২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১৩ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০১৭ইংরেজী
বুধবার, 18 মে 2016 02:57

বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যাকাণ্ড : অনুমানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে সরকার !

লিখেছেনঃ প্রথম আলোর সম্পাদকীয়

বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যাকাণ্ড
অনুমানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে সরকার !

এবারে নাইক্ষ্যংছড়ির দুর্গম পাহাড়ে আরেকজন বৌদ্ধ ভিক্ষুকে কুপিয়ে হত্যা করা হলো এবং যথারীতি গোটা সরকারযন্ত্র জানিয়ে দিয়েছে যে সম্ভাব্য কারা এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে, অবশ্য সেটাও অনুমাননির্ভর। যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারাই এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। বান্দরবানের পুলিশ সুপার যদিও বলেছেন দুর্গম এলাকায় কেন এই খুন, তা এখনই বলা সম্ভব নয়, কিন্তু নাইক্ষ্যংছড়ির ইউএনওর দাবি, যারা পাহাড়ের পরিস্থিতিকে অশান্ত করতে চায়, তারা এটা ঘটিয়েছে।

এটা লক্ষণীয় যে বৌদ্ধ ভিক্ষুকে কুপিয়ে হত্যা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীর পক্ষে এর দায় স্বীকারের ঘটনা ঘটেনি। অথচ সন্দেহের তালিকা থেকে কাউকেই বাদ রাখা সমীচীন হবে না। হত্যাকাণ্ড যারা যে কারণেই ঘটিয়ে চলুক না কেন, আইনের শাসনের দাবি হলো প্রতিটি বা অধিকাংশ অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা। আর যেকোনো কারণেই খুনখারাবি হোক না কেন, এসবের রহস্যভেদ হলে এবং অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি ও শাস্তি নিশ্চিত না করা গেলে কোনোভাবেই আশ্বস্ত হওয়া সম্ভব নয়। আমরা অনেক সময় বিচার বলতে কেবলই বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও নৈপুণ্যের বিষয়টি পৃথকভাবে বোঝার প্রবণতা দেখিয়ে থাকি। কিন্তু সেটা আংশিক সত্যমাত্র। কারণ, অপরাধের বিচারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটা বড় ভূমিকা থাকে। এটা উদ্বেগজনক যে আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর পরপরই সন্দেহভাজন হিসেবে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়, তাদের বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের তরফেই বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। সুতরাং পুলিশি গ্রেপ্তারের ঘটনায় সাধারণ মানুষ আশ্বস্ত হতে পারছে না।

একজন অজাতশত্রু বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন রোহিঙ্গা ও অন্যজন নিহত ব্যক্তির দূরসম্পর্কের আত্মীয়। নিহত ব্যক্তির পরিবার বলেছে, ওই আত্মীয়র সঙ্গে তাদের কারও কোনো পূর্বশত্রুতা ছিল না। সুতরাং প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডগুলোর ক্রমবর্ধমান সংখ্যা বৃদ্ধি আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? জল্পনাকল্পনা ছাড়া রাষ্ট্রের কি অন্য কোনো সামর্থ্য নেই?

প্রথম আলোর সম্পাদকীয় 
মে ১৬, ২০১৬ |

Additional Info

  • Image: Image