২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ২ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ইংরেজী
Partly Cloudy

17°C

Chittagong

Partly Cloudy

Humidity: 92%

Wind: 17.70 km/h

  • 17 Dec 2017

    Partly Cloudy 26°C 15°C

  • 18 Dec 2017

    Sunny 26°C 15°C

  • সেই খানেরই গলদ, যেখানে সততা নেই। টাকা পয়সার দিকে নজর দিলে কাজের নেশা নষ্ঠ হয়ে যায়। টাকা পয়সা বড় কথা নয়, কাজ চাই।

    মহাসংঘনায়ক শ্রীসদ্ধর্মভাণক বিশুদ্ধানন্দ

  • আমাদের সমাজে যে এখনো কোন বড় কোন প্রতিভার জন্ম সম্ভব হচ্ছে না, তার কারণ পরশ্রীকাতরতা। আমরা গুণের কদর করি খুব কম। কিন্তু মন্দটাকে সগর্বে প্রচার করে বেড়াতে পারি।

    মহাসংঘনায়ক শ্রীসদ্ধর্মভাণক বিশুদ্ধানন্দ মহাথের

  • যুদ্ধ সভ্যতাকে ধ্বংস করে এবং শান্তি বিশ্বকে সুন্দর করে । যুদ্ধ মানুষকে অমানুষ করিয়ে দেয়, যুদ্ধ ছিনিয়ে নেয় প্রেম-ভালবাসা এবং যুদ্ধের আগুনে আত্নহুতি দিতে হয় বহু প্রাণের । যুদ্ধকে মনে প্রাণে ঘৃণা করা উচিৎ।

    মহাসংঘনায়ক শ্রীসদ্ধর্মভাণক বিশুদ্ধানন্দ মহাথের

  • আপনি যেমন মহৎ চিন্তা করেন কাজেও সেইরুপ হউন, আপনার কথাকে কাজের সাথে এবং কাজকে কথার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলুন।
    মহাসংঘনায়ক শ্রীসদ্ধর্মভাণক বিশুদ্ধানন্দ

বৌদ্ধ বিয়ে : আইনের আওতায় আনার দাবি

বুধবার, ০২ এপ্রিল ২০১৪ ১৮:৫১ স্মরণ মাহমুদ

বৌদ্ধ বিয়ে : আইনের আওতায় আনার দাবি  

রাজধানীর মানসী বড়ুয়ার (ছদ্মনাম) ২০০৮ সালে বিয়ে হয়। মধ্যবিত্ত পরিবারের মা-বাবা টাকা-পয়সা খরচ করে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিয়ে দেন। গয়নাগাটি, টাকা-পয়সা, জিনিসপত্র কোনো কিছুরই কমতি ছিল না। ছেলে উঁচু বংশের। ভালো চাকরিও করে। ছেলেপক্ষের দাবি-দাওয়া সব মেনে নিয়ে মেয়েকে বিয়ে দেন। বিপত্তি দেখা দেয় বিয়ে হওয়ার তিন মাস পর। ছেলেপক্ষ আবার টাকা চাওয়া শুরু করে। গরিব মা-বাবা এত টাকা বারবার দিতে পারবেন না, মানসী তা জানায়। এর পরই শুরু হয় নানা ধরনের নির্যাতন। এর মধ্যেই মানসী জানতে পারে ছেলের একবার অন্য জায়গায় বিয়ে হয়েছিল, যা তারা তাঁদের কাছে গোপন করে। মা-বাবাকে নিয়ে কটু কথা বলা থেকে শুরু করে গায়ে হাত তোলা পর্যন্ত সব ধরনের নির্যাতনের কারণে তার পক্ষে শ্বশুরবাড়িতে থাকা অসহ্য হয়ে ওঠে। বাবা সর্বস্ব দিয়ে তাকে বিয়ে দিয়েছেন। সে সেই ঘর ছেড়ে আসতেও চায়নি। কিন্তু এখন থাকা তার জন্য অসহ্য হওয়ায় মানসী চলে আসে। যে মহাথেরর উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে পড়ানো হয় তাঁকেও বিষয়টি জানানো হয়। বিচারও বসে। সবাই তা মেনে চলবে সাব্যস্ত হয়। কিন্তু ঘরে যাওয়ার পর সেই আগের মতোই নির্যাতন চলতে থাকে। মহাথেরর কথা তারা শোনেনি।

মহাথের ছেলেপক্ষকে কোনো চাপ দিতে পারছেন না, কারণ এ সম্পর্কিত কোনো আইন তাদের নেই। আদালতেও যেতে পারছেন না একই কারণে। ফলে মানসী এবং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ রইল না। কোনো ক্ষতিপূরণও সে পায়নি।
মানসীর মতো ঘটনা এখন বৌদ্ধ সমাজে অনেকই ঘটছে। তার মতো মেয়েরা কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না। বৌদ্ধ সমাজের একজন ব্যক্তি নিটোল বড়ুয়া জানান, এ রকম হওয়ার কারণ বৌদ্ধ সমাজের জন্য কোনো পারিবারিক আইন নেই। এজন্য ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ যে বিয়ে, তা নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা তাদের নেই। কিছুকাল আগেও আইনের এত প্রয়োজনীয়তা তাঁরা উপলব্ধি করেননি। কিন্তু দিন পাল্টাছে। এখন সমাজ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আইনের প্রয়োজনীতা এখন অপরিহার্য।

বাংলাদেশ একটি বহু জাতিগোষ্ঠীর দেশ। নানা ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠীর মানুষ এখানে একত্রে বসবাস করছে। বিভিন্ন সময়ে ছোটখাটো বিরোধ ছাড়া এ দেশে সব ধমের্র লোকজনই সম্প্রীতি নিয়ে শান্তিতে বসবাস করছে। জনসংখ্যার দিক থেকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা তৃতীয় অবস্থানে। নিটোল বড়ুয়া জানান, প্রচলিত রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী তাদের দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিবাদ আদালতে মীমাংসা হয়ে থাকে। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, ব্যক্তিগত বিষয়গুলো যেমন বিয়ে, উত্তরাধিকার ইত্যাদি বিষয় মুসলিম, হিন্দু এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের আলাদা আলাদা আইন থাকলেও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কোনো আইন নেই।

সুরজিত বড়ুয়া এবং রেনজু বড়ুয়া সদ্য বিবাহিত দম্পতি। উভয়ই জানান, বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিয়ে বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে মেয়েরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেশি। আর বৌদ্ধ সমাজে কোনো আইন না থাকায় জটিলতা হলে তাদের ভোগান্তি চরমে ওঠে। একটি আইন হলে বৌদ্ধ মেয়েদের কষ্ট অনেকটা লাঘব হবে বলে এ দম্পতি মনে করেন।

পিংকি বড়ুয়া বিয়ে করতে ভয়ই পাচ্ছেন বলে জানান। মা-বাবা তাঁর জন্য পাত্র দেখছেন। কিন্তু অপরিচিত কোনো ছেলেকে বিয়ে করাতে এমনিতেই একটি আশঙ্কা থেকে যায়, তার ওপর যেহেতু বৌদ্ধ সমাজের কোনো আইন নেই, আশঙ্কা তাই তাঁকে তাড়া করে ফিরছে। রাজিব বড়ুয়া বলেন, ছেলেদেরও একই রকমের আশঙ্কা থাকে। বিয়ের পরে যেসব জটিলতা হয় সে ক্ষেত্রে কোনো প্রতিকার না থাকায় উভয়েরই শঙ্কা থাকা স্বাভাবিক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত ও পালি বিভাগের সহকারী শিক্ষক বিমান চন্দ্র বড়ুয়া জানান, বিয়ে, বিয়ে-বিচ্ছেদ, বহু বিয়ে ইত্যাদি নানা বিষয়ে তাদের কোনো আইন না থাকায় বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বিয়ে-পরবর্তী নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিয়ের ক্ষেত্রে কিছু সামাজিকতা পালন করেন, যা হিন্দু আইন অনুযায়ী পালন করা হয়। ফলে তাদের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের মধ্যে হিন্দু ধর্মের আনুষ্ঠানিকতার প্রবেশ ঘটছে বলে তিনি জানান। শুধু তাই নয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকা যদি তার স্বামী কর্মস্থলে বদলি হতে চান তবে তাকে স্ত্রী প্রমাণ করার জন্য কোনো দলিল তার কাছে থাকে না কারণ তাদের বিয়ে রেজিস্ট্রেশন প্রথা নেই। এ ছাড়া বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে একই রকম জটিলতার সম্মুখীন তাদের হতে হয়।
কমলাপুর ধর্মরাজিক বৌদ্ধবিহারের বৌদ্ধ ভিক্ষু ধর্মনান্দ থের বলেন, সমাজের অস্থিরতা এবং জীবনাচারের মধ্যে নানা সংস্কৃতি ঢুকে যাওয়ায় এখন মানুষের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। প্রত্যাশা অনেক। প্রাপ্তি সেই অনুযায়ী কম। ফলে বিয়ের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিচ্ছে। বৌদ্ধ সমাজের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুরোহিত দ্বারা সমস্যার সমাধান না হলে বিবাদ বেশির ভাগ সময়ে অমীমাংসিত আকারেই রয়ে যায়। যদিও কেউ কেউ আদালতে যান সে ক্ষেত্রে বিবাদ মীমাংসা করা হয় হিন্দু আইন অনুযায়ী। যার ক্ষমতা বেশি তার ইচ্ছামতো বিয়ের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতার ভূমিকা নেওয়া হচ্ছে। কোনো আইন না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।

বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর মধ্যে দুই ধরনের বসবাসকারী দেখা যায়। ১. সমতলভূমির অধিবাসী ২. পাহাড়ি অধিবাসী। সমতলভূমির অধিবাসীরা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। তারাই মূলত বৌদ্ধ পারিবারিক আইনের দাবিটি করছে। বাসাবো এলাকার অধিবাসী প্রেমানান্দ বড়ুয়ার সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি জানান, পাহাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব রীতিতে বিয়ে দেয়। এতে জটিলতা তাদেরও হয়। তাই একটি একক আইন এখন সময়ের দাবি। এ বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য একটি আইন হলে তা এ জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করবে। সঙ্গে সঙ্গে বৈচিত্র্যও রক্ষা পাবে।

আইনের জন্য এ সম্প্রদায় তাদের কাজও চালিয়ে আসছে। বৌদ্ধ পারিবারিক আইন প্রণয়ন কমিটির একজন উত্তম কুমার বড়ুয়া জানান, ১৯৮৫ সালে বিশুদ্ধনান্দ মহাথেরর সভাপতিত্বে খসড়া পারিবারিক আইন প্রণয়ন করা হয় যাতে বৌদ্ধদের ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যার সমাধান আছে। পরে এ খসড়াকে কেন্দ্র করে আরো বেশি পেশার বৌদ্ধদেরও এ কমিটির সঙ্গে যুক্ত করে খসড়াটির পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা হয়। পরবর্তী সময়ে আরো কমিটি বসে এ আইনটির পরিমার্জন করা হয়। সর্বশেষ ২০০৬ সালে কুমিল্লার বার্ডে বৌদ্ধ সমাজের সব পেশার জনগণকে একত্র করে অ্যাডভোকেট প্রেমাংকুর বড়ুয়ার সভাপতিত্বে পারিবারিক আইন প্রণয়ন কমিটি এ খসড়ার আরো আধুনিকায়ন করা হয়। কিছুদিনের মধ্যেই তারা দাবি জোরালো করার জন্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তারা তাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তর এ জনগোষ্ঠীর সব সমস্যার সমাধান করার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

Nirvana Peace Foundation

নির্বাণা কার্যক্রম
Image
নির্বাণা পিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিশু কিশোরদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা সম্পন্ন নির্বাণা পিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিশু কিশোরদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা সম্পন্নশিশু কিশোরদের… ( বিস্তারিত )
Image
নির্বাণা পিস ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রমী আয়োজন নির্বাণা পিস ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রমী আয়োজন শিশু কিশোরদের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা… ( বিস্তারিত )
Image
পূর্ব আধারমানিক মানিক বিহারে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যান ট্রাষ্টের আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান পূর্ব আধারমানিক মানিক বিহারে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যান ট্রাষ্টের আর্থিক অনুদানের… ( বিস্তারিত )
আরও
সংবাদ সমীক্ষা
Image
সাহিত্যিক সাংবাদিক বিমলেন্দু বড়ুয়ার দশম মৃত্যুবার্ষিকী ২২ জানুয়ারি সাহিত্যিক সাংবাদিক বিমলেন্দু বড়ুয়ার দশম মৃত্যুবার্ষিকী ২২… ( বিস্তারিত )
আরও