২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ইংরেজী
Sunny

28°C

Chittagong

Sunny

Humidity: 61%

Wind: 22.53 km/h

  • 21 Nov 2017

    Sunny 29°C 19°C

  • 22 Nov 2017

    Partly Cloudy 27°C 17°C

মঙ্গলবার, 29 সেপ্টেম্বর 2015 16:24

রামুর বৌদ্ধপল্লিতে হামলার তিন বছর : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় সাক্ষীরা

লিখেছেনঃ আব্দুল কুদ্দুস, রামু থেকে ফিরে। প্রথম আলো ।

রামুর বৌদ্ধপল্লিতে হামলার তিন বছর : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় সাক্ষীরা

নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে কক্সবাজারের রামুর বৌদ্ধপল্লিতে হামলার ঘটনায় করা মামলার সাক্ষীরা আদালতে হাজির হচ্ছেন না। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের স্থানীয় নেতারা বলছেন, অভিযোগপত্রে প্রকৃত হামলাকারীদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাই সাক্ষ্য দিতে এসে নতুন করে শত্রু বাড়াতে চান না তাঁরা।

কক্সবাজার আদালতের সরকারি কৌঁসুলি মমতাজ আহমদ বলেন, হামলার ঘটনায় করা ১৯টি মামলার মধ্যে ১১টির (রামুর ৭টি, উখিয়ার ৪টি) বিচার শুরু হয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তার কথা তুলে কেউ আদালতে সাক্ষ্য দিতে রাজি হচ্ছেন না।

কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি ও রামুর বাসিন্দা মো. নুরুল ইসলাম বলেন, হামলার ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষী না থাকলে মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।
হামলার শিকার লোকজন কেন সাক্ষ্য দিচ্ছে না, তা জানতে চাইলে রামু উপজেলা বৌদ্ধ ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তরুণ বড়ুয়া বলেন, ‘হামলার সঙ্গে জড়িত ২০ জনের একটা তালিকা আমরা পুলিশকে দিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের আসামি করা হয়নি। যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের আমরা চিনি না। এখন আদালতে কার বিরুদ্ধে আমরা সাক্ষ্য দেব? এতে আমাদের শত্রু আরও বেড়ে যাবে।’
২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রামুর কেন্দ্রীয় সীমা বিহারসহ ১২টি প্রাচীন বৌদ্ধবিহার এবং ৩৪টি বসতি ধ্বংস করে দুর্বৃত্তরা। উত্তম বড়ুয়া নামের এক যুবক তাঁর ফেসবুকে পবিত্র কোরআন শরিফ অবমাননা করেছেন—এই অভিযোগে হামলা চালানো হয়। পরদিন উখিয়া, টেকনাফ ও কক্সবাজার সদরের আরও সাতটি মন্দির ও ১১টি বসতিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এসব ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও কক্সবাজার সদর থানায় ১৯টি মামলা করে।

রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের অধ্যক্ষ সত্যপ্রিয় মহাথের বলেন, ‘তিন বছর পার হলেও জানতে পারছি না কেন আমরা হামলার শিকার হলাম? বৌদ্ধপল্লিতে হামলা চালিয়ে কার লাভ হলো?’ তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছুটে এসেছিলেন। সেনাবাহিনীর মাধ্যমে তিনি ধ্বংসস্তূপের ওপর দ্রুত ১২টি বৌদ্ধবিহার তৈরি করে দিয়েছেন। সেনাবাহিনী, বিজিবি পাহারা দিয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা দিচ্ছে। কিন্তু মন থেকে সেই দিনের ক্ষত মুছে ফেলতে পারছে না কেউ। কারণ, হামলাকারীরা এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আছে সবার।’
তবে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বলেন, হামলার ঘটনায় যাঁরা জড়িত ছিলেন, তাঁদেরই মামলায় আসামি করা হয়েছে।

কৃতজ্ঞতা : আব্দুল কুদ্দুস, রামু থেকে ফিরে। প্রথম আলো ।

Additional Info

  • Image: Image