২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১৬ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ ২০১৭ইংরেজী
সোমবার, 20 জুন 2016 18:08

জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমার তাৎপর্য : রত্নঘর চৈত্যে অবস্থান, শ্র্রাবস্তীতে তথাগতের ধর্ম প্রচার এবং মহেন্দ্র স্থবিরের পরিনির্বাণ

লিখেছেনঃ ইলা মুৎসুদ্দী

জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমার তাৎপর্য : বুদ্ধের রত্নঘর চৈত্যে চতুর্থ সপ্তাহ অবস্থান, শ্র্রাবস্তীতে তথাগতের ধর্ম প্রচার এবং অর্হৎ মহেন্দ্র স্থবিরের পরিনির্বাণ

মহাকারুণিক তথাগত ভগবান বুদ্ধ পবিত্র বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে বোধিবৃক্ষমূলে বুদ্ধত্ব লাভ করার পর প্রথম সপ্তাহে দেবগণের সন্দেহ দূরীকরণার্থে বোধিপালংকে ৮ম দিবসে যমক প্রতিহায্য ঋদ্ধি প্রদর্শন পূর্বক গভীর ধ্যানে মগ্ন থাকেন। দ্বিতীয় সপ্তাহে অনিমেষ চৈত্য হতে সাতদিন যাবত চোখের পলক না ফেলে অনিমেষ লোচনে বোধিবৃক্ষের দিকে তাকিয়ে অসীম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন। তৃতীয় সপ্তাহে ভগবান বুদ্ধ ১৯টি পদক্ষেপে চংক্রমণ ধ্যান করেছিলেন এবং ৪র্থ সপ্তাহে দেবগণের দ্বারা নির্মিত রতœঘরে ধ্যান করেছিলেন। এই রতœঘরে ভগবান একাসনে বসে অভিধর্ম পট্ঠান বিষয়ে গভীর মনোনিবেশ করেছিলেন। এই বিষয়ে ভাবনা করার সময় বুদ্ধের শরীর থেকে জ্যোতি বের হয়েছিল। জ্যোতির রং ছিল নীল, হলুদ ,শ্বেত, প্রভাশ্বর বা কমলা লোহিত এবং উক্ত ৫টির সংমিশ্রণে মঞ্জিষ্টা বর্ণ। অভিধর্ম বিষয়ে গবেষণার জন্য ইহা রতœঘর চৈত্য নামে ঘোষিত হয়েছে। বৈশাখী পূর্ণিমায় বোধিজ্ঞান লাভ করার ঠিক ১ মাস পরের পূর্ণিমায় অর্থাৎ ৪র্থ সপ্তাহে এই দেবনির্মিত রতœঘর চৈত্যে ভগবান অবস্থান করেছিলেন বিধায় ঐ সময়টাকে জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা বলে ধরে নেয়া যায়। ৫ম সপ্তাহে অজপাল বৃক্ষের নীচে এক সপ্তাহ ধ্যান করেছিলেন।

৬ষ্ঠ সপ্তাহ : মুছলিন্দ হ্রদের মধ্যে নাগরাজের আবাসস্থলে মুছলিন্দ বৃক্ষের নীচে ধ্যান করার সময় নাগরাজ স্বীয় দেহদ্বারা বুদ্ধকে বেষ্টন করিয়া প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টি ও মশা মাছির উপদ্রব থেকে রক্ষা করেন। এখানেও এক সপ্তাহ অতিবাহিত করেন। ৭ম সপ্তাহ রাজায়তন বৃক্ষমূলে ধ্যান করেন।

শ্র্রাবস্তীতে তথাগতের ধর্ম প্রচার :

জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমাতে ভগবান বুদ্ধ শ্রাবস্তীতে প্রথম ধর্ম প্রচারের জন্য আগমন করেছিলেন। শ্রাবস্তীর মহামতি অনাথপিন্ডিক শ্রেষ্ঠী (সুদত্ত) এক সময়ে ৫০০ শকট নিয়ে রাজগৃহ নগরে তার এক বন্ধুর বাড়ীতে বেড়াতে গিয়েছিলেন সেখানে তিনি শুনতে পেলেন যে, জগতে ভগবান বুদ্ধ আবির্ভূত হয়েছেন এবং বর্তমানে বেণুবনে অবস্থান করছেন। এই সংবাদ শোনামাত্র তিনি ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরদিন খুব ভোরে বুদ্ধের নিকট উপস্থিত হয়ে বুদ্ধের চরণ বন্দনা করেন এবং সেইদিনই বুদ্ধের ধর্মবাণী শুনে তিনি স্রোতাপত্তি ফল লাভ করেছিলেন। পরদিন শ্রেষ্ঠীবর মহাদান দিলেন এবং শ্রাবস্তীতে পদার্পণের জন্য নিমন্ত্রণ করলেন। রাজগৃহ হতে শ্রাবস্তী ৪৫ যোজন দূর। শ্রেষ্ঠী শ্রাবস্তীতে ফিরে যাবার সময় প্রত্যেক যোজন অন্তর এক একখানি বিহার নির্মাণ করে গেলেন। বুদ্ধ যাবার সময় যেন ঐ বিহারে বিশ্রাম নিতে পারেন। শ্রাবস্তীতে ফিরে গিয়ে ১৮ কোটি সুবর্ণমুদ্রা বিছিয়ে দিয়ে জেত রাজকুমার হতে ১টি উদ্যান ক্রয় করতঃ আরও ১৮ কোটি মুদ্রা ব্যয়ে এক মনোরম বিহার নির্মাণ করেন। বিহার নির্মাণ হয়ে গেলে ৩ মাস ব্যাপী এই বিহার দান উৎসবে চারি পরিষদের আহারাদির ব্যবস্থায় আরও ১৮ কোটি মুদ্রা ব্যয় হয়েছিল। বুদ্ধত্ব লাভের দ্বিতীয় বর্ষের জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় সেই মহাউৎসবে মহাকারুণিক বুদ্ধ প্রথম শ্রাবস্তীতে গমন করেন এই মহাদান গ্রহণ করেছিলেন এবং শ্রাবস্তীবাসীকে ধর্মদেশনা দ্বারা উজ্জীবিত করেছিলেন।

এই সময় তথাগত মহাকারুণিক অনাথ পিন্ডিক শ্রেষ্ঠীকে একজন শ্রেষ্ঠ দায়ক উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। শ্রেষ্ঠীর বাড়িতে প্রত্যেকদিন ৫০০ জন ভিক্ষু আহার করতেন। অনাথপিন্ডিক শ্রেষ্ঠীর উদার দানশীলতা ও অকৃত্রিম সেবায় ভগবান বুদ্ধ ১৯ বর্ষাব্যাপী জেতবনে অবস্থান করেছিলেন। হাজার হাজার ভিক্ষুর অরহত্ত্ব প্রাপ্তির স্থান এই জেতবন। ৫৪ কোটি মুদ্রা ব্যয়ে অনাথপিন্ডিক শ্রেষ্ঠী ও জেত রাজকুমারের প্রচন্ড দানশীলতার পরিচায়ক এই জেতবন বিহার বৌদ্ধ ইতিহাসে একটি প্রসিদ্ধ নাম।

এই জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমাতে রাজা ধর্মাশোক এর পুত্র অর্হৎ মহেন্দ্র স্থবির পরিনির্বাণ প্রাপ্ত হয়েছিলেন।

সূত্র : বুদ্ধ জীবন পরিক্রমা।

Additional Info

  • Image: Image