২৫৬২ বুদ্ধাব্দ ১০ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ইংরেজী
Clear

21°C

Chittagong

Clear

Humidity: 95%

Wind: 11.27 km/h

  • 22 Feb 2018

    Sunny 30°C 16°C

  • 23 Feb 2018

    Mostly Sunny 30°C 17°C

  • সেই খানেরই গলদ, যেখানে সততা নেই। টাকা পয়সার দিকে নজর দিলে কাজের নেশা নষ্ঠ হয়ে যায়। টাকা পয়সা বড় কথা নয়, কাজ চাই।

    মহাসংঘনায়ক শ্রীসদ্ধর্মভাণক বিশুদ্ধানন্দ

  • আমাদের সমাজে যে এখনো কোন বড় কোন প্রতিভার জন্ম সম্ভব হচ্ছে না, তার কারণ পরশ্রীকাতরতা। আমরা গুণের কদর করি খুব কম। কিন্তু মন্দটাকে সগর্বে প্রচার করে বেড়াতে পারি।

    মহাসংঘনায়ক শ্রীসদ্ধর্মভাণক বিশুদ্ধানন্দ মহাথের

  • যুদ্ধ সভ্যতাকে ধ্বংস করে এবং শান্তি বিশ্বকে সুন্দর করে । যুদ্ধ মানুষকে অমানুষ করিয়ে দেয়, যুদ্ধ ছিনিয়ে নেয় প্রেম-ভালবাসা এবং যুদ্ধের আগুনে আত্নহুতি দিতে হয় বহু প্রাণের । যুদ্ধকে মনে প্রাণে ঘৃণা করা উচিৎ।

    মহাসংঘনায়ক শ্রীসদ্ধর্মভাণক বিশুদ্ধানন্দ মহাথের

  • আপনি যেমন মহৎ চিন্তা করেন কাজেও সেইরুপ হউন, আপনার কথাকে কাজের সাথে এবং কাজকে কথার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলুন।
    মহাসংঘনায়ক শ্রীসদ্ধর্মভাণক বিশুদ্ধানন্দ

বুদ্ধগয়ার সপ্ত মহাস্থান : অজপাল ন্যাগ্রোধ (মার কর্তৃক বুদ্ধের মহাগুণের বহিঃপ্রকাশের স্থান):৫ম পর্ব

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ২৩:১৭ উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

বুদ্ধগয়ার সপ্ত মহাস্থান : অজপাল ন্যাগ্রোধ (মার কর্তৃক বুদ্ধের মহাগুণের বহি:প্রকাশের স্থান): ৫ম পর্ব

বুদ্ধগয়ার সপ্ত মহাস্থানের ধারাবাহিক বিবরণের ৫ম পর্ব : অজপাল ন্যাগ্রোধ (মার কর্তৃক বুদ্ধের মহাগুণের বহিঃপ্রকাশের স্থান)

বুদ্ধগয়ার মূল মন্দিরে পশ্চিমমুখী হয়ে প্রবেশের সময় ডিভাইডার এর মতো করে মূল রাস্তাটিকে দুভাগে ভাগ করে রেখেছে একটি স্তম্ভ এবং একটি নামফলক। পূর্ব থেকে না জানলে কেউ সাধারণত বুঝবেনা এটা বুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এক মহান স্থান। কিন্তু যারা জানেন তারা অবশ্যই মহাবোধি তথা বোধিপালঙ্ক দর্শন করতে প্রবেশের পূর্বেই এই স্থানে থমকে দাড়াবেন। হাতজোড় করে শ্রদ্ধায় মাথা নত করবে স্থানটিতে। এতক্ষণ ধরে অজপাল ন্যাগ্রোধ এর কথাই বলছিলাম।

এখানে একটি বটবৃক্ষ ছিল, অজপালকগণ এখানে গাছের ছায়ায় বিশ্রাম করতেন বলে স্থানটির নাম হয় অজপাল ন্যাগ্রোধ।রত্নঘর চৈত্যে চতুর্থ সপ্তাহ কাটানোর পর তথাগত বুদ্ধ পঞ্চম সপ্তাহ এই স্থানেই কাটিয়েছিলেন।লব্দ ধর্মের গভীরে নিমগ্ন হয়ে বিমুক্তি সুখ উপভোগ করতে করতে সমাহিত হন।এখানেও বুদ্ধ অভিধর্মের গবেষণা করেছিলেন।

এদিকে মার চিন্তা করতে লাগলেন এতদিন ধরে পিছু পিছু থেকেও কোনভাবেই সিদ্ধার্থের সঙ্কল্পচ্যুতি ঘটাইতে পারলাম না।তাঁর কোন প্রকার স্খলিত ভাবও দেখতে পাচ্ছি না। তিনি সত্যিই আমার ক্ষমতার বাইরে চলে গেছেন। এসব ভাবতে ভাবতে দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে প্রশস্ত রাজপথে উপবেশন করে ষোলটি কারণে ষোলটি রেখা অঙ্কন করলেন।

আমি তাঁহার ন্যায় দানপারমী পূর্ণ করি নাই, সেই হেতু আমি তাঁহার মত মহান হয়ে জন্মিতে পারি নাই। এই বলে প্রথম রেখা অঙ্কন করলেন।
একই ভাবে তাঁহার ন্যায় শীল পারমী, নৈষ্ক্রম্য পারমী, প্রজ্ঞা পারমী, বীর্য পারমী, ক্ষান্তি পারমী, সত্য পারমী, অধিষ্ঠান পারমী, মৈত্রী পারমী ও উপেক্ষা পারমী পূর্ণ করি নাই। সেই হেতু আমি তাঁহার মত মহান হয়ে জন্মিতে পারি নাই। এই বলে পর্যায়ক্রমে আরো নয়টি দাগ কাটিলেন।আমি তাঁহার ন্যায় দশপারমী পূর্ণ করি নাই এই ভেবে একাদশতম দাগ কাটল মার।

একইভাবে আমি তাঁহার ন্যায় অসাধারণ আশয়ানুশয় জ্ঞান, মহাকরুণা সমাপত্তি জ্ঞান, যমক ঋদ্ধি জ্ঞান, রহস্যভেদ জ্ঞান ও সর্বজ্ঞতা জ্ঞানলাভের হেতুযুক্ত দশ পারমী পূর্ণ করি নাই। এই পঞ্চ বিষয় ভেবে আরো পাঁচটি দাগ কাটে মার। এখানে একদিকে পাপমতী মার তার নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করলেও প্রকারান্তরে তথাগতের মহাগুণের বহিঃপ্রকাশ-ই ঘটে মারের মুখ দিয়ে। কল্প-কল্পান্তর ধরে তথাগত যে পারমী গুলো পূর্ণ করেছিলেন দুঃখ ভারাক্রান্ত মারের মুখ দিয়ে সেসবের পরোক্ষ জয়ধ্বনিই প্রকাশ পেল এই ষোলটি দাগ কাটার সময়।

প্রিয় পাঠক, একবার ভাবুন তথাগত কতই না কষ্ট করেছেন সম্যক সম্বুদ্ধ হওয়ার জন্য, কতই না কষ্ট করে একেক পারমীর পূর্নতার সাধন করেছিলেন। তথাগত তা করেছিলেন বলেই আজ আমরা অতি সহজেই বিমুক্তির ধর্মের কথা জানতে পারছি। আমরা ভাগ্যবান যে, সেই পথে চলার সুযোগটুকু লাভ করেছি। এই ভেবে প্রীতিযুক্ত মনে চলুন তিনবার সাধুবাদ প্রদান করি। সাধু, সাধু, সাধু।

এদিকে মারের তিনকন্যা মারের নিকট তার দুঃখের কথা জেনে আবারও বুদ্ধকে উক্ত্যক্ত করতে লাগলেন নানা ভাবে কখনো প্রেম নিবেদন করে, কখনো সেবা করবেন বলে কিন্তু তথাগত তাদের দিকে একবার চোখ তুলেও তাকালেন না। অতঃপ তথাগত নিজের বিমুক্তির ইঙ্গিতসূচক গাথায় বলিলেন-

শ্রেষ্ঠ বিজয়ী রুপে যাঁর পরিচয়
যাঁর বিজয়ের নাহি কোন লোকে ক্ষয়
অনন্তগোচর সেই বুদ্ধ ভগবান
কোন পথে তারে তুমি করাবে প্রয়াণ।
সর্ব তৃষ্ণা বিষ মুক্ত যেবা অকিঞ্চন
কোন আকর্ষণে যাঁর নাহি টলে মন
অনন্তগোচর সেই বুদ্ধ ভগবান
কোন পথে তাঁরে তুমি করাবে প্রয়াণ।

গাথা উদ্বৃত্তি শেষে তিনকন্যাকে বুদ্ধ ধর্মদান করলেন ফলে মারকন্যাগণ তাদের ভুল বুঝতে পেরে চলে গেলেন।
বিনয়পিটকের মহাবগ্গ গ্রন্থে উল্লেখ পাওয়া যায়, জনৈক ব্রাহ্মণের সাথে সাক্ষাৎ হয় তথাগতের সাথে এই স্থানে। ব্রাহ্মণ জিজ্ঞাসা করেছিলেন, হে গৌতম! কিসে ব্রাহ্মণ হয়, ব্রাহ্মণ করণীয় ধর্ম কি কি?

তথাগত উত্তরে বলেছিলেন, জন্মের দ্বার কেউ ব্রাহ্মণ, চন্ডাল হয় না, কর্মের দ্বারাই ব্যক্তি ব্রাহ্মণ বা চন্ডাল নামে অভিহিত হয়। শুরুতেই যে নামফলকের কথা বলেছিলাম সেই নাম ফলকে ইংরেজীতে এই কথাগুলোই উল্লেখিত আছে।প্রদত্ত ছবিটিতে সেই স্থান এবং ইংরেজীতে লেখা কথাগুলো দেখা যায়। এখানে ইংরেজীতে লেখা আছে-

AJPALA NIGRODHA TREE (BANYAN TREE)
LORD BUDDHA SPEND THE FIFTH WEEK UNDER
THIS TREE IN MEDITATION AFTER ENLIGHTENTMENT. HERE
HE REPLIED TO A BRAHMANA THAT ONLY BY ONES DEEDS
ONE BECOMES BRAHMANA, NOT BY BIRTH.

যারা অদূর ভবিষ্যতে বুদ্ধগয়া যাবেন তারা মূল মন্দিরে প্রবেশের সময় এই স্থানটিকে চিহ্নিত করে তথাগতের গুণগুলো স্মরণ করবেন। ভবিষ্যতে যেতে পারুন বা না পারুন চলুন ছবিটির স্থানটিকে শ্রদ্ধাচিত্তে স্মরণ করে সাধুবাদ দিই। সাধু সাধু সাধু।

১। সদ্ধর্ম রত্নাকর- ভদন্ত প্রজ্ঞাবংশ মহাথের সম্পাদিত
২। মহামানব গৌতম বুদ্ধ- ডঃ সুকোমল চৌধুরী সম্পাদিত

Courtesy: Soshanvumi Meditation Practiciing Center.Karaiyanagor

Nirvana Peace Foundation

নির্বাণা কার্যক্রম
Image
নির্বাণা পিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিশু কিশোরদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা সম্পন্ন নির্বাণা পিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিশু কিশোরদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা সম্পন্নশিশু কিশোরদের… ( বিস্তারিত )
Image
নির্বাণা পিস ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রমী আয়োজন নির্বাণা পিস ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রমী আয়োজন শিশু কিশোরদের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা… ( বিস্তারিত )
Image
পূর্ব আধারমানিক মানিক বিহারে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যান ট্রাষ্টের আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান পূর্ব আধারমানিক মানিক বিহারে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যান ট্রাষ্টের আর্থিক অনুদানের… ( বিস্তারিত )
আরও
সংবাদ সমীক্ষা
আরও