২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ইংরেজী
Clear

22°C

Chittagong

Clear

Humidity: 68%

Wind: 17.70 km/h

  • 23 Nov 2017

    Partly Cloudy 27°C 16°C

  • 24 Nov 2017

    Mostly Sunny 27°C 18°C

বৃহস্পতিবার, 14 এপ্রিল 2016 04:39

বাংলা নববর্ষ ও বৌদ্ধধর্ম

লিখেছেনঃ রাহুল বড়ুয়া

বাংলা নববর্ষ ও বৌদ্ধধর্ম

ভারতীয় উপমহাদেশের বৌদ্ধ অঞ্চলেই মুলতঃ বাংলাসনের ঐতিহ্যের সাথে সম্পৃক্ত বা বৌদ্ধ ঐতিহ্যের শেকড়ে আবদ্ধ অঞ্চলগুলোর সাল গণনা প্রায় এক। সে হিসেবে নেপাল হতে বৃহত্তর বাংলা ও ভারতের বিশাল এলাকা হয়ে শ্রীলংকা পর্যন্ত এই একই নিয়মে সাল গণনা হয়ে আসছে। শুধু ভারতীয় উপমহাদেশ নয় দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার মায়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া বা ভিয়েতনাম যেখানেই বৌদ্ধধর্ম বিশেষ করে থেরবাদী বৌদ্ধধর্ম পালন করা হয় সেসব দেশের নব বর্ষের সাথে বৌদ্ধধর্মের এক অভূতপূর্ব মিল পরিলক্ষিত হয়। বৌদ্ধদেশ গুলোতে মুলতঃ বৌদ্ধদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পুর্ণিমার চেয়ে চৈত্র সংক্রান্তি ও বৈশাখ উদযাপনকে বেশী গুরুত্ব দিয়ে ধুমধামের সাথে পালন করা হয়। নববর্ষের অনুষ্ঠান বৌদ্ধরা কম করে হলেও তিনদিন যাবত উদযাপন করে থাকে। চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন বৌদ্ধরা বন হতে ফুল সংগ্রহ করে আনে ও ফুলের মালা গেঁথে রাখে। ঘরে ঘরে জাগ (পুরাতন আবর্জনার স্তুপ) দিয়ে তার উপর ফুল ও সবুজ পাতার ডাল দিয়ে তা পুড়িয়ে বাড়ির আঙ্গিনা পরিস্কার করা হত। এ দিনকে ফুল বিউ বা বিজু বা বিহু বলা হয়। নতুন বর্ষের প্রথম দিনে বৌদ্ধদেশে পুরোপুরি ধর্মীয় আবহে পালন করে একটি শুদ্ধ জীবন অনুশীলনের শপথ নিয়ে থাকে। তাই বৌদ্ধ সম্প্রদায় ঐ দিন বৌদ্ধ বিহারে গিয়ে শীল সমাধি বা সংযম পালন করে। চৈত্র সংক্রান্তির দিনে বৌদ্ধরা সকালে স্নান করে পবিত্র হয়ে থাকে। এই দিন বৌদ্ধরা প্রথমে বৌদ্ধ বিহারে গিয়ে বুদ্ধমুর্তি ও বিহার ধুয়ে মুছে পর্যপরিস্কার করে পরে ঘরবাড়ি, আসবাব পত্র এমন কি গবাদি পশুকেও স্নান করিয়ে পবিত্র করে আনে। আগের দিন বন হতে সংগ্রহ করা ও ফুল দিয়ে গাঁথা মালা দিয়ে তাঁরা এ দিন ঘরবাড়ি, বিহার ও গবাদি পশুকে সাজিয়ে রাখে। বছরের বা বৈশাখের প্রথম দিনটিকে শুদ্ধ ভাবে সংযমের সাথে পালনের জন্য বৌদ্ধরা চৈত্র সংক্রান্তির দিনকে ভরন বিউ বা বছরের বিদায়ী অনুষ্ঠান হিসেবে পালন করে ও শুচি কর্মের প্রাথমিক কাজ হিসেবে স্নানপর্ব সারার জন্য বালক বালিকার জল ক্রীড়া বা জলোৎসবে মেতে ওঠে। বাংলাদেশের রাখাইন ও মার্মা ছেলেমেয়েরা সবচেয়ে বেশী জলোৎসব করে থাকে। বাঙালি বড়ুয়া বা চাকমা বৌদ্ধরা স্নান পর্ব উদযাপন করে, তবে সীমিত ।

বুদ্ধ মূর্তি স্নান করানোকে বৌদ্ধরা এসময় খুব গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এটি চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখের একটি গুরুত্বপুর্ণ অনুষঙ্গ। চৈত্র সংক্রান্তি ও শুভ নববর্ষ পালন করতে গিয়ে চট্টগ্রামের রাউজানে পাহাড়ি ও বাঙালি বৌদ্ধরা মহামুনি মেলার আয়োজন করে থাকে। এক সময় এই মেলা মাসব্যাপী উদযাপিত হত এবং এটি পাহাড়ি – বাঙালির মিলন মেলায় পরিণত হত। দূর দূরান্ত হতে এখানে মানুষ আসত,পসরা সাজিয়ে ব্যবসায়ীরা মাসব্যাপী তাদের বেচাকেনা করত আর মেলায় আগত লোকজন কিনে নিত তাদের অতিদরকারী জিনিসপত্র। মেলার জৌলুস ছড়িয়ে পড়েছিল কোলকাতা হতে আকিয়াব, রেঙ্গুন পর্যন্ত। এখনও সে মেলার আয়োজন হলেও কালের বিবর্তনে আগের মতো জন সমাগম হয় না।

বৌদ্ধদের মাঝে অত্যন্ত আনন্দের সাথে সংক্রান্তি বা সাংগ্রাইন উৎসব পালন করা হয়। পুরো চৈত্রমাস ব্যাপী বৌদ্ধ পরিবার গুলোতে সংক্রান্তি বা সাংগ্রাং পালনের জন্য আয়োজন চলে। সংক্রান্তি শেষে সকল জঞ্জাল ও ব্যর্থতা পিছনে ফেলে নতুন উদ্যমে সৎজীবন পালনের শপথ নিয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায় বৈশাখের চেতনায় উজ্জ্বীবিত হয়। এসময় তারা ভিন্নি ধানের খই, নাড়ু, মোয়া, নানা রকম পিঠা, মিষ্টান্ন, শাক সবজি ও তিতা দিয়ে পাঁচন রান্না, নানা রকম শস্যের ভাজা মিশিয়ে ‘আট কড়ইয়া’ তৈরি করা সহ নানা খাবারের আয়োজন করে থাকে। যদিও বৌদ্ধদের মাঝে মিথ্যা কথা বলার হার কম, তারপরেও এসময় বৌদ্ধরা একেবারেই মিথ্যা কথা বলবেনা। এ দিন বৌদ্ধরা প্রাণী হত্যা করে না বলে শাক সবজির পাঁচন ও টক মিষ্টি দিয়ে খাবারের আয়োজন করে। এই দিন তারা নতুন জামা কাপড় গায়ে দিয়ে গ্রামের সকলের বাড়িতে বেড়াতে যায় ও বয়স্কদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় ও গরীবদের সাহায্য সহযোগিতা দান করে।

ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন স্থাপনা সাঁচি স্তুপের তোরণে এই এলাকার মানুষদের বিশেষ করে বৌদ্ধদের নববর্ষ ও নানা উৎসব উদযাপনের কিছূ নির্দশন পাওয়া যায়৷ এ নির্দশন অনুসারে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংক্রান্তি ও বৈশাখী উৎসব অন্যতম ৷ মুলতঃ বৌদ্ধদেশ সমুহে সংক্রান্তি ও বৈশাখী উৎসবের উল্লেখ পাওয়া যায় ৷ চৈত্র-সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ বৌদ্ধ পঞ্জিকায় বিশেষ স্থান করে নিয়েছে অনেক প্রাচীন কাল থেকেই৷ এই দুই উৎসবের উল্লেখ বার্মা, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া, লাওস ও শ্রীলংকার নথিপত্রেও দেখা যায়৷ বর্তমানে এ সকল দেশে তিন দিনের অনুষ্ঠান পালিত হচ্ছে ঘরে ঘরে, পাড়ায় পাড়ায় ও জাতীয় পর্যায়ে৷ উৎসবের তিন দিন সরকারি অফিস-অদালত বন্ধ থাকে৷ জলকেলি বা ওয়াটার ফেস্টিভ্যাল, সংক্রান্তি ও বৈশাখী লাউসের অত্যন্ত জনপ্রিয় অনন্দময় সার্বজনীন একটি অনুষ্ঠান যা পৃথিবীর খুব কম দেশেই অনুষ্ঠিত হয়৷ বর্তমান বিশ্বে নববর্ষ উদযাপন উপভোগ করার জন্য এসব বৌদ্ধদেশ পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। মুলতঃ বুদ্ধাব্দ বর্ষকে অনেক বৌদ্ধ দেশে বর্ষ পঞ্জি হিসেবে সমন্বয় করে নিয়েছে । শুধু মাত্র বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল ছাড়া বাকি বৌদ্ধ দেশে বৌদ্ধদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমাকে বৈশাখ বা ভেশাখ ডে হিসাবে পালন করে থাকে। সুতরাং বৌদ্ধদের সাথে বৈশাখের সম্পর্ক শুধু সাংস্কৃতিক নয় ধর্মীয়ও।
বুদ্ধাব্দ হল শাক্যমুনি বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ দিবস থেকে গণিত অব্দ। খ্রিস্টজন্মের ৫৪৩ বছর পূর্বে বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে কুশীনগরে ভগবান বুদ্ধ পরিনির্বাণ লাভ করেন। সেই বিশেষ দিন থেকেই ১ বুদ্ধাব্দের সূচনা ধরে নিয়ে প্রচলিত হয় "বুদ্ধাব্দ"।, চান্দ্র বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে (যা "বুদ্ধপূর্ণিমা" নামে খ্যাত) আরম্ভ হয় এই অব্দ। এটি সম্পূর্ণ চান্দ্রাব্দ এবং এই অব্দের মাস এবং দিনাঙ্কের গণনাপদ্ধতি অপরাপর সকল ভারতীয় অব্দের ন্যায় প্রাচীন "সূর্যসিদ্ধান্ত" থেকে গৃহীত। ভারতীয় চান্দ্রাব্দ গণনাপদ্ধতি অনুসারে বুদ্ধাব্দেও মলমাস গণনার রীতি প্রচলিত আছে। এর ফলস্বরূপ বুদ্ধাব্দ চান্দ্রাব্দ হওয়া সত্ত্বেও এটি সম্পূর্ণ ঋতুনিষ্ঠ।

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার থেরবাদী বৌদ্ধদেশ থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস ছাড়াও মায়ানমার ও শ্রীলংকায় একটি সৌর বর্ষপঞ্জি প্রচলিত আছে যা বুদ্ধাব্দ নামেই পরিচিত। এই অব্দটি "সূর্যসিদ্ধান্ত" দ্বারা প্রভাবিত এবং এই অব্দে সূর্যসিদ্ধান্তের সৌরবর্ষ গণনার পদ্ধতিটি অনুসৃত হয়ে থাকে। সূর্যের একেকটি রাশিতে অবস্থানের উপর ভিত্তি করে একেকটি মাস গণিত হয়। বঙ্গাব্দে এবং ভারতে প্রচলিত প্রাচীন শকাব্দেও অনুরূপ প্রণালীতেই গণিত হয় মাস এবং দিনাঙ্ক। এই অব্দে একেকটি মাসের নামকরণ হয়েছে সৌরমণ্ডলে অবস্থিত একেকটি রাশির সংস্কৃত নামানুসারে।

বাংলাদেশ ছাড়াও ১লা বৈশাখের সাথে থেরবাদী বৌদ্ধদেশ থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস, মায়ানমার ও শ্রীলংকার মতো বৌদ্ধধর্মের প্রভাবিত অঞ্চল আসাম,ত্রিপুরা,মনিপুর,উড়িষ্যা,কেরালা ও তামিলনাড়ুতেও একই সাথে লোকজ খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে সংক্রান্তি ও বর্ষবরণ পালন করে থাকে।

বৌদ্ধ ধর্মের একটি বড় গুণ হচ্ছে এই ধর্ম প্রচারিত হওয়ার সময় কোন এলাকার স্থানীয় ও নিজস্ব সাহিত্য সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের অবমূল্যায়ন করেনি বরং নীতি আদর্শ দিয়ে এসব রক্ষা করে লালন করে থাকে। তাই ধর্মের দোহাই দিয়ে স্থানীয় সাহিত্য সংস্কৃতি ধ্বংস করা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা পছন্দ করেন না। বাংলাদেশেও বৈশাখী চেতনা এই অঞ্চলের একটি নিজস্ব সংস্কৃতি। এই চেতনা এই এলাকার মানুষের মূল্যবোধ, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিনির্মাণে গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা পালন করে। বৈশাখী চেতনার সাথে ধর্মের সাংঘর্ষিক অবস্থার কোন কারণ নেই যদি ধর্মের ভূমিকা ধংসাত্বক ও আগ্রাসী না হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে বৌদ্ধধর্ম কোন দেশের অঞ্চলের সাহিত্য সংস্কৃতির জন্য ভয়ঙ্কর ও গ্রাসী নয় বরং সহায়ক।

বাংলা বা ফসলি সালে বারো মাসের নাম করা হয়েছে নক্ষত্রমণ্ডলে চন্দ্রের আবর্তনে বিশেষ তারার অবস্থানের উপর ভিত্তি করে যা জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক প্রাচীন গ্রন্থ সূর্যসিদ্ধানত্ম (Surya Siddhanta) থেকে গৃহীত হয়েছে ৷ মাসের নামগুলো নিম্নরূপ-
বিশাখা নক্ষত্রের নাম থেকে বৈশাখ; জ্যেষ্ঠা থেকে জ্যৈষ্ঠ; উত্তরাষাঢ়া থেকে আষাঢ়; শ্রবণা থেকে শ্রাবণ; পূর্বভাদ্রপদ থেকে ভাদ্র; আশ্বিনী থেকে আশ্বিন; কৃত্তিকা থেকে কার্তিক; মৃগশীরা থেকে মাগশীষর (অগ্রহায়ণ);পূষ্যা থেকে পৌষ; মঘা থেকে মাঘ; উত্তর ফাল্গুনী থেকে ফাল্গুন; চিত্রা থেকে চৈত্র ৷ আমাদের সংস্কৃতির এক মৌলিক উপাদন বাংলা বর্ষপঞ্জি৷ এ বর্ষপঞ্জির সূচনা হয় নববর্ষ উত্সব দিয়ে যা আমাদের জাতীয় চেতনার মূর্ত প্রতীক ৷ এ উত্সবের উদ্ভব হয়েছিল বাংলার কৃষক সমাজের মধ্য দিয়ে৷ আজও বাংলাবর্ষ আমাদের কৃষক সমাজের চেতনায় বিঁধে আছে ও মিশে আছে জীবনের সঙ্গে ৷ হিন্দু ব্যবসায়ীরা অতি নিষ্ঠার সাথে শুদ্ধ চিত্তে হালখাতা’র এই দিন হালনাগাদ করেন। মূলত হিন্দু ব্যবসায়ীরা এই হালখাতা উৎসবকে বাঙালি জীবনে একটি উচ্চতার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন।

বাংলা নববর্ষ নানা আয়োজনে হিন্দু সংস্কৃতির প্রভাব থাকলেও হিন্দু রাষ্ট্র ভারতে সরকারী ভাবে প্রচলিত নববর্ষ কিন্তু শকাব্দ নিয়মে। আবার ভারতে এই শকাব্দ চালু করেছিলেন বৌদ্ধ সম্রাট রাজা কনিস্ক। ইংরেজি ক্যালেন্ডারের বাইরে আজকাল এই শকাব্দের নিয়মেই ভারতের সরকারী ও হিন্দু পঞ্জিকা অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রতি বছর ২২ মার্চ এই শকাব্দের নববর্ষ। পূজা পার্বণে অনুসরণ করলেও এই নববর্ষ কিন্তু হিন্দুরা ধুমধামের সাথে পালন করে না।

ইদানিং বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখের কথা বলতে গিয়ে সবাই ছায়ানট ও রমনার বট মূলের কথা বলে থাকেন। আসলে ভালো করে খেয়াল করলে দেখবেন যে রমনার বৃক্ষটি বটগাছ নয়। এটি গৌতম বুদ্ধের বোধিলাভের সেই জ্ঞান বৃক্ষ । এই প্রজাতির গাছের নিছে বসে গৌতম বুদ্ধ দীর্ঘ ছয় বছর কঠোর ধ্যান করে বুদ্ধত্ব লাভ করেছিলেন। রমনার বটমূল (বোধি বা অশ্বত্থ)এ পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান আয়োজন করতে গিয়ে যারা ১৯৬৭ সালে প্রথম উদ্যোগ নিয়েছিলেন তাদের মধ্যে বিশিষ্ট রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী মিতা হকের প্রয়াত পিতা ওয়াহিদুল হক, সানজিদা খাতুন,ডঃ নওয়াজেশ আহমদ,কমল সিদ্দিকী,আনোয়ারুল হক পিয়ারু উল্লেখযোগ্য। ছায়ানটের পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান চালুর পিছনে কিছু সুনির্দৃস্ট পরিকল্পনা ছিল। এই পরিকল্পনায় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বাইরে সার্বজনীন ও ঐতিহ্য বিষয়ক পরিকল্পনাও বিদ্যমান ছিল তাঁদের মানসপটে। এ প্রসঙ্গে ছায়ানটের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ওয়াহিদুল হক তাঁর ‘পহেলা বৈশাখ’ নামক প্রবন্ধে লিখেন,‘মধ্য এশিয়া,দক্ষিন এশিয়া,দক্ষিন পূর্ব এশিয়া অর্থাৎ প্রাচ্যের প্রায় সবটা জুড়ে বৈশাখী নামের একটি বিরাট উৎসব আছে। ওই বৈশাখী নামের ভিতর লুকিয়ে আছে সমস্ত প্রাচ্য জুড়ে ভারত সংস্কৃতির প্রভাবের সত্যটি, যে সংস্কৃতির মূল অংশে আমরা বাঙালিরা আছি জড়িয়ে। প্রায় সবটাই মধ্য এশিয়া এক সময়ে বৌদ্ধ ছিল। সেই নিরীশ্বরবাদী ধর্মের সবচেয়ে বড় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা অর্থাৎ যে তিথিতে বুদ্ধের জন্ম, বোধি প্রাপ্তি ও পরিনির্বান। এই তিথিতি আসলে বৈশাখী পূর্ণিমা, বৈশাখে উদিত চন্দ্রের পূর্ণচন্দ্র তথা বৈশাখী। প্রাচ্যের এমন জায়গা নেই যেখানে বৈশাখী নেই’।

পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান রমনা পার্ক ছাড়িয়ে শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সোহরাওয়ার্দি উদ্যান, বাংলা একাডেমী হয়ে ছড়িয়া পড়েছে সারা ঢাকা শহরে। পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান আজ বাংলাদেশের বৃহত্তম জাতীয় উৎসব। গ্রাম হতে শহরে এর বিস্তার।

লেখকঃ রাহুল বড়ুয়া, যুব বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন
কৃতজ্ঞতাঃ অতীশ দীপঙ্কর

Additional Info

  • Image: Image