২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৬ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ সোমবার, ২১ অগাস্ট ২০১৭ইংরেজী
বৃহস্পতিবার, 27 মার্চ 2014 19:29

বাংলাদেশে বৌদ্ধধর্ম : উত্থান-পতন, পুনরুত্থান ও ইতিহাসের আলোকে বাংলায় বৌদ্ধধর্মের স্বর্ণযুগ-অবদান (১ম পর্ব)

লিখেছেনঃ নোবেল চৌধুরী প্রজ্ঞা

বাংলাদেশে বৌদ্ধধর্ম : উত্থান-পতন পুনরুত্থান ও ইতিহাসের আলোকে বাংলায় বৌদ্ধধর্মের স্বর্ণযুগ-অবদান (১ম পর্ব)

বাংলাদেশের ইতিহাস লিখতে গেলে যেমন বাংলাদেশের বৌদ্ধধর্ম প্রসঙ্গ উঠে আসে অনুরূপ বাংলাদেশের বৌদ্ধধর্ম আলোচনায় বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কেও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত উঠে আসা স্বাভাবিক । পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনায় বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য-কৃষ্টি-সংস্কৃতি-জীবনধারার ক্রমবিকাশে বৌদ্ধধর্ম-সংস্কৃতির ব্যাপক ভূমিকাও রয়েছে । একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের আবির্ভাব সাম্প্রতিক কালের ঘটনা হলেও বাংলাদেশ একটি প্রাচীন সভ্যতার আবাসভূমি । সুপ্রাচীনকাল থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত বিভিন্ন নরগোষ্ঠীর সংমিশ্রণে বাঙালি জাতির উৎপত্তি হয়েছে । যথা - আদি অস্ট্রেলীয়, মঙ্গোলীয়, দ্রাবিড়, আর্য বা ইন্দোআর্য, শক, আরব, ইরানি, আবিসিনীয়, তুর্কি, আফগান, মুঘল, পর্তুগিজ, মগ প্রভৃতি নরগোষ্ঠীর রক্ত বাঙালির ধমনীতে প্রবাহিত বলে অনুমান করা হয় । আবার এ কারণে অনেকে 'বাঙালি জাতি সঙ্কর জাতি' হিসেবে মন্তব্য করেন । বাংলাদেশের মূল অংশ বঙ্গোপসাগর থেকে জেগে উঠেছে । প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই এর কিছু অংশে মানব বসতির অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় । হিন্দু পৌরাণিক গ্রন্থ 'মহাভারত' মতে – দীর্ঘতমা মুনি বলিরাজের অনুমতিক্রমে সুদেষ্ণার গর্ভে পাঁচটি সন্তান অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, পুণ্ড্র ও সুহ্ম । তন্মধ্যে 'বঙ্গ' নামক সন্তান বঙ্গদেশের পত্তন করেছিল । তবে বঙ্গ-রাজার রাজত্বের কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায় না । এর পরবর্তী সময়ে বৌদ্ধধর্মাবলম্বী রাজারা একালের বঙ্গদেশে (অখণ্ড বাংলা) এক সময় রাজত্ব করত তার নমুনা পাওয়া যায় প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারগুলোর সূত্রে । এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নমুনা অনুসারে 'উয়ারী-বটেশ্বর' নমুনাকেই প্রাচীনতম নমুনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে । এ পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন অনুযায়ী বাংলাদেশ অঞ্চলে জনবসতি গড়ে উঠেছিলো প্রায় ৪ হাজার বছর আগে । ধারণা করা হয় দ্রাবিড় ও তিব্বতীয়-বর্মী জনগোষ্ঠী এখানে সেসময় বসতি স্থাপন করেছিল । পরবর্তীতে এই অঞ্চলটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যে বিভক্ত হয় এবং স্থানীয় ও বিদেশী শাসকদের দ্বারা শাসিত হতে থাকে ।
 
বাংলাদেশে বৌদ্ধধর্মের সূচনা :

বাংলাদেশে কখন বৌদ্ধধর্ম প্রচার হয়েছিল তার সঠিক তথ্য এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি । তবে অনুমান করা হয় খ্রিষ্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতকে গৌতম বুদ্ধের সময়কাল হতেই সদ্ধর্মের আলো বাংলায় বিকীর্ণ হয়েছিল । ঐতিহাসিক ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার, ড. নীহার রঞ্জর রায় প্রমুখ মনে করেন, অশোকের আগেই বৌদ্ধধর্ম প্রাচীন বাংলায় কোনো কোনো স্থানে বিস্তার লাভ করেছিল (মজুমদার, প্রাগুক্ত, পৃঃ ২০৯; রায়, প্রাগুক্ত, পৃঃ ৪৯৪-৯৬) । নলিনীনাথ দাশগুপ্ত মনে করেন, মগধ ও বাংলার ভৌগোলিক অবস্থান এত কাছাকাছি যে, বুদ্ধের জীবিতকালেই মগধ হতে বৌদ্ধধর্মের ঢেউ এসে বাংলাকে পাবিত করা মোটেই অসম্ভব নয় । পরবর্তীতে খৃষ্টপূর্ব ৩য় শতকে সম্রাট অশোকের ধর্মাভিযানের সময় তা আরো বিস্তার লাভ করে । যদিও বা অশোক কর্তৃক ধর্মদূত প্রেরিত দেশসমূহের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই । এছাড়া অশোকের কোনো শিলালিপিতেও (ধর্মলিপি) বাংলাদেশের নাম পাওয়া যায় নি । তদুপরি, বৌদ্ধ ঐতিহ্য, পালি ও বৌদ্ধ সংস্কৃত সাহিত্য, প্রচলিত কিংবদন্তী, চৈনিক পর্যটকদের বিবরণ, ঐতিহাসিক ও গবেষকদের অভিমতের পরিপ্রেক্ষিতে এটা বলা যায় যে, বুদ্ধের সময়কাল খ্রিষ্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতক থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় শতকের মধ্যে বৌদ্ধধর্ম বাংলাদেশে প্রচার লাভ করেছিল এবং মৌর্য সম্রাট অশোকের সময়ে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল । পরবর্তীতে স্থানীয় রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এটি সমগ্র বাংলাদেশে প্রধান ধর্ম হিসেবে সুদীর্ঘকাল দেদীপ্যমান ছিল এবং এদেশের সমাজ, ধর্ম, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি, সভ্যতা প্রভৃতির সামগ্রিক বিকাশে অসীম অবদান রেখেছিল ।
 
কিন্তু কালের বিবর্তনে বৌদ্ধদের মধ্যে বুদ্ধের ধর্ম, শিক্ষা, দর্শন এবং অনুশীলনে বিভাজন-মতান্তর দেখা দিলে বাংলাও এর হাত থেকে রক্ষা পায়নি । প্রাক্-গুপ্তযুগের মেদিনীপুর জেলার তমলুক থেকে আবিস্কৃত হয়েছে খরোষ্ঠী-ব্রাহ্মী অক্ষরে উৎকীর্ণ একটি অস্থিখন্ড । খরোষ্ঠী-ব্রাহ্মী অক্ষরের লেখাটির ঐতিহাসিক অনুসন্ধান অনুসারে, প্রাক্ গুপ্তযুগে বাংলাদেশে বৌদ্ধধর্ম প্রতিষ্ঠাপিত হয়েছিল (ইতিহাস অনুসন্ধান: প্রবন্ধ-প্রাক্-গুপ্তবঙ্গে বৌদ্ধধর্মের আবির্ভাব, সরিতা ক্ষেত্রী, ২০০০, পৃ: ৮৭-৮৮)। পরবর্তীতে খৃষ্টীয় প্রথম শতাব্দীতে কুশানরাজ কণিষ্কের সময়কালে মহাসাংঘিকদের উদ্যোগে ভারতে চতুর্থ সংগীতির অধিবেশন হয় । এ সময় ত্রিপিটক সংস্কৃত ভাষায় পরিবর্তিত হয় । তখন ভারতবর্ষ এবং তার পার্শবতী দেশ সমূহে মহাযান বৌদ্ধধর্ম শাখার ব্যাপক প্রচার-প্রসার ঘটলে বাংলায়ও এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে তা চুরাশি সিদ্ধাচার্য ও তাদের রচিত দোঁহা বা চর্যাপদ গ্রন্থ অধ্যয়নের মাধ্যমে অবগত হওয়া যায় । নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পন্ডিত শীলভদ্র এবং বিক্রমশীলা মহাবিহারের প্রধান আচার্য অতীশ দীপংকর শ্রীজ্ঞান ছিলেন বাংলাদেশের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট সন্তান । তাঁরা উভয়ে ছিলেন যথাক্রমে মন্ত্রযান এবং বজ্রযানের প্রবক্তা । খরোষ্ঠী লিপি। ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীনতম বর্ণমালা ব্রাহ্মী ও খরোষ্ঠী বাংলা বর্ণমালার আদি উৎস বলে কথিত আছে । গৌতম বুদ্ধের সমসাময়িক কালে ধাতু পাত্রের গায়ে উৎকীর্ণ পিপরাওয়ার ব্রাহ্ম লিপিকেই আদি ব্রাহ্মী লিপি বলে মনে করা হয় ।
 
বাংলাদেশে গৌতম বুদ্ধের শুভাগমণ :  

বংশ সাহিত্য অনুসারে (মহাস্থবির, ধর্মাধার; অনুঃ শাসনবংস পৃঃ ৫৫) গৌতম বুদ্ধ বুদ্ধত্ব লাভের আট বছর পর গবম্পতি স্থবিরের আরাধনায় বার্মার প্রাচীন রামঞ্ঞ রাষ্ট্রের সুধর্মপুরে উপনীত হয়ে সেখানে ধর্ম প্রচার করেছিলেন । বার্মায় প্রাপ্ত এক শিলালিপিতে উল্লেখ আছে, (প্রাগুক্ত, পৃঃ ৫৫) বুদ্ধের সাথে বিশ হাজার অর্হৎ ভিক্খু সেদেশে গমণ করেছিলেন । বুদ্ধ যদি স্বয়ং বার্মায় গমণ করে থাকেন তাহলে বুদ্ধকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম হয়েই যেতে হয়েছিল, কেননা তখন এটাই ছিল বার্মায় যাবার প্রশস্ত ও সহজ পথ । কাজেই তখন চট্টগ্রামে বৌদ্ধধর্ম প্রচারিত হওয়া স্বাভাবিক । এছাড়া, কিংবদন্তী আছে যে, বুদ্ধ স্বয়ং একবার চট্টগ্রামের হস্তীগ্রামে এসে পক্ষকাল অবস্থান করে ধর্ম প্রচার করেছিলেন । সেই হস্তীগ্রাম পটিয়ার হাইদগাঁও বলে পণ্ডিতগণ ধারণা করেন । এ সম্পর্কে ছোট্ট মতভেদও রয়েছে, সে মতভেদ অনুসারে বুদ্ধের আগমন ঘটেছিল হস্তিপৃষ্ঠে এবং গ্রাম হিসেবে হাইদচকিয়া গ্রাম কথিত । এখানে একটি বিহার বা কেয়্যাংও ছিল (আলম, ওহিদুল; চট্টগ্রামের ইতিহাস 'প্রাচীনকাল থেকে আধুনিককাল' চট্টগ্রাম, ১৯৮২, পৃঃ ৮) । আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদও উল্লেখ করেছেন যে, বৌদ্ধরা এদেশের আদি অধিবাসী (ইসলামাবাদ, পৃঃ ১২) । সাহিত্যসেবী পূর্ণ চন্দ্র চৌধুরীও একই মতে বিশ্বাসী । তাঁর মতে, মগধদেশ হতে বৌদ্ধধর্মের প্রচারকগণ পূর্ব দেশে এসে ধর্ম প্রচার করেন এবং চট্টগ্রামে বৌদ্ধধর্ম প্রাচীনতম ধর্ম (চট্টগ্রামের ইতিহাস, চট্টগ্রাম, ১৯২০, পৃঃ ২) ।
 
খৃষ্টীয় চতুর্থ হতে যোড়শ শতাব্দী :

আর্য জাতির আগমনের পর খৃষ্টীয় চতুর্থ হতে ষষ্ঠ শতক পর্যন্ত গুপ্ত রাজবংশ বাংলা শাসন করেছিল । এর ঠিক পরেই শশাঙ্ক নামের একজন স্থানীয় রাজা স্বল্প সময়ের জন্য এ এলাকার ক্ষমতা দখল করতে সক্ষম হন । প্রায় একশ বছরের বিশৃঙ্খলা-অরাজকতা (যাকে মাৎস্যন্যায় পর্ব বলে অভিহিত করা হয়) দমনের জন্য বাংলার মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমে গোপাল নামক এক সামন্তরাজাকে বাংলার রাজা হিসেবে গ্রহন করার মধ্যদিয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পাল রাজবংশ বাংলার অধিকাংশের অধিকারী হয়, এবং পরবর্তী চারশ বছর ধরে শাসন করেন । এসময় বাংলার সংস্কৃতির অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটেছিল । অতীশ দীপঙ্কর ছিলেন সে যুগের বাঙলার মনীষার এক আশ্চর্য প্রতিচ্ছবি । বার শতকের মাঝামাঝি পাল রাজত্বের অবসানের পর দক্ষিণ ভারত থেকে আগত সেন রাজবংশ বাংলাদেশের উপর আধিপত্য স্থাপন করে । সেন রাজারা ছিলেন নিষ্ঠাবান হিন্দু এবং এদেশে ব্রাহ্মণ ধর্মকে সুদূঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য উত্তরভারত থেকে বেশ কিছু সংখ্যক ব্রাহ্মণদের এনে তাদের বসতি স্থাপন করান । কিন্তু সনাতন হিন্দু ধর্ম বাংলাদেশে গভীরভাবে শেকড় গাড়তে পারেনি । দ্বাদশ শতকে সুফি ধর্মপ্রচারকদের মাধ্যমে বাংলায় ইসলামের প্রবর্তন ঘটে । পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে সামরিক অভিযান এবং যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে মুসলিম শাসকেরা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন । ১২০৫-১২০৬ খ্রিস্টাব্দের দিকে তুর্কী বংশোদ্ভূত সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজী রাজা লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে সেন রাজবংশের পতন ঘটান । তের শতকের প্রথম দিকে মুসলিম বিজয়ের সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ধর্মমতে তান্ত্রিক বৌদ্ধ উপাদানের প্রাধান্য লক্ষ করা যায় । বস্তুত সেনবংশের শাসনামলে বাংলায় ব্রাহ্মণ্যধর্মের প্রভাব বৃদ্ধি পায় এবং জনগণ অন্ধবিশ্বাসের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। পাশাপাশি ব্রাহ্মণদের বহু শতাব্দী অবধি বপন করা জাতিভেদের বিষ-বীজ জাতিকে টুকরা টুকরা বিভক্ত করে ঘোর গৃহ-কলহ সৃষ্টি করেছিল । সেসময় অনেক বৌদ্ধতীর্থ হিন্দুতীর্থে পরিণত হয় । তখন এক ধরণের সমন্বয়ের চেষ্টা চলতে থাকে । হিন্দু-তন্ত্র ও বৌদ্ধ-তন্ত্র মিশ্রিত হয়ে ধর্মের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে । সে সময়কার পরিস্থিতি এমনি শোচনীয় ছিল যে, তুর্কী সমরনায়ক ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজীর পক্ষে মুষ্টিমেয় সৈন্য (কথিত আছে মাত্র দু’শত সৈনিক) নিয়ে অতি সহজে বাংলা জয় করা সম্ভব হয়েছিল । ষোড়শ শতকে মুঘল সাম্রাজ্যের অধীনে আসার আগ পর্যন্ত বাংলা স্থানীয় সুলতান ও ভূস্বামীদের হাতে শাসিত হয় । মোঘল বিজয়ের পর ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয় এবং এর নামকরণ করা হয় জাহাঙ্গীর নগর  ।
 
বাঙ্গালির চিরগৌরব অতীশ দীপঙ্কর :

জ্ঞানাচার্য অতীশ দীপংকর শ্রীজ্ঞান বাঙালির চিরগৌরব । তিনি বাঙালি সংস্কৃতির সার্থক প্রতিনিধি এবং বাঙালির জ্ঞানচর্চার পথিকৃৎ । তাঁর জন্ম বিক্রমপুরের অন্তর্গত বজ্রযোমিনী গ্রামে । তিনি সে সময়ের প্রখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত অবধূত জেতারির কাছ থেকে ব্যাকরণ ও অংক শাস্ত্রে বিশেষ পারদর্শী হয়ে ওঠেন । সারা জীবন জ্ঞানচর্চা ও জ্ঞান বিতরণে নিজেকে নিবেদন করেছেন এই মহান জ্ঞানমনীষা । বাঙালির জ্ঞানজগতের চির উজ্জ্বল বাতিঘর অতীশ দীপংকর বাঙালিকে আপন আলোয় উজ্জ্বল করেছেন । বাঙালির শৌর্য-বীর্য, যশখ্যাতি বিশ্বের মানুষকে জানিয়ে বাঙালিকে মহিমান্বিত করেছেন । জ্ঞানের দীপবর্তিকা হয়ে তিনি জগৎবাসীকে উদ্ভাসিত করেছেন আপন প্রজ্ঞামহিমায় । তিনি বাঙালিকে সবসময় আলো দেখিয়েছেন ।  বাঙালির সার্থক প্রতিনিধি দীপংকর সত্যিই জ্ঞান বিতরণের মহান ব্রত পালনে সার্থকতা অর্জন করেছেন এবং বাঙালির মর্যাদা সমুন্নত রেখেছেন । দশম পাল রাজা ন্যায় পালের সময় এই প্রখ্যাত ভিক্খু এবং পণ্ডিত বার্মা (বর্তমান মায়ানমার), শ্রীলংকা, নেপাল, তিব্বত, চীন  প্রভৃতি দেশ ভ্রমন করে বুদ্ধ বানী প্রচারের মাধ্যমে বৌদ্ধধর্ম প্রচার করেন । চীনা সম্রাট দীপঙ্করের পাণ্ডিত্য ও বিজ্ঞতায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘অতীশ’ (শ্রেষ্ঠ) উপাধিতে ভূষিত করেন । তার রচিত বহু মূল্যবান গ্রন্থ ইতালির টুচি ও পণ্ডিত হরপ্রসাদ আবিষ্কার করেন । এছাড়াও বাঙালির জ্ঞানজগতে আলোক বর্তিকা দানে বৌদ্ধ মনীষা পণ্ডিত শীলভদ্র, চন্দ্রগামি, ধর্মপাল, ধর্মকীর্তি, শান্তিদেব, চন্দ্রকীর্তি, জেতারি সহ অনেকের গৌরবদীপ্ত অবদান রয়েছে । বাঙ্গালীর গৌরবরবি অতীশ দীপংকর শ্রীজ্ঞানের অবদান সম্পর্কে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের সেই অবিস্মরণীয় উক্তি -
"বাঙ্গালী অতীশ লঙ্খিল গিরি
তুষারে ভয়ংকর,
জ্বালিল জ্ঞানের দীপ তিব্বতে
বাঙ্গালী দীপংকর" ।


 
ছবি : অতীশ দীপঙ্করের (জন্ম: ৯৮২, প্রয়াণ: ১০৫৪) এই স্বাতন্ত্র্যসূচক প্রতিকৃতি তিব্বতের কদম্পা আশ্রম থেকে উম্ভূত যা ক্রনস সংগ্রহশালা ১৯৩৩ সালে নিউ ইয়র্কের মেট্রোপলিটান মিউজিয়াম আর্টকে উপহার দেয় । এই গ্রাফিক চিত্রণে দেখা যাচ্ছে অতীশ দীপঙ্কর তাঁর বাম হাতে তাল পাতার একটি দীর্ঘ, পাতলা পাণ্ডুলিপি যা সম্ভবত অনেক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ তিনি লিখেছেন এবং তিনি তাঁর ডান হাত দিয়ে শিক্ষণ এর অঙ্গভঙ্গি করছেন তা প্রতীকায়িত করে ।
 
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদ :

চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম কাব্য তথা সাহিত্য নিদর্শন । নব্য ভারতীয় আর্যভাষারও প্রাচীনতম রচনা এটি । খৃষ্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে রচিত এই গীতিপদাবলির রচয়িতারা ছিলেন সহজিয়া বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ । বৌদ্ধ ধর্মের গূঢ় অর্থ সাংকেতিক রূপের আশ্রয়ে ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যেই তাঁরা পদগুলি রচনা করেছিলেন । বাংলা সাধন সংগীতের শাখাটির সূত্রপাতও এই চর্যাপদ থেকেই হয় । অসমীয়া ও উড়িয়া ভাষার সাথে অনেক মিল থাকায়, অসমীয়া এবং উড়িয়া ভাষারও আদি নিদর্শন হিসেবে দাবী করেন অনেক ভাষা পন্ডিত । একে চর্যাচর্যবিনিশ্চয়, চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি নামেও অভিহিত করা হয় । বৌদ্ধ ধর্মমতে এর বিষয়বস্তু সাধন ভজনের তত্ত্ব প্রকাশ । চর্যাপদের তিব্বতীয় ভাষার অনুবাদটি ‘Tibetan Buddhist Canon’ বা ‘তিব্বতীয় বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ’ হিসেবে সংরক্ষিত । এই বিবেচনায় এটি ধর্মগ্রন্থজাতীয় রচনা । একই সঙ্গে সমকালীন বাংলার সামাজিক ও প্রাকৃতিক চিত্রাবলি এই পদগুলিতে উজ্জ্বল । এর সাহিত্যগুণ আজও চিত্তাকর্ষক । কলকাতার সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বহু ভাষাবিদ, সাহিত্যিক ও ইতিহাসবিদ পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবার লাইব্রেরির পুঁথিশালায় ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে ১৯০৭ সালে বাংলা সাহিত্যের স্বর্ণসম্ভার ভূর্জপত্রে (তালপাতা) হাতে লেখা চর্যাপদের পুঁথি 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' খুঁজে পান । এ চর্যাগীতির ভাষা বিশ্লেষণ করে তিনি প্রমাণ করেন, এটি বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন, যা হাজার বছরের পুরনো । এটি এখন সে যুগের এ অঞ্চলের ধর্মীয়, আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনাচারের প্রামাণিক দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে । পাশাপাশি 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' শুধু বাংলা ভাষার উৎপত্তির দিক থেকেই মহামূল্যবান নিদর্শন নয়, উপমহাদেশের আরো কয়েকটি ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীও এর উত্তরাধিকার দাবি করছে । পরবর্তীতে আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে চর্যাপদের সঙ্গে বাংলা ভাষার অনস্বীকার্য যোগসূত্র বৈজ্ঞানিক যুক্তিসহ প্রতিষ্ঠিত করেন ।
 
সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে অনেকের জন্মস্থান এই বাংলার বিভিন্ন জনপদে । চর্যাপদ বা চর্যাগীতি রচয়িতা সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে লুইপাদ (পশ্চিমবঙ্গ), কাহ্নুপাদ (পশ্চিমবঙ্গ), জালন্ধরীপাদ (চট্টগ্রাম), ধর্মপাদ (বিক্রমপুর), বিরুপাপাদ (কুমিল্লা), ডোম্বীপাদ (কুমিল্লা), চাটিলপাদ (চট্টগ্রাম), তিলোপাদ (চট্টগ্রাম), নারোপাদ (চট্টগ্রাম), গোরক্ষপাদ (কুমিল্লা), চৌরঙ্গীপাদ (কুমিল্লা), মীননাথ (বরিশাল), সহ অনেকেই ছিলেন বাঙালি ।  কুমিল্লার শালবন বিহারকে আজো এখানকার স্থানীয় লোকেরা বলে হাড়িপা সিদ্ধার বাড়ি ।  অনেকে বলে গোরক্ষ সিদ্ধার বাড়ি, আবার কেউ বলে চৌরঙ্গী সিদ্ধার বাড়ি । এই সিদ্ধাচার্যরাই বাংলাদেশে অবস্থিত সোমপুরী, শালবন, বিক্রমপুরী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পণ্ডিত হিসেবে  জ্ঞানচর্চায় নিবেদিত ছিলেন বলে জানা যায় ।
 
 
ছবি : বাঙালির উত্তরাধিকার চর্যাপদের হরফ সমূহ । অথচ অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কোনো নমুনা কিংবা রেপ্লিকা বাংলাদেশে নেই । চর্যাপদ আবিষ্কারের ১০০ বছরেও এটি সংগ্রহের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি । প্রাচীন ও একমাত্র নিদর্শনটি নেপালের রাজদরবারে আবিষ্কৃত হওয়ার পর ১০০ বছর ইতিমধ্যেই পার হয়ে গেছে ।
 
বাংলাদেশের বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী :
বাংলাদেশের বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীকে শ্রেণী ও স্থানগত অবস্থান বিবেচনায় চার ভাগে ভাগ করা যায় । যথা-
(ক) সমতলীয় বাঙালি বৌদ্ধ - বাংলাদেশের কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী এবং কুমিল্লা জেলায় সমতলীয় বাঙালি বৌদ্ধরা বাস করেন ।
(খ) পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী বা উপজাতীয় বৌদ্ধ - বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য চট্টগ্রামের এ তিন জেলায় মূল অধিবাসীরা হল দশ ভাষাভাষি এবং চাকমা, মগ বা মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, বম বা বনযুগী, চাক, মুরং, লুসাই, খুমী, কুকি, রিয়াং, পাংখো ও খিয়াং সহ তেরটি আদিবাসী জাতিসত্বা । তাঁরা সুদীর্ঘ কাল থেকে এখানে বসবাস করে আসছে ।  ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, পার্বত্য অঞ্চলে আদিবাসী জনগোষ্ঠৗরা এক সময় ছিলেন অধিকাংশ বৌদ্ধধর্মের অনুসারী ।
(গ) সমতলীয় রাখাইন বৌদ্ধ - সমতল রাখাইন বৌদ্ধরা বাংলাদেশের সমতল ভূমি বৃহত্তর চট্টগ্রামের কক্সবাজার, মহেশখালী, রামু, চকরিয়া, টেকনাফ, হারবাং, হ্নীলা, চৌফলদন্ডী, বাজালিয়া, মানিকপুর এবং পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার আমতলী, বরগুনা, গলাচিপা, কলাপাড়া ইত্যাদি উপজেলায় বসবাস করেন । তাঁরা মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীভুক্ত থেরবাদী বৌদ্ধধর্মের সমর্থক ।
(ঘ) উত্তর বঙ্গের আদিবাসী বৌদ্ধ - উত্তর বঙ্গের আদিবাসী বৌদ্ধরা দিনাজপুর, রাজশাহী, নওগাঁ, জয়পুরহাট, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, পঞ্চগড়, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা, সিলেটের হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার এবং গাজীপুর জেলার শ্রীপুরে বাস করেন ।
 
চাকমা জাতি :

ইতিহাস অধ্যয়নে জানা যায়, মহাভারতের যুগে চট্টগ্রামের পাহাড়গুলো সমুদ্রগর্ভ হতে উঠেছিল এবং তিবেতো বার্মানগণ চট্টগ্রামের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন জাতি । শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং কর্মক্ষমতার দিক দিয়ে আমাদের পাহাড়িয়া জাতিগুলোর অধিকাংশকে 'তিবেতো বার্মান' বলে অভিহিত । তন্মধ্যে চাকমা জাতি বর্তমান ত্রিপুরা রাজ্যের অন্তর্গত চম্পক নগরের অধিবাসী হিসেবে পরিচিত । চম্পক হতে চাকমা জাতির উদ্ভব । আবার কোন কোন পণ্ডিতের মতে, আরকানীয় শাক্যবংশকে 'চাকমাং' (চাক্ অর্থ শাক্য এবং মাং অর্থ রাজবংশ) এবং কালক্রমে চাকমাং রূপান্তরিত হয়ে 'চাকমা' হয়েছে ।

ছবি : আদিবাসী উৎসব । সকল পাপ-গ্লানি দূর হয়ে মঙ্গল আলোক প্রত্যয়ে পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে আদিবাসীদের ফুল বিজু উৎসব সহ বিভিন্ন পার্বণ বাংলার সংস্কৃতিকে করেছে বৈচিত্রময় ।
 
মগ (মারমা) শব্দের উৎপত্তি :

নবম শতাব্দীর শেষভাগে আরাকানরাজ 'ন্যা-সিং-ন্যা-নৈ' ৯৯৪-৯৫ খৃষ্টাব্দে চাকমাগণের সাহায্যে চট্টগ্রাম অধিকার করেন । এরপর হতে আরাকান রাজবংশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী দেখতে পাওয়া যায় । একাদশ শতাব্দী মধ্যভাগে ব্রহ্মদেশের একটি রাজ্য পঁগা বা অরিমর্দনপুর আরাকানের উপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে । তৎকালে ব্রহ্মদেশে মোগং বৃহত্তম রাজ্য ছিল । কিন্তু রাজা অনরটার অধীনে এদিকে পঁগাও বিশেষ ক্ষমতাশালী হয়ে উঠে । রাজা অনরটা আরাকান দখল করে চট্টগ্রাম অধিকার করেন । আরাকানের অধিবাসীবৃন্দ তথা মোগংরাজ্যের অধিবাসী বৃন্দ এই 'মাগং' শব্দ হতে 'মোগ' অপভ্রংশে 'মগ' শব্দে পরিচিত ।
 
চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি :

রাজা থুরথুনকে ৯৫৩ খৃষ্টাব্দে আরকানরাজ ষোলসিংহ চন্দ্র নিজ রাজ্যের উপকণ্ঠে পরাজিত করে চট্টগ্রাম অধিকার করেন এবং বিজয় স্মৃতি চিহ্ন স্বরূপ তিনি একটি প্রস্তর বিজয়স্তম্ব নির্মাণ করেন । এই বিজয় স্তম্বে - 'চিৎ-ত-গৌং' (চিৎ-ত-গৌং শব্দের অর্থ যুদ্ধলব্ধ স্থান) লিপিবদ্ধ ছিল । পণ্ডিতদের অনেকের মতে,  চিৎ-ত-গৌং শব্দ হতে চট্টগ্রাম নামের উদ্ভব হয়েছে । বকতিয়ার খিলজি কর্তৃক নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের পূর্ব হতে নবম শতাব্দীতে চট্টগ্রাম বৌদ্ধধর্ম চর্চার প্রধান কেন্দ্রস্থান ছিল । চীনা পরিব্রাজক 'হিউয়েন সাঙ' এর ভারত ভ্রমণ বৃত্তান্তে জানা যায়, সেসময় চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য 'চৈত্যগ্রাম' (চৈত্য শব্দের অর্থ - বৌদ্ধ বিহার এবং গ্রাম শব্দের অর্থ - সমূহ) নির্মিত হয়েছিল । আবার কোন কোন পণ্ডিতের মতে, এ চৈত্যগ্রাম হতে চট্টগ্রাম শব্দের উৎপত্তি ।
 
পণ্ডিত বিহার :

চট্টগ্রামের অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য এবং কারুকার্য খচিত সুশোভিত অসংখ্য চৈত্যগ্রাম সকলকে আকর্ষণ করত । এ সময়ে মহাযান সম্প্রদায় কর্তৃক বৌদ্ধ গ্রন্থাদিতে চট্টগ্রামকে 'রম্য ভূমি ও পণ্ডিত বিহার' নামে উল্লেখ করা হয়েছে । এ পণ্ডিত বিহার তৎকালীন পালবংশীয় রাজন্যবর্গের রাজত্বকালে পূর্ববঙ্গের প্রধান বিহার । তৎকালে পণ্ডিত বিহারের নামানুসারে চট্টগ্রামের সমগ্রস্থানকে নির্দেশ করলেও এটি চট্টগ্রামের কোন স্থানে অবস্থিত তা প্রত্নতত্ত্ববিদগণের খনন কার্য ব্যতীত সঠিক নির্ণয় করা দুঃসাধ্য । তবে কোন কোন পণ্ডিতগণের মতে, এ পণ্ডিত বিহার ছিল কর্ণফুলী নদীর তীরে আনোয়ারা অন্তর্গত বটতলায় নিকটবর্তী ঝিয়রী গ্রামে অর্থাৎ আনোয়ারা থানার দেয়াং পাহাড়ে । কিন্তু ঐতিহাসিকের ধারণা, অন্দরকিল্লার রংমহল পাহাড় ও জুম্মা মসজিদ সংলগ্ন অঞ্চলেই এ পণ্ডিত বিহার অবস্থিত ছিল । ইংরেজ রাজত্বকালে আন্দরকিল্লার জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণের সময় সেখানে একটি বুদ্ধমূর্তি পাওয়া যায়, যেটি অদ্যাপি চট্টগ্রাম নন্দন কানন বৌদ্ধ বিহারে সংরক্ষিত রয়েছে ।

Additional Info

  • Image: Image