২৫৬২ বুদ্ধাব্দ ১০ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ইংরেজী
Clear

21°C

Chittagong

Clear

Humidity: 95%

Wind: 11.27 km/h

  • 22 Feb 2018

    Sunny 30°C 16°C

  • 23 Feb 2018

    Mostly Sunny 30°C 17°C

  • সেই খানেরই গলদ, যেখানে সততা নেই। টাকা পয়সার দিকে নজর দিলে কাজের নেশা নষ্ঠ হয়ে যায়। টাকা পয়সা বড় কথা নয়, কাজ চাই।

    মহাসংঘনায়ক শ্রীসদ্ধর্মভাণক বিশুদ্ধানন্দ

  • আমাদের সমাজে যে এখনো কোন বড় কোন প্রতিভার জন্ম সম্ভব হচ্ছে না, তার কারণ পরশ্রীকাতরতা। আমরা গুণের কদর করি খুব কম। কিন্তু মন্দটাকে সগর্বে প্রচার করে বেড়াতে পারি।

    মহাসংঘনায়ক শ্রীসদ্ধর্মভাণক বিশুদ্ধানন্দ মহাথের

  • যুদ্ধ সভ্যতাকে ধ্বংস করে এবং শান্তি বিশ্বকে সুন্দর করে । যুদ্ধ মানুষকে অমানুষ করিয়ে দেয়, যুদ্ধ ছিনিয়ে নেয় প্রেম-ভালবাসা এবং যুদ্ধের আগুনে আত্নহুতি দিতে হয় বহু প্রাণের । যুদ্ধকে মনে প্রাণে ঘৃণা করা উচিৎ।

    মহাসংঘনায়ক শ্রীসদ্ধর্মভাণক বিশুদ্ধানন্দ মহাথের

  • আপনি যেমন মহৎ চিন্তা করেন কাজেও সেইরুপ হউন, আপনার কথাকে কাজের সাথে এবং কাজকে কথার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলুন।
    মহাসংঘনায়ক শ্রীসদ্ধর্মভাণক বিশুদ্ধানন্দ

পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা বৌদ্ধধর্মীয় স্থান

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১৭:৪৮ পার্থ শঙ্কর সাহা

পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা বৌদ্ধধর্মীয় স্থান

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা বৌদ্ধধর্মীয় ঐতিহ্যপূর্ণ স্থানে পর্যটনের প্রসার ঘটাতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পর্যটন থেকে এখন গড়পড়তা আয় হয় বার্ষিক সাড়ে পাঁচ শ কোটি টাকার বেশি। তবে বৌদ্ধধর্মীয় স্থানে পর্যটন শুরু হলে আগামী পাঁচ বছরে কেবল এই খাত থেকে বছরে ছয় শ কোটি টাকা আয় হবে।

‘বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট হেরিটেজ সাইটস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মার্কেটিং’ শীর্ষক এক গবেষণায় এই সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণা করেছেন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) পরিচালক মাসুদ হোসেন। গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশ, বিহার, নেপাল ও মিয়ানমারে বৌদ্ধধর্মীয় পর্যটন স্থান ভ্রমণের সংখ্যা ছিল ৪৮ লাখ। ২০২০ সালের মধ্যে এসব অঞ্চলে প্রায় এক কোটি পর্যটককে আনার লক্ষ্য আছে দেশগুলোর।

মাসুদ হাসান বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে আমরা এই পর্যটকের মধ্যে মাত্র দেড় শতাংশ চাইছি। আর তাতেই আমাদের দেশে এই পর্যটকের সংখ্যা হবে দেড় লাখ। আর তাহলে বৌদ্ধধর্মীয় স্থানে পর্যটন শুরু হলে বাংলাদেশের আগামী পাঁচ বছরে আয় হবে অন্তত ৬০০ কোটি টাকা।’

গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বৌদ্ধধর্মীয় স্থান পর্যটনে একজন পর্যটক সাড়ে চার থেকে পাঁচ দিন সময় থাকেন। প্রতিদিন তাঁদের গড় ব্যয় ৮০ থেকে ১০০ ডলার। অর্থাৎ, মোট ব্যয় পাঁচ শ ডলার বা ৪০ হাজার টাকা। যদি দেড় লাখ পর্যটক বাংলাদেশ পায় তবে কেবল এ পর্যটন থেকেই বাংলাদেশের আয় হবে প্রায় ছয় শ কোটি টাকা। এই পর্যটকেরা মূলত আসবেন চীন, জাপান, মিয়ানমার, কোরিয়া, থাইল্যান্ড থেকে।
বৌদ্ধধর্মীয় পর্যটন প্রসারে আগামী অক্টোবর মাসে ঢাকায় আন্তর্জাতিক সম্মেলন হচ্ছে। জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম অর্গানাইজেশনের (ইউএনডব্লিউটিও) মহাসচিব তালেব রিফাই আসবেন। আসছেন বৌদ্ধ পর্যটন আছে এমন ১২টি দেশের মন্ত্রীরা।

প্রত্নতত্ত্ববিদ ও পর্যটন গবেষকেরা বলছেন, পরিকল্পনামাফিক এগোলে বৌদ্ধধর্মীয় ঐতিহ্যপূর্ণ স্থানের পর্যটন আগামী কয়েক বছরের মধ্যে হয়ে উঠবে দেশের পর্যটনের আয়ের প্রধান খাত। তবে সরকারি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।

বাংলাদেশে বৌদ্ধ ধর্মের ঐতিহ্যপূর্ণ স্থান থাকলেও এ কথা বিশ্বব্যাপী এক প্রকার অজানাই ছিল। পাশের দেশ ভারতের দুটি রাজ্য উত্তর প্রদেশ ও বিহার, নেপালের লুম্বিনী (গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান) এবং মিয়ানমারে ২০১৪ সালে প্রায় ৫০ লাখ পর্যটক বৌদ্ধধর্মীয় স্থান পর্যটনে আসে। অথচ বাংলাদেশে এ সংখ্যা ছয় হাজার ছাড়ায় না।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বৌদ্ধধর্মীয় সংগঠন এবং বেসরকারি পর্যটন সংস্থাগুলোর হিসাবে, বাংলাদেশে বৌদ্ধধর্মীয় ঐতিহ্যসমৃদ্ধ স্থান আছে পাঁচ শতাধিক। ভারতে আছে ৮৩৪টি।
২০১৪ সালে শুধু বিহারের বুদ্ধগয়াতে পর্যটকের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২২ হাজার। আর বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে অপেক্ষাকৃত শান্ত সময় ২০১১ সালে বৌদ্ধ ধর্মসহ অন্যান্য ধর্মস্থান পরিদর্শনে আসা পর্যটকের সংখ্যা ছিল মাত্র ১০ হাজারের কাছাকাছি।

প্রত্নতত্ত্ববিদেরা বলছেন, এশিয়াজুড়ে বৌদ্ধ ঐতিহ্য পর্যটনের বিপুল বাজার থেকে বাংলাদেশ একেবারে বিচ্ছিন্ন। অথচ কুমিল্লার ময়নামতির শালবন মহাবিহার থেকে শুরু করে নওগাঁর পাহাড়পুরের সোমপুর বিহার বা মুন্সিগঞ্জের বজ্রযোগিনী গ্রাম থেকে বগুড়ার বাসুবিহার—বৌদ্ধ ধর্মের ঐতিহ্য ছড়িয়ে আছে বাংলাদেশের নানা প্রান্তে। সোমপুর বিহার ছিল পাল আমলের উপমহাদেশের অন্যতম প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র। বজ্রযোগিনী গ্রাম গৌতম বুদ্ধের পর বৌদ্ধ ধর্মের সবচেয়ে বড় প্রচারক অতীশ দীপঙ্করের জন্মস্থান। তাঁর হাত ধরেই বৌদ্ধ ধর্ম তিব্বত থেকে চীন ও জাপানে গেছে। আর ভাসুবিহারে গৌতম বুদ্ধ স্বয়ং এসেছিলেন, এর ঐতিহাসিক প্রমাণ আছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের বৌদ্ধ ধর্মের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান রয়েছে, তা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থান।’ এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, পাহাড়পুরের সোমপুর বিহার নালন্দা বৌদ্ধবিহারের সমতুল্য বিদ্যাকেন্দ্র। অথচ এর কোনো প্রচার নেই। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাংয়ের হিসাব অনুযায়ী, কুমিল্লার শালবন বিহারে ছিল ৩০টি বৌদ্ধবিহার (বিশ্ববিদ্যালয়ের সমতুল্য)। এ পর্যন্ত এর মধ্যে কেবল সাতটি বিহার খনন করা সম্ভব হয়েছে। একটি নগরে এতগুলো শিক্ষাকেন্দ্র বিশ্বের আরও কোথাও নেই।

অধ্যাপক মোস্তাফিজ বলছিলেন, ‘এসব রত্ন নিয়ে আমরা নিশ্চুপ বসে আছি। এখন পর্যটন বিকাশের কথা বলা হচ্ছে। আমাদের সেই সম্ভাবনা ভারতের চেয়ে বেশি। দরকার শুধু উন্নত পরিকল্পনা আর সঠিক লোককে এসব বিকাশের কাজের দায়িত্ব দেওয়া।’

 

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ সালে নানা উপলক্ষে বাংলাদেশে ২ লাখ ৬৭ হাজার বিদেশি আসেন। এর মধ্যে ধর্মীয় পর্যটনে আসেন ৮ হাজার ৯৮৩ জন।
সুফি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘অতীশ দীপঙ্করের বাড়ি যে বজ্রযোগিনী গ্রামে সেখানেই কোনো কর্মকাণ্ড ছিল না। আমাদের খনন শুরু হওয়ার পর সেখানে একাধিক বৌদ্ধবিহার পেয়েছি। এখন পাহাড়পুরে সংরক্ষণের নামে যেভাবে কাজ চলছে এবং মহাস্থানগড়ে যে দখল চলছে এভাবে চলতে থাকলে পর্যটন নিয়ে আশা হতাশায় পরিণত হবে।’

তবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একযোগে কাজ শুরু হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মীয় স্থানে পর্যটনের জন্য একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, চারদেশীয় সড়ক চুক্তির পর উত্তর প্রদেশ, বিহার ও নেপালের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য পথ উন্মুক্ত হবে। এ ছাড়া সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা জমা দেওয়া হয়েছে। এখন ভূমি অধিগ্রহণসহ আনুষঙ্গিক কাজ চলছে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শনে অবকাঠামোগত সুবিধা সৃষ্টির প্রচেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

সূত্র ও কৃতজ্ঞতাঃ প্রথম আলো

Nirvana Peace Foundation

নির্বাণা কার্যক্রম
Image
নির্বাণা পিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিশু কিশোরদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা সম্পন্ন নির্বাণা পিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিশু কিশোরদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা সম্পন্নশিশু কিশোরদের… ( বিস্তারিত )
Image
নির্বাণা পিস ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রমী আয়োজন নির্বাণা পিস ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রমী আয়োজন শিশু কিশোরদের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা… ( বিস্তারিত )
Image
পূর্ব আধারমানিক মানিক বিহারে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যান ট্রাষ্টের আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান পূর্ব আধারমানিক মানিক বিহারে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যান ট্রাষ্টের আর্থিক অনুদানের… ( বিস্তারিত )
আরও
সংবাদ সমীক্ষা
আরও