২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ রবিবার, ২৮ মে ২০১৭ইংরেজী

বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য

কুমিল্লার বৌদ্ধ পুরাকীর্তি: একটি সমীক্ষা

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি,পাহাড় নদী আর সমতল ভূমির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অতি প্রাচীন জনপদ কুমিল্লা। প্রত্নকীর্তির এক সুমহান গৌরবময় ঐতিহ্যের ইতিহাস মিশে আছে কিন্তু কুমিল্লায়। এখানে খ্র্স্টিীয় সপ্তম শতকের দ্বিতীয় পাদের শেষের দিকে সমতট রাজ্যে এসেছিলেন চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ, তাঁর ভ্রমণ কাহিনীতে চীনা ভাষায় রুপান্তরিত ‘কিয়া-মল-ঙ্কিয়া’একটি জায়গার নাম উল্লেখ আছে। অনুমান করা হয় যে, ’কিয়া-মল-ঙ্কিয়া’হতে কমলাঙ্ক এবং পরবর্তীতে কুমিল্লা হয়ে গেছে। আকস্মিকভাবে ১৮০৩ খ্রিস্টাব্দে ময়নামতির পাহাড়ে রাজা রানাভঙ্কামালা…

চাকমা লোককথায় লোকজীবন

চাকমা লোককথায় লোকজীবন আদিকাল থেকেই লোক সমাজে লোককথা প্রচলিত হয়েছে। “লোককথার প্রধানবৈশিষ্ট্য এই যে, শ্রুতি পরস্পরায় যে সকল বিষয়বস্তু চলিয়া আসিতেছে, তাহাইইহার উপকরণ কোন মৌলিক বিষয়বস্তু ইহার উপজীব্য হইতে পারে না। আধুনিক কথাসাহিত্যের সঙ্গে এখানেই ইহার মৌলিক পার্থক্য ….. লোককথা অতিরিক্ত রোমান্সধর্মী, কল্পনার স্বপ্নরাজ্যে ইহারা স্বাধীন বিহার করিয়া থাকে। …. কতকগুলিলোককথার ভিতর দিয়া জীবনের ছোটখাট অসম্মতি ও দোষত্র“টি কৌতুকের স্পর্শ লাভকরিয়া উজ্জ্বল হইয়া কন্ঠে” (আশুতোষ ভট্টাচার্য, বাংলা লোকসাহিত্য, ১ম খন্ড,…

এবার চীবর ও কল্পতরুর আনন্দ : আবার উৎসব মুখর রামু

  বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে হামলার পর এই প্রথম বারের মত রামুর বৌদ্ধ বিহারগুলো আবার উৎসব মুখর হয়ে ওঠলো। বৌদ্ধদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শুভ কঠিন চীবর দানকে ঘিরে বিভিন্ন বিহারে চলছে নানা আয়োজন । মাসব্যাপী এ আয়োজনের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারে বসে অসাম্প্রদায়িক মিলন মেলা। এ উৎসবে পাঁচ শতাধিক নারী পুরুষ ভিক্ষুসংঘকে চীবর দান করা হয়।   বেলা আড়াইটার দিকে বিভিন্ন গ্রাম থেকে শোভাযাত্রা সহকারে চীবর ও কল্পতরু…

ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের ইতিকথা

বাংলাদেশে অবস্থিত প্রত্নতত্ত্ব স্থানগুলোর মধ্যে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারটি অন্যতম। এই ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারটি নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এর আদি নাম সোমপুর বিহার। ইতিহাসবিদদের মতে, পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল অষ্টম শতকের শেষের দিকে এ বিহারটি নির্মাণ করেছিলেন। বিহারটির ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হওয়ার পুর্বে পাহাড়পুর ইউনিয়নে অবস্থিত তদানীন্তন পাহাড় (গোপালের চিতা) নামে এটি পরিচিত ছিল।  ১৯২৩-১৯৩৪ সালে প্রত্নোৎখননের ফলে এই ধ্বংসাবশেষ আবি¯ৃ‹ত হয়।…

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারঃ নান্দনিক ঐতিহ্যের ধারায়

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারবা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। অবস্থান ও আয়তন পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানীপুন্ড্রনগর (বর্তমান মহাস্থান) এবং অপর শহর কোটিবর্ষ (বর্তমান বানগড়)এর মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত ছিল সোমপুর মহাবিহার। এর ধ্বংসাবশেষটি বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর…

অনাবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন: নোয়াপাড়া-ঈষাণচন্দ্রনগর

নোয়াপাড়া-ঈষাণচন্দ্রনগর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত অন্যতম বৃহৎ অনাবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ধ্বংসাবশেষের বেশির ভাগ অংশ বাংলার বৌদ্ধ আমলের। অনেক পণ্ডিতরা মনে করেন যে, এই নিদর্শনগুলো হারিয়ে যাওয়া নগরী কর্মান্ত ভাসাকার, যা ৭ম শতকের সমতটের রাজধানী খাদগা। অবস্থান ও সীমানা স্থানটি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে ৩ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই ধারে আরো ৯ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। মহাসড়কের পশ্চিমে নোয়াপাড়া গ্রাম যার প্রত্নত্ত্বাত্বিক আয়তন ছোট বলে মনে করা হয়। সড়কের পূর্ব দিকের…

বাংলাদেশে বৌদ্ধ পুরাতত্ব

বাংলাদেশ বৌদ্ধ পুরাতত্তের ভরপুর। খ্রীষ্ঠ পুর্বাব্দ হতে তেরো শতাব্দী ব্যাপী বাংলাদেশে রচিত হয় বৌদ্ধ সভ্যতা সংস্কৃতি ভিত। কিন্তু বিভিন্ন কারনে সেই গৌরবজ্জ্বল শিল্প ঐতিহ্য আজ টিকে নেই। বহু বৌদ্ধ শিল্প কীর্তি এক দম ধ্বংস হয়ে গেছে, আবার কিছু কিছু ধ্বংসাবশেষ হিসেবে এখনো টিকে আছে। কিছু মাটির নীচে চাপা পড়ে ঢিবিতে রুপান্তরিত হয়েছে। প্রতœতাত্তিক জরিপ ও খননে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত বহু বৌদ্ধ পুরতত্ত আবিষ্কৃত হয়েছে। সে গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে –…

চট্টগ্রামের বড় উঠানে পন্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্ব আবিস্কৃত

চট্টগ্রাম জেলায় পশ্চিম পটিয়ার বড় উঠান গ্রামে প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরাতন পন্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্বের সন্ধান পাওয়া গেছে। পশ্চিম পটিয়ার বড় উঠানে প্রখ্যাত আইনজীবি বদরুল হক খানে বাড়ীর উত্তর পূর্ব পাশে ছোট টিলার মত স্থানে বিরাট এলাকা জুড়ে দীর্ঘদিন থেকে বড় বড় আকৃতির চেপ্টা ইটের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। এখানে মাটি খুঁড়লেই এরকম ইটের অস্তিত্ব মেলে। অনেকে এখান থেকে ইট নিয়ে গিয়ে ঘরের মেঝেতে পাকা করণ কাজে লাগিয়ে আসছে। আবার…