, রোগ-ব্যাধি, ভয়-ভীতি, অন্তরায় মুক্ত হোক। প্রত্যেকে সাধুবাদের সহিত অনুমোদন করুন।