২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৭ইংরেজী
Showers

24°C

Chittagong

Showers

Humidity: 94%

Wind: 22.53 km/h

  • 11 Dec 2017

    Rain 26°C 22°C

  • 12 Dec 2017

    Partly Cloudy 27°C 20°C

  • সেই খানেরই গলদ, যেখানে সততা নেই। টাকা পয়সার দিকে নজর দিলে কাজের নেশা নষ্ঠ হয়ে যায়। টাকা পয়সা বড় কথা নয়, কাজ চাই।

    মহাসংঘনায়ক শ্রীসদ্ধর্মভাণক বিশুদ্ধানন্দ

  • আমাদের সমাজে যে এখনো কোন বড় কোন প্রতিভার জন্ম সম্ভব হচ্ছে না, তার কারণ পরশ্রীকাতরতা। আমরা গুণের কদর করি খুব কম। কিন্তু মন্দটাকে সগর্বে প্রচার করে বেড়াতে পারি।

    মহাসংঘনায়ক শ্রীসদ্ধর্মভাণক বিশুদ্ধানন্দ মহাথের

  • যুদ্ধ সভ্যতাকে ধ্বংস করে এবং শান্তি বিশ্বকে সুন্দর করে । যুদ্ধ মানুষকে অমানুষ করিয়ে দেয়, যুদ্ধ ছিনিয়ে নেয় প্রেম-ভালবাসা এবং যুদ্ধের আগুনে আত্নহুতি দিতে হয় বহু প্রাণের । যুদ্ধকে মনে প্রাণে ঘৃণা করা উচিৎ।

    মহাসংঘনায়ক শ্রীসদ্ধর্মভাণক বিশুদ্ধানন্দ মহাথের

  • আপনি যেমন মহৎ চিন্তা করেন কাজেও সেইরুপ হউন, আপনার কথাকে কাজের সাথে এবং কাজকে কথার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলুন।
    মহাসংঘনায়ক শ্রীসদ্ধর্মভাণক বিশুদ্ধানন্দ

বিমলদা চলে গেলেন অকালেই

শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০১৬ ০১:৪৮ মো. মাহবুব উল আলম

বিমলদা চলে গেলেন অকালেই

বিমলদা চলে গেলেন। বিমলদা মানে সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের জগতে অতি পরিচিত একটি নাম- বিমলেন্দু বড়ুয়া। আমার শ্রদ্ধাভাজন বিমলদা। আমাদের অনেকের বিমল বাবু, কারও কারও-বা বড়ুয়াবাবু, বিমলদা চলে গেলেন অকালেই। হ্যাঁ! অকালে নয়তো কী? জলজ্যান্ত মানুষটা জাপান সফর শেষে দেশে ফিরে রাজধানী ঢাকায় একটু হাঁটছিলেন। ঘাতক গাড়ি তাঁকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দিল। হুঁশ হারালেন। হাসপাতালে নেওয়া হল। কিন্তু হারিয়ে যাওয়া হুঁশ আর ফিরে এল না। ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি, সোমবার বেলা দেড়টায় ঢাকা এ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হন ১৩ জানুয়ারি, ২০০৭। বয়স হয়েছিল ৭৪। তবু তাঁর মৃত্যুকে আমি বলব অকালমৃত্যু। সচল, গতিশীল এ মানুষটি বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েন নি। পড়তেন, লিখতেন, হাঁটতেন। হ্যাঁ, অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন আকস্মিকভাবে। মানসিক বিপর্যস্ততাই ছিল তাঁর অসুস্থতার কারণ। মস্তিষ্কের নার্ভে প্রচণ্ড চোট লাগে। দ্রুত উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। সেরে ওঠেন। তবে রাত জাগা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শে অবসর নেন, যদিও দৈনিক আজাদী কর্তৃপক্ষ তাঁকে ধরে রাখতে আগ্রহী ছিলেন। সংবাদ ডেস্কে কাজ বিশেষ করে রাতের বেলায় বেশি। তাই রাত জেগে কাজ করতে হয়। অথচ নার্ভের উপর চাপ দিতে সাহস পাচ্ছিলেন না। অবসর নেবার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর একদিন বাসায় যেতে বলেছিলেন আমাকে ফোন করে। গিয়েছিলাম। বাসায় বৌদি ছিলেন। তিনিও অসুস্থ। একমাত্র ছেলে শুভ শিক্ষার্থে সস্ত্রীক জাপানে। মেয়েরা সব শ্বশুরবাড়িতে। একটাকে তখন ঘরে রেখেছিলেন তাঁদের সাহায্য করার জন্য। বাসায় গিয়ে বেল টিপতে বৌদি এলেন। দরজা খুললেন। বসলাম। দাদা কোথায় জিজ্ঞেস করলাম। বললেন, আনছি। ধরে ধরে আনলেন। সেই স্মিত হাসি। স্নিগ্ধ কণ্ঠস্বর। পাশে সোফায় বসলেন। অসুস্থ বৌদি নিজের শরীরকে জোর করে চালাচ্ছেন। চা আনলেন। বিমলদা তাঁর চিরাচরিত স্নেহঝরা কণ্ঠে বললেন, চা খান। তিনি চা খেলেন না। বললেন, ডাক্তারের নিষেধ! সেদিন বললেন অনেক কথা। বললেন অবসর গ্রহণের মানসিক প্রস্তুতির কথা। বললেন, ‘রাত জাগতে ডাক্তারের নিষেধ। তাই সাহস হয় না। ভাবছি, যদি পারি আবার কলম চালাব। অনেক লেখার সাধ। সে সাধ মনের আশা মিটিয়ে কখনও পুরাতে পারি নি। এখন শরীর ঝটকে গেছে। তবু আশা ছাড়ছি না। আজাদী অফিস আর আপনাদের সাথে সম্পর্ক আগের মতো থাকবে। শরীরে কুলালে আমি যাব। নয়তো আমাকে দেখতে আসবেন। বাসা তো কাছেই...।’

হ্যাঁ, বিমলদা প্রবল সংযম ও আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দিয়ে নিজেকে যথেষ্ট সারিয়ে তুলেছিলেন। কর্মক্ষম রেখেছিলেন। হাত দিয়েছিলেন সাহিত্য রচনায়। বিখ্যাত জাতকের গল্পগুলোকে সহজ-সরল-সরসভাবে বাংলাভাষীদের কাছে পেশ করার কাজে হাত দিয়েছিলেন। সত্তরোর্ধ এই মানুষটি হঠাৎ করে যেন জেগে উঠেছিলেন। প্রবল স্রোতের মতো তাঁর কলমের ঝর্ণা থেকে বেরিয়ে আসছিল লেখার পর লেখা। ঘাতক গাড়ি হঠাৎ স্তব্ধ করে দিল সেই গতিকে, যেমন আচমকাত মানসিক আঘাতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন বছর কয়েক আগে।

বিমলদা, আমার ‘গুরুদেব’

বিমলদা। ১৯৭০ সনের সেপ্টেম্বর মাসের ১ তারিখে যেদিন আমি প্রথম দৈনিক আজাদীতে সাংবাদিক হিসেবে যোগ দিই সেদিন সকালের শিফটে ডেস্কে চার্জে ছিলেন তিনি। প্রথমে একটা স্থানীয় খবরের প্রেস বিজ্ঞপ্তি আমার হাতে দিলেন, তখনকার সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ। পত্রিকা পড়তে পড়তে সংবাদ নির্মাণের একটা ধরন মস্তিষ্কের মাঝে অবয়ব ধারণ করেছিল। লিখলাম। স্যার (খালেদ সাহেব) তা বিমলদাকে দিলেন। তিনি তা দেখে আমাকে বললেন, হেডিং দিন। দিলাম। তখন আমরা এপিপি-র (এসোসিয়েটড প্রেস অব পাকিস্তান) নিউজ-লেখা কাগজের অপর পৃষ্ঠায় লিখতাম। এপিপি-র নিউজ আসত ইংরেজিতে। বড় শিটে লেখা কাগজটা কেটে ছোট করার জন্য এদিক-ওদিক তাকাচ্ছিলাম। দেখলাম, টেবিলে ছোট লোহার পাত। ওটা একটু দূরে ছিল। বিমলদা লক্ষ করলেন। জিজ্ঞেস করলেন, কী? বললাম, লোহার পাতটা...। তিনি হেসে বললেন, ‘না, লোহার পাত নয়, এটা ‘কাটার’ (Cutter)। নিউজ টেবিলে এটাকে কাটার বলা হয়। হাসলাম। কাটার নিলাম। হেডিং করে নিউজটা আবার তাঁকে দিলাম। এরপর স্যার এপিপি থেকে টেলিপ্রিন্টারে আসা নিউজ আনতে বললেন পিওনকে। আমাকে আরও দু-একটা লোক্যাল নিউজ এডিট, রিরাইট ও সম্পাদনা করার জন্য দেওয়া হল। করলাম। এপিপি-র নিউজ এল। স্যার দেখলেন।। বিমলদাকে কাটতে দিলেন। তিনি কাটলেন। আবার স্যারকে দিলেন। স্যার পিন দিয়ে গেঁথে কয়েকটা শিট আমার দিকে এগিয়ে দিলেন। বললেন, ‘এগুলোর অনুবাদ করুন।’...সেদিনের সেই নিউজটা ছিল বিশ্বে প্রথমবারের মতো বিমান হাইজ্যাকের আলোড়ন সৃষ্টিকারী খবরের প্রাথমিক তথ্য। অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ এমন চাঞ্চল্যকর খবর দেখে ওই মুহূর্তে কোন প্রকার চাঞ্চল্য প্রকাশ করলেন না। নীরবে আমার দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন। ওটা ছিল আমার প্র্যাকটিক্যাল ইন্টারভিউ। স্যারের হৃদয়ের গভীরতা ও স্থৈর্যের পরিচয় ওইদিনের কয়েক মুহূর্তের ঘটনাতে বিদ্যমান ছিল। অবশ্য তা অনুভব করেছি অনেক পরে।...এপিপিতে এভাবে নিউজ আসতে থাকে। স্যার আমাকে এক এক কপি দিতে থাকেন। বললেন, ‘অনেক তথ্যের পুনরাবৃত্তি থাকবে। অনুবাদে পুনরাবৃত্তির দরকার নেই। আপনি আপনার ভাষায় পুরো তথ্যটা সহজভাবে লিখে যাবেন।’ এভাবে অনেক শিটের সম্পাদনা ও অনুবাদ করলাম। কাগজটা বিমলদাকে এগিয়ে দিলাম। তিনি একটু চোখ বুলিয়ে স্যারের দিকে এগিয়ে দিলেন। স্যার খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে ইংরেজি শিটগুলোসহ গেঁথে বললেন, ‘রাতে সাধনের (সাধনকুমার ধর, তখনকার বার্তা সম্পাদক) জন্য রেখে দিন।’...এভাবে, প্রথম দিনেই বিমলদা হয়ে ওঠেন আমার ‘বড়ভাই’য়ের মতো। এরপর থেকে ‘সর্বদা’ আমি তাঁর কাছ থেকে পেয়েছি অনুজের মর্যাদা! সেই সদাহাস্য মুখ। ‘বিমল’ হৃদয়ের ‘বিমল’ স্নেহধারা। স্নেহ সম্ভাষণ। কালে-কস্মিনে অভিভাবকের মতো মৃদু তিরস্কার! সব আজ øেহের শিশিরকনার মতো ঝিলমিল করছে স্মৃতির দুর্বাশিরে। দীর্ঘ কর্মময় জীবনে বিমলদার সঙ্গে আমার একদিনের জন্যও মন কষাকষি হয়নি। তাঁর সমর্থন, পৃষ্ঠপোষকতা সর্বদা অকাতরে পেয়েছি। বড্ড রসিক ছিলেন বিমলদা। কত টোটকা গল্প বলতেন। আমাদের হাসাতেন। নিজেও হাসতেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় বেলায় বাড়ি (কধুরখিল) থেকে বাসে চলে আসতেন। রাত কাটাতাম অফিসে। বেশ কিছুদিন অফিসে পিওনকে দিয়ে রান্না করেও সবাই খেয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে একদিন অফিসে আসার সময় কালুরঘাটে অনেককে ‘ফল-ইন’ করায় হানাদাররা। বিমলদাও পড়েছিলেন ওই বিপাকে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘কোন হ্যয় তোম? বিমলদার ভাষায়, ‘বুক তখন কাঁপছিল। হঠাৎ মুখে এসে গেল; হাম চিনা বুড্ডিস্ট, হ্যায়।’ হানাদার সেনা ‘তো চিনা বুড্ডিস্ট’ বলে তাঁকে বলেছিলেন, ‘যাও’। তারপর থেকে যখনই হানাদারদের জেরার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তখন ‘চিনা বুড্ডিস্ট’ বলে পরিচয় দিতেন। অফিসে এসে রসিয়ে রসিয়ে এসব কথা বলতেন। আমাদের তখনকার সহকর্মী মরহুম আমিনুল ইসলাম বিমলদাকে ডাকতেন ‘বোনজামাই’ বলে। বিলদাও তাঁকে মাঝে মাঝে কৌতুক করে ‘শালা’ বলে। ওইসব বৃত্তান্ত শোনার পর আমিনসাহেব তাঁকে মাঝে মাঝে কৌতুক করে ডাকতেন ‘চিনা বুড্ডিস্ট’। আমিনুল ইসলামসাহেব চিনপন্থী কমিউনিস্ট পার্টি ‘পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির’ সদস্য ছিলেন।
এরকম কত ঘটনা। ছোটখাটো কত কৌতুক! কোনো শব্দ বানান নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিলে তাঁর শরণাপন্ন হতাম। ‘ণত্ব বিধান’, ‘ষত্ব বিধানে’র সূত্র কতবার আমাকে শিখিয়েছিলেন। এমনভাবে কালস্রোতে তাঁকে নিজের অজান্তেই কখন যে ‘গুরুদেব’ বলতে শুরু করেছিলাম, তা আজ মনে নেই। তিনি এর জবাবে আমাকে ডাকতেন ‘শাগরেদ’। একদিন কৌতুক করে বলেছিলাম, লোহার পাত’কে যে নিউজ টেবিলে ‘কাটার’ বলা হয় তা আমি প্রথম আপনার কাছ থেকে শিখেছি। ‘আন্ডাভাজা’ শহরের হোটেলে ‘অমলেট্’। আর লোহার পাত নিউজ টেবিলে ‘কাটার’। অবস্থানের পরিবর্তনে গুণের কী পরিবর্তন। ওদিন থেকেই আপনার প্রতি আমার ‘গুরুদেবত্বে’র বীজ বপন হয়েছিল। কাটারকে আমরা মাঝে মাঝে বাংলা করে বলতাম ‘কর্তিকা’। তিনি হাসতেন সেই বিমল, অনাবিল হাসি। এসব কথা আজ মনে পড়ে আর দুচোখ জলে ভরে যায়।

দর্শনচেতনাসমৃদ্ধ এক বিদগ্ধ পুরুষ আমার বিমলদা-

বিমলদা প্রাগাঢ় লেখাপড়া জানা এক বিদগ্ধ পুরুষ। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় ছিল তাঁর নীরব পদচারণা। ছিলেন নিভৃতচারী। সুযোগ পেলে প্রতিভার ছটা আরও বৃহত্তর পরিসরে ছড়াতে পারতেন। তিনি বেশ গর্বভরে বলতেন, ‘চট্টগ্রাম কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময় হজরত মোহাম্মদ (দ.) সম্পর্কে সমগ্র পাকিস্তানভিত্তিক এক রচনা প্রতিযোগিতায় (ইংরেজীতে) প্রথম হয়েছিলাম।’ অনেক কথা বলতেন। আমাকে একাধিকবার চার্জ করে বলেছেন, হজরত মোহাম্মদ (দ.) জীবন-কর্ম-কৃতি-রাজনৈতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক সাফল্য সম্পর্কে আমাদের বাঙালি মুসলিম সমাজের অধিকাংশের অজ্ঞতার কথা!

বিমলদা কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক। একাধারে তিনি গৌতম বুদ্ধ ও বৌদ্ধদর্শন সম্পর্কে ছিলেন গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী। গৌতম বুদ্ধ এবং বৌদ্ধদর্শনকে তিনি আত্মস্থ করেছিলেন। এ সম্পর্কে তাঁর ধারণা কত যে পরিচ্ছন্ন, তা তাঁর বিভিন্ন রচনায় সম্যক প্রতিভাত হয়ে আছে। আমার নিজের বাড়ি হাটহাজারি থানার এনায়েতপুরের অল্প দক্ষিণে মির্জাপুর গ্রামে ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ বিহার। মির্জাপুর স্কুলের ছাত্র থাকাকালে সহপাঠীদের সাথে বহুবার সেই বিহারে গিয়েছিলাম। একটা বিহারে গৌতম বুদ্ধের নির্বাণ শয়ান মূর্তির সৌম্য-গাম্ভীর্য সেই যে কিশোরমনে ছাপ ফেলেছিল, এখনও তা ভাস্বর। বিহারাধ্যক্ষদের সøেহ সম্ভাষণ আজও কানে বাজে। শ্রদ্ধেয় শীলালংকার মহাথেরোর মৃদু উচ্চারণগুরো আজও কানে বাজে। চারপাশে বিশাল পুস্তকের স্তূপের মাঝে ক্ষুদ্র ফর্সা মানুষটি। গৌতম বুদ্ধের চট্টগ্রামি সংস্করণ বলে মনে হত আমার! কৈশোরের সেই আকর্ষণ আমাকে টেনে নিয়ে যায় বৌদ্ধদর্শন সম্পর্কে জানতে। বেশ কিছু বইও সংগ্রহ করেছি এ বিসয়ে। কিন্তু পাঁচ সহস্রাধিক বছরের বৌদ্ধ দর্শনচর্চা-সে তো সহজ বিষয় নয়! বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দার্শনিক-জ্ঞানী-গুণীরা বৌদ্ধদর্শন সম্পর্কে গভীর চর্চা করেছেন। সে চর্চার বিস্তার দেশের দার্শনিক-জ্ঞানী-গুণীরা বৌদ্ধদর্শন সম্পর্কে গভীর চর্চা করেছেন। সে চর্চার বিস্তার বাংলাদেশ-ভারত-রাশিয়া-মধ্যপ্রাচ্য-চিন-জাপান-থাইল্যান্ড-শ্রীলংকাসহ সমগ্র এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকায় বিস্তৃত। বাংলাদেশের মহাজ্ঞানী অতীশ দীপঙ্কর থেকে শুরু করে ইউরোপের দার্শনিক শোপেনহাওয়ার পর্যন্ত এর সগৌরব, প্রোজ্জ্বল বিস্তার। অতএব, এর বিশাল জ্ঞান ও দর্শনভাণ্ডার সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু জানা সহজ নয়। তবু বিমলদাকে মাঝে মাঝে বিরক্ত করতাম। বৌদ্ধ দর্শন, শূন্যবাদ প্রভৃতি সম্পর্কে নানাবিধ প্রশ্ন করতাম। তাজ্জবের ব্যাপার! এক মুহূর্ত বিলম্ব না করে তিনি সংক্ষেপে যথার্থ উত্তরটা আমাকে দিতে পারতেন। শেষ পর্যন্ত আমার প্রশ্নবাণ থেকে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি আমাকে একসেট ইংরেজি বই উপহার দেন। আর বললেন, এই পাঁচটা বইতে আপনার বহু জটিল প্রশ্নের সহজ জবাব পাবেন। আমি বলেছিলাম, এই পাঁচটা পুস্তক কি ‘পঞ্চশীলা’র প্রতীক। তিনি হেসেছিলেন, সেই স্নেহের হাসি। সেই পাঁচটি বই 1. What’s Buddhism, theory and practice, 2. The Basic purpose of following The Buddha, 3. The Tree of Enlightenment 4. Right Mindfulness 5. A Path to True Happiness... থাইল্যান্ড, হংকং, আমেরিকা, তাইওয়ান প্রভৃতি বিভিন্ন স্থান থেকে প্রকাশিত এসব ক্ষুদ্র পুস্তক বৌদ্ধদর্শন সম্পর্কে জানবার জন্য অত্যন্ত উপযোগী বিবেচিত হয়েছে আমার কাছে। একবার থাইল্যান্ড সফর শেষে এসে আমাকে উপহার দিয়েছিলেন গৌতম বুদ্ধের দুটো আইকন আর দুটো ‘জপমালা’। স্নেহের এসব দান এখনও সযত্নে রক্ষিত আমার সংগ্রহে।
বহু আলোচনার পর একদিন তাঁকে বলেছিরাম, ‘বিমলদা! ইসলাম ধর্মের সংক্ষিপ্তসার রূপে বর্ণিত একটি হাদিস আছে! সেটা হলো; ‘কল্যাণ চিন্তা ও কল্যাণই ইসলাম।’ এ ধরনের কোন সারকথা বৌদ্ধদর্শনে থাকলে আমাকে বলুন। কালবিলম্ব না করে তিনি বললেন-‘সব্ব পাপস্স্ অকরণ!/কুসলস্স্ উপসম্পাদা/সচিত্ত পরিয়দোপনং/এতান বুদ্ধানুসাসনং। (সর্বপ্রকার পাপকাজ থেকে বিরত থাকা, কুশল কাজ সম্পাদন করা। স্বীয় চিত্ত পরিশুদ্ধ রাখা-এটাই বুদ্ধের অনুশাসন)।’ জিজ্ঞেস করলাম, ‘গৌতম বুদ্ধের শেষ দিকের কোন বাণী আছে কি? তিনি বললেন, ‘অপ্রমাদেন সম্পাদেতা (অপ্রমত্ত অবস্থায় প্রত্যেক কাজ সম্পাদন করবে)।’
এসব মহামূল্যবান উক্তি আমার ব্যক্তিগত নোটবুকে লিখে রেখেছি বিমলদা! নিচে লিখে রেখেচি; সূত্র-বিমলেন্দু ড়ুয়া। বিমলদা, আপনাকে জীবদ্দশায় যেমনটা বলতাম তেমনি আবার বলি, আদাব! পরপার থেকে আমার আদাব নিন। আপনার সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে আরেকদিন আলোচনা করার আশা রইল।

মো. মাহবুব উল আলমঃ বাংলাদেশের বিখ্যাত দৈনিক আজাদী পত্রিকার সিনিয়র সহকারী সম্পাদক। বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক।

Nirvana Peace Foundation

নির্বাণা কার্যক্রম
Image
নির্বাণা পিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিশু কিশোরদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা সম্পন্ন নির্বাণা পিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিশু কিশোরদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা সম্পন্নশিশু কিশোরদের… ( বিস্তারিত )
Image
নির্বাণা পিস ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রমী আয়োজন নির্বাণা পিস ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রমী আয়োজন শিশু কিশোরদের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা… ( বিস্তারিত )
Image
পূর্ব আধারমানিক মানিক বিহারে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যান ট্রাষ্টের আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান পূর্ব আধারমানিক মানিক বিহারে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যান ট্রাষ্টের আর্থিক অনুদানের… ( বিস্তারিত )
আরও
সংবাদ সমীক্ষা
Image
সাহিত্যিক সাংবাদিক বিমলেন্দু বড়ুয়ার দশম মৃত্যুবার্ষিকী ২২ জানুয়ারি সাহিত্যিক সাংবাদিক বিমলেন্দু বড়ুয়ার দশম মৃত্যুবার্ষিকী ২২… ( বিস্তারিত )
আরও