২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১২ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই ২০১৭ইংরেজী
সোমবার, 24 আগষ্ট 2015 01:30

ভাঙ্গনের মুখে শান্তিময় বিহারসহ গহিরার বড়ুয়া পাড়া

লিখেছেনঃ জাহেদুল আলম, দৈনিক পূর্বকোণ

ভাঙ্গনের মুখে শান্তিময় বিহারসহ গহিরার বড়ুয়া পাড়া

জাহেদুল আলম, দৈনিক পূর্বকোণঃ মৎস্য প্রজননের ভান্ডার হলেও হালদা নদী রাউজান পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের পশ্চিম গহিরার বড়ুয়াপাড়াবাসীর জন্যে দুঃখ দীর্ঘদিনের। সেই দুঃখের পরিমাণ যতই দিন যাচ্ছে ততই বাড়ছে। এলাকার শতশত মানুষের এই দুঃখের নাম নদী ভাঙ্গন। হালদা নদীর করাল গ্রাসে (সর্তারঘাট থেকে বড়ুয়া পাড়া পর্যন্ত নদীর বাম তীরের এক কিলোমিটার অংশ) গত এক-দেড় দশকে কয়েকশ একর আবাদী অনাবাদীর অস্তিত্ব হারিয়ে গেছে। বড়ুয়া পাড়া অংশের তীরবর্তী এলাকার অনেক পরিবার বর্ষা মৌসুমে ভাঙ্গন আতংকের মধ্যে দিন কাটালেও গত কয়েক বছর ভাঙ্গনের পরিমাণ ছিল অনেকটা কম। কিন্ত এবারের বর্ষায় বড়ুয়া পাড়ায় হালদা নদী এমনই গতিতে ভেঙ্গেছে যে, এখানকার বেশকিছু বাড়ি-ভিটা, প্রায় দশ গন্ডা জমি, বিদ্যুৎ খুঁটি, স্থাপনা, পুকুর পাড় হালদার পেটের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের কয়েক দফা বৃষ্ঠিপাতে নদীতে অধিক স্রোতে বড়ুয়া পাড়া এলাকায় বিশাল এক বাঁক সৃষ্টি হয়ে বিশাল আকারে ভেঙ্গেছে। এবার নদীর এই তীব্র ভাঙ্গনে পশ্চিম গহিরার বিশাল বড়ুয়া পাড়ার বৌদ্ধদের একমাত্র ধর্মীয় প্রার্থনাস্থান পশ্চিম গহিরা শান্তিময় বিহারটি ভাঙ্গনের কাছাকাছি পর্যায়ে চলে আসায় আতংক ও হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে এখানকার বৌদ্ধ সম্প্রদায়।

হালদায় ভাঙ্গন বিলীন হয়েছে ঘরবাড়ি, বসতভিটা-ধানিজমি....

এলাকার সমাজসেবক বিকাশ বড়ুয়া ও শান্তিময় বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি কেমেশ বড়ুয়া বিহারটি নদীর কাছাকাছিতে চলে এসেছে। মনে হচ্ছে এবার বর্ষায় না হলেও আগামী বর্ষার মধ্যে দেড়কানি ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত বিহারটি খুব দ্রুত নদীর মধ্যে ঢুকে পড়বে। এজন্যে অতি দ্রুত এখানে ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।’ এলাকার বাসিন্দা বরণ বড়ুয়া বলেন ‘প্রায় ১৫ বছর আগে আমার বসতভিটা হালদা নদীর মধ্যে ঢুকে পড়েছে।’ নদী পাড়ে বসবাসরত বড়ুয়া পাড়ার ৮০ বছরের বৃদ্ধ বনলতা বড়ুয়া বলেন, ‘হালদা নদীর ভাঙ্গনে বড়ুয়া পড়ার অনেক জমি, বাড়ি-ঘর, রাস্তা এখন নদীর মাঝখানে। হাটহাজারী অংশে চর উঠছে আর এই রাউজান অংশে শুধু ভাঙ্গছে।’ ভাঙ্গন প্রতিরোধ কমিটির সচিব স্বপল বড়ুয়া, বিধান বড়ুয়া বলেন, ‘একসময় এখানে একটি বড় পুকুর ছিল, সেটি হালদার ভাঙ্গনে এখন আর নেই। পুকুরটি এখন নদীতে বিলীন। ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে এখন বিশাল শান্তিময় বিহার থেকে নদীর ব্যবধান মাত্র বিশ মিটার। এতে এলাকার প্রত্যক নর-নারী বিহার ভাঙ্গনের আতংকে।’ এলাকার বিকাশ বড়ুয়া ও রাজীব বড়ুয়া বলেন ‘এই বর্ষায় নদী ভাঙ্গনে গত ১৫ দিনের ব্যবধানে অজিত বড়ুয়া, বরণ বড়ুয়াসহ কয়েকটি বাড়ি, প্রায় দশ গন্ডা ভিটা, বিদ্যুৎ খুঁটি, গাছপালা উচ্ছেদ হয়। এর আগে ভেঙ্গে গেছে আরো অনেক পরিবার।

বর্তমানে ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে সাংবাদিক মিলন বড়ুয়া, সুনীল বড়ুয়া কালন, মাদল বড়ুয়াসহ অর্ধশত পরিবার ও অনেক জায়গা, রাস্তা, শ্মশান, গাছপালা।’ এলাকার সর্বস্তরের দাবি এখন যত দ্রুত সম্ভব হালদা নদীর ভাঙ্গন থেকে শান্তিময় বিহারসহ সাধারণ পরিবারগুলোর বসতঘর রক্ষার জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এজন্যে তারা এলাকার এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এবং পার্শ¦বর্তি হাটহাজারী এলাকার সাংসদ পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহামুদের কার্যকরি দৃষ্টিপাত কামনা করেছেন।

কৃতজ্ঞতাঃ জাহেদুল আলম, দৈনিক পূর্বকোণ।

Additional Info

  • Image: Image