২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ইংরেজী
Sunny

28°C

Chittagong

Sunny

Humidity: 61%

Wind: 22.53 km/h

  • 21 Nov 2017

    Sunny 29°C 19°C

  • 22 Nov 2017

    Partly Cloudy 27°C 17°C

বুধবার, 09 সেপ্টেম্বর 2015 00:51

জয়মংগল অট্ঠগাথার বাংলা অনুবাদ ৫ম পর্ব

লিখেছেনঃ ইলা মুৎসুদ্দী

জয়মংগল অট্ঠগাথার বাংলা অনুবাদ ৫ম পর্ব

কত্বান কট্ঠ মুদরং ইব গব্ভিনীযো,
চিঞ্চায দুট্ঠ বচনং জনকায মজ্ঝে।
সন্তেন সোমবিধিনা জিতবা মুনিন্দো,
তন্তে জসা ভবতু তে জয মঙ্গালি।

বুদ্ধ যখন জেতবন বিহারে অবস্থান করছিলেন তখন জেতববন বিহারের অদূরে নিগ্রন্থ পরিব্রাজকদের মঠ ও আশ্রম ছিল। ভগবান বুদ্ধের অপূর্ব চরিত্র বল ও ব্যক্তিত্ব তাঁর প্রচারিত ধর্মের স্বচ্ছতা ও যৌক্তিকতা এবং ভিক্ষু ও ভিক্ষুণী সংঘের ধর্ম প্রচারে একাগ্রতার ফলে জনগণ বুদ্ধ, ধর্ম, সংঘে প্রতি ধাবিত হল। অন্যদিকে তীর্থিক গনের লাভ সৎকারের পরিহানি ঘটল। শ্রাবস্তীতে ভগবান বুদ্ধ কর্তৃক যমক প্রতিহার্য প্রর্দশনের ফলে যে সমস্ত ধর্মাধর্ম বোধহীন অজ্ঞ ও অন্ধ বিশ্বাসী লোক তাঁরাও বুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধান্বিত হয়ে পড়ল। বুদ্ধের প্রভাব প্রতিপত্তি অসম্ভব বেড়ে গেল। তীর্থিক গনের লাভ সৎকার সম্পূর্ন নিষ্প্রভ হয়ে পড়ল। এতে তীর্থিকেরা প্রমাদ গুনল এবং বুদ্ধ ও তাঁর শ্রাবক সংঘকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ব্যতি ব্যস্ত হল।

এক সময় চিঞ্চা নামে এক অসৎ স্বভাবের রমনী তীর্থিক সম্প্রদায়ের প্রতি শ্রদ্ধান্বিত ছিল। সে ছিল যেমনি রুপবতী তেমনি চুতরা। একদিন তীর্থিকাশ্রমে এসে প্রনাম করে আসন গ্রহন করার পর তীর্থিকেরা বলল- বুদ্ধের আর্বিভাবের তাদের দুরবস্থার প্রতিকার চিন্তা করতে অনুরোধ করল। তাঁরা আরও বলল- বুদ্ধের কোন প্রকার কুৎসা রটিয়ে তাঁকে জন সমক্ষে হেয় প্রতিপন্ন করতে পারলে তাঁর এই অপূর্ব প্রভাব প্রতিপত্তি কমে যাবে এবং তাঁদের লাভ সৎকার পূনঃ প্রতিষ্ঠা হবে।

চিঞ্চা তাঁদের আশ্বাস দিয়ে এসে এক উপায় বের করল। প্রত্যেক দিন সন্ধ্যাবেলা জেতবনে বুদ্ধের উপদেশ শুনে জনগণের ফেরার সময় হলে, গোলাপী বর্ণের সুদৃশ্য পোষাকে সজ্জ্বিতা হয়ে ফুলের মালা ও সুগন্ধি দ্রব্যাদি হাতে জেতবনের দিকে যেত এবং কেউ জিঞ্জাসা করলে সে তার স্থান যে জেতবন তা গোপন রাখার ভান করত। রাত্রে নিকটবর্তী কোন তির্থীকাশ্রমে রাত যাপন করে সকাল বেলা জনগণের জেতবনে যাওয়ার সময় হলে সেই পথ দিয়ে প্রত্যাবর্তন করত। চার মাস পরে পেটে পুরানো বস্ত্রাদি বেঁধে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ভান করত এবং বলে বেড়াত যে শ্রমণ গৌতম কর্তৃক সে গর্ভবতী হয়েছে। নবম মাসে সে একটি মোটা কাষ্ঠ খন্ড তলপেটে বেঁধে জেতবনে উপস্থিত হল এবং ধর্মোপদেশ দানেরত ভগবান বুদ্ধকে সম্বোধন করে বলল- প্রভু, আপনার সহবাসে আমি আজ সন্তান সম্ভবা এবং আমার প্রসবকাল আসন্ন। অথচ আপনি আমার জন্য, কোন প্রসবাগার ও ঔষধ পন্যের ব্যবস্থা করেননি। আপনার ধর্ম কি এরুপ অনুমোদিত আছে। এসব ব্যবস্থা করা যদি আপনার পক্ষে সম্ভব না হয় তাহলে আপনার তো, কোশল রাজ প্রসেনজিৎ, অনাথপিন্ড শ্রেষ্ঠী ন্যায় বহু ধনাধ্য ব্যক্তি আছেন, তাঁদেরকে একবার বলে দিলে তো অনায়াসে সুবন্দোবস্ত হত। এই অবলা নারীকে তখন প্রলোভিত করতে পেরেছিলেন। অথচ স্বীয় ঔরজ জাত অনাগত সন্তানের রক্ষনাবেক্ষনের ব্যবন্থা করতে পারেননি। ভগবান বুদ্ধের এরুপ অপবাদ শুনে দেশনা শুনে শ্রোতামন্ডলী হতবাক হয়ে গেল।

অন্যদিকে দেবরাজ ইন্দ্রের আসন উত্তপ্ত হল। সেই উত্তাপ এত বেশী হলো যে তা ইন্দ্র সহ্য করতে পারছিল না। পরে উত্তাপের কারণ জানতে পেরে তৎক্ষণাৎ একজন দেবদূতকে পাঠান। দেবদূত ইঁদুরের বেশে সবার অলক্ষ্যে চিঞ্চা যখন হাত উঁচিয়ে বুদ্ধের নিন্দা করছিলেন, ঐ সময় ইঁদুর সুতোর বাধনগুলো কেটে ফেলে। চিঞ্চা রমনীর হঠাৎ কাশি পেয়ে গেল এবং কাশতে কাশতে বলল হ্যাঁ প্রভু এই গোপন কথা আমি আর আপনি ছাড়া কেউ জানার কথা নয়। একথা বলতে বলতে সে এত জোরে কাশতে লাগল হঠাৎ তার তলপেটের বাঁধন খুলে ভারী কাষ্ঠ খন্ডটা তার পায়ের নিচে পড়ে গেল। এভাবে তার প্রবনঞ্চনা ধরা পড়ে যাওয়ায় সমবেত জনমন্ডলী তাতে মারতে মারতে সেখান থেকে বিতাড়িত করল। তাদের এই দুরভিসন্ধি ব্যর্থ হওয়ায় নিতান্ত ম্রিয়মান হতে পড়ল তীথির্কগণ। চিঞ্চা হঠাৎ পৃথিবী বির্দীন হয়ে অবিচি নরকে পতিত হল। এভাবে লোক ত্রাতা বুদ্ধ চিঞ্চা রমনীকে মৈত্রী দ্বারা দমন করেছিল ।

সূত্র-জয়মংগল অট্ঠগাথা, ভিক্ষু সত্যপাল।

Additional Info

  • Image: Image