২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৮ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ইংরেজী

ইতিহাস ও ঐতিহ্য

চর্যাপদ : বাংলা সাহিত্যে বৌদ্ধদের অনন্য অবদান

চর্যাপদ : বাংলা সাহিত্যে বৌদ্ধদের অনন্য অবদান চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম কাব্য তথা সাহিত্য নিদর্শন। নব্য ভারতীয় আর্যভাষারও প্রাচীনতম রচনা এটি। খৃষ্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে রচিত এই গীতিপদাবলির রচয়িতারা ছিলেন সহজিয়া বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ। বৌদ্ধ ধর্মের গূঢ় অর্থ সাংকেতিক রূপের আশ্রয়ে ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যেই তাঁরা পদগুলি রচনা করেছিলেন। বাংলা সাধন সংগীতের শাখাটির সূত্রপাতও এই চর্যাপদ থেকেই হয়। অসমীয়া ও উড়িয়া ভাষার সাথে অনেক মিল থাকায়, অসমীয়া এবং উড়িয়া ভাষারও…

ইতিহাস ও বৌদ্ধ ঐতিহ্যের অন্বেষায় ‘বড়ুয়া’ : কিছু পর্যালোচনা

ইতিহাস ও বৌদ্ধ ঐতিহ্যের অন্বেষায় ‘বড়ুয়া’ : কিছু পর্যালোচনা ‘বড়ুয়া’ বর্তমান বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতি সত্ত্বার একটি সুপরিচিত নাম। এদেশে বসবাসকারী বাঙ্গালি বৌদ্ধরাই ‘বড়ুয়া’ নামে অভিহিত। ইতিহাস সূত্রে এটা সুনির্দিষ্টরূপে প্রমাণিত যে, বাঙ্গালী বড়ুয়া বৌদ্ধরা এদেশের আদি বাসিন্দা। এই বড়ুয়া বৌদ্ধরা ক্ষুদ্র জাতি সত্ত্বায় বর্তমানে বিদ্যমান থাকলেও তাদের রয়েছে অতি সমৃদ্ধ গৌরবনীয় ইতিহাস প্রসিদ্ধ পরিচয়। আমি নিজেও এই গৌবরনীয় জাতির একজন, তথাপি বিভিন্ন সময়ে নিজের মনের মধ্যে উৎপন্ন নানা অনুসন্ধিৎসু প্রশ্নের…

নতুন বৌদ্ধ বিহার : নতুন ইতিহাস

নতুন বৌদ্ধ বিহার : নতুন ইতিহাস মহামানব গৌতম বুদ্ধ ধন্যবতীর রাজা চাঁদ সুরিয়ার সময় সেবক আনন্দকে নিয়ে আরাকানের রাজধানী ধন্যবতী আসেন। সেখানে এক ধর্মীয় অনুষ্টানে সেবক আনন্দকে উদ্দেশ্য করে বুদ্ধ বলেন,‘হে আনন্দ ভবিষ্যতে পশ্চিম সমুদ্রের পূর্ব র্পাশ্বে পাহাড়ের উপর আমার বক্ষাস্থি স্থাপিত হইবে। তখন উহার নাম হইবে ‘রাংউ’। ধন্যবতী রাজবংশ গ্রন্থে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, ভাষাতাত্ত্বিক প্রকৃয়ায় রাংউ থেকে রামু শব্দটি এসেছে। রাংউ বার্মিজ শব্দ। রাং অর্থ…

সম্রাট অশোক পুত্র অর্হৎ মাহেন্দ্র

সম্রাট অশোক পুত্র অর্হৎ মাহেন্দ্র আজকের দিনে আমাদের মহাকরুনিক তথাগত সম্যক সম্বুদ্ধ শ্রাবস্থীতে প্রথম ধর্মদেশনা করেছিলেন। এবং মগধের সম্রাট অশোকের (ধর্মাশোক) একমাত্র জৈষ্ঠ্য পুত্র অর্হৎ মাহেন্দ্র স্থবির বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার ও প্রসারে (সিংহল দ্বীপে) বর্তমানে শ্রীলংকায় গমন করেছিলেন। অনুরাধাপুর হল  (সিংহল) বর্তমান শ্রীলংকার পুরানো রাজধানী। মূলত দেশটিতে অনুরাধাপুর নামক স্থান থেকেই নতুন করে পুনজাগরণ হয়েছিল বৌদ্ধধর্মের। বৌদ্ধধর্মের প্রচারে অশোকপুত্র অর্হৎ মাহেন্দ্র স্থবির খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে অনুরাধাপুরের মিহিনতালা নামক স্থানে নতুন…

বৈদিক পূর্ব বৌদ্ধধর্ম আলোয় আলো

বৈদিক পূর্ব বৌদ্ধধর্ম আলোয় আলো ভারতে ব্রাহ্মনদের ধর্ম এবং রাজনীতি মানুষ জাতিকে অপমান করার ফলে আজ ২৫ কোটি দলিত জনতা মানবাধিকারের জন্যে যুদ্ধ করে বেঁচে আছেন।  হিন্দু শাসক ও পন্ডিতগণ বৌদ্ধধর্মকে হিন্দুধর্ম বানিয়ে মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘনের  মাধ্যমে ক্ষত্রিয় ও ব্রাহ্মনকে ভারতীয় সমাজে উপরে রেখে নর নারায়নকে দলিত অস্পৃশ্য জাতিবাদের মিথ্যা বেসাতিতে মানবতাকে তিলে তিলে অপমান করে চলেছে। মানব শিশুর অপমানে কোন ধর্মই নেই। প্রসঙ্গত: ২০১৩ সালের ৭ জুলাই বুদ্ধগয়ার  মহাবোধি…

আঁরার চাঁটগাইয়্যার গর্ব জব্বইয্যার বলি খেলা

আঁরার চাঁটগাইয়্যার গর্ব জব্বইয্যার বলি খেলা (আমদের চাটগাঁইয়াদের গর্বঃ জব্বারের বলিখেলা): রেসলিং বর্তমান বিশ্বের অন্যতম একটি বিনোদন। রেসলিং এর বাংলা নাম কুস্তি। কুস্তি অনেক পুরাতন একটি খেলা। মধ্যপ্রাচ্যে এই খেলাটির একসময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। বর্তমানে অলিম্পিক সহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কুস্তি একটি অন্যতম ইভেন্ট। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের মতো বাংলাদেশেও কুস্তি খেলার রয়েছে অনেক জনপ্রিয়তা । কুস্তি শব্দ থেকে এসেছে বলি আর বলি শব্দটি এসেছে বলবান থেকে । মুঘল আমলে বিত্তবান…

নববর্ষে বঙ্গাব্দের হিজরি সাল প্রসঙ্গ

নববর্ষে বঙ্গাব্দের হিজরি সাল প্রসঙ্গ বঙ্গাব্দে  বাঙালি ঐতিহ্য নেই।  বাংলা নববর্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাতে বঙ্গাব্দের ইতিকথা মনে পড়ে গেল যে, “ বাংলা ভাষা আন্দেলনের আলোকে  চর্যাপদের বুদ্ধাব্দ কে বাদ দিয়ে হিজরি (১৪৩৫) সাল থেকে  বঙ্গাব্দের উৎপত্তি কেন ?ৃ” আজকের বঙ্গাব্দই হিন্দুরাজনীতির মহাভারতীয ষড়যন্ত্র এবং এইভাবে ১২০২ সালে বাংলাদেশের পুরানো বৌদ্ধগণ বেঁচে থাকার জন্যে বাধ্য হয়ে  সেন বাংলার প্রাচীন বৌদ্ধগণ মুসলমান হয়েছিলেন।   জনতার প্রশ্ন :  বিশ্ব বিজয়ী বাঙালি চর্যাপদের বুদ্ধাব্দ কে…

অশোকের “কলিঙ্গানুশাসন”

অশোকের “কলিঙ্গানুশাসন” দীর্ঘদিন ধরে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের লাদাখ (যাকে ‘মিনি তিব্বত’ নামে অভিহিত করা হয়) ভ্রমণের ইচ্ছে পোষণ করে আসছিলাম। কিন্তু নানা কারণে হয়ে উঠেনি। অবশেষে জীবনের প্রায় শেষ প্রান্তে এসে, সাহস করে,  লাদাখ ভ্রমণের দুরূহ যাত্রায়, বের হয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি । এই উদ্দেশ্যে,  বাংলাদেশের  ঢাকা থেকে কোলকাতার কয়েকটি ভ্রমণ-সংস্থার সাথে টেলিফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করি। তাদের মধ্যে লেনিন সরনিতে অবস্থিত ‘প্যান-ওয়েস’ নামক একটি ভ্রমণ-সংস্থার ভ্রমণের সময়,…

পার্বত্য চট্টগ্রামের জনজাতি ও সংস্কৃতি গবেষণা : দুই’শ বছরের বৃত্তান্ত

পার্বত্য চট্টগ্রামের জনজাতি ও সংস্কৃতি গবেষণা : দুই’শ বছরের বৃত্তান্ত বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্ব সীমান্তবর্তী এলাকা পার্বত্য চট্টগ্রাম। ৫,০৫৪ বর্গমাইল আয়তনের তিন পার্বত্য জেলায় বসবাস করে ১০ ভাষাভাষি ১১ টি আদিবাসী জনগোষ্ঠী। এরা পার্বত্য চট্টগ্রামের আদি অধিবাসী না হলেও এদের জীবনধারা, ভাষা, খাদ্যাভ্যাস, ধর্ম, বিচার ব্যবস্থা, সামাজিক রীতিনীতিণ্ড সবকিছু আদিম সংস্কৃতি চেতনায় প্রভাবিত। আইএলও কনভেনশন ১০৭ এর আলোকে এদের আদিবাসী বলা যায়। কারণণ্ড এখানকার ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার লোকজনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা…

বাংলা নববর্ষ : প্রাসঙ্গিক ভাবনা

বাংলা নববর্ষ : প্রাসঙ্গিক ভাবনা ১লা বৈশাখ বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিন। দিনটিকে আমরা সচরাচর ‘নববর্ষ’ নামে চিহ্নিত করে থাকি। কারণ, ‘নববর্ষ’ আমাদের কাছে ব্যষ্টি ও সমষ্টিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই গুরুত্বের রূপ ধীরে ধীরে উদ্ঘাটিত হবে।পৃথিবীর সর্বত্র ‘নববর্ষ’ একটা ‘ট্রেডিশন’,- একটা ঐতিহ্য। এটি আবার এমন এক ‘ঐতিহ্য’, যার বয়সের কোন গাছপাথর নেই। গোড়ায় কোন সুনির্দিষ্ট বছরের সাথেও এর কোন যোগ ছিল ব’লে প্রমাণ পাওয়া যায় না; অথচ যে-কোন বছরের প্রথম দিনটি…

অন্য রকম বৌদ্ধবিহার

অন্য রকম বৌদ্ধবিহার মহেশখালীর বৌদ্ধ নিদর্শনের মধ্যে পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বড় রাখাইনপাড়া বৌদ্ধবিহার। প্রতি বছর অন্তত আট লাখ পর্যটক এই মন্দির পরিদর্শন করেন । কক্সবাজার শহর থেকে সাগরদ্বীপ মহেশখালীর দূরত্ব প্রায় সাত কিলোমিটার। স্পিডবোটে গেলে সময় লাগে মাত্র ১১ মিনিট। সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার সময় নজরে পড়ে দ্বীপের ২৬৮ ফুট উঁচু মৈনাক পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপিত অপরূপ আদিনাথ মন্দির। মৈনাক পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে উঠেছে রাখাইনপল্লি। এর অল্প দূরে গোরকঘাটায় গেলে চোখে…

নালন্দার ধ্বংস বনাম ধর্মীয় বিজয়

নালন্দার ধ্বংস বনাম ধর্মীয় বিজয় উপমহাদেশের ইতিহাস বিশাল বৈচিত্রে ভরপুর। এখানে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন জাতি গোষ্ঠি ধর্মের নানা মুখি সংঘাত ও সংমিশ্রণের ইতিহাস, একই সাথে আছে শিক্ষা সভ্যতার প্রগতি ও বিলয়ে ভরা ইতিহাস।মধ্য যুগে এই ইতিহাস রচনায় কান্ডারি ছিলেন বৌদ্ধ নৃপতি গণ। সংসার ত্যাগী বুদ্ধ মতবাদের প্রচার প্রসার ও পৃষ্ঠপোষকতা করতে গিয়ে তারা রাজ্য জুড়ে স্থাপন করেছেন অসংখ্য বৌদ্ধ বিহার। এই সব বিহার থেকে কিছু কিছু বিহার পরে অবাধ জ্ঞান…

মিরসরাইয়ে পুকুরের প্রাচীন সভ্যতার চিহ্ন: ঐতিহাসিক পণ্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসাবশেষ !

মিরসরাইয়ে পুকুরের গভীরে প্রাচীন সভ্যতার চিহ্ন: ঐতিহাসিক পণ্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসাবশেষ আশংকা চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পূর্ব কিসমত জাফরাবাদ গ্রামের একটি পুকুর খনন করতে গিয়ে ৩০ ফুট নিচে প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শনের (ইটের প্রাচীর) সন্ধান মিলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রাচীরটি প্রাচীন সভ্যতার কোনো নিদর্শন। ইতিহাসবিদরা মনে করছেন, পাল আমলে (বৌদ্ধযুগ) চট্টগ্রামে স্থাপিত ঐতিহাসিক পণ্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসাবশেষও হতে পারে নিদর্শনটি।খবর; দৈনিক কালের কণ্ঠ এ বিষয়ে চট্টগ্রামের ইতিহাস গবেষক আহম্মদ মমতাজ জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম ঐতিহাসিকভাবে প্রাচীন…

পাল সাম্রাজ্যে হিন্দু-বৌদ্ধ ভাস্কর্য

পাল সাম্রাজ্যে হিন্দু-বৌদ্ধ ভাস্কর্য গুপ্ত শাসকদের অনুসরণে পাল সাম্রাজ্যে ভাস্কর্য শিল্পের সূচনা হয়। প্রথম দিকের পাল ভাস্কর্যগুলোতে তাই গুপ্তরীতির প্রভাব চোখে পড়ে। তবে পাল সাম্রাজ্যের বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে পালদের নিজস্ব ভাস্কর্য নির্মাণপদ্ধতি গড়ে ওঠে। বাংলা ও বিহারে বিস্তৃত পাল সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশে ভাস্কর্য শিল্পের অনেক কেন্দ্র নির্মিত হয়। এসব কেন্দ্রের শিল্পসম্ভার শুধু বৈচিত্র্যপূর্ণই ছিল না, সংখ্যার দিক দিয়েও ছিল প্রচুর। এসব কেন্দ্রে যে পালরীতির বিকাশ ঘটে তা বিশ্লেষণ করে বলা…

পাল যুগ : বৌদ্ধ বিহারকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা

পাল যুগ: বৌদ্ধ বিহারকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা পাল আমলে বাংলার বিভিন্ন স্থানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। পাল রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এই ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠলেও মূলত এখানে চর্চা হয়েছে দর্শন ও বিজ্ঞানের। প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আদলে তৈরি করা বিহার নামে পরিচিত এসব বৌদ্ধ মঠই প্রাচীন বাংলার শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে। বৌদ্ধ ধর্মের শাস্ত্রীয় শিক্ষার পাশাপাশি এখানে ব্যাকরণ, শব্দবিদ্যা, হেতুবিদ্যা, চিকিৎসাবিদ্যা, চর্তুবেদ, সংখ্যা, সংগীত ও চিত্রকলা শিক্ষা দেওয়া হতো। এ ছাড়া এসব বিহারকেন্দ্রিক শিক্ষায়তনে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা…