২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৯ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ইংরেজী
শনিবার, 04 জানুয়ারী 2014 19:49

সংগীতাকাশে ধ্রুবতারাঃ শরণ বড়ুয়া

লিখেছেনঃ মিথিলা চৌধুরী

আধুনিক বাংলা গানের প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পী হিসাবে বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে ধ্রুবতারার মতো সমুজ্জ্বল তাদের মধ্যে শরণ বড়ুয়া অন্যতম। শিল্পী শরণ বড়ুয়া প্রথম শ্রোতাদের নজর কাড়েন ১৯৯৩ সালে ‘স্বপ্নের সেই রাত’ শিরোনামের একক এ্যালবামের মাধ্যমে। তারপর একে একে বাজারে আসে ‘স্বপ্ন তুমি’(১৯৯৪ সাল), ‘দুঃখ নামের স্মৃতি’(১৯৯৫ সাল), ‘আপন’(১৯৯৬ সাল), ‘কেন প্রেম আমাকে কাঁদায়’(১৯৯৯ সাল) শিরোনামে একক এ্যালবাম।

রেডিও-টেলিভিশনের আধুনিক ও নজরুল সংগীতের তালিকাভুক্ত শিল্পী শরণ বড়ুয়া এক সময় সেভেন স্টার নামে ব্যান্ড মিউজিকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই ব্যান্ড দলের লিড ভোকাল ছিলেন শিল্পী শরণ বড়ুয়া। এই ব্যান্ড ১৯৯০ সালে ‘তুমি কে গো বিদেশীনি’ নামে একটি এ্যালবাম বের করে। এখানেও তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। শিল্পী শরণ বড়ুয়ার সংগীত জীবনের হাতে খড়ি ডা. সুকোমল বড়ুয়া। পরবর্তীকালে প্রথমে ওস্তাদ নীরদ বরণ বড়–য়ার কাছে এবং পরে ঢাকাতে বিশিষ্ট সংগীত পরিচালক খন্দকার নুরুল আলমের কাছে উচ্চাঙ্গ সংগীতের তালিম নেন।

চট্টগ্রামের রাউজানে জন্মগ্রহণকারী শিল্পী শরণ বড়ুয়া ১৩/১৪ বছর বয়সে একটি মঞ্চ নাটকে সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে মঞ্চে আত্মপ্রকাশ করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা “প্রশিকা” ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমীতে সংগীতের প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

শিল্পী শরণ বড়ুয়া জীবন পরিচিতি সংক্ষেপে নিম্নে দেয়া হলঃ

শিক্ষাগত যোগ্যতা এম.এসসি( প্রাণি বিজ্ঞান-ফিসারিজ)। সংগীত বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণরে মধ্যে হলোঃ ১. ইন্ডিয়ান হাই কমিশন, বাংলাদেশ থেকে উচ্চাঙ্গ সংগীতের উপর   বিশেষ প্রশিক্ষণ। ২. সুর সপ্তক বিদ্যাপীঠ-এ ওস্তাদ নীরোদ বরণ বড়ূয়ার নিকট থেকে উচ্চাঙ্গ সংগীতের উপর প্রশিক্ষণ।৩. সঙ্গীতজ্ঞ খন্দকার নূরুল আলমের নিকট আধুনিক ও উচ্চাঙ্গ সংগীতের উপর প্রশিক্ষণ।

৪. ভারতীয় সঙ্গীতজ্ঞ পন্ডিত অর্ণব চ্যাটার্জীর নিকট উচ্চাঙ্গ সংগীতের উপর প্রশিক্ষণরত।৫. নজরুল ইন্সটিটিউট কর্তৃক শুদ্ধ সুর ও বাণীতে নজরুল সংগীতের উপর প্রশিক্ষক কোর্স সম্পন্ন। ৬. নজরুল ইন্সটিটিউটে শুদ্ধ সুর ও বাণীতে নজরুল সংগীতের উপর উচ্চতর ডিপ্লোমায় শেষ বর্ষে প্রশিক্ষণরত। ৭. বাংলাদেশ শিশু একাডেমী, ঢাকাতে খন্ডকালীন সংগীতের প্রশিক্ষক।৮.ধর্মরাজিক ললিতকলা একাডেমী(ঢাকা)-র উচ্চাঙ্গ সংগীতের শিক্ষক (১.১.১৯৯৫ - ৩০.১২.১৯৯৯)।৯. কমল কুঁড়ি একাডেমী (ঢাকা)-র উচ্চাঙ্গ সংগীতের শিক্ষক। ১০.পেডাগজি স্কুল,শ্যামলী শাখায় সংগীতের শিক্ষক (২০০৪-২০০৭) ।

তালিকাভূক্তি শিল্পী হিসাবে আছেন   : ১. বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন-এ আধুনিক ও   নজরুল সংগীতের তালিকাভূক্ত কন্ঠশিল্পী। ২. বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর তালিকাভূক্ত কন্ঠশিল্পী। অডওি প্রকাশনা: ১. ৬(ছয়টি) একক অডিও ক্যাসেট, সিডি ও মিউজিক ভিডিও। ২. অসংখ্য মিক্সড অডিও অ্যালবামে কন্ঠদান। পান্ডুলিপি রচনা : ১. আমার গান ও আমার বিজয়। ২. বাংলার মুখ। ৩. জাগাও প্রাণের সুপ্ত শক্তি। ৪. আমার ঐতিহ্য আমার গৌরব।

সংগীত পরিচালনা করেছেন: ১. অন্য গাজীর অন্য কিস্সা। ২. প্রিয়ার চাঁদ। ৩. বাংলাদেশের হৃদয় হতে। ৪. টেকার নাল। ৫. প্রতিধ্বনি শুনি। ৬. দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা। ৭. ঐ নূতনের কেতন ওড়ে। ৮. মানুষ মানুষের জন্য।

প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন তার মধ্যে  :১. প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি কোর্স- এইচ, এইচ, এস।২. প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্স- প্রশিকা৩. প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্স- ভার্ক।৪. স্থায়ীত্বশীল উন্নয়ন কৌশল ও দারিদ্র্য বিমোচন বিষয়ক- প্রশিকা।৫. গণসংস্কৃতি বিষয়ক- প্রশিকা।৬. চিংড়ি চাষ বিষয়ক- প্রশিকা।

ব্যক্তিগত জীবনে দুই ছেলে সন্তানের জনক। পিতার নাম: গোপাল কৃষ্ণ বড়ুয়া, মাতার নাম: মঞ্জু বড়ুয়া। গ্রাম- পূর্ব গুজরা হোয়ারাপাড়া, ডাকঘর-নোয়াপাড়া, থানা- রাউজান, জেলা- চট্রগ্রাম।

“নির্বাণ” পরিবার শরণ বড়ুয়ার সাফল্যময় সুন্দর জীবন কামনা করছি।