২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৬ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭ইংরেজী
শুক্রবার, 04 সেপ্টেম্বর 2015 23:09

বুদ্ধগয়ার সপ্ত মহাস্থান : অনিমিষ চৈত্য : ২য় পর্ব

লিখেছেনঃ উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

বুদ্ধগয়ার সপ্ত মহাস্থান : অনিমিষ চৈত্য : ২য় পর্ব

বুদ্ধগয়ার সপ্ত মহাস্থানের ধারাবাহিক বিবরণের ২য় পর্ব
কৃতজ্ঞতার অন্যতম মহান নিদর্শন- অনিমিষ চৈত্য

বোধিপালঙ্কে একটানা সাতদিন কাটানোর ফলে কিছু কিছু দেবতার মনে সন্দেহের উদয় হয়েছিল যে সিদ্ধার্থের কর্তব্য কাজ এখনো শেষ হয় নাই তাই স্থানের মায়া এখনো কাটাতে পারছেন না। তথাগত ইহা জানতে পেরে অষ্টম দিনে তাদের উদ্দেশ্যে যমক ঋদ্ধি প্রদর্শন করে বোধিপালঙ্ক ছেড়ে বজ্রাসনের অনতিদূরে উত্তর পূর্ব কোণে স্থিত হয়ে চিন্তা করলেন- আমি লক্ষাধিক চারি অসংখ্য কল্প পারমিতা পূর্ণ করে এই পালঙ্কে ও বোধিবৃক্ষমূলে সর্বজ্ঞতাজ্ঞান লাভ করেছি, এই বোধি আমার পরম উপকারী। সেই কারণে সাতদিন ব্যাপী তথাগত অনিমেষ নয়নে এই স্থানের দিকেই তাকিয়ে ছিলেন।

অনিমেষ নয়নে চেয়ে রয়েছিলেন বলেই স্থানটির নাম হয় অনিমিষ চৈত্য। বুদ্ধগয়ার মূল মন্দিরে প্রবেশের সময় হাতের ডানপাশে উঁচুস্থানে চৈত্যটির অবস্থান। কেউ বুদ্ধগয়া ভ্রমণে গেলে ছবিটির সাথে মিলিয়ে চৈত্যটি চিহ্নিত করতে পারবেন। তাছাড়া শ্বেত পাথরের নাম ফলক দিয়েও স্থানটিকে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে।
এ স্থানটিকে বুদ্ধের কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের মহান নিদর্শন বলা যায়। কারণ বর্তমান সময়ে দেখা যায় যে মাতা দশমাস দশদিন গর্ভেধারণ করে জীবন ঝুঁকি নিয়ে সন্তানকে পৃথিবীর আলোর মুখ দেখায় সেই সন্তান অকৃতজ্ঞ হয়ে গর্ভধারিণী মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায়।যে পিতা হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সন্তানকে লালনপালন করে মানুষ করে সেই সন্তান বড় হয়ে পিতাকেও বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায়। আর এক্ষেত্রে বুদ্ধ একটি আসন এবং বৃক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন এক সপ্তাহ ধরে।
এ পৃথিবীতে কৃতজ্ঞতাপরায়ণ ব্যক্তির বড়ই অভাব। বুদ্ধের এই কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন থেকে শিক্ষা নিয়ে চলুন আমরাও কৃতজ্ঞপরায়ণ হই নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে, জীবন চলার পথে।

তথ্য উৎস- ১) সদ্ধর্ম রত্নাকর- ভদন্ত প্রজ্ঞাবংশ থের সম্পাদিত
২) মহামানব গৌতম বুদ্ধ- ডঃ সুকোমল চৌধুরী সম্পাদিত

COURTESY: SOSHANVUMI MEDITATION PRACTICIING CENTER.KARAIYANAGOR

Additional Info

  • Image: Image