২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ইংরেজী
Sunny

28°C

Chittagong

Sunny

Humidity: 61%

Wind: 22.53 km/h

  • 21 Nov 2017

    Sunny 29°C 19°C

  • 22 Nov 2017

    Partly Cloudy 27°C 17°C

মঙ্গলবার, 10 জানুয়ারী 2017 01:47

সংগীতগুরু উস্তাদ প্রয়াত নীরদ বরণ বড়ুয়া ও আমার স্মৃতিচারণ : রুমি বড়ুয়া

লিখেছেনঃ রুমি বড়ুয়া, অস্ট্রেলিয়া থেকে...

সংগীতগুরু উস্তাদ প্রয়াত নীরদ বরণ বড়ুয়া ও আমার স্মৃতিচারণ : রুমি বড়ুয়া

সংগীতগুরু উস্তাদ প্রয়াত নীরদ বরণ বড়ুয়া স্মরণে চট্টগ্রামের সদারঙ্গ উচ্চাঙ্গ সংগীত পরিষদ এর জাতীয় উচ্চাঙ্গ সংগীত সম্মেলন ও আমার স্মৃতিচারণ। শ্রদ্ধেয় উস্তাদ প্রয়াত নীরদ বরণ বড়ুয়া মহাশয়ের আমি একজন ছাত্রী ছিলাম কথাটি ভাবতে গিয়ে আমার মনে হল আমার মতো এতো গর্ব আর কার থাকতে পারে। উস্তাদজী ভারতে শাস্ত্রীয় সংগীতে সংগীত বিশারদ উপাধিতে ভূষিত হয়ে দেশে ফিরেছিলেন ১৯৬৫ সালে। চট্টগ্রাম পোর্ট ট্রাস্ট এর বিশিষ্ট সংগীত প্রেমী ডাঃ কামাল সাহেবের আতিথেয়তায় এবং ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে উস্তাদজী চট্টগ্রাম রেডিও তে যোগদান করে চট্টগ্রামে শাস্ত্রীয় সংগীতের এক নবযুগের সূচনা করেছিলেন । অবিভক্ত বাংলার স্বনামধন্য সংগীতগুরু শ্রদ্ধেয় সঙ্গীতাচার্য প্রয়াত সুরেন্দ্রলাল দাস মহাশয়ের সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছিলেন আমার উস্তাদজী। ১৯৬৮ সালে রেডিও পাকিস্তান চট্টগ্রামে আমার একজন নিয়মিত নজরুল সংগীত শিল্পী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরেই উস্তাদজী আমাকে খুঁজে পান এবং আমাকে তাঁর শিষ্যা হওয়ার অনুমোদন দেন। আমার জীবনে এই মহান সংগীতগুরুর সান্নিধ্য পাওয়া ছিল অকল্পনীয় এক সৌভাগ্যের ব্যাপার। সুরেন্দ্র সংগীত বিদ্যাপীঠে তাঁর কাছ থেকে নিয়মিত তালিম গ্রহণ আমার জন্য যথেষ্ট ছিলনা মনে করেই উস্তাদজী আমার নন্দনকাননের বাড়িতে চলে আসতেন। আবার শুরু হতো তাঁর তালিম। জানিনা কোন উৎসাহে বা কি আশায় উনি আমাকে শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম এতো উজাড় করে দিতে চাইতেন। চট্টগ্রামে কত শাস্ত্রীয় সংগীতের আসর , কত কনসার্ট হয়েছিল সবকটিতে আমার অংশগ্রহণ বরাবরই নিশ্চিত করেছিলেন উস্তাদজী। আমাকে গাইতে দিয়েছিলেন চট্টগ্রামের তখনকার আমেরিকান সেন্টারে আয়োজিত ভারতের সুরসম্রাট উস্তাদ আলাউদ্দিন খানের ভ্রাতুষ্পুত্র উস্তাদ বাহাদুর হোসেন খান মহাশয়ের সরোদ বাদন কনসার্টে। উচ্চাঙ্গ সংগীতের চর্চায় যেটি উনি আমার কাছ থেকে পেয়ে বেশি খুশি হতেন সেটি ছিল আমার ইমপ্রোভাইজেশন।

জীবনে বার বার এই সত্যটাই উপলব্ধি করেছি যে সংগীত শিক্ষায় গুরু মুখী বিদ্যার কোন বিকল্প নেই। উস্তাদজীর অতৃপ্তি তাঁকে খুব তাড়না করতো যার ফলে উনি তাঁর মৃত্যুর আগ মুহূর্তে ও আমাকে একটি চিঠি লিখে পাঠিয়েছিলেন তাঁর নিজের সংগীতগুরু কলকাতার সঙ্গীতাচার্য প্রফুল্ল সেন মহাশয়ের কাছে। বলেছিলেন "এই মেয়েটির কণ্ঠ শুনলেই বুঝতে পারবেন ওর কি শেখা দরকার আপনার কাছ থেকে"। আমার প্রবাস জীবন আমার কলকাতায় গিয়ে আরও শেখার ক্ষেত্রে কাল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। আজ যখন জানলাম আমার গুরু ভাই অনুজ প্রতীম স্বর্ণময় চক্রবর্তী পরিচালিত চট্টগ্রামে "সদারঙ্গ উচ্চাঙ্গ সংগীত পরিষদ "উস্তাদ প্রয়াত নীরদ বরণ বড়ুয়া স্মরণে বাংলাদেশ এবং ভারতের অনেক শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি বিশতম জাতীয় সংগীত সম্মেলনের আয়োজন করেছে তা দেখে আমি খুবই আশান্বিত হলাম। উস্তাদজী যে আলো জ্বালিয়ে দিয়ে গেছেন তার দ্যুতি এই সম্মেলনের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ুক নব প্রজন্মের মাঝে। উস্তাদজী অমর হয়ে থাকুন বাংলাদেশের সংগীত জগতে। তাঁর সংগীত বাঙালির হৃদয়ে লালিত হোক অনাদিকাল।

সদারঙ্গ উচ্চাঙ্গ সংগীত পরিষদ বাংলাদেশ আয়োজিত ১১-১৩ জানুয়ারি ২০১৭ ব্যাপী জাতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত সম্মেলনের ব্যাপক সাফল্য কামনা করছি। আমার উস্তাদজীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে জানাই আমার শতকোটি প্রণাম।

Additional Info

  • Image: Image