২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১০ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০১৭ইংরেজী
বুধবার, 18 মে 2016 02:52

৬০জন কুলপুত্রকে একযোগে প্রব্রজ্যা প্রদান ও ১০দিনের ধ্যান শিক্ষার উদ্বোধন

লিখেছেনঃ নির্বাণা ডেস্ক

৬০জন কুলপুত্রকে একযোগে প্রব্রজ্যা প্রদান ও ১০দিনের ধ্যান শিক্ষার উদ্বোধন

রাউজানস্থ কদলপুরের বাংলাদেশ ভিক্ষু প্রশিক্ষণ ও সাধনা কেন্দ্র উদ্যোগে প্রতি বছরের ন্যায় ২৫৬০ বুদ্ধবর্ষ বরণ উপলক্ষে প্রব্রজ্যা প্রদান ও বৌদ্ধ আচার নীতি শিক্ষার আলোকে বিদর্শন ধ্যান শিক্ষার শুভ উদ্বোধন করা হয়। ১৩মে হতে ২৩মে ১০দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের ভোর ৪.৩০মি. সমবেত বন্দনা ও মৈত্রী ভাবনার মধ্য দিয়ে আয়োজিত ভিবিন্ন কর্মসূচির শুভসূচনা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে সকাল ৮.০০টা থেকে ৯.০০টায় প্রব্রজ্যার্থীদের নাম নিবন্ধন এবং মাথা মুন্ডন (চুল ছেদন), ১০.০০টায় সমাজ হিতৈষী ও শিক্ষানুরাগী প্রয়াত দানবীর শান্তশীল বড়ুয়া, দানশীল দাতা সংঘপিতা প্রয়াত হেমেন্দু বিকাশ বড়ুয়া, চিরকুমারী প্রয়াতা শিক্ষিকা চারুবালা বড়ুয়ার পারলৌকিক সদগতি কামনায় অষ্টউপকরণসহ সংঘদান ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান বাংলাদেশ ভিক্ষু প্রশিক্ষণ ও সাধনা কেন্দ্রের আবাসিক সংঘপ্রধান আচারিয়া সুগতশ্রী মহাস্থবির মহোদয়ের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। স্মৃতিচারণ সভায় সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন বিটিসির পরিচালক ভদন্ত শাসনরক্ষিত ভিক্ষু, প্রধান ধর্মদেশক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিদর্শনাচায্য এম.আনন্দশ্রী স্থবির, বিশেষ ধর্মদেশক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মহামুনী অরণ্য কুটিরের পরিচালক ভদন্ত জগতজ্যোতি থের। শীলছড়ি অভরায়ণ্য ধ্যান কেন্দ্রের পরিচালক ভদন্ত বিনয়বংশ থের। এতে স্মৃতিচারণ করেন বিহার কমিটি সহ-সভাপতি বাবু বিধান বড়ুয়া ও প্যারিমোহন সুমনাতিষ্য দু:স্থ অনাথালয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবু রণধীর বড়ুয়া। বক্তাগণ শাসন-সদ্ধর্ম ও সমাজ উন্নয়ণে তাদের অবদানের কথা শরন করে স্মৃতি চারণে অংশগ্রহণ করেন।পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন উপাসক সুদত্ত কুমার বড়ুয়া। উৎসর্গ ও পূণ্যদানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের ১ম পর্বের কারযক্রম সমাপ্ত হয়।

বিকাল ২টায় প্রতিরুপ দেশের ন্যায় প্রব্রজ্যার্থীদেরকে বাংলাদেশ ভিক্ষু প্রশিক্ষণ ও সাধনা কেন্দ্রের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের পি.এইচডি গবেষনারত শ্রীমাণ ধর্মরক্ষিত শ্রামণের সৌজন্যে সাদা পোষাক দান করা হয়। প্রব্রজ্যার্থীরা ধর্মরক্ষিত শ্রামণের মা অনিমা বড়ুয়া, মামা বিধান বড়ুয়া ও জ্ঞাতীস্বজনের নিকট হতে শ্রদ্ধাচিত্তে সাদা পোষাক গ্রহণ করেন। প্রব্রজ্যার্থীরা সাদা পোষাক গ্রহণ করে সারিবদ্ধভাবে প্রব্রজ্যাস্থানে স্ব-স্ব আসন গ্রহণ এক অভূতপূর্ব দৃশ্য সূচিত হয়, বিটিসির পরিচালক শাসনরক্ষিত মহোদয় সাদা বস্ত্র দানকারী ধর্মরক্ষিত শ্রামণসহ পরিবারের সকলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন, তিনি বলেন প্রব্রজ্যার্থীদের প্রব্রজ্যাগ্রহনের পূর্বে শ্বেতবস্ত্র পরিধান করানো বিটিসির অনেক দিনের পরিকল্পনা কিন্তু সহৃদয়বান দাতা না পাওয়ায় সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ বছর পর প্রব্রজ্যার্থীদেরকে শ্বেতবস্ত্র দান করতে পারায় পরিচালক শাসনরক্ষিত ভিক্ষু ধর্মরক্ষিত শ্রামণকে ধন্যবাদ জানান।

বিকাল ৩টায় বিটিসির শিক্ষার্থী শ্রীমাণ শাসনজ্যোতি শ্রামণের মঙ্গলা্চারণে বাংলাদেশ ভিক্ষু প্রশিক্ষণ ও সাধনা কেন্দ্রের সভাপতি, পাহাড়তলী মহামুনি মহানন্দ সংঘরাজ বিহারের অধ্যক্ষ উপ-সংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাস্থবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় ২৫৬০ বুদ্ধবর্ষ বরণ ও প্রব্রজ্যানুষ্ঠান। এতে প্রধান ধর্মদেশক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. জ্ঞানরত্ন মহাথেরো, প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী পুলক কান্তি বড়ুয়া, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ডা: দিবাকর বড়ুয়া। এতে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন ত্রিপিটক বিশারদ ভদন্ত প্রিয়দর্শী মহাস্থবির, আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আচারিয়া সুগতশ্রী মহাস্থবির। সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন বিটিসির পরিচালক ভদন্ত শাসনরক্ষিত ভিক্ষু। অনুষ্ঠান উস্থাপনায় ছিলেন এম. আনন্দর্শ্রী স্থবির।

১৪মে বিকাল ২টায় চন্দনাইশ উপজেলার সদ্ধর্ম বিদর্শন ভাবনা পরিবেন ও সম্মদিট্ঠি পরিবেনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক বিদর্শন পরিচালক ভদন্ত জিনপাল থেরো ৪৫জন ভিক্ষু-শ্রামণকে ভাবনার কর্মস্থান প্রদান করেন।আগামী ২৩মে ধ্যান প্রশিক্ষণের সমাপ্তি হবে। ১০দিন চলমান ধ্যানানুশীলনকারী ভিক্ষু–শ্রামণদের উদ্দেশ্যে সকাল ১০টায় যারা প্রাত:রাশ, মধ্যাহ্ন আহার, বৈকালিক পানীয়, রাত্রে ভৈষজ্য দানকারী দাতা এবং সেবাদানকারীদের পরলোকগত জ্ঞাতী-স্বজনের উদ্দেশ্যে অষ্টপোকরণসহ সংঘদান করা হবে। এই ১০দিনের মধ্যে কমিটির সহযোগিতায় ইচ্ছা করলে যে কোন দাতা সংঘদান ও জ্ঞাতীভোজন করার সুযোগ রয়েছে।

কৃতজ্ঞতাঃ অতীশ দীপঙ্কর

Additional Info

  • Image: Image