২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১৭ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ রবিবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৭ইংরেজী

বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শন

বৌদ্ধ ধর্মই দিতে পারে বিশ্বব্রন্মান্ডের বিজ্ঞান ভিত্তিক ধর্ম ব্যাখ্যা : আলবার্ট আইনস্টাইন

বৌদ্ধ ধর্মই দিতে পারে বিশ্বব্রন্মান্ডের বিজ্ঞান ভিত্তিক ধর্ম ব্যাখ্যা : আলবার্ট আইনস্টাইন The religion of the future will be a cosmic religion. It should transcend a personal God and avoid dogmas and theology. Covering both the natural and the spiritual, it should be based on a religious sense arising from the experience of all things, natural and spiritual, as a meaningful unity. Buddhism answers this description.” ~ Albert Einstein এ…

মিলিন্দ : প্রশ্ন ও অনুসন্ধিৎসু মন (৩য় পর্ব)

মিলিন্দ : প্রশ্ন ও অনুসন্ধিৎসু মন (৩য় পর্ব) মিলিন্দ প্রশ্নের উৎপত্তি কোত্থেকে? মিলিন্দ কে ছিলেন?ধারাবাহিকভাবে জানতে চাইলে পড়ুন। আজ তৃতীয় পর্বের সূচনা - তৎপর বালক নাগসেন মাতাপিতার নিকটে উপস্থিত হইয়া বলিলেন, মাতঃপিতঃ, এই প্রব্রজিত যাহা জগতে উত্তম মন্ত্র, তাহা জানেন, কিন্তু তাঁহার নিকটে প্রব্রজিত না হইলে মন্ত্র শিক্ষা দিবেন না। আমি তাঁহার নিকটে প্রব্রজিত হইয়া সেই মন্ত্র শিক্ষা করিব।” মাতাপিতা ভাবিলেন, আমাদের পুত্র প্রব্রজিত হইয়াও মন্ত্র শিক্ষা করুক। মন্ত্র শিক্ষার…

আষাঢ়ী পূর্ণিমার তাৎপর্য : চেতনায় বুদ্ধের জীবনদর্শন

আষাঢ়ী পূর্ণিমার তাৎপর্য : চেতনায় বুদ্ধের জীবনদর্শন আষাঢ়ী পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের অন্যতম একটি পবিত্র দিন ও অবিস্মরণীয় তিথি। এ পূণ্যময় তিথিটি বৌদ্ধ জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়। এ তিথিতে বোধিসত্ব সিদ্ধার্থরূপে মাতৃগর্ভে প্রতিসন্ধি গ্রহণ করেন। জরা ও ব্যাধিগ্রস্ত’ মানুষ, শবযাত্রা ও শান্ত সৌম্য সন্ন্যাসী- এ চার দৃশ্য দেখে রাজকুমার সিদ্ধার্থ এ শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথিতে রাজপ্রাসাদ ছেড়ে গৃহত্যাগ করেন এবং বুদ্ধত্ব লাভের পর মুক্তিকামী সত্যদ্রষ্টা, মহামানব গৌতমবুদ্ধ সারনাথ এর মৃগদাবে…

আষাঢ়ী পূর্ণিমা : অনাবিল এক আনন্দের দিন

আষাঢ়ী পূর্ণিমা : অনাবিল এক আনন্দের দিন শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথি, যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় দেশব্যাপী বৌদ্ধ সম্প্রদায় এদিবসটি পালন করছে প্রতিটি বিহারে। ধর্মীয় আবেশে, পুলকিত মনে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সকলে বিহারে সমবেত হয়ে পঞ্চশীলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বুদ্ধ পূজা উৎসর্গ করবেন। কেউ কেউ অষ্টশীলও গ্রহণ করবেন। আজকের আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথিতে বুদ্ধের যেই ঘটনাগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সেগুলো হলোণ্ড সিদ্ধার্থের মাতৃজঠরে প্রতিসন্ধি গ্রহণ, সিদ্ধার্থের গৃহত্যাগ, পঞ্চবর্গীয় শিষ্যদের নিকট ধর্মচক্র প্রবর্তন, ঋদ্ধি প্রদর্শন, মাতৃদেবীকে ধর্মোপদেশ প্রদানে…

মিলিন্দ : প্রশ্ন ও অনুসন্ধিৎসু মন (২য় পর্ব)

মিলিন্দ : প্রশ্ন ও অনুসন্ধিৎসু মন (২য় পর্ব)মিলিন্দ প্রশ্নের উৎপত্তি কোত্থেকে? মিলিন্দ কে ছিলেন? ধারাবাহিকভাবে জানতে চাইলে পড়ুন। আজ দ্বিতীয় পর্বের সূচনা ১। দেবগণের সম্মান-সূচক সম্বোধন বাক্য।তখন আয়ুস্মান অশ্বগুপ্ত মহাসেনকে বলিলেন, মারিষ, আমরা দেবমনুষ্যলোক দেখিয়া বলিতেছি, আপনি ব্যতীত মিলিন্দ রাজাকে তর্কে পরাজয় করিয়া বুদ্ধ শাসনের হিত সাধন করিতে আর কাহাকেও দেখিতেছি না। সে কারণে ভিক্ষুসঙ্ঘ আপনাকে অনুরোধ করিতেছেন, হে সৎপুরুষ, মনুষ্যলোকে জন্মগ্রহণ করিয়া দশবল শাসনের শ্রীবৃদ্ধি সাধন করুন। ভিক্ষু-সঙ্ঘের আবেদনে…

শীল-সমাধি-প্রজ্ঞার অনুশীলনে আষাঢ়ী পূর্ণিমার পুণ্যালোকে জীবন ভরে উঠুক

শীল-সমাধি-প্রজ্ঞার অনুশীলনে আষাঢ়ী পূর্ণিমার পুণ্যালোকে জীবন ভরে উঠুক আজ পবিত্র আষাঢ়ী পূর্ণিমা। বিশ্বের সকল বৌদ্ধদের অন্যতম পবিত্র একদিন। আজ থেকে পবিত্র মহান ভিক্ষু সংঘের ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত শুরু হবে। সেই সাথে শুরু হবে তিন মাসের জন্য মহান ভিক্ষু সংঘের শীল, সমাধি, প্রজ্ঞার অনুশীলন ও গৃহীদের দান, শীল, ভাবনা ও উপোসথ ব্রতের শিক্ষাও। পুণ্যময় এ তিথিটি বৌদ্ধ জীবনে নানা কারণে অর্থবহ এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র আষাঢ়ী পূর্ণিমার তাৎপর্যময় দিকগুলো হচ্ছে, এই তিথিতে…

প্রকৃত বৌদ্ধ কে?

প্রকৃত বৌদ্ধ কে? বোধি বা প্রজ্ঞা সাধনায় নিরত প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিই প্রকৃত বৌদ্ধ। প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি কখনোও দু:শীল হতে পারবেন না। যথায় প্রজ্ঞা তথায শীল; যথায় শীল তথায় প্রজ্ঞা।প্রজ্ঞাবানই শীলবান, শীলবানই প্রজ্ঞাবান।শীল এবং প্রজ্ঞার দ্বারাই জগতে শ্রেষ্ঠত্ব লাব হয়। দশবিধ কর্ম সম্পাদন দ্বারাই প্রকৃত বৌদ্ধ হয়।যথা:-১। বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘের শরণাগত হওয়া। সে শরণাগমন জন্মগত বৌদ্ধদের ন্যায় প্রথাগত না হয়ে ত্রিরত্নে জ্ঞান অর্জন জনিত ত্রিরত্নের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তি যুক্ত হতে…

আষাঢ়ী পূর্ণিমার তাৎপর্য : পঞ্চ মহিমায় উদ্ভাসিত

আষাঢ়ী পূর্ণিমার তাৎপর্য : পঞ্চ মহিমায় উদ্ভাসিত যে পাঁচটি কারণে আষাঢ়ী পূর্ণিমার তাৎপর্য বৌদ্ধদের নিকট অতীব গুরুত্বপূর্ণ এক।। তথাগতের মাতৃগর্ভে প্রতিসন্ধি গ্রহণ : সিদ্ধার্থ গৌতম মাতৃগর্ভে প্রতিসন্ধি গ্রহণের পূর্বে তূষিত স্বর্গে দেবপুত্ররূপে অবস্থান করছিলেন। পৃথিবীর মানুষ তখন মনুষ্যত্ব হারিয়ে বিভিন্ন যাগ যজ্ঞ নিয়ে ধর্ম কর্ম ভুলে পশুর মত জীবন যাপন করছিল। তখন দেবগণের প্রার্থনায় বহুজনের হিতের ও মঙ্গলের তথা জীবজগতের মুক্তির জন্য পবিত্র আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথিতে তিনি কপিলাবস্তুর রাজা শুদ্ধোধনের…

মহাবোধিদ্রুম

মহাবোধিদ্রুম যে অশ্বত্থ বৃক্ষের নিচে ধ্যানাসীন হয়ে সিদ্ধার্থ বোধিজ্ঞান লাভ করে বুদ্ধ হয়েছিলেন সেই বৃক্ষটি বৌদ্ধ জগতে ‘মহাবোধিদ্রুম’ নামে খ্যাত। বৃক্ষটি বিহারের গয়া জেলার অন্তর্গত নৈরঞ্জনা নদীর পশ্চিম তীরে বনের নিকটে অবস্থিত। কথিত আছে বৈশাখী পুর্ণিমা দিনে সুজাতার পরমান্ন ভোজনের পর সিদ্ধার্থ শালবনে দিবা বিশ্রাম করে অপরাহ্নকালে এই মহীরুহের প্রতি এক প্রকার আন্তরিক প্রবল আকর্ষণ অনুভব করেন এবং ধীরে ধীরে বৃক্ষটির নিকট এগিয়ে যান। তিনি চিন্তা করলেন এই বনষ্পতিই হবে…

কর্ম : কার্যানুরূপ ফল প্রদায়ী নীতি

কর্ম : কার্যানুরূপ ফল প্রদায়ী নীতি আমরা সম্পূর্ণ অস্থিতিশীল এক বিশ্বে বসবাস করছি, আমরা প্রতিনিয়তই মানুষ এবং বিশ্বে বিরাজমান অগণিত সংখ্যক জীবের মধ্যকার ভিন্নতা এবং তাদের বহুবিধ পরিণতি প্রত্যক্ষ করছি। আমরা দেখি একটি শিশু প্রাচুর্যের মাঝে জন্ম নিয়েছে,চমৎকার মানসিক ,নৈতিক এবং শারীরিক গূণাবলীর সমন্বয়ে বেড়ে উঠেছে অন্যদিকে আরেকটি শিশু শোচনীয় দারিদ্র্যের মাঝে অবহেলায় বেড়ে উঠেছে। এখানে একজন মানুষ ধার্মিক এবং পূণ্যবান কিন্তু জীবন তার প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীত, দুর্ভাগ্য তাকে গ্রাস…

মিলিন্দ : প্রশ্ন ও অনুসন্ধিৎসু মন

মিলিন্দ : প্রশ্ন ও অনুসন্ধিৎসু মন মিলিন্দ প্রশ্নের উৎপত্তি কোত্থেকে? মিলিন্দ কে ছিলেন? ধারাবাহিকভাবে জানতে চাইলে পড়ুন। আজ প্রথম পর্বের সূচনা ...পুরাকালে কশ্যপ বুদ্ধের সময় গঙ্গাতীরের নিকটে একটি গৃহে বহুসংখ্যক ভিক্ষু-সঙ্ঘ বাস করিতেন। তথায় শীলবান ভিক্ষুরা প্রত্যুষে উঠিয়া যষ্টি সম্মার্জনী যোগে বিহার প্রাঙ্গনের জঞ্জালরাশি স্তুপীকৃত করিতেন ও সঙ্গে সঙ্গে বুদ্ধগুণ ভাবনা করিতেন। একদা এক ভিক্ষু এক শ্রামণেরকে ডাকিয়া বলিলেন, দেখ ঐ স্তুপীকৃত জঞ্জালরাশি ফেলিয়া দাও। শ্রামণের যেন কথাটি শুনে নাই,…

শ্রদ্ধা ব্যতিরেকে মুক্তিলাভ কি সম্ভব?

শ্রদ্ধা ব্যতিরেকে মুক্তিলাভ কি সম্ভব?  বুদ্ধ তথাগত সপ্ত আর্যধনের মধ্যে শ্রদ্ধাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। শ্রদ্ধাই মানব জীবনের পরম সম্পদ। তবে বৌদ্ধ দর্শনে অন্ধ বিশ্বাসের স্থান নেই। যুক্তি সংগত ভাবে বিশ্বাস করাই প্রকৃত শ্রদ্ধা। চিত্তের নির্মলতা, কার্পণ্য ময়লা ত্যাগ, সদ্ধর্ম শ্রবেণেচ্ছা, বুদ্ধাদি সৎপুরুষের দর্শনেচ্ছা শ্রদ্ধার লক্ষণ। স্বচ্ছ সলিলে যেমন চন্দ্র-সূর্যের স্বরূপ প্রতিফলিত হয় তেমনি শ্রদ্ধা প্রযুক্ত চিত্তেই কর্ম-কর্মফল ও বুদ্ধাদি শ্রদ্ধেয় বস্তু গৃহীত হয়, পঞ্চ নীবরণ দূরীভূত হয়। চিতের প্রসারতা ও প্রজ্ঞা…

বৌদ্ধিক চেতনায় মানবজীবন দর্শন

বৌদ্ধিক চেতনায় মানবজীবন দর্শন বুদ্ধ এক ধর্ম সভায় এ সত্য প্রকাশ করে দেশনা করেন, আমি নিজের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি, আমি যা ইচ্ছা করেছিলাম, আমার তা পরিপূর্ণ হয়েছে। ণ্ডিত ব্যক্তি হতাশা না হয়ে উচ্চাকাঙ্খাকে হৃদয়ে দৃঢ়ভাবে পোষণ করবেন। নদী যেমন পর্বত-শিখরে উৎপন্ন হয়ে অগ্রগতিতে বাধার পর বাধা অতিক্রম করে এবং পারিপার্শ্বিক জল ধারার সাহায্যে ক্রমে বড় হয়ে এবং উভয় কুলের অপ্রেমেয় জীবনের হিত করে তার লক্ষ্য মহাসাগরে মিশে যায়, তেমন গৌতমও…

প্রতীত্য সমূৎপাদ নীতি

প্রতীত্য সমূৎপাদ নীতি প্রতীত্য অর্থ কারণ অথবা কোন কিছুর নিয়ামক হওয়া [হেতু]; সমূৎপাদ অর্থ “উৎপন্ন হওয়া অথবা কোন কিছুর প্রভাবে সম্পন্ন হওয়া” [প্রত্যয়]। এজন্য প্রতীত্য সমূৎপাদ নীতির আক্ষরিক অর্থ কার্য-কারণ নীতি বা হেতু-প্রত্যয়। একথা মনে রাখতে হবে যে প্রতীত্য সমূৎপাদ নীতি শুধুমাত্র জন্ম-মৃত্যু বিষয়ক আলোচনা যেখানে জীবনের আদি উৎস সম্পর্কিত কোন ধারণাই নেই। “প্রতীত্য সমূৎপাদ”নীতিতে পুন:পুন জন্মগ্রহণ করে ক্রমাগত দু:খ যন্ত্রণা ভোগের কারণ বিশ্লেষিত হয়েছে , কিন্তু এখানে আদি কারণ…

মহাকশ্যপ : ভগবান বুদ্ধের প্রথম মহাশ্রাবক

মহাকশ্যপ : ভগবান বুদ্ধের প্রথম মহাশ্রাবক ভগবান বুদ্ধের প্রথম মহাশ্রাবক কে ছিলেন? ভগবান বুদ্ধ নিজের পরিহিত চীবর একমাত্র কার সাথে বিনিময় করেছিলেন? কে সেই মহাপুণ্যবান ব্যক্তি? জানতে হলে পড়ুন...... মহাকশ্যপ : ভগবান বুদ্ধের প্রথম মহাশ্রাবক। গৃহীকালে তাঁহার নাম ছিল পিপ্ফলী মানব। তিনি ব্রহ্মলোক হইতে চ্যুত হইয়া মগধ রাজ্যের অন্তর্গত মহাতীর্থ ব্রাহ্মণ গ্রামে ব্রাহ্মণ মহাশালকুলে কপিল ব্রাহ্মণের গৃহে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। তাঁহার স্ত্রী ভদ্রা কাপিলানি মদ্র রাজ্যে সাগল নগরে ব্রাহ্মণ মহাশালকুলে কোসিয়…