২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৯ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ শুক্রবার, ২৩ জুন ২০১৭ইংরেজী

ইতিহাস ও ঐতিহ্য

বৌদ্ধ সংস্কৃতি, বংগ সংস্কৃতি ও বাঙালি জাতিসত্তা

বাংলাদেশে কবে বৌদ্ধধর্ম প্রচারিত হয়েছিল তা নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে বিতর্ক থাকলেও বৌদ্ধ সাহিত্য পাঠে জানা যায় বুদ্ধের জীবদ্দশায় বৌদ্ধধর্ম বাংলায় প্রচারিত হয়েছিল। সংযুক্ত নিকায়ে উল্লেখ আছে যে, বুদ্ধ একবার সুহ্ম ভুমির অন্তর্গত শেতক নগর কিছুদিন বসবাস করেছিলেন। রাঢ় দেশের অপর নাম সুহ্ম। ইহা বর্তমান মেদিনীপুর অঞ্চল। অঙ্গুত্তর নিকায়গ্রন্থে বঙ্গান্তপুত্ত নামে এক বৌদ্ধ ভিুর উল্লেখ পাওয়া যায়। বোধিসত্ত্বাবদান কল্পলতায় জানা যায় পুন্ড্রবর্ধনের রাণী সুমাগধার আমন্ত্রণে বুদ্ধ পুন্ড্রবর্ধনে এসে ছয়মাস অবস্থান করেছিলেন।…

প্রত্নের সন্ধানে গঙ্গাঋদ্ধি থেকে অতীশ দীপঙ্কর

উয়ারী-বটেশ্বরের আবিষ্কার বদলে দেয় আমাদের নগর সভ্যতার ইতিহাস। নরসিংদীর এ প্রত্মপীঠ খননে প্রাপ্ত প্রত্ননিদর্শন ও অবকাঠামো পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশ্লেষণ করে গবেষকরা সিদ্ধান্তে এসেছেন, এটি প্রাচীন গঙ্গাঋদ্ধি সভ্যতার হারিয়ে যাওয়া নগর বা বাণিজ্যকেন্দ্র। ধারণা করা হচ্ছে, এটিই গঙ্গাঋদ্ধির রাজধানী গাঙ্গে। গ্রিক ভূগোলবিদ টলেমি যাকে বর্ণনা করেছেন বাণিজ্যকেন্দ্র সৌনগড়া হিসেবে। প্রাচীন এ নগর গড়ে উঠেছিল আড়াই হাজার বছর আগে। যার নিরলস গবেষণা, অনুসন্ধান ও খননে আমাদের সভ্যতার অনন্য এ অধ্যায়ের উন্মোচন তিনি…

থাইল্যান্ডের টাইগার টেম্পল

থাইল্যান্ডের টাইগার টেম্পল...বিষয়টি সত্যিই অবিশ্বাস্য। থাইল্যান্ডের কাঞ্চনাবুরি প্রদেশের সাইয়ক জেলা। মিয়ানমার সীমান্ত থেকে মাত্র ৩৮ কিঃ মিঃ উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত টাইগার টেম্পল যা আঞ্চলিক ভাষায় বলে ওয়াট ফা লুয়াং টা বুয়া। স্থানীয় ভাষায় ‘থেরাভাদা বৌদ্ধ মন্দির’ নামেও পরিচিত পশ্চিম থাইল্যান্ডের এই মন্দিরটি। সেখানে গেলে দেখা যায় বাঘ এবং মানুষের সখ্য। ১৯৯৪ সালে জঙ্গলের মন্দির হিসেবে আবিষ্কার করা হয় এ ধর্মীয় স্থানটি। বন্য জন্তুদের আবাসনের জন্য এটি একটি বিখ্যাত জায়গা। বিশেষত বিভিন্ন…

বার্মার সোয়েডাগুন প্যাগোডাঃ গৌতম বুদ্ধের কেশধাতু সংরক্ষিত

পৃথিবীতে দু'প্রকারের আয়ু সম্যক সম্বুদ্ধ দেখতে পায়।{১} দীর্ঘায়ু ও {২} সল্পায়ু সম্পন্ন বুদ্ধ।দীর্ঘায়ু সম্পন্ন বুদ্ধগণের আয়ু লক্ষ বছর /হাজার বছর।আর সল্পায়ু সম্পন্ন বুদ্ধের আয়ু ৮০ বছর।দীর্ঘায়ু সম্পন্ন বুদ্ধগণ পরিনির্বাপিত হলে দাহ কার্য্য সমাপনের পর অস্থিধাতু সমূহ জমাটবদ্ধ হয়ে সুবর্ণ চৈত্যের আকার ধারণ করে।বিভিন্ন অংশে বিভক্ত হয়না।উনাদের অস্থিধাতুগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বন্টিত হয় না।তবে কয়েকজন বুদ্ধের ক্ষেত্রে বৈসাদৃশ্য দেখা যায়।দীর্ঘায়ু সম্পন্ন বুদ্ধগণের অস্থিধাতু কেন বিভিন্ন অংশে বিভক্ত হয় না?কারণ হলো উনারা…

চর্যাপদে বর্ণিত প্রাচীন বাংলার সমাজ চিত্র

‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা প্রকাশিত হওয়ার পর বহু বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক সাহিত্যের ঐতিহাসিক ও ধর্মতত্ত্বানুসন্ধিৎসুপণ্ডিত মণ্ডলী চর্যা নিয়ে অনেক গবেষণা করেছেন। তাঁদের গবেষণার প্রেক্ষিতে চর্যাপদের স্বরূপ অনেকাংশে উন্মুক্ত হয়েছে। অসিত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিমত ‘ইহা প্রাচীনতম বাংলা ভাষায় রচিত যখন মাগধী অপভ্রংশের অঞ্চলতল ত্যাগ করিয়া বাংলা ভাষা সবেমাত্র পথে বাহির হইয়াছে; উপরন্তু ইহাতে সাধন-ভাজন সংক্রান্ত এমন সমস্ত গুহ্য ইঙ্গিত ও প্রতীকের আভাস আছে যে, আধুনিক যুগের পাঠক…

চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য

ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল চট্টগ্রাম। এখানকার বৌদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য অতি সুপ্রাচীনকালের। সুস্পা কাহ্নপো লিখিত পাগসাম-জোন-জন ও লামা-তারানাথ লিখিত ‘কাবাভদুন দন' নামক তিববতীয় গ্রন্থদ্বয় সূত্রে জানা যায়১ যে, চট্টগ্রামের আদি নাম ছিল ‘জালনধারা'। পরবর্তী সময়ে ‘জলন্দর' রূপ প্রাপ্ত হয়। এর অর্থ তপ্ত জল সমন্বিত অঞ্চল। সম্ভবত এখানকার ভূগর্ভ থেকে নিঃসৃত উষ্ণ জলের প্রস্রবণধারা থেকে এ নামের উৎপত্তি। (সীতাকুন্ড পর্বতের বাড়বকুন্ড, কুমারীকুন্ড, লবণাক্ষ্য প্রভৃতি কুন্ড থেকে আজো উষ্ণ জলের…

বিশ্বপ্রত্নতত্ত্বে বৌদ্ধ চৈত্য-মন্দিরঃ অগগ্য মেধা ক্যায়াং

বৌদ্ধদের প্রাচীন ঐতিহ্যের পীঠস্থান খ্যাত শহর কক্সবাজার। যেখানে অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থানের নাম অগগ্য মেধা ক্যায়াং বা বৌদ্ধ মন্দির। অগগ্য মেধা বৌদ্ধ মন্দির এ শহরের সবচেয়ে সুন্দর ও প্রাচীন মন্দির। এর পেছনে রয়েছে কেন্দ্রীয় মাহাসিং দোগ্রী বৌদ্ধ মন্দির। এটি বাংলাদেশের রাখাইন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বৃহৎ, প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। কেন্দ্রীয় মন্দিরকে ঘিরে আশপাশের অন্যান্য বৌদ্ধ মন্দির ও চৈত্যসমূহ কালের সাক্ষী হয়ে টিকে আছে যুগ যুগ ধরে। ক্যায়াং বা…

শঙ্খ নদীঃ একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

১। পাহাড়, অরণ্য, ঝর্ণা ধারায়নয়নাভিরাম, পার্বত্য চট্টগ্রামের আয়তন ৫,০৯৩ বর্গমাইল। বাংলাদেশের এক কোনোদণি-পূর্বাঞ্চলে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান–এই তিন জেলা নিয়ে গড়ে ওঠাপার্বত্যঞ্চালে পাহাড়ি-বাঙালি মিলিয়ে আনুমানিক প্রায় ১৫ লাখ লোক বাস করেন। দুর্গম বান্দরবান জেলার আয়তন ৪,৪৭০ বর্গকি.মি.। মায়ানমার সীমান্তবর্তী এ জেলায় রয়েছে দেশের সবচেয়ে উঁচু পর্বততাজিংডং (১,২৮০ মি.), মদক (১,০৫২ মি.) ও ক্রেওক্রাডং (১,২৩০ মি.)। জেলারমোট জনসংখ্যা প্রায় তিন লাখ। মায়নমার সীমান্তের দুর্গম মদক পাহাড়ে শঙ্খনদীর উৎপত্তি। উত্তরে আরাকান পর্বত্য…

নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী: চাকমা ভাষাচর্চা কোন পথে

পার্বত্য চট্টগ্রামে ১১টি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি। ভাষিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে সংখ্যাগতভাবে এ দেশে বাংলা ভাষার পরে চাকমা ভাষার অবস্থান (২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, চাকমা জনগোষ্ঠী চার লাখ ৪৪ হাজার)। ভাষাগত দিক থেকে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের ভাষা অনেকটা কাছাকাছি। অনেক ভাষাবিদ তঞ্চঙ্গ্যা ভাষাকে চাকমা ভাষার উপভাষা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে একটু গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে এ দুটি ভাষার মধ্যে উচ্চারণগত ভিন্নতা ছাড়া তেমন কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়…

ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারঃ আমাদের যুব শাখা

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যুবক আছে যুবকের ভাবনা আছে এবং তাদের সংগঠনও আছে। আমাদের দেশ ও তার ব্যতিক্রম নয়। এদেশের বৌদ্ধরা সংগঠন প্রিয় এবং বুদ্ধের সপ্ত অপরিহানীয় ধর্মের প্রথম নীতিকে ধারণ করে একত্রে মিলিত হয়। সভা করে এবং সংগঠন করে তারা কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেনা যুবকদের সমিতিতে সম্পৃক্ত করতে। এভাবেই যুবকদের কর্মধারার সূচনা হয়। পল্লীতে পল্লীতে বৌদ্ধ যুবকদের সংগঠন আছে এগুলোর মাধ্যমে তারা সাংস্কৃতিক সাহিত্য, ক্রীড়া ও কল্যাণমূলক কর্মসুচী পরিচালনা…

৭১'র মুক্তি সংগ্রাম : বৌদ্ধরাও ছিলনা পিছিয়ে

মা-মাটি-মানুষের সাথে সম্প্রীতিতে বাংলা ভাষাভাষী অর্থাৎ বাঙালিদের অনন্যতা রয়েছে। বৌদ্ধিক আচার-আচরণ এবং সংস্কৃতিতেও এ বিষয়টি অগ্রে। আমরা তথাগত মহাকারুণিক গৌতম বুদ্ধের জীবনীতে দেখি, বুদ্ধ স্বয়ং তিন-তিনবার রক্ষা করতে গিয়েছিলেন সিদ্ধার্থরূপে জন্মজাত সেই জন্মবংশ- “শাক্য বংশ”। যে দিকে বিড়ুঢ়ব (শত্রুপক্ষ) সসৈন্যে নগরে প্রবেশ করবে বুদ্ধ তার অনতিদূরে যুদ্ধ যাত্রার পথিমধ্যে পাতা বিহীন বৃক্ষমূলে বসেছিলেন প্রখর রোদ্রতাপেও! -হে প্রভু গৌতম, প্রচণ্ড রোদ্রতাপে যেখানে সকলে একটু ছায়ার সন্ধানে উৎকণ্ঠিত সেখানে এতোই ছায়াশীতল বৃক্ষরাশি…

বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারের ক্ষেত্রে মগধ রাজারদের অবদান

দুইটা প্রধান তথ্য দিয়ে লেখাটি শুরু করা যাক...যদি প্রশ্ন করা হয় কোন্ রাজা পৃথিবীতে সর্ব প্রথম বৌদ্ধ বিহার দান করেন?কোন্ রাজার পৃষ্টপোষকতায় প্রথম বৌদ্ধ সংঘায়ন আয়োজিত হয়?উত্তর হলো মগধের রাজা বিম্ব্বিসার ও অজাতশত্রু (পিতা এবং পুত্র)। কুমার সিদ্ধার্থ গৃহ থেকে মহাভিনিষ্ক্রমণের পর অষ্টম দিবসে মগধের রাজগৃহে দ্বারে দ্বারে পিন্ডচারণ করতে লাগলেন।জনসাধারণ সিদ্ধার্থের জ্যোতির্ময় কায়া দেখে দ্বিধা-দ্বন্ধে পরে গেলেন।বলতে লাগলেন উনি কি মানব,নাকি দেবতা-নাগ কোনটা?এ সংবাদ বিম্ব্বিসারের কর্ণ গোচর হলে রাজা…

চক্রবর্তী রাজা প্রসঙ্গ

একা যিনি এ পৃথিবী করেন শাসন পুণ্য বলে স্বর্গে তিনি করেন গমন যদি ও বা ত্রিলোকের অধিশ্বর হন স্রোতাপত্তি ফল সম হবেনা কখন ...। __ধর্মপদ তথাগত ব্যতীত অদ্বিতীয় যেজন এ পৃথিবী শাসন করবার ক্ষমতা রাখেন তিনি হলেন চক্রবর্তী রাজা।চক্রবর্তী রাজা-সাধারণ রাজা,মহারাজা থেকে অধিক পুণ্যবান ও ক্ষমতাশালী হয়ে থাকেন।আর চক্রবর্তী রাজা যেকোন সময় জন্ম গ্রহণ করেন না।ঋষি কালদেবল যখন পূজ্য সিদ্ধার্থকে আশীর্বাদ করতে এসেছিলেন তখন বলেছিলেন-সিদ্ধার্থ গৃহে থাকলে চক্রবর্তী রাজা হবেন,আর…

বোধন

বোধন বিমল জ্যোতি মহাস্থবির ইতিহাস অতীতের কথা বলে। কোন মহানজাতি ধর্ম, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজ ব্যবস্থার সুনিয়ন্ত্রিত আচার অনুশীলন প্রবর্তন করেছিল, ইতিহাস তারই কাহিনীর উজ্জ্বল প্রকাশ। ইতিহাস নিজ সৃষ্টি মহিমায় মহিমান্বিত এবং অতীতের গৌরবে গৌরবান্বিত এক সত্যের আসনে সুপ্রতিষ্ঠিত। ইতিহাস এবং ঐতিহ্য জাতির চলার পথের পথ প্রদর্শক এবং ভবিষ্যতে অতীতের দৃষ্টান্ত দুষ্টে জাতির জাতির চলার পথের পথ প্রদর্শক এবং ভবিষ্যতে অতীতের দৃষ্টান্ত দৃষ্টে জাতির শুভাকাঙ্খীরূপে হুশীয়ারী সংক্ষেতের ধারক ও বাহক।…

শ্রীলংকার বিশ্ববৌদ্ধ যাদুঘরে বাংলাদেশ

আমি বহুবার শ্রীলংকায় গিয়েছি কিন্তু তার সাথে এবারের সফরের একটি পার্থক্য বিদ্যমান। অন্যান্যবার গিয়েছিলাম বৌদ্ধধর্মীয় সম্মেলন, বিশ্ববৌদ্ধ সম্মেলন, বিশ্ব বৌদ্ধ নেতৃসম্মেলন, তথ্যগত অনুসারী সম্মেলন, এশীয় ধর্ম ও শান্তি সম্মেলন ইত্যাদিতে যোগদানের জন্য। এবার গিয়েছিলাম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শ্রীলংকার ক্যান্ডিস্থ আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ যাদুঘর পরিদর্শনের জন্য বাংলাদেশের সরকারী প্রতিনিধিদলের সদস্য হয়ে। এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় যাদুঘরের মহাপরিচালক মি. প্রকাশ চন্দ্র দাস মহোদয়, অন্যান্য সদস্যরা হলেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মিসেস শিরীন…