২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৬ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭ইংরেজী
বৃহস্পতিবার, 03 সেপ্টেম্বর 2015 00:28

বুদ্ধগয়ার সপ্ত মহাস্থান : প্রথম মহাস্থান – বোধিপালঙ্ক : ১ম পর্ব

লিখেছেনঃ উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

বুদ্ধগয়ার সপ্ত মহাস্থান : প্রথম মহাস্থান – বোধিপালঙ্ক : ১ম পর্ব

বুদ্ধগয়ার সপ্ত মহাস্থানের ধারাবাহিক বিবরণের ১ম পর্ব

প্রথম মহাস্থান – বোধিপালঙ্ক

এই সেই স্থান যেখানে গৌতম বুদ্ধ বুদ্ধত্ব লাভ করে দিকে দিকে বিলিয়েছেন বহু জনের হিতের তরে বহু জনের সুখের তরে শান্তির, বিমুক্তির অমিয় সুধা। যে সুধা পান করে বিশ্বের অসংখ্য মানুষ এখনো বিমুক্তির পথ নির্দেশনা খুজে পায়।

জেনে আশ্চর্যন্বিত হবেন এই পর্যন্ত যত সম্যক সম্বুদ্ধ উৎপন্ন হয়েছেন প্রত্যেকেই এই স্থানেই বুদ্ধত্ব লাভ করেছেন। অনাগতে যে সকল বুদ্ধগণ উৎপন্ন হবেন তাঁরাও এই স্থানেই বুদ্ধত্ব লাভ করবেন। পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার সময় সবশেষেই এই স্থান ধ্বংস হয়। আবার নতুন পৃথিবী উৎপন্নের সময় প্রথমেই এই স্থানের উৎপত্তি হয়।

বুদ্ধত্ব লাভের দ্বিতীয় স্থান নর-ব্রহ্মলোকে নাই। কাজেই এই পালঙ্কের পরিবর্তন নাই। বিভিন্ন সম্যক সম্বুদ্ধের ক্ষেত্রে বৃক্ষের পরিবর্তন হলেও স্থানের পরিবর্তন হয় না। আমরা অনেকেই বন্দনা করি-- পঠমং বোধিপালঙ্কং, দুতিযং অনিমিসম্পিচ, ....... । এখানে প্রথমে বোধিপালঙ্কের উদ্দেশ্যেই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

বৌদ্ধধর্ম অনুসারে স্থানটিকে পৃথিবীর নাভি বলা হয়। শ্রীলঙ্কানরা এই স্থানটিকে স্বর্ণ দিয়ে আসন বানিয়ে ঘিরে রেখেছেন।

এই স্থানেই বুদ্ধের মুখ হইতে প্রথম উদান গাথা নিঃসৃত হয়-
জন্মজন্মান্তর পথে, ফিরিয়াছি, পাইনি সন্ধান
সে কোথা গোপনে আছে, এ গৃহ যে করেছে নির্মাণ।
পুনঃ পুনঃ দুঃখ পেয়ে দেখা তব পেয়েছি এবার,
হে গৃহকারণ! গৃহ না পারিবে রচিবারে আর;
ভেঙ্গেছে তোমার স্তম্ভ, চুরমার গৃহভিত্তিচয়,
সংস্কারবিগত চিত্ত, তৃষ্ণা আদি পাইয়াছে ক্ষয়।

বুদ্ধ বুদ্ধত্ব লাভ করার পর প্রথম সপ্তাহ এই স্থানে অবস্থান করেই কাটিয়ে দেন। সাতদিন অনবরত এক জায়গায় কাটিয়ে দিলেন দেখে কিছু কিছু দেবতার মনে এই চিন্তার উদয় হল যে সিদ্ধার্থের কর্তব্য কাজ আজও সমাপ্ত হয় নাই, তাই তিনি আসনের মায়া কাটিয়ে উঠতে পারছেন না। তথাগত তাহা অবগত হয়ে অষ্টম দিবসে যমক ঋদ্ধি প্রদর্শন করলেন দেবতাদের উদ্দেশ্যে। এবং ঐ স্থান ত্যাগ করলেন। এখানে উল্লেখ করতে হয় এই যমক ঋদ্ধি প্রদর্শন কেবলমাত্র দেবতাদের উদ্দেশ্যেই ছিল।

অতঃপর বিমুক্তি লাভের কথায় আসি। গৌতম বুদ্ধের অধিষ্ঠান অনুসারে যেদিন বুদ্ধের ধর্ম পুরোপুরি বিলুপ্ত হবে সেদিন রাতে বুদ্ধের দেহ থেকে উৎপন্ন সকল ধাতু একত্রিত হয়ে পুণরায় বুদ্ধের রুপ ধারণ করবে। সেদিন ঐ বুদ্ধই দেশনা দেবেন, আর শ্রবণ করতে আসবেন বিভিন্ন স্বর্গে অবস্থানরত অসংখ্য দেবতা। সেই দেবতারাই সেদিন সদ্ধর্ম শ্রবণ করে মুক্তি লাভ করবেন।

বৌদ্ধদের মূল লক্ষ্য নির্বাণ লাভ করা স্বর্গে যাওয়া নয়, তবে হ্যা যারা এই জন্মে মুক্তি লাভ করতে পারবেন না তাদের বলছি যতটুকু সম্ভব কুশল কর্ম সম্পাদন করুন। মুক্তি লাভ না করলেও হয়তো স্বর্গে যেতে পারবেন। হয়তো আপনিও হবেন তাদেরই একজন যারা অধিষ্ঠানকৃত ঐ বুদ্ধের দেশনা শ্রবণ করে মুক্তি লাভ করবেন।

সকলের প্রজ্ঞা চক্ষু উদয় হোক।

তথ্য উৎস- ১) সদ্ধর্ম রত্নাকর- ভদন্ত প্রজ্ঞাবংশ থের সম্পাদিত
২) মহামানব গৌতম বুদ্ধ- ডঃ সুকোমল চৌধুরী সম্পাদিত
৩) বুদ্ধদেব – সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত

Courtesy: Soshanvumi Meditation Practiciing Center.Karaiyanagor

Additional Info

  • Image: Image