২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১২ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই ২০১৭ইংরেজী
সোমবার, 12 অক্টোবর 2015 01:01

সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী আমরা পেরেছি, আমরা পারবো

লিখেছেনঃ উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী
আমরা পেরেছি, আমরা পারবো

আজকের মানববন্ধন প্রসঙ্গে লিখেছেন- উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

সপ্তাহ খানেক আগের কথা বড়দুয়ারা শ্মশানের অরণ্যাচারী ভদন্ত দীপেন্দ্রিয় ভান্তে ফোন করে জানালেন তার সেবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে সাতকানিয়া থানায়। পরে ভান্তে নিজে গিয়েছেন বন কর্মকর্তা সরোয়ার জাহানের সাথে কথা বলতে, বিষয়টি সমাধা করতে । এটুকু পর্যন্ত হলে ভালোই ছিল কারণ অরণ্যে যেহেতু ভান্তেরা অবস্থান করেন তাই তাদের সম্পর্কে বন কর্মকর্তার ভূল ধারণা জন্মাতেই পারে। তাই আলোচনায় গেলে সব ভুল বুঝাবুঝির অবসান হবে বলেই বিশ্বাস করি। তাছাড়া ভান্তেরা যেসব অরণ্যে অবস্থান করে সেখানে গাছ চুরি তেমন একটা হয় না বললেই চলে ফলে সরকারের জন্য এক প্রকার লাভ-ই হয় গাছ রক্ষা পায় বলে।
কিন্তু না সমাধান আসেনি ভান্তের সাথে বন কর্মকর্তার আলোচনায়। বন কর্মকর্তা ভান্তেকে যেসব কথা বলেছেন তা বৌদ্ধদের জন্যে যথেষ্ট উদ্বেগজনক ছিল। তিনি ভান্তেকে বলেছেন- এই পর্যন্ত খ্রিষ্টানদের পাদ্রীসহ সাতজন লোককে হত্যা করেছে নিজ হাতে কেউ কিছু করতে পারেনি.... ইত্যাদি, ইত্যাদি। অবশ্য খালি কলসীর আওয়াজ একটু বেশী-ই হয় এক্ষেত্রে হয়তো তা হতে পারে, তাই এসব কথা কানে না তুললেও চলে। তবে হ্যা, তার সর্বশেষ কথাটা ছিল সত্যিই চিন্তা করার মতো। সে ভান্তের সেবকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যাতে ভান্তেদেরকে ওখান থেকে উচ্ছেদ করতে পারে সেই উদ্দেশ্যেই। সে আরো বলেছে- এক জায়গা থেকে তুলতে পারে পর্যায়ক্রমে সবগুলো অরণ্য থেকে ভান্তেদের তাড়াবে।
এই কথাগুলো জানার পর আর চুপ থাকা যায় না। কারণ এই একটা বিষয় সমাধা হলেও সে নানাভাবে আরো অনেক সমস্যার সৃষ্টি করবে তা ধরেই নেওয়া যায়। বিষয়টি যেহেতু পুজ্য প্রজ্ঞেন্দ্রিয় ভান্তের শিষ্যকে নিয়েই তাই ভান্তের অনেক শুভাকাঙ্খী এগিয়ে এলেন, পরামর্শ দিলেন।

ভান্তের বেশ কজন শুভাকাঙ্খী (অনেকেই সরকারী চাকুরীরত বলে সঙ্গত কারণেই নাম প্রকাশ করলাম না) আলোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলো যে, আমরা আজ সকালে প্রথমে চট্টগ্রামস্থ প্রধান বন সংরক্ষকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করবো, দুপুর ১২টায় মানব বন্ধন এবং সবশেষে ডিসি সমীপে স্মারকলিপি প্রদান।

পুজ্য ভান্তের শুভাকাঙ্খীরা কেউ সাতকানিয়া থানায় ফোন দিয়ে বলেছেন মিথ্যা অভিযোগটা নিয়ে যেন বাড়াবাড়ি করা না হয়, আবার গতকাল কেউ ব্যানার তৈরীতে ব্যস্ত ছিলেন, কেউ রাত জেগে ফেষ্টুন তৈরী করেছেন, কেউ স্মারকলিপি হাতে লিখেছেন, আইনজীবি সেটা প্রুফ দেখেছেন এবং কেউবা কম্পিউটারে কম্পোজ করেছেন- এভাবেই প্রস্তুতি চলতে থাকে।

এদিকে আমাদের মিডিয়াকর্মীরাও বসে নেই তারা পরশুদিন থেকে ফেইসবুক পাতা, অনলাইন সংবাদপত্র গুলোতে বিষয়টি প্রচার করতে থাকে। সবশেষে মানববন্ধন এ অংশগ্রহণে আহবান জানায়।
মানববন্ধনে যারা অংশগ্রহণে ইচ্ছুক তাদের মোবাইল নম্বর চাওয়া হয়েছিল, আমাদের একজন সেসব নম্বরে মেসেজ দিয়ে মানববন্ধনে আসার সময় জানিয়ে দেয়।

আমাদের মানববন্ধনের খবরটি এত বেশি প্রচার পায় যে শেষ পর্যন্ত ঢাকার প্রধান বন সংরক্ষকের কাছেও পৌছে যায়।তিনি দেরী না করে চট্টগ্রামের বন সংরক্ষককে ফোন দেয় যেন মানববন্ধন না হয় আলোচনায় বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে যায়। এদিকে চট্টগ্রামের বন সংরক্ষকও নিজ থেকে ভান্তেদের ফোন দিয়ে আহবান জানায় যেন মানববন্ধন না করে, তারা সব দাবী মেনে নেবে।
শুধু তাই নয় চন্দনাইশের সংসদ সদস্য এবং সাতকানিয়ার সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারীরাও সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে আহবান জানায় যেন মানববন্ধন না করে, তারা সমস্যার সমাধানে সার্বিক সহায়তা দানের আশ্বাস প্রদান করে।

অতঃপর প্রজ্ঞেন্দ্রিয় ভান্তের নেতৃত্বে ভান্তেদের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা হয় চট্টগ্রাম বন সংরক্ষক(দক্ষিণ) এর সাথে।আগামীকাল-ই অভিযোগ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হলো। ফলে মানববন্ধন স্থগিত করা হলো। বলা চলে আমাদের বিজয় হলো।

প্রিয় পাঠক, বিষয়টাকে হালকাভাবে নেওয়া হলেও এর যথেষ্ট গুরুত্ব আছে। আমরা যদি চুপ করে থাকতাম তা হলে হয়তো ঐ বন কর্মকর্তা ধীরে ধীরে তার অসৎ উদ্দেশ্য সাধনে এগিয়ে যেতো। আমাদের অস্থিত্ব হুমকির মধ্যে পড়তো। এখন আজকের এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সে নতুন করে কিছু করতে অনেকবার ভাববে। শুধু তাই নয়, নতুন কেউ বদলী হয়ে সেখানে গেলে সেও ভান্তেদের বিরুদ্ধে মিথ্যা কোন কিছু করার সাহস পাবে না।
প্রিয় পাঠক, পুজ্য প্রজ্ঞেন্দ্রিয় ভান্তে আপনাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সার্বিক সহায়তা দানের জন্য। মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার জন্য অনেকেই এসেছেন যদিও দাবী আদায় হওয়ায় মানববন্ধন করতে হয় নাই-

আপনাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ প্রদান করছি।বিশেষ করে ফেইসবুকে পেইজে সংবাদ প্রকাশ করে, অনলাইন প্রকাশনায় সংবাদ প্রকাশ করে যারা বিষয়টিকে লাইমলাইটে এনেছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যারা ফেইসবুক থেকে শেয়ার দিয়ে সারা বিশ্বে বিষয়টি ছড়িয়ে দিয়েছেন তাদেরকেও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

আগে ভাবতাম বৌদ্ধরা প্রয়োজনের সময় একতাবদ্ধ হতে জানে না বা হতে পারে না। আজ তা ভূল প্রমাণ হলো। আমরা পেরেছি, আমরা পারবো। ভবিষ্যতে যখনই আমাদের উপর দুর্যোগ চলে আসবে অবশ্যই এবারের মতো আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যাবো এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। পরিশেষে বলতে হয়- আমরা সত্যের জয়ের জন্য লড়াই করেছি, প্রমাণিত হলো সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী।
উজ্বল বড়ুয়া বাসু, সম্পাদকঃ দি বুড্ডিস্ট টাইমস।

Additional Info

  • Image: Image