২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১২ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ সোমবার, ২৬ জুন ২০১৭ইংরেজী

বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শন

শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমার তাৎপর্য

শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমার তাৎপর্য শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা বৌদ্ধদের কাছে অতি তাৎপর্যময় পুণ্যতিথি।এ পুর্ণিমা তিথিতে তথাগত বুদ্ধের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী ব্যাপক তাৎপর্য বহন করে। তথাগত বুদ্ধের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে থাকে। তাই বৌদ্ধদের কাছে পূর্ণিমা আসে জীবনে পূর্ণতা সাধনের জন্য। তথাগত বুদ্ধ যেমন নিজ প্রচেষ্টায় জীবনে পূর্ণতা সাধন করে মহাবোধি বা আলোকপ্রাপ্ত হয়েছিলেন ,জগৎজ্যোতি বুদ্ধত্ব প্রাপ্ত হন ,ঠিক তেমনি ভাবে পূর্ণ চন্দ্রের মতো নিজের জীবনকে ঋদ্ধ-সমৃদ্ধ লাভ করাই প্রতিটি…

নির্বাণ কি? বৌদ্ধদের নিকট নির্বাণ গুরুত্বের কারণ

নির্বাণ কি? বৌদ্ধদের নিকট নির্বাণ গুরুত্বের কারণ সারকল্প, মন্ড কল্প, বর কল্প, সার মন্ড কল্প ও ভদ্র কল্প। এই পঞ্চ কল্পই হচ্ছে বুদ্ধগণের উৎপত্তি কল্প বা সময়। অন্যথায় বুদ্ধ শূণ্য কল্প বলা হয়। বুদ্ধ শূণ্য কল্পে নির্বাণ সাক্ষাৎ ও বুদ্ধগণের মুখনিঃসৃত বাণী এই নির্বাণ শব্দটি শ্রবণের সুযোগ কখনো সম্ভব হয় না। পূর্বোক্ত ঐ পঞ্চ কল্পের মধ্যে যে কোন কল্পে যখন দূর্লভ বুদ্ধগণ উৎপন্ন হন, তখনই অসংস্কৃত নির্বাণ সাক্ষাতের সুযোগ লাভ…

বৌদ্ধধর্মে প্রব্রজ্যা

বৌদ্ধধর্মে প্রব্রজ্যা তথাগত বুদ্ধ প্রব্রজ্যার ফল বর্ণনা করতে গিয়ে রাজা প্রসেনজিতকে বলেছিলেন -আপনার প্রাসাদের প্রহরী আপনাকে দেখলেই প্রণতি জানায়, আপনার আদেশ মত কাজ করার জন্য তটস্থ থাকে। সেই প্রহরী যদি হঠাৎ প্রব্রজ্যা নেয় এবং আপনি তাকে দেখতে পান তখন কি করবেন? প্রসেনজিত প্রত্যুত্তরে বললেন- আমি তাকে আগু বাড়িয়ে আমার প্রাসাদে নিয়ে আসবো প্রণাম করব, ছোয়াইং দান করব। বুদ্ধ বললেন- প্রব্রজ্যার এমনি গুণ। যে একটু আগেও আপনাকে প্রণাম করতো, আপনাকে প্রচন্ড…

গৌতম বুদ্ধের জীবনকাল ও জানা অজানা কথা

গৌতম বুদ্ধের জীবনকাল ও জানা অজানা কথা আমরা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হলেও বুদ্ধের জীবন সম্পর্কিত অনেক তথ্যই আমাদের অজানা। তাই সকলের জ্ঞাতার্থে বুদ্ধ জীবন সম্পর্কে কিছু তথ্য এখানে তুলে ধরা হল। ১। বোধিসত্ত্বের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ ও মহাপরিনির্বাণ এই তিনটি শুভ কাজ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে সংগঠিত হয়।২। বোধিসত্ত্ব শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে শুক্রবারে মাতৃগর্ভ হইতে ভূমিষ্ঠ হন।৩। বোধিসত্ত্ব শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে বুধবারে বুদ্ধত্ব লাভ করেন।৪। বুদ্ধ শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে…

জৈষ্ঠ্য পূর্ণিমার তাৎপর্য : শ্রীলংকায় অর্হৎ মহেন্দ্র স্থবিরের ধর্মবিজয় এবং বৌদ্ধধর্ম প্রচার

জৈষ্ঠ্য পূর্ণিমার তাৎপর্য : শ্রীলংকায় অর্হৎ মহেন্দ্র স্থবিরের ধর্মবিজয় এবং বৌদ্ধধর্ম প্রচার বৌদ্ধ ধর্ম কর্মবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত। সর্বদা সৎকর্ম সম্পাদন করা প্রত্যেকেরই কর্তব্য। শুভ-সৎকর্ম সম্পাদনের জন্য কোন তিথি লগ্ন শুভ বলে নির্দিষ্ট না থাকলেও মহা পুরুষের জীবনের পূণ্য স্মৃতি বিজড়িত ঘটনাবলীর সাথে যে দিন বা কালের সম্পর্ক সে দিন বা কাল শুভ পবিত্র বলে আমাদের বিশ্বাস। ইহাই কাল মাহাত্ম্য নামে অভিহিত। কাল মাহাত্ম্যকে বলা হয় পর্ব। আজও তেমনি একটি পূণ্যময়…

বুদ্ধের দ্বাদশ কর্ম বিপাক

বুদ্ধের দ্বাদশ কর্ম বিপাক নিজের সুকৃত-দুষ্কৃত বা সুচারিত-দুশ্চারিত কর্ম সমূহের ফল ও বিপাক আছে। কর্ম বিপাক হল, নিজের এসব কৃত কর্মের অনুরূপ ফল ভোগ করা। মহাকারুণিক গৌতম বুদ্ধও অতীত কর্ম বিপাক হতে মুক্তি পাননি। সর্বজ্ঞতা বুদ্ধত্বলাভের পরও গৌতম বুদ্ধকে দ্বাদশ কর্ম বিপাক ভোগ করতে হয়। নিন্মে বুদ্ধের দ্বাদশ কর্ম বিপাকসমূহ ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হল। পড়ুন, জানুন এবং শেয়ার করে অন্যকে জানার সুযোগ করে দিয়ে ধর্মপ্রচার জনিত পূণ্যলাভী হোন... ☸ প্রথম…

দুঃখ মুক্তির উপায় ও অন্তরায়

দুঃখ মুক্তির উপায় ও অন্তরায় মহাকারুণিক তথাগত বুদ্ধ সম্যক সম্বুদ্ধ প্রাপ্ত হবার ঠিক একদিন আগে অর্থাৎ বৈশাখী পূর্ণিমার একদিন আগে রাত্রিতে পাঁচটা স্বপ্ন দেখেছিলেন। পাঁচটা স্বপ্নের মধ্যে একটা স্বপ্ন ছিল ঃ ঊনার নাভিদেশ থেকে টিরিয় নামক এক প্রকার ঘাস নাভি ভেদ করে আকাশমার্গে শূন্যে অনেকদূর উঠে গেছে। এই স্বপ্নের অর্থ বুদ্ধ পরে বুঝতে পারলেন যে, (শরীরের ঠিক মাঝখানে তো নাভি?) তিনি এই একত্রিশ লোকভূমির উদ্দেশ্যে মধ্যম প্রতিপদা ধর্ম দেশনা করবেন।…

মানব ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধ ও শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা

মানব ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধ ও শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা আজ শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা। এটা বাংলাদেশে বৈশাখী পূর্ণিমা ও অন্যান্য বৌদ্ধ দেশে বোশাখ ডে হিসেবেও উদযাপিত হয়। বুদ্ধ পূর্ণিমাকে ত্রিস্মৃতিবিজড়িত বলা হয় কারণ এ পূর্ণিমা তিথিতেই তার জন্ম, গৃহত্যাগ ও মহাপরিনির্বাণ লাভ হয়েছে। যা সমগ্র বিশ্বে বুদ্ধের অনুসারী তথা বুদ্ধপ্রেমিকদের জন্য এ এক অনন্য আনন্দপ্রাপ্তির ঘটনা। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের বুদ্ধের অনুসারীদের মতো বাংলাদেশেও বুদ্ধের জন্ম, গৃহত্যাগ ও পরিনির্বাণ প্রাপ্তিকে স্মরণ করতে…

নির্বাণ

নির্বাণ ভগবান গৌতম বুদ্ধের প্রচারিত মতবাদ আমাদের কাছে বৌদ্ধ ধর্ম নামে পরিচিত। সাধারণ ধর্ম বলতে যে সংজ্ঞা বা সংস্কার আমাদের মনকে অভিভূত করে এই মতবাদ আসলে ধর্ম নয়, ধর্ম থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পন্থা। প্রাকৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ধর্ম অর্থে এই স্বভাব বা সংস্কার বিজ্ঞান বা অভিজ্ঞতা সৃষ্টির মাধ্যমে সৃষ্টি প্রক্রিয়ায় সহয়তা করে মানুষ সমাজকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি প্রক্রিয়াকে সাধারণত কোন সার্বভৌম শক্তির এখতিয়ার বলে মনে করা হয়। এই মতবাদ পৃথিবী সাধারণত…

গৃহী সমাজে বুদ্ধের অহিংসা নীতি

গৃহী সমাজে বুদ্ধের অহিংসা নীতি সর্বদর্শী ভগবান বুদ্ধ সুর্দীঘ পয়তাল্লিশ (৪৫) বছর ব্যাপি মানব সহ সকল প্রাণীর মঙ্গলের জন্য অমৃতময় বাণী প্রচার করেছেন।সেসব বাণী গুলি যারা পালন করে জীবন যাপন করেন তারা বর্তমান জীবনে সুখ শান্তি লাভ করতে পারে এবং মৃত্যুর পর সুগতি প্রাপ্ত হয় । ভগবান বুদ্ধের অন্যতম বাণী হল অহিংসা পরম ধর্ম অর্থাৎ সকল জীব তথা সকল মানবের প্রতি সমভাবে মৈত্রী প্রদর্শন করা। হিংসা পরিহার করে অহিংসাময় জীবন…

কাল, মহাবিশ্ব, বুদ্ধ প্রভৃতি নিয়ে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞ্যেস করা হয় কেন?

কাল, মহাবিশ্ব, বুদ্ধ প্রভৃতি নিয়ে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞ্যেস করা হয় কেন? একসময় মচ্ছিকাসন্দ আম্রবনে অনেক ভিক্ষু সঙ্ঘ বাস করত। একদিন সেখানে চিত্ত নামের গৃহপতি প্রবেশ করে ভিক্ষু সঙ্ঘদিগকে নত হয়ে সম্মান জানিয়ে এক পাশে আসন গ্রহণ করল এবং তাঁদেরকে পরদিন সকালের ভোজনের জন্য নিমন্ত্রণ করল। ভিক্ষুগণ নিঃশব্দে তাঁর আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন। এটা বুঝতে পেরে গৃহপতি চিত্ত পুনরায় নত হয়ে সম্মান জ্ঞাপন করে সে স্থান ত্যাগ করল। রাতের অবসান হলে ভিক্ষুগণ…

ধর্ম কোথায় ?

ধর্ম কোথায় ? এখন একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়, বর্তমান সময়ে ধর্ম বলতে কিছু নেই? ধর্ম থাকলে এত অধর্ম হয় কি করে? সত্যিই কি তাই? ধর্ম কি নেই? ধর্ম কি দেখা যায় নাকি? আমি ধার্মিক ---- এটা দেখানোর জন্য একটি মহাসংঘদান করলাম, হাজার লোককে খাওয়ালাম, এতে কি আমার সত্যিকার অর্থে ধর্ম করা হবে? ধর্ম সব জায়গায় আছে, ছিল এবং থাকবে। পৃথিবীতে খারাপ মানুষ আছে বলেই ভালো মানুষের কদর, ঠিক তেমনি…

বাঙালি শব্দের আবিষ্কারক কবি ভুসুকু

বাঙালি শব্দের আবিষ্কারক কবি ভুসুকু       চর্যাপদের সিদ্ধপুরুষ কবি ভুসুকু ‘বাঙালি’ শব্দের আবিষ্কারক ছিলেন। চর্যাপদের বাঙালি এনলাইটেনমেন্টের যুগে বুদ্ধাব্দই বঙ্গাব্দ ছিল এবং ‘আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী (ভুসুকু আজ আলোকপ্রাপ্ত সিদ্ধপুরুষ বা বাঙালি হলেন)” থেকে ঐতিহাসিক ‘বাঙালি’ শব্দের অভূতপূর্ব সংযোজন হয়েছিল।  চর্যাপদের (দি বুক অব এনলাইটেনমেন্ট) ৪৯ নম্বর কবিতায় সর্বপ্রথম ‘বাঙালি শব্দ’ মহাকবি ভুসুকু কর্তৃক আবিষ্কৃত হল। পূজনীয় ব্যক্তির প্রতি সন্মান প্রদর্শন বাঞ্ছনীয়। সম্প্রতি টরন্টোয় ‘সাপ্তাহিক আজকালে পৃষ্ঠা ১৩, ফেব্র“য়ারী…

মানবিক সমাজ বিনির্মাণে বুদ্ধের মতাদর্শ

মানবিক সমাজ বিনির্মাণে বুদ্ধের মতাদর্শ শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা বৌদ্ধদের সর্বশ্রেষ্ঠ জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসব। এ দিনটি বিশ্ব বৌদ্ধদের কাছে পবিত্র ও মহিমান্বিত দিন। ভগবান বুদ্ধ বৈশাখী পূর্ণিমার বিশাখা নক্ষত্রে রাজকুমার সিদ্ধার্থরূপে কপিলাবস্তুর লুম্বিনী কাননে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বুদ্ধ বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে আলোকপ্রাপ্ত অর্থাৎ সর্বতৃষ্ণার ক্ষয়সাধন করে বোধিজ্ঞান লাভ করে জগৎ পূজ্য বুদ্ধ হয়েছিলেন। বুদ্ধ বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে মহাপরিনির্বাণ লাভ করেছিলেন। বুদ্ধের জীবনে মহাপবিত্র ত্রিস্মৃতিবিজড়িত বুদ্ধ পূর্ণিমা বৌদ্ধদের কাছে অতি গৌরবের ও মহাপবিত্র…

বৈশাখি পূর্ণিমা ও বিশ্বমৈত্রী

বৈশাখি পূর্ণিমা ও বিশ্বমৈত্রী তিনি, গৌতম বুদ্ধ, জন্মেছিলেন আড়াইহাজার বছরেরও আগে এই উপমহাদেশে। যিনি বিশ্বাস করতেন, মানব কল্যাণ, মানব মুক্তি, মানব মৈত্রী আর মানুষে মানুষে ভালোবাসা, সম্প্রীতিই জগতকে শান্তির পরিধিতে আশ্রিত করতে পারে। হিংসাকবলিত এই পৃথিবীতে তাঁর জন্মের ক্ষণ ছিল বৈশাখিপূর্ণিমাতে। তাৎপর্যপূর্ণ যে, এই বৈশাখি পূর্ণিমাতে শুধু আবির্ভাব নয়, বুদ্ধত্ব লাভ এবং মহাপরিনির্বাণও এই তিথিতেই। নিজের মধ্যে বিশ্বমানবের সত্যরূপ প্রকাশ করে এই পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাঁর দর্শনে অন্ধ বিশ্বাসের কোনও…