২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১২ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই ২০১৭ইংরেজী

বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য

চট্টগ্রামের মহামুনি বুদ্ধ মূর্তি

কিংবদন্তী রয়েছে গৌতম বুদ্ধ কোনো এক সময় আরাকানে ধর্ম প্রচার করতে এসেছিলেন। ভক্তরা বুদ্ধকে দেখে যে বুদ্ধ মূর্তিটি তৈরী করেছিল সেটি ছিল অবিকল গৌতম বুদ্ধের প্রকৃত চেহারার মত। আরাকানে স্থাপিত করা হয় এ বুদ্ধ মূর্তিটিই। এরই আদলে নির্মাণ করা হয় (১৮১৩) চাইঙ্গা স্থবির (চাইঙ্গা ঠাকুর খ্যাত) এর জন্মস্থানের বুদ্ধ মূর্তিটি। এ স্থানটি পাহাড়ের তলে অবস্থিত বলে আগেই পাহাড়তলী নামে পরিচিতি লাভ করেছিল। মহামুনি বুদ্ধ মূর্তি স্থাপন করার পর নামকরণ হয়…

হাজার বছরের বাংলা-১০পাল রাজাদের স্থাপত্যকীর্তি

হাজার বছরের বাংলা-১০পাল রাজাদের স্থাপত্যকীর্তি প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে পাল রাজাদের শাসনকাল ছিল স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও শিল্পকলার স্বর্ণযুগ। বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী পালদের রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এসব শিল্পের বিকাশ ঘটে। এসব শিল্পের মধ্যে পালদের প্রধানকীর্তি ছিল স্থাপত্য নির্মাণে। স্থাপত্যে শিল্পের মধ্যে পাল রাজারা বিহার-মহাবিহার, স্তূপ, মন্দির নির্মাণ করে জগৎজুড়ে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। বাংলা অঞ্চলে নির্মিত এসব স্থাপত্যকালের সাক্ষী হিসেবে আজও তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। পাল রাজা গোপাল, ধর্মপাল, মহীপাল, রামপালসহ অনেক শাসক বৌদ্ধ…

শালবন বিহার খুঁড়ে টেরাকোটা মূর্তি

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ীতে অবস্থিত প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা শালবন বৌদ্ধবিহার খনন করে পোড়ামাটির (টেরাকোটা) ফলক ও মূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে সেখানে দেড় মাস ধরে খননকার্য চলছে। এদিকে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ঢোলসমুদ্র গ্রামে খনন করে একটি প্রাচীন স্থাপনার দেয়াল ও ইটের সন্ধান মিলেছে। শালবন বৌদ্ধবিহারের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো ময়নামতি জাদুঘরে রাখা হয়েছে। খননকাজ গতকাল মঙ্গলবারও অব্যাহত ছিল। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় সূত্র জানায়, শালবন বৌদ্ধবিহারের ৩৭ একর এলাকায়…

বৌদ্ধ সংস্কৃতি, বংগ সংস্কৃতি ও বাঙালি জাতিসত্তা

বাংলাদেশে কবে বৌদ্ধধর্ম প্রচারিত হয়েছিল তা নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে বিতর্ক থাকলেও বৌদ্ধ সাহিত্য পাঠে জানা যায় বুদ্ধের জীবদ্দশায় বৌদ্ধধর্ম বাংলায় প্রচারিত হয়েছিল। সংযুক্ত নিকায়ে উল্লেখ আছে যে, বুদ্ধ একবার সুহ্ম ভুমির অন্তর্গত শেতক নগর কিছুদিন বসবাস করেছিলেন। রাঢ় দেশের অপর নাম সুহ্ম। ইহা বর্তমান মেদিনীপুর অঞ্চল। অঙ্গুত্তর নিকায়গ্রন্থে বঙ্গান্তপুত্ত নামে এক বৌদ্ধ ভিুর উল্লেখ পাওয়া যায়। বোধিসত্ত্বাবদান কল্পলতায় জানা যায় পুন্ড্রবর্ধনের রাণী সুমাগধার আমন্ত্রণে বুদ্ধ পুন্ড্রবর্ধনে এসে ছয়মাস অবস্থান করেছিলেন।…

প্রত্নের সন্ধানে গঙ্গাঋদ্ধি থেকে অতীশ দীপঙ্কর

উয়ারী-বটেশ্বরের আবিষ্কার বদলে দেয় আমাদের নগর সভ্যতার ইতিহাস। নরসিংদীর এ প্রত্মপীঠ খননে প্রাপ্ত প্রত্ননিদর্শন ও অবকাঠামো পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশ্লেষণ করে গবেষকরা সিদ্ধান্তে এসেছেন, এটি প্রাচীন গঙ্গাঋদ্ধি সভ্যতার হারিয়ে যাওয়া নগর বা বাণিজ্যকেন্দ্র। ধারণা করা হচ্ছে, এটিই গঙ্গাঋদ্ধির রাজধানী গাঙ্গে। গ্রিক ভূগোলবিদ টলেমি যাকে বর্ণনা করেছেন বাণিজ্যকেন্দ্র সৌনগড়া হিসেবে। প্রাচীন এ নগর গড়ে উঠেছিল আড়াই হাজার বছর আগে। যার নিরলস গবেষণা, অনুসন্ধান ও খননে আমাদের সভ্যতার অনন্য এ অধ্যায়ের উন্মোচন তিনি…

চর্যাপদে বর্ণিত প্রাচীন বাংলার সমাজ চিত্র

‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা প্রকাশিত হওয়ার পর বহু বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক সাহিত্যের ঐতিহাসিক ও ধর্মতত্ত্বানুসন্ধিৎসুপণ্ডিত মণ্ডলী চর্যা নিয়ে অনেক গবেষণা করেছেন। তাঁদের গবেষণার প্রেক্ষিতে চর্যাপদের স্বরূপ অনেকাংশে উন্মুক্ত হয়েছে। অসিত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিমত ‘ইহা প্রাচীনতম বাংলা ভাষায় রচিত যখন মাগধী অপভ্রংশের অঞ্চলতল ত্যাগ করিয়া বাংলা ভাষা সবেমাত্র পথে বাহির হইয়াছে; উপরন্তু ইহাতে সাধন-ভাজন সংক্রান্ত এমন সমস্ত গুহ্য ইঙ্গিত ও প্রতীকের আভাস আছে যে, আধুনিক যুগের পাঠক…

চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য

ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল চট্টগ্রাম। এখানকার বৌদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য অতি সুপ্রাচীনকালের। সুস্পা কাহ্নপো লিখিত পাগসাম-জোন-জন ও লামা-তারানাথ লিখিত ‘কাবাভদুন দন' নামক তিববতীয় গ্রন্থদ্বয় সূত্রে জানা যায়১ যে, চট্টগ্রামের আদি নাম ছিল ‘জালনধারা'। পরবর্তী সময়ে ‘জলন্দর' রূপ প্রাপ্ত হয়। এর অর্থ তপ্ত জল সমন্বিত অঞ্চল। সম্ভবত এখানকার ভূগর্ভ থেকে নিঃসৃত উষ্ণ জলের প্রস্রবণধারা থেকে এ নামের উৎপত্তি। (সীতাকুন্ড পর্বতের বাড়বকুন্ড, কুমারীকুন্ড, লবণাক্ষ্য প্রভৃতি কুন্ড থেকে আজো উষ্ণ জলের…

বিশ্বপ্রত্নতত্ত্বে বৌদ্ধ চৈত্য-মন্দিরঃ অগগ্য মেধা ক্যায়াং

বৌদ্ধদের প্রাচীন ঐতিহ্যের পীঠস্থান খ্যাত শহর কক্সবাজার। যেখানে অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থানের নাম অগগ্য মেধা ক্যায়াং বা বৌদ্ধ মন্দির। অগগ্য মেধা বৌদ্ধ মন্দির এ শহরের সবচেয়ে সুন্দর ও প্রাচীন মন্দির। এর পেছনে রয়েছে কেন্দ্রীয় মাহাসিং দোগ্রী বৌদ্ধ মন্দির। এটি বাংলাদেশের রাখাইন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বৃহৎ, প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। কেন্দ্রীয় মন্দিরকে ঘিরে আশপাশের অন্যান্য বৌদ্ধ মন্দির ও চৈত্যসমূহ কালের সাক্ষী হয়ে টিকে আছে যুগ যুগ ধরে। ক্যায়াং বা…

শঙ্খ নদীঃ একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

১। পাহাড়, অরণ্য, ঝর্ণা ধারায়নয়নাভিরাম, পার্বত্য চট্টগ্রামের আয়তন ৫,০৯৩ বর্গমাইল। বাংলাদেশের এক কোনোদণি-পূর্বাঞ্চলে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান–এই তিন জেলা নিয়ে গড়ে ওঠাপার্বত্যঞ্চালে পাহাড়ি-বাঙালি মিলিয়ে আনুমানিক প্রায় ১৫ লাখ লোক বাস করেন। দুর্গম বান্দরবান জেলার আয়তন ৪,৪৭০ বর্গকি.মি.। মায়ানমার সীমান্তবর্তী এ জেলায় রয়েছে দেশের সবচেয়ে উঁচু পর্বততাজিংডং (১,২৮০ মি.), মদক (১,০৫২ মি.) ও ক্রেওক্রাডং (১,২৩০ মি.)। জেলারমোট জনসংখ্যা প্রায় তিন লাখ। মায়নমার সীমান্তের দুর্গম মদক পাহাড়ে শঙ্খনদীর উৎপত্তি। উত্তরে আরাকান পর্বত্য…

নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী: চাকমা ভাষাচর্চা কোন পথে

পার্বত্য চট্টগ্রামে ১১টি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি। ভাষিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে সংখ্যাগতভাবে এ দেশে বাংলা ভাষার পরে চাকমা ভাষার অবস্থান (২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, চাকমা জনগোষ্ঠী চার লাখ ৪৪ হাজার)। ভাষাগত দিক থেকে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের ভাষা অনেকটা কাছাকাছি। অনেক ভাষাবিদ তঞ্চঙ্গ্যা ভাষাকে চাকমা ভাষার উপভাষা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে একটু গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে এ দুটি ভাষার মধ্যে উচ্চারণগত ভিন্নতা ছাড়া তেমন কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়…

ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারঃ আমাদের যুব শাখা

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যুবক আছে যুবকের ভাবনা আছে এবং তাদের সংগঠনও আছে। আমাদের দেশ ও তার ব্যতিক্রম নয়। এদেশের বৌদ্ধরা সংগঠন প্রিয় এবং বুদ্ধের সপ্ত অপরিহানীয় ধর্মের প্রথম নীতিকে ধারণ করে একত্রে মিলিত হয়। সভা করে এবং সংগঠন করে তারা কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেনা যুবকদের সমিতিতে সম্পৃক্ত করতে। এভাবেই যুবকদের কর্মধারার সূচনা হয়। পল্লীতে পল্লীতে বৌদ্ধ যুবকদের সংগঠন আছে এগুলোর মাধ্যমে তারা সাংস্কৃতিক সাহিত্য, ক্রীড়া ও কল্যাণমূলক কর্মসুচী পরিচালনা…

৭১'র মুক্তি সংগ্রাম : বৌদ্ধরাও ছিলনা পিছিয়ে

মা-মাটি-মানুষের সাথে সম্প্রীতিতে বাংলা ভাষাভাষী অর্থাৎ বাঙালিদের অনন্যতা রয়েছে। বৌদ্ধিক আচার-আচরণ এবং সংস্কৃতিতেও এ বিষয়টি অগ্রে। আমরা তথাগত মহাকারুণিক গৌতম বুদ্ধের জীবনীতে দেখি, বুদ্ধ স্বয়ং তিন-তিনবার রক্ষা করতে গিয়েছিলেন সিদ্ধার্থরূপে জন্মজাত সেই জন্মবংশ- “শাক্য বংশ”। যে দিকে বিড়ুঢ়ব (শত্রুপক্ষ) সসৈন্যে নগরে প্রবেশ করবে বুদ্ধ তার অনতিদূরে যুদ্ধ যাত্রার পথিমধ্যে পাতা বিহীন বৃক্ষমূলে বসেছিলেন প্রখর রোদ্রতাপেও! -হে প্রভু গৌতম, প্রচণ্ড রোদ্রতাপে যেখানে সকলে একটু ছায়ার সন্ধানে উৎকণ্ঠিত সেখানে এতোই ছায়াশীতল বৃক্ষরাশি…

বোধন

বোধন বিমল জ্যোতি মহাস্থবির ইতিহাস অতীতের কথা বলে। কোন মহানজাতি ধর্ম, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজ ব্যবস্থার সুনিয়ন্ত্রিত আচার অনুশীলন প্রবর্তন করেছিল, ইতিহাস তারই কাহিনীর উজ্জ্বল প্রকাশ। ইতিহাস নিজ সৃষ্টি মহিমায় মহিমান্বিত এবং অতীতের গৌরবে গৌরবান্বিত এক সত্যের আসনে সুপ্রতিষ্ঠিত। ইতিহাস এবং ঐতিহ্য জাতির চলার পথের পথ প্রদর্শক এবং ভবিষ্যতে অতীতের দৃষ্টান্ত দুষ্টে জাতির জাতির চলার পথের পথ প্রদর্শক এবং ভবিষ্যতে অতীতের দৃষ্টান্ত দৃষ্টে জাতির শুভাকাঙ্খীরূপে হুশীয়ারী সংক্ষেতের ধারক ও বাহক।…

চট্টলার ঐতিহাসিক বৌদ্ধতীর্থ চক্রশালা মন্দির

যুগে যুগে বঙ্গ বা বাঙালি শব্দকে ঘিরে সুজলা-সুফলা অস্তিত্বকে কবি, সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিকরা ভাবের ব্যঞ্জনায় প্রকাশিত করে আসছেন। ইবনে বতুতা, আলবেরুণী, টলেমী ও চৈনিক পর্যটকগণ বাংলার ঐশ্বর্য ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ না হয়ে পারেননি। কিন্তু সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এক সময় আক্ষেপ করে বলেছিলেন “বাঙালির ইতিহাস নাই”। সত্যিকার অর্থেই আমরা বাঙালিরা ইতিহাস জিজ্ঞাসু নই। আর তাই কালের করাল গ্রাসে এই নশ্বর পৃথিবীর সবকিছুই অবক্ষয়ের পথে এগিয়ে যায়। আমরা যদি একটু সচেতন হই…

ঐতিহ্যমণ্ডিত ঠেগরপুনি বুড়াগোঁসাই মন্দির

প্রাচ্যের রাণী খ্যাত ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অন্যতম পীঠভূমি এই চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের আদি ও প্রাচীনতম ধর্ম হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্ম। বৌদ্ধ ধর্মীয় কৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্ররূপে স্মরণাতীত কালের ইতিহাসে ভাস্বর এই চট্টগ্রাম। বিভিন্ন বৌদ্ধ পুরাকীর্তি স্তম্ভের অবস্থান থেকে এটা প্রতীয়মান হয়। তেমনি এক প্রাচীন বৌদ্ধ ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থান হচ্ছে ‘বুড়া গোসাঁই মন্দির’। পটিয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪ কি. মি. দক্ষিণে ঠেগরপুনি গ্রামে এর অবস্থান। পটিয়া সদর থেকে রিক্সাযোগে সরাসরি অথবা টেম্পোযোগে ভাটিখাইন…