২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১১ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ইংরেজী
বুধবার, 20 নভেম্বর 2013 21:26

বাঁশখালীর পঞ্চগ্রামে মহাসমারোহে কঠিন চীবর দানোৎসব সম্পন্ন

লিখেছেনঃ সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম

 

বাঁশখালীর পঞ্চগ্রামে বৌদ্ধদের মহান ধর্মীয় অনুষ্ঠান দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব সম্প্রতি শেষ হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশ্ব শান্তি কামনায় প্রার্থনা, আকাশ প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ৫ দিন ব্যাপী এই মহান কঠিন চীবর দানোৎসবে সারা বাংলাদেশের ধর্মীয় গুরুরা উপস্থিত হয়ে সদ্ধর্ম ভাষণ করেন।

 

বাঁশখালী কেন্দ্রীয় শীলকূপ চৈত্য বিহার :

বাঁশখালীর ৫ দিন ব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসবের প্রথম দিন অনুষ্ঠিত হয় কেন্দ্রীয় শীলকূপ চৈত্য বিহারে। সারাদিন ব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে সকাল বেলা মহা সংঘদান ও বিকাল বেলা ধর্মালোচনা ও কঠিন চীবর উৎসর্গ। বাংলাদেশী বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু ড. ধর্মসেন মহাথের এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাব্বির ইকবাল। অনুষ্ঠানের উদ্ভোধক ছিলেন অধ্যক্ষ কর্মবীর দেবমিত্র মহাস্থবির। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভদন্ত ধর্মপাল মহাস্থবির, রাহুলপ্রিয় মহাস্থবির, তিলোকানন্দ মহাস্থবির, এস. জ্ঞানমিত্র ভিক্ষু। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যাপক অর্থদর্শী বড়য়া, স্বাগত বক্তব্য রাখেন আর্যপ্রিয় থের। বিদর্শন বড়য়ার সঞ্চালনে এই সময় আরো আলোচনায় অংশ নেন অনাদি রঞ্জন বড়য়া, সুভাষ চন্দ্র বড়য়া প্রমুখ।

দক্ষিণ জলদী বিবেকারাম বিহার :

কঠিন চীবর দানে দ্বিতীয় দিন অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ জলদী বিবেকারাম বিহারে। অন্যান্য অনুষ্ঠানাদি সহ আলোচনা সভা সংঘরাজ ধর্মসেন মহাথের এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাব্বির ইকবাল, প্রধান ধর্মদেশক ছিলেন অধ্যাপক ড. জিনবোধি মহাথের, প্রধান আলোচক ছিলেন অধ্যাপক অর্থদর্শী বড়য়া, ধর্মালোচনা করেন ধর্মপাল মহাথের রাহুলপ্রিয় মহাস্থবির, অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ভদন্ত তিলোকানন্দ মহাস্থবির, এছাড়া বক্তব্য রাখেন অনাদি রঞ্জন বড়য়া, সাংবাদিক কল্যাণ বড়য়া মুক্তা, শিক্ষক যতীন্দ্র বড়য়া, অসীম বড়য়া, মানিক বড়য়া, রতন বড়য়া প্রমুখ।

শীলকূপ জ্ঞানোদয় বিহার :

শীলকূপ জ্ঞানোদয় বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব উপসংঘরাজ শাসনশোভন ড. জ্ঞানশ্রী মহাথের এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে অনুষ্ঠানের উদ্ভোধক ছিলেন অধ্যক্ষ রাহুলপ্রিয় মহাস্থবির, প্রধান জ্ঞাতি ছিলেন ভদন্ত প্রিয়ানন্দ মহাস্থবির, অনুষ্ঠানে অতিথি ও ধর্মদেশক ছিলেন, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাব্বির ইকবাল, মহিউদ্দিন চৌধুরী খোকা, চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক সিকদার, অধ্যাপক মাসুম চৌধুরী, কর্মবীর সত্যপ্রিয় মহাস্থবির, ভদন্ত শীলরক্ষিত মহাস্থবির, ভদন্ত ধর্মপাল মহাস্থবির, তিলোকানন্দ মহাস্থবির, দেবমিত্র মহাস্থবির, শিক্ষক সুব্রত বড়য়া, এডভোকেট আশীষ বরণ বড়য়া, এস. দুকুল বড়য়া, কাকন বড়য়া, বাসুদেব বড়য়া, প্রকাশ বড়য়া, তৃদীপ বড়য়া ও পলাশ বড়য়া।

 

সংঘরাজ অভয়তিষ্য পারিজাত আরাম:

কঠিন চীবর দানের চতুর্থ দিনে অনুষ্ঠিত হয় সপ্তম সংঘরাজ অভয়তিষ্য মহাস্থবির ও একাদশ সংঘরাজ শাসনশ্রী মহাস্থবিরের জন্মজনপদ এর সংঘরাজ অভয়তিষ্য পারিজাত আরাম বিহারে। ভদন্ত ধর্মদর্শী মহাস্থবিরের সভাপতিত্বে অনুুষ্ঠানে প্রধান ধর্মদেশক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ড. জ্ঞানরতœ মহাস্থবির, প্রধান অতিথি ছিলেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাব্বির ইকবাল, সদ্ধর্ম দেশনা করেন ধর্মপাল মহাস্থবির, রাহুলপ্রিয় মহাস্থবির, তিলোকানন্দ মহাস্থবির। অনুষ্ঠানে উদ্ভোধনী বক্তব্য রাখেন, মৈত্রীজিৎ স্থবির। এছাড়া বক্তব্য রাখেন মিলন বড়য়া, অনাদি রঞ্জন বড়য়া, শিমুল বড়য়া, মানিক বড়য়া, বাসুদেব বড়য়া প্রমুখ।

 

বাঁশখালী পৌরসভা সদরস্থ জলদী ধর্মরতœ বিহার :

৫ দিন ব্যাপী কঠিন চীবর দানে সমাপনী দিনে পৌরসভাস্থ জলদী ধর্মরতœ বিহারে অনুষ্ঠিত হয়। ভদন্ত জিনানন্দ মহাস্থবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাব্বির ইকবাল, বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান বড়য়া, বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোছাইনী, বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল হাসান পিপিএম। ভদন্ত ধর্মপাল মহাস্থবিরের উদ্ভোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত সভায় সদ্ধর্ম দেশনা ও আলোচনায় অংশ নেন সাতকানিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, প্রফেসর বোধিরঞ্জন বড়য়া, ভদন্ত দেবমিত্র মহাস্থবির, তিলোকানন্দ মহাস্থবির।

দীপক কান্তি বড়য়া ও সুবল বড়য়া সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বাঁশখালী বৌদ্ধ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক কল্যাণ বড়য়া মুক্তা, সুভাষ চন্দ্র বড়য়া, সুগত রঞ্জন বড়য়া, কাউন্সিলর মিলন বড়য়া, অনু বড়য়া বাবু, রূপক বড়য়া প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বৌদ্ধ সম্প্রদায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রতিতে বিশ্বাসী। তাই তারা শান্তিপ্রিয়। শীল সমাধি প্রজ্ঞার অনুশীলনের মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি আনায়ন করা সম্ভব। তাই বৌদ্ধরা শীল সমাধি প্রজ্ঞার অনুশীলন সহ বিশ্ব শান্তি কামনায় সদায় তৎপর থাকে।