২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৬ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ সোমবার, ২১ অগাস্ট ২০১৭ইংরেজী

বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শন

বৌদ্ধ ধর্ম এবং দর্শনের মূল্যায়ন

বৌদ্ধ দর্শন সম্পর্কে শ্রীলঙ্কারপ্রাজ্ঞভিক্ষু নারধথের বলেছেন “বৌদ্ধ ধর্মকে একান্তই দর্শন বলা চলে না।কারণ ইহা কেবল জ্ঞানান্বেষণে প্রবৃত্ত করার আগ্রহ নয়। বৌদ্ধ ধর্মকে দর্শনেরসমীপবর্ত্তী বলা চলে, কিন্তু ইহা অত্যন্ত ব্যাপক।” (অনুবাদক: শ্রী কিরন চন্দ্র ব্রহ্ম) তাঁর এই কথাটা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। গৌতম বুদ্ধ তাঁর জীবন রোধের কথা জনগণের সামনেসহজভাবে উপস্থাপিত করতে চাইলেও বৌদ্ধ দার্শনিকদের ব্যাখায় পরবর্তীকালে তাআর সহজ থাকেনি। দর্শনের ক্ষেত্রে এটাই স্বাভাবিক, কারণ ব্যক্তির জ্ঞান, ধারণাএবং উপলব্ধির বিষয়টি এখানে জড়িত…

সম্ভাবনাময় যুব সমাজ : অবক্ষয় এবং উত্তরণের উপায়

সম্ভাবনাময় যুব সমাজ : অবক্ষয় এবং উত্তরণের উপায় জীবনকে জীবন্ত করে রাখতে, সমাজ-সংসারকে সতেজ করে তুলতে যৌবনের অবদান অনস্বীকার্য। এই মানব জীবনে যৌবনই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ সময়। বিশ্বকবি তারুণ্যকে প্রকাশ করেছেন যৌবনের দূত হিসেবে। উজ্জ্বল-উচ্ছাস, দূরন্ত, চাঞ্চল্য, অনন্তউদ্দাম, অস্থির উদ্মদনা সাফল্যের সিগ্ধতা, ব্যর্থতার গ্লানি, প্রেম-বিরহ, পূর্বরাগ-অনুরাগ, আনন্দ-বেদনা, সৃষ্টিশীল কাজ, বিজ্ঞান ও প্রকৃতির উতকর্ষতার মাঝে জীবনকে মেলে ধরার পূর্ণ আলোক জ্যোতিময় প্রকাশ করার মহেন্দ্রক্ষণ হলো যৌবন। এক প্রিয় কবি বলেছেন-যৌবন যতোই আকর্ষনীয়…

বুদ্ধের বাণী একুশ শতকে আরও প্রাসঙ্গিক

আজ থেকে আড়াই হাজার বছরেরও বেশি আগে, ৫৬৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে এমনি এক শুভ তিথিতে গৌতম বুদ্ধ পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। বুদ্ধত্ব লাভ করেন ৫২৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে, তাঁর মহাপরিনির্বাণ ঘটে ৪৮৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে। তাঁর জন্ম ও বুদ্ধত্ব লাভের মধ্য দিয়েই পৃথিবীর বুকে এমন একটি ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যার বাণী সম্পূর্ণ অহিংস ও মানবতাবাদী। বৌদ্ধধর্ম একটি বিশ্বজনীন অহিংস, মানবতাবাদী ধর্ম। এ ধর্মের বাণীগুলো মানবিক আবেদনে পরিপূর্ণ। মানবতা এবং মানবিক গুণাবলির বহিঃপ্রকাশই এই ধর্মের বিশেষত্ব। শুরু থেকেই…

বুদ্ধের বাণী স্মরণ করুন

প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিবস থেকে মাসব্যাপী প্রতিটি বৌদ্ধ গ্রামে পালাক্রমে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় শুরু হচ্ছে দানোত্তম 'কঠিন চীবর' দান অনুষ্ঠান। আজকের দিনের কর্মসূচি শুরু হয়েছে ভোর রাতে বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ সূত্রপাঠের মধ্য দিয়ে। প্রতিটি বৌদ্ধবিহারে এ নিয়ম পালিত হবে। কঠিন চীবর দানের ফল অসংখ্য ও অপরিমেয়। মহাকারুণিক তথাগত বুদ্ধ বলেছেন, 'অন্যান্য দানীয় সামগ্রী শত বছর দান করেও যে পুণ্য সঞ্চিত হয়, কঠিন চীবর দানের ফল তা থেকে ১৬ গুণ বেশি। শত…

প্রবারণা পূর্ণিমা ও স্মৃতিমান আনন্দ

আশ্বিণী পূনির্মাকে আমরা প্রবারণা পূর্ণিমা বলে থাকি। এ পূর্ণিমা আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা। আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে প্রবারণা পূর্ণিমা পর্যন্ত পূজানীয় ভিক্ষুদের বর্সাবাস সমাপ্ত করে বহুজনের হিতের জন্য বহুজনের সুখের জন্য নগরে জনপদে, মঙ্গলদায়ক ধর্ম প্রচার করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। ভগবান গৌতম বুদ্ধ বুদ্ধত্ব লাভ করে সপ্তম বর্ষা যাপন করে তাবতিংস স্বর্গে মাকে তিন মাস অভিধর্ম দেশনা করেছিলেন। প্রবারণা পূর্ণিমাতে বুদ্ধ সাংকাশ্য নগরে অবতরণ করেছিলেন। প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ জাতির নিকট অত্যন্ত পূত-পবিত্র।…

বৌদ্ধ ধর্মের বিশ্বজনীনতা

একটা সম্প্রদায়ের আত্ম পরিচয়ের বাহন একদিকে তার দর্শন ও ধর্ম, তেমনি অন্যদিকে তার ঐতিহ্য ও চলমান বর্তমান। বাংলাদেশী বৌদ্ধদের রয়েছে তেমনি গৌরবোজ্জ্বল ধর্ম, দর্শন ও ঐতিহ্য। বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শন পঁচিশ শতাব্দীরও বেশী কাল ধরে মানব সমাজকে এক নতুন আলোর সন্ধান দিয়েছে। এই আলোর পথ ধরেই দেশে দেশে জন্ম নিয়েছে, নব নব কৃষ্টি সভ্যতার। কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, বর্ণবাদ, গোঁড়ামী ও সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে বৌদ্ধ ধর্ম এক ব্যাপক বিদ্রোহ। ঘন ঘোর তমসাচ্ছন্ন পরিবেশ,…

পুনজর্ন্ম রোধে বৌদ্ধদর্শন

পুনজর্ন্ম রোধে বৌদ্ধদর্শন বৌদ্ধ দর্শন জানতে গেলে গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ, পরিনির্বাণ সহ বোধিসত্ব জীবন ও সর্ব্বোপরি ত্রিপিটক অর্থাৎ ভগবান বুদ্ধ কর্তৃক দেশিত ও ঘোষিত বাণী সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। সদ্ধর্ম্ম অনুসরণ, অনুকরণ ও ধারণ ব্যতিত পুনজর্ন্ম রোধ সম্পর্কে জানা সম্ভব নয়। মহাকারুনিক গৌতম বুদ্ধের বুদ্ধত্ব লাভের পূর্বে তাঁর ৫৪৭টি বোধিসত্ব জীবন তথা পুনজর্ন্মের জীবন কাহিনী বর্ণিত হয়েছে আরও ৩টি জন্ম কাহিনী কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। গৌতম…

নির্বাণ

জীবন প্রবাহের পরিসমাপ্তি না হওয়া পর্যন্ত জন্ম-মুত্যুর এই চক্র অনন্তকাল ধরে চলতে থাকে। সুতরাং বলা যায়, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ঐকান্তিক লক্ষ্য নির্বাণ ধাতুতে প্রবেশ করা। পালি শব্দ “নিব্বাণা” এসেছে ‘নি’ এবং ‘বাণ’ থেকে ‘নি’ অর্থ নেই ‘বাণ’ অর্থ তৃষ্ণা অথবা কামনা-বাসনা। ‘বাণ’ বা তৃষ্ণার সম্পূর্ণ বিনাশ হয় বলে একে বলা হয় নির্বাণ, আক্ষরিক ভাবে নির্বাণ অর্থ অনাসক্তি। লোভ, দ্বেষ, অবিদ্যার পরিসমাপ্তিকে ও নির্বাণ বলা যেতে পারে, “বিশ্বব্যাপী আগুন জ্বলছে” বলেছেন বুদ্ধ…

বৌদ্ধ কর্মবাদ

অদৃশ্য কোন এক শক্তির ইশরায় এই বিশ্বব্রহ্মান্ড পরিচারিত হচ্ছে, এই অমুলক ভ্রান্ত ধারনাটি অনাদিকাল থেকেই চলে আসছে এবং কিছু সম্প্রদায় এই ধারনায় বিশ্বস্ত। এই প্রসঙ্গে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘বৌদ্ধ ধর্ম’ নামক গ্রন্থে এইভাবে শুরু করেছিলেন। “ঈশ্বর ও পরকালে বিশ্বাস মানবের ভিত্তি ভূমি বলে পরিগণিত হইলেও ইসলাম, খৃষ্টান ও হিন্দু এই ভিত্তির উপরই প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু ইহা কি আশ্চর্য নহে যে, নিরীশ্বর, অনাত্মাবাদী বৌদ্ধ ধর্ম দেশ বিদেশে প্রবেশ লাভ করিয়া কোটি কোটি…