২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৮ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ইংরেজী
বৃহস্পতিবার, 14 এপ্রিল 2016 22:28

জলকেলির আনন্দে ভাসবে রাখাইনরা

লিখেছেনঃ নির্বাণা ডেস্ক

জলকেলির আনন্দে ভাসবে রাখাইনরা

সব জরা ধুয়ে–মুছে পবিত্র জলে শরীর ভিজিয়ে নতুন বছরকে বরণ, সঙ্গে আনন্দ আয়োজন—প্রতিবছর রাখাইন সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব ‘সাংগ্রাং’ বা ‘সাংগ্রেং পোয়ে’ উদ্যাপিত হয় এভাবে। জলভেজা এই সাংগ্রাংকে স্থানীয়রা বলেন ‘জলকেলি’। রাখাইন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব এটি।
প্রতিবছর বাংলা নববর্ষের তিন দিন পর অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল শুরু হয় রাখাইন অব্দের নতুন বছর। সাংগ্রাং উৎসব নিয়ে শহরের টেকপাড়া, বড়বাজার, বৌদ্ধমন্দির সড়ক, চাল বাজারসহ জেলার টেকনাফ, মহেশখালী, চৌফলদণ্ডী, খুরুশকুল, রামু ও চকরিয়ার হারবাং এলাকায় নানা প্রস্তুতি চলছে।

কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ক্যাথিং অং জানান, পঞ্জিকা অনুযায়ী ১৬ এপ্রিল রাত ১২টায় ১৩৭৭ রাখাইন বর্ষ শেষ হবে। এর পরের মিনিট থেকে শুরু হবে (১৭ এপ্রিল) ১৩৭৮ নববর্ষ। তাই নতুন ১৩৭৮ সনকে বরণ এবং পুরোনো ১৩৭৭ সনকে বিদায় জানাতে রাখাইন সম্প্রদায় তিন দিনব্যাপী জলকেলি উৎসবের আয়োজন করে। উদ্দেশ্য ধনী–গরিব ভেদাভেদ ভুলে সবার মঙ্গল কামনা করা, মানুষকে ভালোবাসা।
জলকেলি ছাড়াও উৎসবে থাকে স্কুল–কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, রঙিন কাপড়ে মোড়ানো কলসি মাথায় নারীদের হেঁটে মন্দির-প্যাগোডায় গমন ও সমবেত প্রার্থনা এবং ঘরে ঘরে খাবার পরিবেশন।
উৎসবের প্রতিদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে মূল আকর্ষণ ‘জলকেলি’। দেশি-বিদেশি পর্যটক, স্থানীয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ উপভোগ করেন এই উৎসব।

আয়োজকেরা জানান, এবারও জেলার বিভিন্ন পল্লিতে ৪০টির বেশি মণ্ডপে জলকেলি উৎসব চলবে। জেলার ছয়টি উপজেলায় প্রায় ৬০ হাজার রাখাইনের বসতি রয়েছে।
রাখাইন তরুণ-তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে (থামি-ব্লাউজ, লুঙ্গি-শার্ট) সজ্জিত হয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন। ছেলেমেয়েরা সড়ক ও অলিগলিতে মত্ত থাকে নাচগানে। জলকেলির জন্য আগে থেকে বিভিন্ন পল্লিতে তৈরি থাকে ফুল, বেলুন ও পত্রপল্লবশোভিত একাধিক মণ্ডপ। মণ্ডপের মাঝখানে জলভর্তি ড্রাম কিংবা কাঠের নৌকা রাখা হয়। প্রতিটি মণ্ডপে তরুণীরা থাকেন তরুণের অপেক্ষায়। বিভিন্ন পল্লি থেকে তরুণেরা নেচেগেয়ে মণ্ডপে প্রবেশ করেন এবং তরুণীর সামনে গিয়ে দাঁড়ান। এরপর তরুণেরা পছন্দের পাত্রীকে জল ছুড়ে তাঁর সঙ্গে জলকেলিতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
রাখাইন তরুণী উ চিং মং বলেন, ‘জলকেলির জন্য আমরা সারা বছর অপেক্ষায় থাকি।’ স্কুলশিক্ষক ও গবেষক মং হা প্রু পিন্টু জানান, নতুন বছর বরণ এবং পুরোনো বছরকে বিদায় জানাতেই এই জলকেলি উৎসব। উৎসব শেষে পৃথিবীর সব মানুষের সুখ-শান্তি ও উন্নতি কামনা করা হয়।

সৌজন্যেঃ নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার, প্রথম আলো।

Additional Info

  • Image: Image