২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৬ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ সোমবার, ২১ অগাস্ট ২০১৭ইংরেজী
বৃহস্পতিবার, 04 সেপ্টেম্বর 2014 00:51

শ্রীলংকায় বুদ্ধের পবিত্র দন্ত ধাতু মন্দিরের উৎসবের ইতিকথা

লিখেছেনঃ সৈকত মিত্র বড়ুয়া

শ্রীলংকায় বুদ্ধের পবিত্র দন্ত ধাতু মন্দিরের উৎসবের ইতিকথা

মন্দিরের চারপাশে পাহাড় ঘেরা পরিবেশ। সুন্দর সুশীতল মনোরম পরিবেশ। প্রতিদিন নানান আয়োজন থাকলেও প্রতি বছরের একটি নির্ধারিত সময় মহাসমারোহে সপ্তাহ ব্যাপি ধাতুমন্দিরে উৎসব হয়। স্থানীয় ভাষায় বলা হয় এসাল প্যারাহারা (Kandy Esala Perehera) । যখন কোন মহামারি কিংবা অনাবৃষ্টি হয়, তখন মাহামারি দুর করতে দন্তধাতুকে উন্মুক্ত করা হয়। একসময় শ্রীলংকায় নাকি অনাবৃষ্টি হয়েছিল, অনাবৃষ্টির কারনে মহামতি মারের উপদ্রব বেড়ে গিয়েছিল। মহামারির কারনে ফসল, খাদ্যে, এমনকি মানুষের জীবন যাত্রার মান ব্যাহত হয়েছিল। সমগ্র দেশে ভয়াবহ মারের উপদ্রব বেড়ে গিয়েছিল। দেশের মঙ্গল কামনায় দীর্ঘ ১২ বৎসর পর পবিত্র এই দন্তধাতু উন্মুক্ত করা হয়েছিল। অলৌকিক ভাবে সমগ্র দেশ জুরে শুরু হয় মোষল ধারে বৃষ্টি। বৃষ্টির প্রভাবে সকল মহামারি দূর হয়ে গিয়েছিল,পাপিমতী মার পরাজয় বরণ করেছিল।

দেশ আবারো সুন্দর সুজলা-সুফলা হয়ে উঠেছিল। আর বুদ্ধের এমনি মহিমান গুণে যে প্রত্যেক বছর ঐ সময় যখন দন্তধাতুর উৎসব হয়, তখন সপ্তাহ ব্যাপি বৃষ্টি হয়। অনুষ্টানের সময় মূল দন্তধাতুর কোলস টা প্রদর্শন করা হয়। হাজার হাজার পূণ্যবান সদ্ধর্ম প্রাণ বৌদ্ধ নর-নারী বৃন্দ একটি বার বন্দনা করার জন্য দিনের পর দিন লাইন দিয়ে থাকেন। এ বছরের আগষ্ট মাসের ১ তারিখ হতে ১০ তারিখ পর্যন্ত কেনডির দন্ত ধাতু মন্দিরে বাৎসরিক অনুষ্টান অনুষ্টিত হয়। অনলাইনে সংগ্রহ করা অনুষ্টানের কিছু ছবি আমি আপনাদের উদ্দেশ্যে আপলোড করলাম। যদি সত্যিই ভাল লেগে থাকে তাহলে পড়ুন, জানুন এবং শেয়ার করে অন্যকে সবাইকে জানার সুযোগ করে দিয়ে আমাদের মত ধর্মপ্রচার জনিত পূণ্যলাভী হোন।

পরিশেষে দেব-মনুষ্য তৃলোক দ্বারা পূজিত মহামানব তথাগত সম্যক সম্বুদ্ধের এই মহান দন্ত ধাতুকে আমিও নতশীরে বন্দনা জ্ঞাপন করছি।

“একা দাঠা তিদসপুরে, একা নাগপুরে অহু,
একা গন্ধার বিসযে, একাসি পুন সীহলে।
চতস্সো তা মহাদাঠা নিব্বাণরসদীপিকা,
পূজিতা নরদেবেহি তা’পি বন্দামি দাতুযো”।

অনুবাদ : “ ভগবান বুদ্ধের একটি দন্ত স্বর্গের ত্রিদশালয়ে, একটি নাগলোকে, একটি গান্ধার রাজ্যে, এবং আরেকটি হিংহল দ্বীপে রহিয়াছে। নির্বাণ-রসোদ্দীপক এই চারটি মহাদন্ত নর-দেবগণের দ্বারা পূজিত হয়। আমিও সেই দন্তধাতু চতুষ্টয়কে বন্দনা করতেছি”।

তথ্যসূত্রঃ Wikipedia, thebuddhism.net

Additional Info

  • Image: Image