২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ইংরেজী
Clear

22°C

Chittagong

Clear

Humidity: 68%

Wind: 17.70 km/h

  • 23 Nov 2017

    Partly Cloudy 27°C 16°C

  • 24 Nov 2017

    Mostly Sunny 27°C 18°C

শুক্রবার, 21 ফেব্রুয়ারী 2014 01:05

আজ জাতি শ্রদ্ধাভরে ভাষাশহীদদের স্মরণ করছে

লিখেছেনঃ নির্বাণা ডেস্ক


জাতি শ্রদ্ধাভরে ভাষাশহীদদের স্মরণ করছে           

"আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি...আমি কি ভুলিতে পারি..."
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বুকের তাজা রক্ত দিয়েছিলেন বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা। তাঁদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে জাতি।
বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের পাতায় রক্তপলাশ হয়ে ফোটা সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর প্রমুখ শহীদের রক্তঝরা অমর একুশে আজ। একুশে ফেব্রুয়ারি সারা বিশ্বের বাংলাভাষীদের জন্য অনন্য মহিমায় সমুজ্জ্বল একটি দিন। আত্মত্যাগ আর গেৌরবে ভাস্বর মহান শহীদ দিবস। কালের পরিক্রমায় এই দিনটি আজ গোটা বিশ্ববাসীর জন্যই মাতৃভাষাকে সম্মান জানানোর উপলক্ষও। আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের রক্তক্ষয়ী এ দিনটি এখন আর শুধু শোক ও বেদনার দিন নয়, জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব মানুষের, সব ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সর্বজনীন উত্সবের দিন।


১৯৫২ সালে আজকের এই দিনেই ঢাকার রাজপথে রচিত হয়েছিল বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' স্লোগানে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিলেন বীর তরুণরা। বায়ান্নর আন্দোলন প্রকৃতপক্ষে ভাষার প্রশ্নে একুশের আন্দোলন হলেও তা ছিল শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদ। সেদিন আত্ম-অধিকার, সমতাভিত্তিক সমাজ আর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রবিনির্মাণের স্বপ্নে জেগে উঠেছিল পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ। একুশের আন্দোলনেই ঘটে বাঙালির আত্মবিকাশ, যার ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ। হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে এসেছে স্বাধীনতা।


ব্রিটিশ ভারত ভেঙে পাকিস্তান হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই পূর্ব বাংলাবাসীর প্রথম মোহভঙ্গ ঘটে এই ভাষাকে কেন্দ্র করে। পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির মুখের ভাষাকে উপেক্ষা করে উর্দুকে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের আভাস পেতেই প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে বাঙালি। ১৯৪৮ সালের ২১ ও ২৩ মার্চ ঢাকায় পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুর পক্ষে ওকালতি করলে প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিল ছাত্র-জনতা। এরপর বুদ্ধিজীবী-ছাত্র-জনতা গড়ে তোলে দুর্বার আন্দোলন। ভাষার দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যেই ঘনিয়ে এসেছিল বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি। সেদিন এ আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে আগের দিন সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ঢাকায় ঘোষিত হয় ১৪৪ ধারা। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সভায় ১৪৪ ধারা না ভাঙারই সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পরদিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় সমবেত বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৪৪ ধারা ভেঙে ১০ জনের এক একটি দল মিছিল নিয়ে এগিয়ে যায় সামনের দিকে। কণ্ঠে সবার স্লোগান 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই'। পুলিশ বাধা দেয় ওই মিছিলে। শুরু হয় লাঠিপেটা, টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ এবং একসময় গুলি। গুলিতে লুটিয়ে পড়েন রফিক, বরকত, জব্বার, সালামসহ অনেকে। ঢাকায় পরপর আরো দুই দিন রক্ত ঝরে। একুশের আত্মত্যাগের পর আর বাংলা ভাষার দাবিকে ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসকরা। বাঙালির এর পরের ইতিহাস ধারাবাহিক সংগ্রাম আর বিজয়ের, যার চূড়ান্ত অর্জন একাত্তরে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়।


আজ আমাদের গর্বের, আমাদের অহংকারের দিন। সেই সাথে আমাদের মনে করিয়ে দেয় তাঁদের কথা যাঁদের আত্মত্যাগে আমরা আজ গর্বিত। সেই সব শহীদের কথা যাঁরা নিজেদের জীবনের বিনিময়ে দিয়ে গেছে আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। ২১ ফেব্রুয়ারীর এই মহান দিনে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি সেই সকল বীরদের... এবং বাংলা ভাষাভাষী সকলের প্রতি মহান একুশে শুভেচ্ছা। একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাত ১২টা এক মিনিটে শহীদ মিনারের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তাঁরা। পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

Additional Info

  • Image: Image