২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৬ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭ইংরেজী
বৃহস্পতিবার, 14 এপ্রিল 2016 16:05

আমাদের বিভ্রান্ত মতবাদ এবং বৌদ্ধ ধর্মের সংকটকাল

লিখেছেনঃ অমিতানন্দ ভিক্ষু

আমাদের বিভ্রান্ত মতবাদ এবং বৌদ্ধ ধর্মের সংকটকাল

কিছুদিন আগে কিছু বুড্ডিস্ট অনলাইন নিউজ ও বৌদ্ধ পেইজে প্রকাশিত ভিডিওতে জৈনিক কারো বুদ্ধ পূজা বিষয়ক বিশ্লেষণ শুনে আমি আমার ব্যক্তিগত বিচারে কিছু ভুল ভ্রান্তি খুঁজে পাই এবং উক্ত বিশ্লেষণ সমূহ আপামর বৌদ্ধ জাতির বোঝার ভুল নিরসনে আমি একটি আর্টিকেল লিখি যার শিরোনাম ছিল “অদিতি বড়ুয়া শম্পার বুদ্ধ পূজা বিষয়ক বক্তৃতা নিয়ে আমার কিছু বক্তব্য”। যদিও আমি শিরোনামে বিশ্লেষণ কারীর নাম উল্লেখ করেছি কিন্তু আমি ওনার ওপর ব্যক্তিগত কোন আক্রোশ প্রয়োগ করিনি। ওনার বিশ্লেষণের বিষয়বস্তু উদাহরণ হিসেবে নিয়ে আমি শুধুমাত্র আপামর বৌদ্ধ জাতির উদ্দেশ্য আমার অভিমত প্রয়োগ করি। অনেকেই এ বিষয়টি বুঝতে না পেরে পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি-আক্রোশ প্রয়োগ করেছেন। আজও আমি কোন ব্যক্তিগত কারো ওপর রাগ আক্রোশ প্রয়োগ করতে আসিনি। শুধুমাত্র সাধারণ বৌদ্ধ জাতির জন্য উল্লেখিত বিষয়গুলোর সত্যানুসন্ধান আমার মূল উদ্দেশ্য।

এখানে অন্যান্য বিষয়গুলোর মধ্যে আমি দেখতে পেয়েছি বুদ্ধপূজা ব্যাপারটি নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্ত এবং ভুলপথে পরিচালিত হচ্ছেন। তাই একজন সংঘের প্রতিনিধি হিসেবে আমার দায়িত্ব যতদূর সম্ভব ভুল পথ থেকে সঠিক পথে মানুষদের পৌঁছে দেয়া। যেহেতু আপনারা সকলে আমার জ্ঞাতি সদৃশ।

বিশদ আলোচনা না করে সরাসরি মূল বিষয়ে প্রবেশ করছি। কমবেশি অনেকেই ধরে নিয়েছেন যে বুদ্ধ পূজা মানেই অপচয়-কুসংস্কার। তাই আমি “মিলিন্দ প্রশ্ন” যেটি জ্ঞানী পুরুষদ্বয় ভান্তে নাগসেন এবং রাজা মিলিন্দের প্রশ্নোত্তরে সন্নিবেশিত, উক্ত বইয়ের ১২২ পৃষ্ঠার একটি অধ্যায় “মেন্ডক প্রশ্নারম্ভ-বুদ্ধ পূজা সফল” থেকে কিছু আলোচনা উদাহরণ হিসেবে আনতে চাইছি। উক্ত অধ্যায়ে রাজা মিলিন্দ ভান্তে নাগসেনকে জিজ্ঞেস করেছিলেন “ভান্তে, অন্য ধর্মের লোকেরা প্রশ্ন রেখেছেন যদি তথাগতের উদ্দেশ্য প্রদত্ত যতদিন বুদ্ধ জীবিত ছিলেন ততদিন বুদ্ধকে পূজা দেয়াটা সফল এবং যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু পরিনির্বাণের পর প্রদত্ত পূজা নিস্ফল আর বন্ধ্যা যেহেতু তিনি পরিনির্বাপিত হয়েছেন, তাই তিনি আর গ্রহণ করতে পারবেন না। আর যদি তিনি সত্যি গ্রহণ করতে পারেন তাহলে তিনি পরিনির্বাপিত হননি। তাহলে সত্যিই কি বুদ্ধপূজা নিষ্ফল”। এ প্রশ্নের আলোকে জ্ঞানী উত্তরদাতা নাগসেন ভান্তে বললেন, “ মহারাজ, এটা সত্যি যে বুদ্ধ পরিনির্বাণ প্রাপ্ত হয়েছেন এবং তিনি পূজা গ্রহণ করেন না। কিন্তু তিনি পূজা গ্রহণ না করলেও দেব-মনুষ্য যদি তার শারীরিক ধাতুরত্নের ওপর ভিত্তি করে তার উপদিষ্ট জ্ঞান মানে শীল সমাধি আর প্রজ্ঞার আচরণ করে, তাহলে সে মনুষ্য,দিব্য ও মোক্ষ সম্পত্তি লাভ করে”। ভদন্ত নাগসেন আরও বলেছেন, মহারাজ যদি কোন বৃহৎ অগ্নিস্কন্ধ নির্বাপিত হওয়ার পর জগত কি অগ্নিশূন্য হয়? রাজা মিলিন্দ উত্তর দিলেন “না ভদন্ত”। বৃহৎ অগ্নিস্কন্ধ নির্বাপিত হওয়ার পর যদি জগত কি অগ্নিশূন্য না হয়, তাহলে বুদ্ধকে পূজা করাটাও বন্ধ্যা বা নিস্ফল হবে না। অর্থাৎ এখানে বোঝানো হয়েছে বুদ্ধকে আমাদের পূজা দেবার উদ্দেশ্য হল পূজা দেবার সাথে সাথে বুদ্ধগুণ স্মরণ করা, বুদ্ধের শীল, সমাধি, প্রজ্ঞাকে ধারণ করা, মৈত্রীকে লালন করা। বুদ্ধ বলেছেন, “চেতনাহাং ভিকখাবে কাম্মাং ওয়াদামি” অর্থাৎ হে ভিক্ষুগণ, চেতনাকেই আমি কর্ম বলি। তাই ক্ষণিকের জন্যও যদি কেউ বুদ্ধ পূজা নিয়ে (খাদ্য ছাড়াও, ফুল, বাতি, ধূপ ইত্যাদি) নিয়ে বুদ্ধ মূর্তি বা ছবির সামনে প্রদানে চিন্তা করে, আমি জীবন্ত বুদ্ধকে পূজা করছি এবং ওনার প্রদত্ত ধর্মকে স্মরণ করছি, এতে উক্ত পূজারীর মনুষ্য,দিব্য ও মোক্ষ সম্পত্তি লাভ হবে, যেহেতু কায় মনো বাক্য সে শীলবান এবং ব্রহ্মচারী। বুদ্ধকে পূজা দেয়াটা ছিল তার শীলবান এবং ব্রহ্মচারী হওয়ার মাধ্যম। কারণ আমাদের মনে যদি এ ধরণের চিন্তা আসে যে বুদ্ধ নেই, তাই তার উদ্দেশ্য পূজা দেয়াটাও নিস্ফল, এতে আমাদের বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা আস্তে আস্তে ক্ষীণ হবে এবং পরিশেষে হয়ে উঠবো বৌদ্ধ ধর্ম বিদ্বেষী ( যা ইতিমধ্যে চোখে পড়ছে)। আমরা যেমন বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করার জন্য, দেশের জন্য যে জীবন দিয়েছেন সেটা মনে রাখার জন্য শহীদ মিনারে যে পুষ্প দিই, বুদ্ধ পূজা করার উদ্দেশ্য হল ঠিক তেমনটাই। তা না হলে আস্তে আস্তে আমরা বুদ্ধ যে জগতে আবির্ভূত হয়েছিলেন, সেটাই ভুলে যাব, কারণ বিহার আর আমাদের মধ্যে আর কোন সম্পর্ক থাকবে না। শহীদ মিনারে আছে মাত্র তিনটি পিলার। তাহলে ফুলগুলো কি পিলার কে দিই নাকি শহীদদের দিই? ঠিক সেরকম আমরা মূর্তি পূজারী নই, আমরা বুদ্ধের গুণ স্মরণকারী।

কিভাবে আমরা সুন্দর আর পরিচ্ছন্নভাবে বুদ্ধ পূজা করবঃ

বুদ্ধ পূজাকে নিয়ে সমালোচনা বৃদ্ধির প্রথম এবং প্রধান কারণ হল বিশৃঙ্খল এবং অসুন্দর পূজা প্রদান। বিভিন্ন বৌদ্ধ পর্ব বা পূর্ণিমার সময় উপাসক উপাসিকা কর্তৃক বিহারে বুদ্ধের উদ্দেশ্য আনিত পূজায় বেশিরভাগ সময় দেখা যায় অত্যন্ত অসুন্দর ভাবে পূজা সাজানো হয়, বিশেষ করে আহার পূজা। যেমন আমি কয়েকটি উদাহরণ দিচ্ছি, আমরা ভাত ছোয়াইং এর উপর বিস্কিট, চানাচুর, কলা, বসিয়ে পূজা উৎসর্গ করি। অনেককেই দেখেছি পূজার ওপরে ধূপকাঠি জ্বালিয়ে দিতে। এতে ধূপকাঠির ছাই গুলো পড়ছে আপনার অর্থে সাজানো বুদ্ধ পূজার ওপর।এর কারণ হল অনেকেই পূজার ডালা-প্লেট বাড়াতে চান না, কারণ ধৌত করার যন্ত্রণা থেকে রক্ষা পাবার মানসে। তার অর্থ আপনি দায় সারা দান করছেন, মন থেকে আসছে না। তাই সেই রূপ আপনি পুণ্যফল পাবেন। বুদ্ধ বলেছেন- “য়াং কাম্মাং কারিসসামি, কাল্যানাং অয়া পাপাকাং তাসসা দায়াদা ভাবিসসাতি” অর্থাৎ সুকর্ম বা দুষ্কর্ম যেইরূপ কর্ম করি না কেন, সেইরূপ ফল প্রাপ্ত হবো। আবার সে পূজা দান করতে যাচ্ছি দেব মনুষ্য পূজ্য মহামানব বুদ্ধের উদ্দেশ্য। যদি সত্যিকারভাবে আমাদের সেরূপে কেউ আহার প্রদান করে আমরা নিজেরাই সে আহার গ্রহণ করতে চাইব না। যেরূপে সাজানো আহার আমরা নিজেরাই গ্রহণ করব না, সেরূপে সাজানো আহার আমরা কিভাবে বুদ্ধকে প্রদান করছি।

বুদ্ধকে প্রদানকৃত পূজা সুন্দর ভাবে প্রদান করতে হলে ভাত, তরকারী, ফলমূল,পানীয় সব আলাদা আলাদা করে বুদ্ধের উদ্দেশ্য প্রদান করব। তাছাড়া স্বল্প পরিমাণ আহার যা একজন মানুষের পরিমাণ মত আহার প্রদান করব, পূজা সাজিয়ে সম্পূর্ণ আসন আহারে পরিপূর্ণ না করাটাই শ্রেয়। তাছাড়া অনেক সময় দেখা যায় বুদ্ধের আসন নোংরা এবং অপরিষ্কার। মহাকারুনিক বুদ্ধ যদি জীবিত সেই আসনে উপবিষ্ট থাকতেন, তাহলে নিশ্চয়ই আমরা সে আসন নোংরা রাখতাম না। তার মানে আমরা পূজাটা জীবন্ত বুদ্ধকে পূজা করছি সদৃশ মনে করছি না। মনে করলে এভাবে নোংরা রাখতাম না। তাই আমি আশা রাখছি সকলে সুন্দর মন নিয়ে সুন্দর পূজা অনুষ্ঠান-আচারাদি করব, ঠিক যেমন একজন অতিথির জন্য আমরা করি।

অনেকেই সিবলী পূজায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ফলমূলকে ফুল, নৌকা, একতারা বানিয়ে পূজার আকর্ষণ বর্ধিত করণের বিরোধিতা করেছেন। এ ব্যাপারে আমি বলব, পূর্বে আমরা চট্টলার বৌদ্ধ জাতি একসময় হিন্দু ধর্মের সাথে মিশ্রিত হয়ে পড়েছিলাম। তখন আমরা শনি পূজা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্ত্তিক ইত্যাদি পূজার সাথে নিজেদের মিশিয়ে ফেলেছিলাম। এরূপ দুরাবস্থা থেকে উদ্ধারের মানসে তৎকালীন জ্ঞানী পণ্ডিত ভিক্ষুগণ সিবলী পূজার ন্যায় পূজা সমূহ মানুষের কাছে পরিচিত করিয়েছিলেন যাতে মানুষ অন্তত বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘের নাম স্মরণ করে। এমন ব্যবস্থা সত্যিই সাধুবাদের যোগ্য, কারণ তারা সত্যিকার অর্থে তারা বৌদ্ধ ধর্মের রক্ষার জন্য এমন কিছুর ব্যবস্থা করেছিলেন। আর বর্তমান সময়ে এসে আমাদের মত কিছু অল্প জ্ঞানের রক্ষক এসে সেসব ভিক্ষু এবং তাদের প্রচলিত নিয়মের প্রতি হচ্ছি কট্টরপন্থী এবং নাম দিচ্ছি মৌলবাদের ধর্ম। সত্যিই এসব ব্যাপারগুলো খুবই দুঃখজনক যদি আমাদের বোঝার অবস্থা সীমিত হয়।

ভগবান বুদ্ধ বৈশালীর সারন্দদ চৈত্যে অবস্থান করার সময় বৃজিদের জাতীয় কল্যাণে যে সাতটি উপদেশ প্রদান করেছিলেন সে গুলোকে বৌদ্ধ সাহিত্যে সপ্ত অপরিহানীয় ধর্মরুপে আখ্যায়িত। এই সপ্ত অপরিহানীয় ধর্মের মধ্যে নিহিত রয়েছে ঐক্য, সংহতি ও সৎজীবন যাপন করার অমূল্য উপদেশ। যে কোন ব্যক্তি বা পরিবার তথা সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি এতে নিহিত রয়েছে। তাদের মধ্যে একটি মূল্যবান উপদেশ হলঃ তাঁরা (বৃজিরা) যেন হঠাৎ অবিহিত বিধি ব্যবস্থা গ্রহন না করে বিহিত বিধি ব্যবস্থার উচ্ছেদ না করে এবং যথা বিহীত প্রাচীন বিধি ব্যবস্থা সমূহ পালন করেন। অর্থাৎ- বর্জ্জিগণ পূর্বে যেরুপ বিধি ধর্মতঃ ব্যবস্থাপিত হয়নি এমন কোন বিধি বর্তমানে ব্যবস্থাপিত সুনীতি গুলো ও লংঘন করেনা, পৌরানিক বজ্জীরাজ ধর্মে বিচারাদি সম্পর্কে যে রুপ ব্যবস্থা আছে তার অনুবর্তী হয়ে চলেন। এতে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি নিহিত আছে।

তাই আমরা যদি এভাবে পুরনো সুনীতি কে উচ্ছেদের জোরজবরদস্তি চালাই, তাহলে বুদ্ধের উপদেশ মতে আমরা মানে বাংলাদেশী বৌদ্ধ জাতির অবনতি ছাড়া উন্নতি হবে না।

পূজা কত প্রকার এবং কি কি?

ত্রিপিটক শাস্ত্র অনুযায়ী পূজা দু প্রকার। যথা-

১। আমিষ পূজা
২। প্রতিপত্তি পূজা
আমিষ পূজা হল আহার দান, সঙ্ঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, ভিক্ষু সংঘের চার প্রত্যয় অন্যান্য দান কর্ম। আর প্রতিপত্তি পূজা হল বুদ্ধের ৮৪ হাজার ধর্ম স্কন্ধকে ধারণ করে প্রতিপালন করা।

বককলি নামে এক ভিক্ষু যিনি বুদ্ধের ধর্মদেশনার সামনের সারিতে বসে বুদ্ধের সৌন্দর্য দর্শন করতেন। বুদ্ধ তার জ্ঞানের পরিমাপ ও অরহত লাভের হেতু দেখে দেহের ভেতরে অশুচি পদার্থের বর্ণনা প্রদানের মাধ্যমে শীল, সমাধি ও প্রজ্ঞায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে বুদ্ধের ধর্মকে পালন করতে বলেন। পরবর্তীতে এই বককলি অনিত্য ভাবনা করে অরহত ফলে প্রতিষ্ঠিত হন। তাছাড়া বুদ্ধ মহাপরিনির্বাণ সূত্রে পরিনির্বাণের প্রাক্কালে বলেছিলেন, হে ভিক্ষুগণ যদি আমাকে সত্যিকার অর্থের পূজা করতে চাও, তাহলে আমার ধর্মকে প্রতিপালন করো।

কিন্তু তবুও বলতে হচ্ছে, তৎমুহূর্তে উপস্থিত ভিক্ষু-দেব-ব্রহ্মা-মনুষ্যর তুলনায় আমাদের জ্ঞান, পারমী অত্যন্ত ক্ষীণ। তাই বুদ্ধের ধর্মে উন্নতি করতে হলে আগে আমাদের সিঁড়ি বেয়ে নিচ থেকে শুরু করতে হবে। মানে পুজা-দান কর্ম করে আমাদের জ্ঞান-পারমীকে উন্নত করতে হবে। যেমন প্রাইমারী স্কুল পাশ ছাড়া কেউ হাই স্কুলে উঠতে পারে। তেমনি হাই স্কুল পাশ ছাড়া কেউ কলেজ বা তারও উচ্চ পর্যায়ে উঠতে পারে না।

তবুও আবারও বলতে হচ্ছে পূজা বৌদ্ধ ধর্মের চরম লক্ষ্য নয়। শীল, সমাধি প্রজ্ঞা দ্বারা নির্বাণ প্রাপ্তি আমাদের চরম লক্ষ্য। তবুও উক্ত পর্যায়ে পৌছাতে আমাদের পূজা আচারাদির মত পাথেয় আবশ্যক, যেহেতু আমরা বুদ্ধের বর্ণনা অনুযায়ী অত্যন্ত নিম্ন শ্রেণীর পদ্ম কলি, যা এখনো পুকুরের কাদার নিচে। আশা করি আমার এ ক্ষুদ্র দেশনা ( আমি দেশনা বলছি কারণ আমি বুদ্ধের কথার বাইরে একটি কথাও বলিনি) শুনে সকলে উপকৃত হবেন, যেহেতু আপনারা বৌদ্ধ জাতি আমার জ্ঞাতি সদৃশ। পরিশেষে এটাই বলতে চাই, আমি আলোচনা পছন্দ করি, কোন সমালোচনা বা গালি গালাজ নয়। তাই আশা করি আমার এ ক্ষুদ্র দেশনা পড়ে সকলেই যথার্থ মন্তব্য জানাবেন। আর আমার বক্তব্যর কোন অবস্থানে ভুল থাকলে দেখিয়ে দেবেন, অবশ্যই সে ভুল আমি সাধুবাদের সহিত শুধরে নেব।

বিশ্বর সকল প্রাণী সুখী হোক। সম্যক দৃষ্টি লাভ করুক।

অমিতানন্দ ভিক্ষু (বি.এ অনার্স) এম.এ (চলমান)
ইন্টারন্যাশনাল বুড্ডিস্ট কলেজ, থাইল্যান্ড। ইমেইলঃ This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it., Facebook: Amitananda Bhikkhu –https://web.facebook.com/amitananda.bhikkhu.927

তথ্যসুত্রঃ

মিলিন্দ প্রশ্ন; ধর্মধার মহাথের
আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ; পণ্ডিত লেটি ছেয়াদ
3.মহা পরিনির্বাণ সূত্র; http://www.accesstoinsight.org/tipita…/…/dn.16.1-6.vaji.html
সপ্ত অপরিহানিয় ধর্ম; http://stylomilo.com/…/The%20Seven%20Conditions%20of%20Welf…
Share this:

Additional Info

  • Image: Image