২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১৪ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০১৭ইংরেজী
বুধবার, 16 সেপ্টেম্বর 2015 01:31

জয়মংগল অট্ঠগাথার বাংলা অনুবাদ ৭ম পর্ব

লিখেছেনঃ ইলা মুৎসুদ্দী

জয়মংগল অট্ঠগাথার বাংলা অনুবাদ ৭ম পর্ব

নন্দোপনন্দ ভূজগং বিবুধং মহিদ্ধিং,
পুত্তেনা থের ভূজগেন দমাপযন্তো।
ইদ্ধু পদেসবিধিনা জিতবা মনিন্দো,
তন্তেজসা ভবতু তে জয়মঙ্গলানি।

এ গাথার মূল কথা নন্দোপনন্দ নামক দুর্দমনীয় ভূজংগের দমন ও তাঁর ত্রিশরণ গ্রহণ।
নন্দোপনন্দ ছিল একজন মহা ঋদ্ধি সম্পন্ন নাগরাজ। ভগবান একদা ৫০০ ভিক্ষু সহ তাবতিংস স্বর্গে যাচ্ছিলেন। যাবার পথে তাঁদেরকে নন্দোপনন্দ নাগরাজের ভবনের উপর দিয়ে যেতে হয়েছিল। নাগরাজ তখন আহার গ্রহণে ব্যস্ত ছিলেন। বুদ্ধের তেজে তার স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটে। এতে নাগরাজ খুবই রেগে যান। রাগে থাকতে না পেরে নন্দোপনন্দ সুমেরু পর্বত নিজের শরীর ও ফনা দ্বারা আচ্ছাদিত করল। ফলে তাঁদের তাবতিংস গমনের পথ রুদ্ধ হয়।
নাগ ভবনের উপর পৌঁছলে রাষ্ট্রপাল নামক একজন ভিক্ষু ভগবানকে বললেন- ভন্তে, পূর্বে আমরা এখানে পৌঁছলে সুমেরু পর্বত তাবতিংস, বৈজয়ন্ত প্রসাদ ও তদুপরি ধ্বজ্জা দেখতাম। আজ দেখছি না কেন? ভগবান বললেন- নন্দোপনন্দ তোমাদের উপর রাগান্বিত হয়ে সুমেরু পর্বত আচ্ছাদিত করে অন্ধকার করে রেখেছে। তখন তৎপর ভগবানের আদেশে মহামোগ্গল্লায়ন তাকে অলৌকিক ঋদ্ধিবলে দমন করেন।কারণ বুদ্ধ জানতেন একমাত্র মহামোগ্গল্লায়ন ব্যতীত আর কারো পক্ষে নন্দোপনন্দকে পরাস্ত করার শক্তি নেই। উভয়ে ঋদ্ধিবল প্রদর্শনের মাধ্যমে মহাযুদ্ধ করেন। অবশেষে মহামৌদগল্যায়ন চতুর্থ ধ্যানে ধ্যানস্থ হন। চতুর্থ ধ্যানের উদ্ধিবল প্রয়োগ করে নন্দোপনন্দকে পরাস্ত করেন। অতপর নন্দোপনন্দ ভগবান বুদ্ধের কাছে এসে শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং বুদ্ধের শিষ্যত্ব বরণ করেন।
বুদ্ধ যে প্রখর প্রখর বুদ্ধিবলে অগ্রশ্রাবক মহামৌদগল্যায়নের ঋদ্ধিবল এর প্রভাবে নন্দোপন্দের মান-অভিমান দমন করিয়াছিলেন সেই তেজ প্রভাবে আপনাদের সকলের জয় ও মংগল হোক।
সূত্র-জয়মংগল অট্ঠগাথা, ভিক্ষু সত্যপাল।

Additional Info

  • Image: Image