২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ রবিবার, ২৮ মে ২০১৭ইংরেজী
বৃহস্পতিবার, 05 জানুয়ারী 2017 16:20

আশিতম বর্ষে ছড়া সম্রাট সুকুমার বড়ুয়া

লিখেছেনঃ উত্তম কুমার বড়ুয়া

আশিতম বর্ষে ছড়া সম্রাট সুকুমার বড়ুয়া

সুকুমার বড়ুয়াবাংলাদেশের ছড়াসাহিত্যে একজন প্রবাদ-প্রতিম ব্যক্তিত্ব। সুদীর্ঘ ৫৬ বছর ধরে শুধু ছড়া লিখে তিনি হয়েছে এ যাবতকালের সবচাইতে জনপ্রিয় ছড়াকার; হয়েছেন ‘ছড়ারাজ’, ‘ছড়াশিল্পী’, ‘ছড়াসম্রাট’ নানা অভিধায় অভিষিক্ত। সহজ-সরল কথায় ও ভাষায়, ছন্দ-অন্ত্যমিলের অপূর্ব সমন্বয়ে তাঁর ছড়া যেমন শিশুতোষ, উদ্ভট, ব্যঙ্গাত্মক, হাস্যরসাত্মক, কৌতূহলোদ্দীপক, নৈতিক শিক্ষামূলক তেমনি গণমুখী, রাজনৈতিক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ।

প্রতিভাবান এই ছড়াকারের জন্ম ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান থানার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে। কৈশোরকাল থেকে দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত সুকুমার বড়–য়া লেখালেখি শুরু করেন ২০ বছর বয়সে। প্রথম ছড়া ‘বৃষ্টি নেমে আয়’ প্রকাশিত হয়েছিল দৈনিক সংবাদ এর খেলাঘর- এর পাতায়। সেই থেকে শুরু, এরপর আর থেমে থাকেননি বরেণ্য এ ছড়াকার। অর্ধশতকেরও বেশি সময়জুড়ে শব্দের অনন্য ব্যবহার, ছন্দশৈলী আর নিজস্ব স্বকীয়তায় বেশ দাপটের সাথে সৃষ্টি করে গেছেন একের পর এক অনবদ্য ছড়া।

তাঁর একাধিক লেখা স্কুল পাঠ্য। ‘পাগলা ঘোড়া (১৯৭০, বাংলা একাডেমী)’, ‘ভিজে বেড়াল (১৯৭৬, মুক্তধারা)’, ‘চন্দনা রঞ্জনার ছড়া (১৯৭৯, মুক্তধারা)’, ‘এলোপাতাড়ি (১৯৮০, বাংলা একাডেমী)’, ‘নানা রঙের দিন (১৯৮১, শিশু একাডেমী)’, ‘সুকুমার বড়–য়ার ১০১টি ছড়া (১৯৯১, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র)’, ‘ঠুস্ঠাস্ (১৯৯৮, প্রজাপতি প্রকাশন)’, ‘নদীর খেলা (১৯৯০, শিশু একাডেমী)’, ‘ঠিক আছে ঠিক আছে (২০০৬, প্রবাস প্রকাশনী)’, ‘লেজ আবিস্কার (২০১০, প্রথমা প্রকাশনী)’ প্রভৃতি তাঁর জনপ্রিয় ছড়াগ্রন্থ।

স্বকীয় প্রতিভায় ভাস্বর এই ছড়াশিল্পীকে নিয়ে উত্তমকুমার বড়ুয়ার (প্রকাশ চারুউত্তম) সম্পাদনায় মননশীল প্রকাশনা ‘চারুলতা’ ১৯৯৭ সালে ‘সুকুমার বড়ুয়া সংখ্যা’ প্রকাশ এবং ২০০০ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমীতে ‘গুণীজন সংবর্ধনা’ প্রদান করে।

শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য পেয়েছেন বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৭), বৌদ্ধ একাডেমী পুরস্কার (১৯৯৪), বাংলাদেশ শিশু একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৭), অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৭ ও ২০০৯), জনকণ্ঠ প্রতিভা সম্মাননা (১৯৯৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৯), চোখ সাহিত্য পুরস্কার-১৪০৬ (ভারতঃ ১৯৯৯), নন্দিনী শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব-২০০০, শব্দপাঠ পদক (২০০৬), মোহাম্মদ মোদাব্বের-হোস্নে আরা স্মৃতি পুরস্কার (২০০৭), কবীর চৌধুরী শিশুসাহিত্য পুরস্কার (২০১০) প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য পুরস্কার ও সম্মাননা।

সাহিত্য কর্ম

পাগলা ঘোড়া (১৯৭০, বাংলা একাডেমী)
ভিজে বেড়াল (১৯৭৬, মুক্তধারা)
চন্দনা রঞ্জনার ছড়া (১৯৭৯, মুক্তধারা)
এলোপাতাড়ি (১৯৮০, বাংলা একাডেমী)
নানা রঙের দিন (১৯৮১, শিশু একাডেমী)
সুকুমার বড়ুয়ার ১০১টি ছড়া (১৯৯১, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র)
চিচিং ফাঁক (১৯৯২, ওলট পালট প্রকাশনী)
কিছু না কিছু (১৯৯৫, বিশাখা প্রকাশনী)
প্রিয় ছড়া শতক (১৯৯৭, মিডিয়া)
বুদ্ধ চর্চা বিষয়ক ছড়া (১৯৯৭, সৌগতঃ ভিক্ষু সুনন্দ প্রিয় )
ঠুস্ঠাস্ (১৯৯৮, প্রজাপতি প্রকাশন)
নদীর খেলা (১৯৯৯, শিশু একাডেমী)
আরো আছে (২০০৩, আরো প্রকাশন)
ছড়া সমগ্র (২০০৩, সাহিত্যিকা)
ঠিক আছে ঠিক আছে (২০০৬, প্রবাস প্রকাশনী, লন্ডন)
কোয়াল খাইয়ে (২০০৬, বলাকা, চট্টগ্রাম)
ছোটদের হাট - (২০০৯, বাংলাদেশ শিশু একাডেমী)
লেজ আবিষ্কার - (২০১০, প্রথমা প্রকাশন)[১]
ছড়াসাহিত্যিক সুকুমার বড়ুয়া সম্মাননা গ্রন্থ (২০১১) [২]
পুরস্কার
বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৭)
ঢালী মনোয়ার স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯২)
বৌদ্ধ একাডেমী পুরস্কার (১৯৯৪)
বাংলাদেশ শিশু একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৭)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বৌদ্ধ ছাত্র সংসদ সম্মাননা (১৯৯৭)
অগ্রণী ব্যাংক শিশু সাহিত্য সম্মাননা (১৯৯৭)
জনকণ্ঠ প্রতিভা সম্মাননা (১৯৯৮)
আলাওল শিশু সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৯)
চোখ সাহিত্য পুরস্কার, ভারত (১৯৯৯)
নন্দিনী শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব (শিশু সাহিত্য) (২০০০)
আইরিন আফসানা ছড়া পদক (২০০২)
স্বরকল্পন কবি সম্মাননা পদক (২০০৪)
শিরি এ্যাওয়ার্ড (২০০৫)
শব্দপাঠ পদক (২০০৬)
বৌদ্ধ সমিতি যুব সম্মাননা (২০০৬)
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সম্মাননা (২০০৬)
অবসর সাহিত্য পুরস্কার (২০০৬)
মোহাম্মদ মোদাব্বের হোসেন আরা স্মৃতি পুরস্কার (২০০৭)
লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক (২০০৭)
রকিবুল ইসলাম ছড়া পদক (২০০৮)
লিমেরিক সোসাইটি পুরস্কার (২০০৯)[১]
রাউজান ক্লাব সম্মাননা (২০০৯)
কবীর চৌধুরী শিশু সাহিত্য পুরস্কার (২০১০

Additional Info

  • Image: Image