২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৮ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ইংরেজী
বুধবার, 30 সেপ্টেম্বর 2015 00:24

বুদ্ধগয়ার সপ্তমহাস্থান : মুচলিন্দ (নাগরাজ কর্তৃক সেবা প্রদান) : ৬ষ্ঠ পর্ব

লিখেছেনঃ উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

বুদ্ধগয়ার সপ্তমহাস্থান : মুচলিন্দ (নাগরাজ কর্তৃক সেবা প্রদান) : ৬ষ্ঠ পর্ব

ইতিপূর্বেই বলা হয়েছে তথাগত বুদ্ধত্ব লাভের পঞ্চম সপ্তাহ অজপাল ন্যাগ্রোধ নামক স্থানে কাটান। পঞ্চম সপ্তাহের অবসানে তথাগত সমাধি হতে উঠে মুচলিন্দ (সংস্কৃতে “মুচ(চু)কুন্দ”) নামক বৃক্ষমূলে উপস্থিত হলেন এবং সেখানে একাসনে, ধ্যানপদ্মাসনে বিমুক্তিসুখ অনুভব করছিলেন এমন সময় প্রবল বর্ষণ শুরু হয়।

এহেন অবস্থা দেখে মুচলিন্দ নাগরাজ স্বীয় ভবন হতে বের হয়ে ভগবানের দেহ স্বীয় সপ্ত দেহকুন্ডলে বেষ্টিত করে তথাগতের মাথার উপরে ফণা বিস্তৃত করে রইলেন- উদ্দেশ্য যাতে ভগবান শীতোষ্ণক্লিষ্ট অথবা দংশ, মশক, বাতাতপ ও সরীসৃপ দ্বারা স্পৃষ্ট না হন।সপ্তাহ শেষে মুচলিন্দ নাগরাজ আকাশ মেঘ মুক্ত দেখে ভগবানের দেহ হতে স্বীয় দেহ অপসারিত করে নাগবেশ পরিহার করে মানবরুপ ধারণ করে ভগবানের পুরোভাগে কৃতাঞ্জলি হয়ে ভগবানকে প্রণতি জ্ঞাপনের ভাবে দাঁড়াইলেন। ভগবান তাহা বুঝতে পেরে সেই শুভক্ষণে আবেগপূর্ণ এই উদান গাথা উচ্চারণ করেন-

“বিবেক-বৈরাগ্য সুখে তুষ্ট যার মন,
বহুশ্রুত ধর্মে, লভে জ্ঞান দর্শন
অহিংসা, অক্রোধ সুখ, কাম-অতিক্রম।
অস্মি, আছি, আমি এই মান-অতিমান,
অস্মিতার জয়ে সুখ পরম মহান।

মুচলিন্দ বৃক্ষটি ছিল মূলত বোধিবৃক্ষের পূর্বদিকে। বর্তমানে মুচলিন্দ নাগরাজের বুদ্ধকে সেবা দানের বিষয়টিকে স্মরণ করে মহাবোধির দক্ষিণপার্শ্বস্থ পুকুরে নাগরাজ সহ বুদ্ধের প্রতিকৃতি করে রাখা হয়েছে। এই পুকুরটি মাছের অভয়ারণ্য হিসেবেই রয়েছে। ছবিতে সেই প্রতিকৃতিই দেখা যাচ্ছে।

তথ্য উৎস- মহামানব গৌতম বুদ্ধ- সম্পাদনায়-ডঃ সুকোমল চৌধুরী

Additional Info

  • Image: Image