২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ বুধবার, ২৪ মে ২০১৭ইংরেজী
বুধবার, 27 জানুয়ারী 2016 01:59

বৌদ্ধ ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ মোগলমারিতে ৯১টি বুদ্ধমূর্তি উদ্ধার

লিখেছেনঃ নির্বাণা ডেস্ক

বৌদ্ধ ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ মোগলমারিতে ৯১টি বুদ্ধমূর্তি উদ্ধার

প্রাচীন ভারতের নালন্দা, তক্ষশীলা, ওদন্তপুরী, পাহাড়পুর ইত্যাদির মতো বৌদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলিকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে এই মোগলমারিতে দেশের সর্ববৃহৎ বৌদ্ধবিহার এটা৷
মাটি খুঁড়তে গিয়ে ২০০৩ সালে সর্বপ্রথম দাঁতনের মোগলমারিতে প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছিলেন স্থানীয়রা৷ বিষয়টি পুরাতত্ব বিভাগকে জানিয়ে শুরু হয়েছিল তৎপরতা।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দফায় দফায় খননকার্য চালায় এই অঞ্চলে৷ এই খননে একাধিক বৌদ্ধবিহারের স্মৃতি উদ্ধার হওয়াতে ঐতিহাসিক সৌধের মর্যাদা দিয়ে রাজ্য সরকার সরাসরি খননের দায়িত্ব নেয়৷ ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে সরকারের পক্ষ থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয় ওই স্থানে একটি অতিথি নিবাস ও প্রত্নতত্ত্ব সংগ্রহশালা তৈরি করতে৷

এবার দশম পর্যায়ের খনন শুরু হয়েছে ১০ জানুয়ারি থেকে, চলবে ৩১ শে মার্চ পর্যন্ত৷ ইতিমধ্যে এই স্থান থেকে সুপ্রাচীন বুদ্ধমূর্তি, স্বর্ণমুদ্রা, ধাতব সিল, টেরাকোটার বিভিন্ন মূর্তি উদ্ধার হয়েছে৷ খবর শুনে জাপান, বাংলাদেশ , কোরিয়া, ব্রিটেন, ইন্দোনেশিয়া থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও হাজির হয়েছিলেন৷

দশম দফার খনন শুরু হতেই রবিবার ও সোমবার যা উদ্ধার হল, তাতে আরও বেশি চমক রয়েছে মাটির তলাতে একটি ঘরের মধ্যে এক মিটার লম্বা ও আধ মিটার চওড়া খালের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় বিভিন্ন রকমের ৯১টি ধাতব মূর্তি৷ যার মধ্যে ২০টি ব্রোঞ্জ-নির্মিত বুদ্ধমূর্তি ৷ তাতে আরও বেশি উৎসাহ উদ্দীপনা বাড়ে পুরাতত্ত্ববিদদের মধ্যে৷
মোগলমারীকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে ২৪ থেকে ২৬ জানুয়ারী পর্যন্ত “মোগলমারি বুদ্ধিষ্ট হেরিটেজ ফেস্টিভ্যাল” শুরু হয়েছে৷ এই উদ্ধার তাতে অন্য মাত্রা এনে দিয়েছে৷ সোমবার উপস্থিত হয়েছেন সর্বভারতীয় বৌদ্ধ সংগঠনের নেতৃত্ব ও সদস্যরা ৷ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বুদ্ধপ্রিয় মাহাত্রে বলেন, “প্রাচীন ভারতের নালন্দা, তক্ষশীলা, ওদন্তপুরী, পাহাড়পুর ইত্যাদির মতো বৌদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলিকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে এই মোগলমারি৷ দেশের সর্ববৃহৎ বৌদ্ধবিহার এটা৷ বৌদ্ধভিক্ষু, বণিকরা এখান থেকে কোনও কারনে চলে যাওয়ার সময়ে এই সমস্ত মূর্তি লুকিয়ে রেখে গিয়েছিলেন৷ আমরা সরকার এবং বিশ্ববৌদ্ধ সংগঠনের কাছে আবেদন করবো এই স্থানকে ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করার জন্য৷” খননকার্যের দায়ীত্বে থাকা পুরাতত্ত্ববিদ প্রকাশচন্দ্র মাইতি বলেন, “ এতদিন আমাদের এই স্থান নিয়ে সন্দেহ ছিল এটি বৌদ্ধবিহার কিনা৷ এখন আমরা সব দিক থেকে সুনিশ্চিত হলাম৷ উদ্ধার হওয়া মূর্তিগুলি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ এই এলাকা থেকে অল্প দুরেই ওড়িশাতে রয়েছে ললিতগিরি, রত্নগিরি, উদয়গিরি৷ এবার এই স্থান একটি বড় পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠবে৷ তৈরি হচ্ছে মিউজিয়ামও৷” রবিবার থেকেই এলাকায় পর্যটক ও ছাত্র-ছাত্রীদের ভিড় বাড়তে শুরু হয়েছে৷ সব মিলিয়ে জমে উঠেছে দাঁতনের মোগলমারি৷

সৌজন্যেঃ বিমুক্তি

Additional Info

  • Image: Image