২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১০ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ রবিবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৭ইংরেজী
বুধবার, 05 ফেব্রুয়ারী 2014 03:05

সপ্ত মহাস্থান বিস্তৃতার্থ এবং বন্দনা

লিখেছেনঃ প্রাঞ্জল বড়ুয়া

সপ্ত মহাস্থান বিস্তৃতার্থ এবং বন্দনা

বুদ্ধত্ব লাভের পর বুদ্ধ বোধিবৃক্ষের পাশে সাতটি স্থানে ঊনপঞ্চাশ দিন অবস্থান করেন। সেসময় তিনি কখনো ধ্যানমগ্ন ছিলেন। কখনো পদচারণ করেছেন। কখনো তাঁর উদ্ভাসিত নবধর্ম সম্পর্কে চিন্তা করেছেন। বোধি বৃক্ষের চারিপাশে এ রকম সাতটি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সাতটি স্থানকে সপ্ত মহাস্থান বলা হয়। সেই সপ্ত মহাস্থান হলো-

১) বোধিপালঙ্ক : বুদ্ধ যে আসনে বসে বুদ্ধত্ব লাভ করেছেন তাকে বোধিপালঙ্ক বলা হয়। এই বোধিপালঙ্কই সমস্ত বুদ্ধগণের বুদ্ধত্ব লাভের মহা পবিত্র স্থান এবং এই বোধিপালঙ্ককে পৃথিবীর নাভিস্থলও বলা হয়। গৌতম বুদ্ধের ধর্ম শাসন কালের অন্তিম অবস্থায় দেব, মনুষ্য, ব্রহ্মলোক, নাগলোক সহ যেখানে যেখানে বুদ্ধের ধাতুসমূহ বিদ্যমান রয়েছে, সেই সকল স্থান হতে বুদ্ধের সমস্ত ধাতু বুদ্ধ গয়ার এই বোধিপালঙ্ক তথা বোধিদ্রুম মূলে এসে একত্রিত
হবে এবং পুনরায় বুদ্ধরূপ ধারণ করবে, নিমিত্ত বুদ্ধরূপে। তখন সেই নিমিত্ত বুদ্ধ পুনরায় নৈর্বানিক ধর্ম দেশনা করবেন। অতঃপর, বুদ্ধের ধাতুসমূহের পরিনির্বাণ সংঘটিত হবে।

২) অনিমেষ স্থান : বোধিপালঙ্ক থেকে কিছুটা উত্তর-পূর্ব কোণে অনিমেষ স্থান অবস্থিত। অনিমেষ স্থানে বসে বুদ্ধ সাত দিন ধরে এক পলকে বোধিবৃক্ষের দিকে তাকিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন। এজন্য এ স্থান অনিমেষ চৈত্য নামে পরিচিত।

৩) চংক্রমণ স্থান : বোধিপালঙ্ক ও অনিমেষ স্থানের মাঝখানে যে বেদীটি দেখা যায়, তা চংক্রমণ (পদাচরণ) স্থান নামে পরিচিত। এই চংক্রমণ স্থানে বুদ্ধ এক সপ্তাহ চংক্রমণের মধ্যদিয়ে অতিবাহিত করেন।

৪) রত্নঘর : বোধিপালঙ্কের সোজা উত্তর-পশ্চিম পাশের সামান্য দূরে রত্নঘর স্থান অবস্থিত। বুদ্ধ এ স্থানে বসেই ধ্যান করেছিলেন।

৫) অজপাল ন্যাগ্রোধ : এটি বোধি পালঙ্কের সোজা পূর্বদিকে এবং অনিমেষ স্থানের কিছু দক্ষিণ পাশে অবস্থিত। ছাগল পালকেরা এ বৃক্ষের নিচে বসতো বলেই এটি অজপাল বৃক্ষ নামে পরিচিতি লাভ করে। বুদ্ধ এ স্থানে বসে ধ্যান করতেন।

৬) মুচলিন্দ স্থান : বোধি পালঙ্কের দক্ষিণ-পূর্বে এটি অবস্থিত। এখানে নাগরাজের বসবাস ছিল। মুচলিন্দ বৃক্ষের নিচে ধ্যান করার সময় নাগরাজ তাঁর দেহ দিয়ে বুদ্ধকে বেষ্টন করে মশা-মাছি, ঝড়-বৃষ্টি প্রভৃতি থেকে রক্ষা করেছিলেন।

৭) রাজায়তন স্থান : বোধিপালঙ্কের সামান্য দক্ষিণ-পূর্বে এবং মুচলিন্দের উত্তর পাশে এটির অবস্থান। রাজায়তন নামে এক ধরণের পার্বত্য বৃক্ষ ছিল বলেই এটি রাজায়তন স্থান নামে পরিচিত। এখানেও বুদ্ধ সাত দিন যাবৎ ধ্যান করেছিলেন।

বুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এই সপ্ত মহাস্থান বৌদ্ধদের নিকট অতি পবিত্র। তাই বৌদ্ধরা একাগ্রচিত্তে এই সপ্ত মহাস্থানকে বন্দনা নিবেদন করে। সপ্ত মহাস্থান বন্দনা গাথাটি নিম্নরূপ-
পঠমং বোধিপল্লঙ্কং, দুতিযং অনিমিসম্পি চ
ততিযং চঙ্কমণং সেট্ঠং, চতুত্থং রতনঘরং
পঞ্চমং অজপালঞ্চ, মুচলিন্দঞ্চ ছট্ঠমং
সত্তমং রাজায়তনং, বন্দে তং বোধিপাদপং।

বাংলা :- প্রথম বোধিপালঙ্ক, দ্বিতীয় অনিমেষ স্থান, তৃতীয় চংক্রমণ স্থান, চতুর্থ রতনঘর স্থান, পঞ্চম অজপাল ন্যাগ্রোধ বৃক্ষ, ষষ্ঠ মুচলিন্দ মূল, সপ্তম রাজায়তন বৃক্ষ সহ বোধিবৃক্ষকে আমি অবনত শিরে বন্দনা করছি।

কৃতজ্ঞতাঃ স্বাধীন চিন্তা-চেতনা ও মানব কল্যাণে বৌদ্ধধর্ম

অজানাকে জানা, জানাকে নতুন করে জানা এবং সৎ, সত্য, সুন্দর চলার পথে যদি উপরোক্ত পোষ্টটি কাউকে প্রেরণা যোগায় তবেই পোস্টটি সার্থকথা খুঁজে পাবে এবং প্রচারকারীরও প্রচারকাজে উত্তরোত্তর মনোবল বৃদ্ধি পাবে।

Additional Info

  • Image: Image