২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৬ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ শুক্রবার, ২১ জুলাই ২০১৭ইংরেজী
সোমবার, 24 আগষ্ট 2015 23:55

বৌদ্ধদের প্রকাশনা সমৃদ্ধ নয় কেন?

লিখেছেনঃ ইলা মুৎসুদ্দী

বৌদ্ধদের প্রকাশনা সমৃদ্ধ নয় কেন?

আজকের লেখাটি ব্যতিক্রমধর্মী একটি লেখা। শুধুমাত্র লাইক দিয়ে এড়িয়ে যাবেন না। কষ্ট করে পড়ুন এবং আপনার সুচিন্তিত মতামত প্রকাশ করুন।
বাংলাদেশে বৌদ্ধদের বহু সংগঠন রয়েছে। এইসব সংগঠন সমূহ সমাজের উন্নয়নে, জাতির উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সমাজের বিভিন্ন অসংগতি, কোন বড় ধরণের সমস্যা হলে সংগঠন সমূহের বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তা অনেকাংশে নিরসন হয়। তারা চেষ্টা করে যায়, যাতে করে তাদের কাজের মধ্য দিয়ে সমাজের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের মানুষের উপকার হয়। পাশাপাশি বৌদ্ধ সমাজের উন্নয়নে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আবার বিভিন্ন সংগঠন সামাজিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ত্রৈমাসিক, ষান্মাষিক কিংবা বাৎসরিক পত্রিকা এবং ম্যাগাজিন প্রকাশ করে থাকে। আমরা কিন্তু এইসব পত্রিকা কিংবা ম্যাগাজিনকে খুবই খাটো করে দেখি। যারা প্রকাশনা কাজের সহিত সংশ্লিষ্ট তাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে থাকি। কিভাবে করে থাকি? দেখা যায়, একটি পত্রিকা বা ম্যাগাজিন একজনের পক্ষে আর্থিক সংকুলানের মাধ্যমে বের করা সম্ভব হয় না। যার জন্য প্রয়োজন হয় আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা। যখন পত্রিকা বা ম্যাগাজিন বের করার জন্য কাউকে পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য বলা হয়, তখন তারা এসব কাজে সম্পৃক্ত হতে রাজী হন না। তারা বলে থাকেন, এটা একটা পত্রিকা হলো? অথচ একটু চিন্তা করলে দেখবেন, একটি প্রকাশনা সেটি পত্রিকা হোক বা ম্যাগাজিন হোক সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

একটি প্রকাশনা থেকে আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, প্রবন্ধ, ধর্মীয়, সামাজিক বিভিন্ন তথ্যাবলী পাচ্ছি। যার দরুণ আমাদের জ্ঞানভান্ডার সমৃদ্ধ হচ্ছে। বিশেষ করে আমাদের পরিবারে একটি পত্রিকা বা ম্যাগাজিন যখন আমাদের সন্তানেরা পড়ে, তখন তারা হয়তো আরো একধাপ এগিয়ে যাবার সুযোগ পায়। আর যারা সম্পাদক তারা কিন্তু হেলাফেলা নয়। কারণ তাদের দ্বারাই নতুন লেখক সৃষ্টি হয়। সৃজনশীল কাজের সহিত যুব সমাজের সম্পৃক্ততার কারণে তাদের অগ্রগতি হয়। বর্তমানে একটি বিষয় খুবই দুঃখের সাথে বলতে হয়, এতকিছুর পরেও বৌদ্ধ প্রকাশনা সমূহ সমৃদ্ধ হতে পারছে না, যথাযথ আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে। বাংলাদেশে গুনগতমান সম্পন্ন লেখনী সমৃদ্ধ প্রকাশনা যথেষ্ট আছে। কিন্তু এক বৃত্তে গিয়ে তারা আটকে আছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তারা যুগোপযোগী এগুতে পারছে না। আবার অনেকে পৃষ্ঠপোষকতা করে কিন্তু শর্ত জুড়ে দেয়া হয়, আমার অমুক লেখাটি দিতে হবে। তখন সম্পাদক পত্রিকা কিংবা ম্যাগাজিন যথাসময়ে বের করার জন্য মানহীন লেখা দিতে বাধ্য হয়। যদিও এটা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তারপর ও এরকম ঘটনার শিকার হয় মাঝে মাঝে। এজন্য লেখার গুণগত মান অনেক সময় বজায় রাখা সম্ভবপর হয়ে উঠে না।

পত্রিকা বা ম্যাগাজিনের সম্পাদকেরা যথাসময়ে পত্রিকা বা ম্যাগাজিন বের করার জন্য যথেষ্ট শ্রম ব্যয় করেন যা আমাদের বোধগম্য নয়। তাদের কারণেই অনেকে আজ সৃজনশীল কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট থেকে সমাজের বিভিন্ন দিকে অবদান রাখছে। পাশাপাশি সংগঠনসমূহ শিশু-কিশোরদের চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা, সংগীত প্রতিযোগীতা, ধর্মীয় বৃত্তি প্রদান, কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একদিকে আমাদের সন্তানদের মেধাকে আরো বিকশিত করার জন্য উৎসাহিত করছে এবং দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কারণ আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যত। তাই আমি বলব, আমাদের বৌদ্ধ সমাজে বিত্তবানের অভাব নেই। আছে শুধু চিত্তের অভাব। আপনাদের একটুখানি সহযোগীতা পেলে একটি পত্রিকা কিংবা ম্যাগাজিন সমৃদ্ধ প্রকাশনায় রূপান্তর হবে নিঃসন্দেহে। তাই বৌদ্ধদের প্রকাশনা সমৃদ্ধ করুন, জাতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখুন। কারণ এটাও আপনার একটি সামাজিক দায়িত্ব। আপনার পৃষ্ঠপোষকতা কেন চায়? কারণ আপনার সেরকম পৃষ্ঠপোষকতা করার মতো সামর্থ্য আছে বলেই একজন সম্পাদক আপনার সহযোগিতায় এগিয়ে যেতে চায়। সকলের সহযোগীতায় বৌদ্ধ প্রকাশনা সমৃদ্ধ হবে এই প্রত্যাশা করি।

বি.দ্র ঃ সবাই যে সহযোগিতা করে না তা নয়, তবে প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

Additional Info

  • Image: Image