২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৯ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ইংরেজী
রবিবার, 29 মার্চ 2015 15:40

বহুধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ছে বাংলাদেশে বৌদ্ধ মতবাদ

লিখেছেনঃ কাকন বড়ুয়া, প্যারিস থেকে

বহুধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ছে বাংলাদেশে বৌদ্ধ মতবাদ

সারা বিশ্বে বৌদ্ধ ধর্মের মূল ধারা ”থেরবাদ তত্ব” যে কয়েকটি দেশে স্বগৌরবে বিদ্যমান ছিল বংলাদেশ তার অন্যতম । কিন্তু কালের বিবর্তনে ধর্ম গুরুদের ভিন্ন ভিন্ন মত ও পথের কারণে এবং সমাজের অভিজাত শ্রেনীর কতিপয় নেতাদের কারণে আজ বাংলাদশে বৌদ্ধ মতবাদ বহুদা ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে । যেমন :

১) নিকায় মতবাদ : বিনয় বিধান নিয়ে এ বিভেদ আজ আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ২ ধারায় বিভক্ত (এটি সবাই জানি তাই বিস্তারিত আলোচনা করলাম না)

২) ধুতাঙ্গ মতবাদ : থেরবাদ ধর্মে আত্বমুক্তির কঠিনতম কিন্তু সুন্দরতম ধারা হলো ধুতাঙ্গ মার্গ । কিন্তু আত্ব মুক্তির জন্য যারা আজ ধুতাঙ্গ সাধনায় রত হয়ে পাহাড়ে বা শ্ব্সানে সাধনা করছেন তাহারা নিজ মুক্তির চেয়ে অন্যের মুক্তির জন্য বেশী চিন্তিত । বিভিন্ন গ্রামকে তাহারা দ্বী খন্ডিত করে বিহারকে বাদ দিয়ে শ্বশানে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি সম্পাদন করছেন । উনাদের রয়েছে বিশাল ভক্ত কুল যারা ধুতাঙ্গ ভান্তে বা শ্বশানের ভান্তে বললেই ‘সারিপুত্র – মৌগলায়ন বা সীবলী মহাস্থ্বীর’ মনে করে হুমডে খেয়ে পড়েন । তারা মনে করেন সধারণ ভিক্ষুরা কোনো ভিক্খুই নয় ।

৩) গুরু মতবাদ : এটি এখন বিশাল বৃস্তিত একটি মতবাদ যারা কিনা ধর্মের সাথে তান্ত্রিকতার অপূর্ব সমন্নয় করে নিজের আঙ্গিকে ধর্ম প্রচার করছেন । ‘রামায়ণ কাহিনীর বিভিন্ন চরিত্রের সাথে জাতকের বিভিন্ন চরিত্রের সদৃশ চিত্রায়ীত করে’ বা ‘স্বর্গের ইন্দ্রের সাথে ওনাদের সরাসরি যোগাযোগ হয়’ ইতাদি বলে একটা বিশাল ভক্ত শ্রেনী সৃস্টি করেছেন । স্বামী-স্ত্রী অমিল, সন্তান লাভ, ব্যবসা-বানিজ্যে উন্নতি, বিদেশ গমনসহ সব সমস্যা সমধান পাবেন এইসব গুরুদের কাছে ।

৪) RKK বা রিসে-কোসে-কাই : সমাজের অভিজাত শ্রেনীর কিছু ব্যাক্তি কর্তৃক জাপান হতে সরাসরি আমদানী কৃত এই মতবাদটি । যারা জাপান-থাইল্যান্ড ভ্রমন করিয়ে কিছু ধনী, শিক্ষিত ও দক্ষ সংগঠক সৃষ্টি করেছেনI তারা এখন প্রায় সব এলাকায় শাখা অফিস খুলে কর্মী বা অনুসারী নিয়োগ করছেন ( প্রলোভন কিন্তু একটাই ‘জাপান ভ্রমন’)। তারা বাংলাদেশে হাজার বছরের বিদ্যমান থেরবাদ ধর্ম বদলে এতদ অঞ্চলে মহাযান (মতান্তরে তন্ত্রযান) ধর্ম প্রচার করছেন। এই মতবাদের অনুসারীরা সব গৃহী এবং তাদের ধর্ম গুরুরাও গৃহী । যেখানে সাধারণ ভিক্ষুদের কারো কোনো প্রবেশাদিকার নাই I কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এই অনুসারীদের কোনো মা-বাবা বা আত্তীয় মারা গেলে তখন কিন্তু ওই সকল সাধারণ ভিক্ষু দিয়েই সকল ধর্মীয় কার্যাদী সম্পন্ন করান।

৫) শ্রামনী সংঘ : বুদ্ধগয়া আন্তর্জাতিক ভাবনা কেন্দ্রের শ্রদ্ধেয় বর্তমান অধ্যক্ষ ভান্তের কল্যাণে বাংলাদেশে নতুন ধারার শ্রামনী সংঘ সৃষ্টি হয়েছে যারা মহিলা কিন্তু পরিধান করছেন ভান্তেদের গেরুয়া চীবর, ভিক্ষুদের মতন সম্পাদন করছেন সকল আচার – অনুষ্ঠান I তাহাদেরও একটি অনুসারী দল সৃষ্টি হয়েছে সারা দেশে।

বাংলাদেশে অল্প সংখ্যক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর কাছে এত গুলো মতবাদ আগামী ১০০ বছর পর মূল থেরবাদ ধর্ম কোথায় গিয়ে দাড়াবে ?
কোনো ব্যক্তি বা গুষ্ঠি বিশেষের প্রতি বির্দেষ বসত নয় বরঞ্চ সমগ্র সমাজকে বাস্তবতার আলোকে বিশ্লেষণ করে এই বিষয়টি সবার সামনে উপস্থাপন করলাম। সবার মতামদ ও আলোচনা-সমালোচনা কামনা করছি ।

লেখকঃ কাকন বড়ুয়া, প্যারিস প্রবাসী

Additional Info

  • Image: Image