২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১৮ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ সোমবার, ০১ মে ২০১৭ইংরেজী
বৃহস্পতিবার, 11 ফেব্রুয়ারী 2016 01:54

পা-অক সেয়াদ, পর্ব-২ (শেষ)

লিখেছেনঃ রাজীব বড়ুয়া

পা-অক সেয়াদ, পর্ব-২ (শেষ)

১৯৮১ সালে সেয়াদ পা-অক বনবিহারের অধ্যক্ষ অগগপঞঞা ভান্তের কাছ থেকে একটি বার্তা পান। সেখানকার অধ্যক্ষ মুমূর্ষ অবস্থায় আছেন এবং আচিন্ন ভান্তেকে তাঁর বিহারের দেখাশোনার ভার নিতে বলেছেন। পাঁচ দিন পরে অগগপঞঞা ভান্তে মারা যান। তখন বিহারের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে আচিন্ন ভান্তে পরিচিত হন “পা-অক তয়া সেয়াদ” নামে। যদিও তিনি বিহার পরিচালনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তবে তিনি বেশির ভাগ সময় কাটাতেন নির্জনে, বিহারের উত্তরের জঙ্গলের অংশে একটি বাঁশের তৈরি কুটিরের মধ্যে।

১৯৮৩ সাল থেকে ভিক্ষু এবং গৃহী লোকজন সেয়াদের কাছে ভাবনা শিখতে আসতে থাকে। বিদেশি ভাবনাকারীরা বিহারে আসতে শুরু করেন ১৯৯০ এর শুরুর দিকে। পা-অক সেয়াদের সুনাম ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। আর উত্তর বিহারের সেই জঙ্গলে ২৫০ এরও বেশি কুটির গড়ে ওঠে। সেই অঞ্চলটি উপরের বিহার (Upper Monastery) হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। সেখানে পুরুষদের জন্য দোতলা ভাবনা হল, একটি লাইব্রেরি (সাথে অফিস, কম্পিউটার রুম এবং নিচের তলাগুলোতে পুরুষদের ডর্মিটরি), একটি ক্লিনিক, একটি হাসপাতাল, একটি পিন্ডদানের হল, একটি ভোজনশালা এবং একটি অভ্যর্থনা কক্ষ ও সেয়াদের জন্য একটি বাসভবন নির্মিত হয়।

নিচের বিহারে (Lower Monastery) ১৮০ টিরও বেশি কুটির আছে, একটি রান্নাঘর, মহিলাদের জন্য একটি তিনতলা ভাবনা হল এবং একটি পাঁচতলা ডর্মিটরি আছে। ত্রৈমাসিক বর্ষাবাসের সময় বিহারের মোট ভিক্ষুর সংখ্যা গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ জন থাকেন। গৃহী ভাবনাকারী লোকজনসহ মাঝে মাঝে উৎসবের সময় বিহারের আবাসিক জনসংখ্যা ১৫০০ জনের উপরে চলে যায়।

১৯৯৭ সালে সেয়াদ তাঁর ভাবনা-পদ্ধতির বিস্তারিত সবকিছুকে পাঁচ খন্ডের বিশাল একটি বই প্রকাশ করেন। বইটির নাম ‘যে চর্চা নির্বানে পৌছে দেয়’- The Practice that Leads to Nibbana। যেখনে ভাবনাশিক্ষা পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং পালিশাস্ত্র থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে। ১৯৯৯ সালের ৪ জানুয়ারি সেয়াদের অর্জনের স্বীকৃতিস্বরুপ সরকার তাঁকে “অগগমহাকম্মট্টানাচারিয়” উপাধিতে ভূষিত করেন।

সুত্রঃ জানা ও দেখা বই থেকে
http://www.buddhanet.net/masters/pa-auk_tawya_sayadaw.htm

 

Additional Info

  • Image: Image