২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১০ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ রবিবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৭ইংরেজী
শনিবার, 02 নভেম্বর 2013 17:45

বুদ্ধ গাথা এবং অন্যান্য

লিখেছেনঃ সংগ্রহ

বুদ্ধ গাথা সমুহ

ত্রিশরণ গাথা

বুদ্ধের শরণ গত নরকে না যায়,
নর লোক পরিহরি দেবলোক পায়।
ধর্মের শরণ গত নরকে না যায়,
নর লোক পরিহরি দেবলোক পায়।
সংঘের শরণ গত নরকে না যায়,
নর লোক পরিহরি দেবলোক পায়।
ভূধর, কন্দর কিংবা জনহীন বন,
শান্তি হেতু লয় লোকেসহস্র শরণ।
ত্রিরতœ শরণ কিন্তু সর্ব দুঃখ ক্ষয়,
লভিতে ইহারে সদা হও অগ্রসর।

বুদ্ধের সপ্তবার গাথা

গুরুবারে বুদ্ধাংকু মাতৃগর্ভে এল,
শুক্রবারে শুভলগ্নে ভূমিষ্ঠ হইল।
সোমবারে গৃহত্যাগ করেন সিদ্ধার্থ,
বুধবারে লভেন তিনি পরম বুদ্ধত্ব।
শনিবারে ধর্মচক্র করেন দেশন,
মঙ্গলবারে পরি নির্বাণ লভে বুদ্ধ ধন।
রবিবারে দাহ কার্য হল সমাপন,
সপ্তবারে সপ্তকার্য হল সমাপন।
এই সপ্তবারের মধ্যে শুধু মঙ্গলবার,
বড়ই শোকের বলি স্মরি বারে বার।
এই বন্দনা, এই পুজা, এই জ্ঞান প্রভায়।
সর্ব তৃষ্ণা, সর্ব দুঃখ ক্ষয় যেন পায়।

প্রদীপ পূজা

অন্ধকার ধবংস কারী এই দ্বীপ দানে,
পুজেতেছি পুজিতেছি বুদ্ধ ভগবানে।
দ্বীপের আলোক যথা অন্ধকার হরে,
জ্ঞানের আলোক তথা মোহ দুর করে।
কেমন সুন্দর দ্বীপ নয়ন রঞ্জন,
কিন্তু ইহা হইতেছে ক্ষয় অনুক্ষণ।
এ সলিতা, এই তৈল, যবে ফুরাইবে,
তখনি এ যোগ জাত দ্বীপ নিভে যাবে।
সেইরূপ তৃষ্ণা-তৈল গেলে শুকাইয়া
জীবনের শিখা যায় নির্বাপিয়া।
এই বন্দনা, এই পুজা, এই জ্ঞান প্রভায়।
সর্ব তৃষ্ণা, সর্ব দুঃখ ক্ষয় যেন পায়।

পুষ্প পুজা

বন্ন গন্ধ গুণ যুত কুসুম প্রদানে,
পুজেতেছি পুজিতেছি বুদ্ধ ভগবানে।
এই পুষ্প এ ক্ষণ সুন্দর বরণ,
মনোরম গন্ধ তার সুন্দর গঠন।
কিন্তু  শীঘ্রই বর্ণ তার হইবে মলিন,
দুর্গন্ধ দুগঠন অনিত্য বিলিন।
এই রুপ জড়াজড়  সকলি অনিত্য।
সকলি দুঃখের হেতু সকলি অনাত্ব,
এই বন্দনা, এই পুজা, এই জ্ঞান প্রভায়।
সর্ব তৃষ্ণা, সর্ব দুঃখ, ক্ষয় যেন পায়।

বুদ্ধপূজা গাথা

বুদ্ধ পূজা কি আনন্দ ওহে ভক্তগণ,
ইহা বড় পূণ্য মহালাভের কারণ।
মিলি মোরা এক সঙ্গে আনন্দিত মনে,
নানা দ্রব্য সাজাইয়া পরম যতনে।
খাদ্য, ভোজ্য, প্রদীপ, পুষ্প, নানা সুভাষিত,
মহানন্দে বুদ্ধ পদে হইয়া ভক্তি চিত।
আনন্দেতে বিভূষিত আমাদের মন,
আজি মোর সবে দিব পূজা হয়ে এক মন।
অসার মানব কুলে পূণ্য বিনাধন,
নাহি হবে এই ভবে সুখের কারণ।
তাই এই পূন্য দিনে মিলি সর্বজন,
,এসো পূজি মহানন্দে বুদ্ধের চরণ।
দয়ার সাগর বুদ্ধ মুক্তির আকর,
অনন্ত পূণ্যে জ্যোতি জগতে প্রসার।
বুদ্ধ পূজায় মহাপূণ্য লভি সর্বজন,
লভিতে বাসনা সবে নির্বাণ কারণ।
এই পূজা, এই পূণ্য, প্রার্থনা করি অনুক্ষণ,
প্রার্থনায় ইহাতে মম হউক পূরন।
এই বন্দনা, এই পুজা, এই জ্ঞান প্রভায়।
সর্ব তৃষ্ণা, সর্ব দুঃখ ক্ষয় যেন পায়।

বৈশাখী পূর্ণিমা গাথা

বৈশাখী পূর্ণিমা তিথি অতি শুভক্ষণ,
ধর ভরা চন্দ্র আলো অতি সুশোভন।
থোকা থোকা জোনি পোকা তরু শাখা ধরি,
ঝিকি মিকি করিতেছে চন্দ্র আলো করি।

সরোবরে কুমুদিনী পেয়ে চন্দ্র আলো,
ফুল্ল মনে বলে আহা আজি বড় ভালো।
এমন পূর্ণিমা দিনে লুম্বিনী উদ্যানে,
বুদ্ধাঙ্কুর জন্ম নিল অতি শুভ ক্ষণে।

জন্ম ক্ষণে বসুন্ধরা সশব্দে কাপিঁয়া,
আনন্দ প্রকাশ করে সাধুবাদ দিয়া।
স্বর্গে থাকি দেবগণ সাধুবাদ করে,
আনন্দে পুরিত ধরা বুদ্ধাঙ্কুর হেরে।

জন্ম মাত্র “জ্যেষ্ঠ আমি শ্রেষ্ঠ আমি বলি”,
ধরাধামে প্রকাশিল হস্ত এক তুলি।
আনন্দেতে পাখী কুল বিস্তারিয়া ডানা,
হেলে দুলে নাচে আর শব্দ করে নানা।

মৃদু মন্দ বহি বায়ু আনন্দ জানায়,
পাপী তাপী ত্রাণ কর্তা এল এই ধরায়।
এহেন পবিত্র দিনে নৈরঞ্জনা তীরে,
সুজাতার পায়সান্ন খেয়ে ধীরে ধীরে।

গয়াধামে বোধিমূলে বসি মায়া ধন,
সব রাত্রি মারসনে করি ঘোর রণ।
সর্বক্লেশ বিনাশিয়া লভি বোধি জ্ঞান,
বুদ্ধ নামে খ্যাত হল জগত প্রধান।

বহুবিধ অলৌকিক শক্তি সহকারে,
পঞ্চচত্তারিংশ বর্ষ জগত মাঝারে।
সুধাময় নবধর্ম করিয়া প্রচার,
নরদেব ব্রহ্মদের করি উপকার।

অশীতি বৎসর পূর্ণে করুনা নিকর,
কুশীনারা শালবনে গিয়ে অতঃপর।
শুভ্র জ্যোৎস্না আলো ধৌত গগনের তলে,
বৈশাখী পূর্ণিমা দিনে দেব-নর দলে।

কাদাঁইয়া নির্বাণ লভে বুদ্ধধন,
জ্ঞানদ্বীপ নির্বাপনে কাঁদিল ভূবন।
ত্রি-স্মৃতি বিজড়িত এই শুভ মহাদিনে,
সবে মিলি শ্রদ্ধা ভরে কায়-বাক্য-মনে।
নত শিরে বন্দি সবে সুগত-চরণ,
এই পূণ্যে হয় যেন দঃখ বিমোচন।

আষাঢ়ী পূর্ণিমা

আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথি অতি শুভক্ষণ,
চারি স্মৃতি বিজরিত শোভন মোহন।
এ সময়ে চলে প্রকৃতির খেলা,
বিচিত্র বিধানে হয় চমৎকার লীলা।

মেঘের গম্ভীর ধ্বনি অশনি গর্জন,
বিজলীর আঁকা বাকা প্রভা সুশোভন।
ক্ষণে বৃষ্টি, ক্ষণে রোদ, ক্ষণে মেঘাবৃত,
জলত শীতল বায়ু বহে অবিরত।

নদী ডোবা পুষ্করিনী আর সরোবর,
জলপূর্ণ হয়ে আছে দেখিতে সুন্দর।
সরোজ- কুমুদ কত রয়েছে ফুটিয়া,
মধুকর মধু লোভে যাইতেছে ছুটিয়া।

এহেন পূর্ণিমা যোগে গভীর নিশীতে,
মায়া দেবী স্বপ্ন দেখে অতি হরষিতে।
শ্বেত হস্তী শ্বেতপদ্ম শুণ্ডেতে ধরিয়া,
তিনবার প্রদক্ষিণ রাণীকে করিয়া।

দক্ষিণ পার্শ্বেতে যেন প্রবেশে জঠরে,
সেইক্ষণে বোধিসত্ব মায়ার উদরে।
তুষিত স্বর্গ হতে নেমে এসে ধীরে,
জন্ম নিল জগতের কল্যাণের তরে।

এমন অপর শুভ পূর্ণিমা নিশিতে,
দুঃখের নিরোধ চিন্তা করিতে করিতে।
সংসার নিগড় হতে মুক্তি লাভ তরে,
রাজ্য ধন ত্যাগ করি আকুল অন্তরে।

স্ত্রী-পুত্রের মায়াপাশে করিয়া ছেদন,
অর্ধরাত্রে করিলেন অভিনিস্ক্রমণ।
সিদ্ধার্থের ত্যাগ দেখি দেব-ব্রহ্মগণ,
মহানন্দে সাধুবাদ দেয় ঘনে ঘন।

এরুপ অপরএক পূর্ণিমা তিথিতে,
ভগবান উপনীত হয়ে সারনাতে।
মৃগাদাবে পঞ্চশিষ্যে দীক্ষা প্রদানিয়া,
ধর্মচক্র প্রবর্তন প্রথম দেশিয়া।

জ্ঞানদ্বীপ জানিলেন তাদের অন্তরে,
ইহা দেখি দেব-ব্রহ্মা সাধু ধ্বনি করে।
এমন পবিত্র অন্য মহাশুভক্ষণে,
প্রর্দশিল যমক খদ্ধি শ্রাবস্তী গগণে।

সমাপন করি বুদ্ধ করুণা-অন্তরে,
তখনি গেলেন চলি তাবতিংশ পুরে।
সেইখানে তিনমাস বসি ইন্দ্রাসনে,
মাতাসহ দেবগণে মৈত্রীপূর্ণ মনে।

অভিধর্ম শুনালেন মধুর ভাষণে,
শ্রেষ্ঠ ধর্ম শুণে সবে অতি হৃষ্ট মনে।
এই চারি মহাস্মৃতি রয়েছে জড়িত,
আষাঢ়ী পূর্ণিমা সনে জানিবে নিশ্চিত।

এ পবিত্র দিনে সবে হয়ে একত্রিত,
বুদ্ধাপূজা দানশীলে হয়ে একচিত।
বুদ্ধের আদর্শ নীতি করিয়া পালন,
অচিরে লভিতে যেন পারি মোক্ষধন।

মধু পর্ণিমা গাথা

শ্রীমধু পর্ণিমা তিথি মাধুরীমা ময়,
চারিদিকে মৃদু মৃদু মধু বায়ু বয়।
শাখে শিখি নাচে গাহে প্রীতিভরা আঁিখ,
সরোবরে,খেলে সুখে হংস চকা-চকি।

প্রকৃতির রাজ্যপূর্ণ আনন্দ লহরী,
বুদ্ধগুণ স্মরি নাছে ময়ুর-মুয়ূরী।
বাগানে কুসুমরাশি অতিমনোহর,
পুকুর সলির ভরা দেখিতে সুন্দর।

সরসীতে শতদল রয়েছে ফুটিযা,
রাজ হংস পদ্মবনে যায় সাতাঁরিয়া।
ধানের সবুজ মাঠে মৃদু বায়ুবয়,
তাহা চাষীদল সুখে মগ্ন হয়।

সুর্নিমল শুভ্র আভা সারদ চন্দ্রিমা,
বিতরিছে নিরবধি সারদ সুষমা।
এহেন সুন্দর দিনে প্রীতি ফুল্ল মনে,
পূজিতে বাসনা করি বুদ্ধ প্রাণ ধনে।

অরণী বর্ষণ করি অগ্নি উৎপাদিয়া,
সুসিদ্ধ করিয়া জল শুণ্ডেতে আনিয়া।
তাহা মহানন্দে পূজি বুদ্ধ ধনে,
ফুরিল মনের সাধ গজফুল্ল মনে।

কিশলয় শাখ গুচ্ছ শুণ্ডেতে ধরিয়া,
মৃদু মৃদু পাখাা করে দুলিয়া দুলিয়া।
নিত্য নিত্য গজরাজ  বুদ্ধে এরুপে,
পূজিয়া পুলকে তথা দীর্ঘ দিন যাপে।

হেন মধুর দৃশ্য করি দরশন,
পূজিতে আকুল হয়ে বানর তখন।
মধুচক্র হাতে করি বনের বানর,
আসিয়া শ্যী বুদ্ধে পূজে হরষি অন্তর।

বানরের ভক্তি শ্রদ্ধা আর মধু দানে,
বনস্থলী প্রকম্পিত সাধুবাদ দানে।
এহেন পূজার দৃশ্য হেরী বন্য প্রাণী,
হিংসা ক্রোধ ভুলি সবে মৈত্রী ধ্বনি।

স্বর্গে থাকি এই পূজা দেখি দেবগণ,
সাধুবাদ করে পুষ্প বরিষণ।
এই সাথে মোরা সবেহয়ে এক মন,
আনন্দেতে সাধুবাদ দাও গনে ঘন।

আজি মোরা মধু দানে ভক্তি শ্রদ্ধাভরে,
পূজিতেছি শ্রীবুদ্ধকে মোক্ষ লাভ তরে।
মধুদান এ পূজায় জন্মে জন্মে যেন,
সুমধুর কণ্ঠ স্বরে জিনি ত্রিভূবন।

আশ্বিনী পূর্ণিমা গাথা

আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথি অতি শোভাময়,
প্রকৃতির রাজ্য সরে আনন্দিত রয়।
মাঠ ভরা দান ক্ষেত সোনার বরণ,
দেখিতে সুন্দর কত না যার বর্ণন।
মৃদু মৃদু বায়ু যবে প্রবাহিত হয়,
অপূর্ব তরঙ্গ খেলে ধান ক্ষেত ময়।
গোলাপ টগর চাঁপা শেফালি মালতি,
জল পদ্ম, স্থল পদ্ম, বেলা, জবা যুথি।
সুন্দর কুসুম রাশি বিকশিয়া ভরে,
সুমধুর গন্ধ দানে তৃপ্ত করে সবে।
কমলিনী কুমুদিনী ফোঁটে সরোবরে,
লিকুল তাহে নিত্যে গুণ গুণ করে।
পূর্ণ শশাঙ্ক আরো দেখে মান্তে স্নিগ্ধময়,
কুমুদিনী পেয়ে তারা আনন্দিত হয়।
প্রত্যুষে বিহঙ্গ কুল ডানা বিস্তারিয়া,
কল কল শব্দ করে আনন্দে মাতিয়া।
এমন সুন্দর দিনে বুদ্ধ প্রাণধন,
তাবতিংশ বর্ষাবাস করি সমাপন।
স্বর্ণ রোপ্য, মনিময় দিব্য সিঁড়ি দিয়া,
শাংকস্য নগর ধারে আসেন নামিয়া।
দেব নর ব্রহ্ম সবে সদা পরস্পর,
অবধি দুষ্টি দেখে পরম সুন্দর।
এই সুন্দর ক্ষণে দেব ব্রহ্মা নর,
সাধুবাদ করি তোলে ভূবন মুখরিত।
এমন সুন্দর দিনে মোরা সবে মিলি,
সর্বজ্ঞ বুদ্দকে পুজি ভক্তি প্রাণ খুলে।

মাঘী পূর্ণিমা গাথা

শ্রী মাঘী পূর্ণিমা তিথি অতি শুভক্ষণ,
চারিদিকে উকি মারে বসন্ত তখন।

মরনানুস্মৃতি গাথা

মরণংমে ভবিস্সতি, কর সদা এই স্মৃতি,
রবে না মরণ ভীতি, কর স্মৃতি মরণং।

সব্বে সত্তা মরিস্সন্তি, রবে নাকো দেহ-কান্তি,
দুরে যাবে চিত্ত ক্লান্তি, কর স্মৃতি মরণং।

মরিংসুচ মরিস্সরে, দ্রুব মৃত্যু এসংসারে,
মৃতু না রোধিতে পারে, কর স্মৃতি মরণং।

আয়ু-সুর্য্য অস্ত যায়, দেখিয়ে না দেখ তায়,
অন্ধকারে কি উপায়, কর স্মৃতি মরণং।

সাঙ্গ হবে ভব খেলা, রবেনা আনন্দ মেলা,
কেনরে আপন ভোলা, কর স্মৃতি মরণং।

দারা সুতা পরিজন, কিবা পর কি আপন,
মৃত্যুবশে সর্বজন, কর স্মৃতি মরণং।

অই দেখ মৃত্যু কায়, কাষ্ঠ খন্ড তুল্য হায়,
কেনরে আপন ভোলা, কর স্মৃতি মরণং।

জমে গেছে আর্বজনা, আর কিন্তু জমাইও না,
ক্ষয় কর আর্বজনা কর স্মৃতি মরণং।

জন্মিলে মরিতে হবে, মৃত্যু চিন্তা কর সবে,
অমর নাহিক ভবে কর স্মৃতি মরণং।

সংসারে সংসারী সেজে, রত থাক নিজ কাজে,
জল যত পদ্ম মাঝে, কর স্মৃতি মরণং।

কাজ কর কাজের বেলা, কর নাক অবহেলা,
বেচে যাবে যাবার বেলা কর স্মৃতি মরণং।

জরায় জরিত হলে, কিছুই হল না বলে,
রবে না শোচনা কালে , কর স্মৃতি মরণং।

দিনে দিনে আয়ু ক্ষয়, যেতে হবে যমালয়,
মৃত্যু কারো বশে নয়, কর স্মৃতি মরণং।

কালে করাল গ্রাসে, পড়িবে যে অবশেষে,
ছাড়িবে না কালগ্রাসে, কর স্মৃতি মরণং।

অই দেখ জরা ব্যাধি, পাছে ঘুরে নিরবধি,
কে খন্ডাবে কর্ম বিধি, কর স্মৃতি মরণং।

বব পারে যাবে যদি, কর স্মুতি নিরবধি,
পাইবে অমৃত নিধি, কর স্মৃতি মরণং।

দিনটি হারালে আর, পাবে নাকো পূনঃবার,
মৃত্যু চিন্তা কর সার, কর স্মৃতি মরণং।

আজকে যা পার কর, কালকের আশা নাহি কর,
জান না কখন মর, কর স্মৃতি মরণং।

আজ মরি কি মরি কাল, মরণের কি আছে কাল,
তৈরী থাক সর্বকাল, কর স্মৃতি মরণং।

কাল যে কোথায় রবে, দিসা তার নাহি পাবে,
অনুতাপ দুর হবে, কর স্মৃতি মরণং।

মৃত্যু স্মৃতি যেবা করে , ত্রিলক্ষণ জ্ঞান বাড়ে,
মৃত্যুকে সে জয় করে, কর স্মৃতি মরণং।

ভোগের বাসনা তার, কভু না রহিবে আর,
সেই হবে ভব পার, কর স্মৃতি মরণং।

শমনে ধরিবে যবে, সুন্দর নিমিত্ত পাবে,
সজ্ঞানে সুগতি হবে, কর স্মৃতি মরণং।

উত্তম হইবে গতি, দেবের বাঞ্জিত অতি,
দিব্য সুখ লভে যতি, কর স্মৃতি মরণং।

মৃত্যু স্মৃতি আছে যার, মরনে কি ভয় তার,
হইবে সে দুঃখ পাব, কর স্মৃতি মরণং।

সদা স্মতি রাখ সবে , স্মৃতি ভান্ড বেড়ে যাবে,
বিলায়ে আনন্দ পাবে, কর স্মৃতি মরণং।

দিনের পর অবশেষে, চিন্তা কর বসে বসে,
ভবপার তরব কিসে, কর স্মৃতি মরণং।