২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ইংরেজী
Sunny

28°C

Chittagong

Sunny

Humidity: 61%

Wind: 22.53 km/h

  • 21 Nov 2017

    Sunny 29°C 19°C

  • 22 Nov 2017

    Partly Cloudy 27°C 17°C

মঙ্গলবার, 22 সেপ্টেম্বর 2015 17:26

জয়মংগল অট্ঠগাথার বাংলা অনুবাদ ৮ম (শেষ) পর্ব

লিখেছেনঃ ইলা মুৎসুদ্দী

জয়মংগল অট্ঠগাথার বাংলা অনুবাদ ৮ম (শেষ) পর্ব

অষ্টম গাথা-

দুগগাহ দিট্ঠি ভূজগেন সদট্ঠ হত্থ,
ব্রহ্মং বিসুদ্ধি জুতি মিদ্ধিবকাভিধানং।
ঞানাগদেন বিধিনা জিতবা মুনিন্দো,
তন্তেজসা ভবতু তে জয় মঙ্গলানি।

বক ব্রহ্মা- বকব্রহ্মা পূর্বে এক জন্মে ধ্যান পরায়ন ছিলেন। সেই পূন্য ফলে দশম রুপ ব্রহ্মলোকে জন্ম গ্রহন করেছিলেন। সেখানে পঞ্চশত কল্প পরিমান আয়ু ভোগ করে তিনি শুভকৃৎস্ন নামক নবম রুপব্রহ্মলোকে জন্মগ্রহন করেন। অতঃপর চতুঃষষ্টি কল্প আয়ু অতিবাহিত করে তিনি আভাস্বর ব্রহ্মলোকে গমন করেন। আভাস্বর ব্রহ্মলোকে আয়ুপরিমান ছিল অষ্টকল্প মাত্র। কিন্তু আভাস্বর ব্রহ্মলোকে অবস্থান করার সময়ে ব্রহ্মলোকে নিত্য, ধ্রব শ্বাশত, অপরিবর্তনশীল, ব্রহ্মলোক হতে লোকান্তরে গমন বা নির্বান নামক কোন পদার্থ নেই, বকের এরুপ মিথ্যাদৃষ্টি জন্মে ছিল। তিনি উর্দ্ধতম ব্রহ্মলোকে জন্ম গ্রহন করেছিলেন এটি ভূলে গিয়েছিলেন। এই বিষয় স্মরণ ছিল না বলে তিনি ভ্রমে পতিত হয়েছিলেন। ভগবান বুদ্ধ বকের মনোভাব বুঝতে পারলেন। তারপর তিনি বলবান পুরুষ যেমন অবলীলা ক্রমে আকুঞ্চিত করে সেভাবে জেতবন হতে অন্তর্হিত হয়ে উক্ত ব্রহ্মলোকে আবির্ভূত হলেন। তাঁকে দেখে বক স্বাগত জানিয়ে বললেন- আসতে আজ্ঞা হোক, মারিষ! আপনি অনেকদিন এখানে আসতে সুবিধা গ্রহন করেননি, এ ধাম নিত্য দ্রুব, শাশ্বত, এটি কৈবল্য ধাম এর পরিবর্তন নেই, এর আদি নেই, অবনতি নেই ধ্বংস নেই, এর অবস্থান্তর প্রাপ্ত হয় না, পুনরুৎপন্নও হয় না। লোকে নির্বান প্রাপ্তির স্থান এর অপেক্ষা উর্দ্ধতর কোন গতি নেই। এটি শুনে ভগবান বককে বললেন-

বক ব্রহ্মা দেখতেছি অবিদ্যার আচ্ছন্ন হয়েছেন। এটি শুনে বক ভাবলেন- এই ব্যক্তি! তুমি এটি বলতেছ, তুমি এটি বলতেছ বলে অনুধাবন পূর্বক নিজেকে ব্যতি ব্যস্ত করে তুললেন। যেমন কোন দুর্বল চোর দু, চার বার প্রহার পেলে আমি কি একাই চোর, অমোক চোর, অমুক চোর বলে সমস্ত সঙ্গীদের ধরে দেয়, সে রুপ বক ব্রহ্মাতি ভগবানের প্রশ্নে ভীত হলেন এবং ব্রহ্মলোকের নিত্যতা সম্পর্কে অন্য অনেকেও যে তাঁর সাথে একমত হলেন। বুদ্ধ তাকে বললেন, মর্ত্যলোকে অমর কেহ নেই। কার্য-কারণ বিধানে সংষ্কৃতধর্মের এমন কিছুই নেই যার পরিবর্তন হয় না। শাস্তা এরুপে বক ব্রহ্মার মিথ্যা দৃষ্টি দরীভূত করে ব্রক্ষলোক হতে জেতবনে ফিরে আসলেন।

এই হলো জয় মঙ্গল অষ্টগাথার কাহিনী। এ কাহিনীতে ভগবান বুদ্ধ কোথাও অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করেননি। সমস্ত কাহিনীতে মৈত্রী বলে জয়ী হয়েছেন এবং তাঁর ধর্ম প্রচার করতে সক্ষম হয়েছেন। তাই আমরা যদি বুদ্ধের এই আদর্শ জীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি তাহলে আমাদের মাঝে সুখ-শান্তি আসবে, আসবে পরস্পর সহনশীলতা, ভ্রাতৃত্বের মনোভাবের সহাবস্থান। সেখানে থাকবে না হিংসা, হানা-হানি রেষা-রেষি বিদুরিত হবে স্বার্থ পরতা। তাই আসুন আমরা বুদ্ধের আদর্শকে জীবনে প্রতিফলিত করি।

যে জ্ঞানরূপী তেজপ্রভার প্রভাবে মিথ্যাদৃষ্টি প্রভাবিত বক ব্রক্ষ্মার প্রজ্ঞা প্রদীপ জ্বলে উঠেছিল ঐ তেজের প্রভাবে আপনাদের সকলের জয়মংগল সাধিত হোক।

সূত্র-জয়মংগল অট্ঠগাথা, ভিক্ষু সত্যপাল।

Additional Info

  • Image: Image