২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১৩ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০১৭ইংরেজী
রবিবার, 21 ফেব্রুয়ারী 2016 02:06

আজ প্রাণের একুশে.. আজ অমর একুশে...

লিখেছেনঃ নির্বাণা ডেস্ক

আজ প্রাণের একুশে.. আজ অমর একুশে...

মুখের ভাষার জন্য প্রাণ দিয়ে বিরল ইতিহাস গড়েছে বাঙালি। এই আত্মত্যাগ বিশ্বসভায় পেয়েছে অনন্য মর্যাদা। সেই রক্তাক্ত স্মৃতিবিজড়িত অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আজ। শোক আর গর্বের মহিমান্বিত একটি দিন। আজ জাতীয় শহীদ দিবস। দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও বিশ্বব্যাপী পালিত হবে। শহীদদের স্মরণে বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করে, শ্রদ্ধার ফুল হাতে মানুষের পদযাত্রা চলবে শহীদ মিনার অভিমুখে। স্মৃতির মিনারে শ্রদ্ধায় অবনত হবে লাখো মানুষ। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং রাজনৈতিক দলগুলো পৃথক বাণী দিয়েছে। আজ সরকারি ছুটির দিন। সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় আজ জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্মরণ হবে একুশের আত্মত্যাগ ও মহিমা।

শোকে, গৌরবে অনন্য 'একুশ' বাঙালির সব প্রেরণার উত্স। ব্রিটিশ-ভারত ভাগের পর পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী চেয়েছিল উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করতে। কিন্তু পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মুখের ভাষা ছিল বাংলা। তাই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে দানা বাঁধে আন্দোলন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বসনে্তর আকাশ কাঁপিয়ে বাংলার তরুণ ছাত্রসমাজ বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ তোলে 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই'। একই সুতায় বাঁধা পড়ে সব বাঙালি। অভিন্ন দাবিতে আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে বাংলার সব প্রানে্ত। ভাষার দাবিতে চলা মিছিলে ঢাকায় চলে গুলি, রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ বাংলা মায়ের বীর সন্তানরা। ভাষার জন্য প্রাণ দিয়ে, রক্ত দিয়ে যে অভূতপূর্ব বিপ্লবের সূচনা তা একপর্যায়ে শুধু ভাষার বিজয় নয়, এনে দেয় মহান স্বাধীনতা। ভাষার জন্য বাঙালির এ আত্মদানের দিনটিকে ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো ঘোষণা দিয়েছিল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। বাংলাদেশি বাঙালি, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের বাঙালি ছাড়াও বিশ্ববাসী আজ দিনটি পালন করবে শহীদদের প্রতি নিখাদ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারের দিকে যাত্রা শুরু হয়েছে সর্বস্তরের বাঙালির। কোটি কণ্ঠে বেজেছে সুর 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি?' কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে অনেক মিছিল ছুটেছে আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনায়।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী : রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে বলেছেন, অমর একুশের অবিনাশী চেতনা স্বাধিকার ও স্বাধীন-সার্বভেৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় অসীম প্রেরণা ও শক্তি জুগিয়েছে। দিবসটি বিশ্বের সব জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় ঐক্য ও বিজয়ের প্রতীক হয়ে উঠবে। মহান ভাষা আন্দোলন জাতীয় ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক ও তাত্পর্যপূর্ণ ঘটনা। এ আন্দোলন ছিল মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নিজস্ব জাতিসত্তা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার আন্দোলন।

রাষ্ট্রপতি বাংলাভাষীসহ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষাভাষী জাতিগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন এবং মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদদের অম্লান স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।

সব ভেদাভেদ ভুলে একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পবিত্র সংবিধান ও গণতন্ত্র এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়ে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলা ভাষাভাষীসহ বিশ্বের সব ভাষা ও সংস্কৃতির জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণীতে তিনি বলেন, মহান একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির জীবনে শোক, শক্তি ও গেৌরবের প্রতীক। ১৯৫২ সালের এই দিনে ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে প্রাণ দিয়েছিলেন রফিক, শফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ আরো অনেকে। ১৯৪৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রস্তাবে ছাত্রলীগ, তমদ্দুন মজলিশ ও অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সংগ্রাম পরিষদ ধর্মঘট ডাকে। ওই দিন সচিবালয়ের সামনে থেকে বঙ্গবন্ধুসহ অনেক ছাত্রনেতা গ্রপ্তোর হন। ১৫ মার্চ তাঁরা মুক্তি পান। ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় অনুষ্ঠিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন শেখ মুজিবুর রহমান। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ভাষাশহীদ ও ভাষাসৈনিকের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, মহান একুশে ফেব্রুয়ারির সেই রক্তস্নাত গৌরবের সুর বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে আজ বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মানুষের প্রাণে অনুরণিত হয়। প্রধানমন্ত্রী সব ভাষাশহীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এক বাণীতে বলেছেন, 'একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনে এক তাত্পর্যময় দিন। মাতৃভাষা বাংলার অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার জন্য সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। পুলিশের গুলিতে তাঁরা ভীত হননি, আত্মদান করেছেন।'

সৌজন্যেঃ কালের কণ্ঠ

Additional Info

  • Image: Image