২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ইংরেজী
Clear

22°C

Chittagong

Clear

Humidity: 68%

Wind: 17.70 km/h

  • 23 Nov 2017

    Partly Cloudy 27°C 16°C

  • 24 Nov 2017

    Mostly Sunny 27°C 18°C

রবিবার, 10 এপ্রিল 2016 23:25

বর্ষ বরণে ঐতিহাসিক মহামুনি মন্দির প্রাঙ্গণে মহা আয়োজন

লিখেছেনঃ নির্বাণা ডেস্ক

বর্ষ বরণে ঐতিহাসিক মহামুনি মন্দির প্রাঙ্গণে মহা আয়োজন

ঐতিহাসিক প্রাচীন নিদর্শন মহামুনি বিহার প্রাঙ্গনে হাজার বছরের চিরায়ত বাঙ্গালীর ঐতিহ্য পহেলা বৈশাখে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে প্রতিবারের ন্যায় এবারও রয়েছে চৈত্র সংক্রন্তি ও বৈশাখী মেলাসহ নানা আয়োজন।মহামুনি বটমূল খ্যাত ‘ফনীতটি মঞ্চে’ মহামুনি গ্রামের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রকাশনা সংস্থা বিশেষ করে মহামুনি সংস্কৃতি সংঘ, মহামুনি তরুণ সংঘ ও ত্রৈমাসিক জ্ঞানালোর উদ্যোগে বর্ষবরণ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখ থেকে শুরু সপ্তাহব্যাপী আলোচনা সভা,গুণীজন ও কৃতি সংবর্ধনা, সংগীতানুষ্ঠান, নাটক, মুখাভিনয় সহ ব্যতিক্রমধর্মী মনোজ্ঞ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যাপক আয়োজন।

আগামী ১৩ এপ্রিল বুধবার চৈত্র সংক্রন্তির মধ্য দিয়ে এই মহামুনি মেলা শুরু হবে। এই দিন থেকে পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী বৌদ্ধরা মহামুনি মন্দিরে বন্দনা ও পূজা করতে আগমণ করবে। এ বছর পুণ্যার্থীদের স্বাগত জানাতে নানা আয়োজন করেছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ।

মহামুনি গ্রাম উন্নায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অনুপম বড়ুয়া বাবুল জানান, আদিবাসীরা এখানে সকাল থেকে রাতভর অবস্থান করেন। সন্ধ্যায় তারা মহামুনি মন্দিরে পুজার মাধ্যমে বাংলা বর্ষকে বিদায় জানিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি পালন করেন। রাতে স্বনাম খ্যাত বিভিন্ন শিল্পী গোষ্ঠীর পরিবেশনায় থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জানা যায়, ১৪ এপ্রিল সকালে স্থানীয় সংগঠন গুলোর যৌথ উদ্যোগে মন্দির অভিমুখী শোভাযাত্রার বর্ষবরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সকাল ১০ টায় মহামুনি বটমূল খ্যাত ফণী-তটি মঞ্চ স্থানীয় সংগঠনের শিল্পীদের পরিবেশনায় মুক্তাঙ্গণ অনুষ্ঠান। একই স্থানে পর্যায়ক্রমে চলতে থাকবে স্থানীয় সংস্থা গুলোর বৃত্তি প্রদান, গুণিজন ও কৃতি সম্বর্ধনা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ নানা কর্মসূচী। সপ্তাহব্যাপী চলবে এই আয়োজন।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৬ এপ্রিল, শনিবার বিকাল ৪ টায় শিক্ষা, সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মুখপাত্র ত্রৈমাসিক জ্ঞানালো’র ১২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও গুণীজন সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম প্রযুক্তি ও প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম। প্রধান আলোচক থাকবেন চুয়েটের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল আলম। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন চুয়েটের রেজিস্ট্রার (অতি:দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. ফারুক-উজ-জামান চৌধুরী। সন্ধ্যা সাতটায় রয়েছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার সপ্তদশ শতকের প্রথম সংঘনায় ভদন্ত চাইঙ্গা মহাস্থবির (চাইঙ্গা ঠাকুর) আনুমানিক অষ্টাদশ শতকের শেষার্ধে কোনো সময় এই প্রসিদ্ধ মহামুনি বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন। আরাকানের প্রসিদ্ধ মহামুনি বুদ্ধমূর্তির আদলে নির্মিত হয়েছিল বলে এ মূর্তির নামকরণ করা হয় ‘মহামুনি ‘। এই মন্দিরটির কারণে মহামুনি গ্রাম ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ ধর্মারম্বীদের নিকট পবিত্র তীর্থ স্থানে পরিণত হয়। মহামুনি মন্দিটিকে কেন্দ্র করে মং সার্কেল রাজা ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে মহামুনি মন্দির চত্বরে মেলার প্রবর্তন করেন। যা বাংলা চৈত্র মাসের শেষ তারিখ থেকে শুরু হয়। এ মেলাটি মহামুনি মেলা নামে পরিচিতি লাভ করে। জানা যায়, একসময় মহামুনি মেলা এতই জনপ্রিয়তা লাভ করে যে অবিভক্ত বাংলায় পশ্চিমবঙ্গ হতেও এখানে জনসমাগম ঘটেছে।

সুপ্রাচীনকাল হতে মহামুনি বিহার প্রাঙ্গনের বিশাল এলাকা জুড়ে প্রচলিত হয়ে আসা ঐতিহাসিক মহামুনি মেলাটি চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী আদিবাসী-বাঙ্গালিদের এক মিলনমেলা। আদিবাসী-বাঙালির এই মিলন মেলাটি চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে সারাদেশের মধ্যেও পরিচিতি লাভ করেছে। ইতোমধ্যে এই মহামুনি মেলাকে ঘিরে মন্দির চত্বরে বিভিন্ন কারুশিল্প, হস্তশিল্প, রকমারি প্রসাধনী, হরেক রকম মিষ্টান্ন দ্রব্যাদি. মৌসুমী ফলফলাদি ও খাবার হোটেলসহ রকমারি জিনিসের স্টল নির্মান করতে শুরু করেছে বিক্রেতারা। মন্দিরের এই উৎসবকে ঘিরে পাহাড়তলীতে গোটা এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে আনন্দ উৎসব।–বিডিলাইভ।

Additional Info

  • Image: Image