২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১২ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই ২০১৭ইংরেজী
সোমবার, 25 জানুয়ারী 2016 01:28

পৌষ পূর্ণিমার তাৎপর্য

লিখেছেনঃ ইলা মুৎসুদ্দী

পৌষ পূর্ণিমার তাৎপর্য

আজ পৌষ পূর্ণিমা। সকলেই উপোসথশীল পালন করুন এবং অশেষ পুণ্যের ভাগীদার হউন এই কামনায় পৌষ পূর্ণিমার তাৎপর্য উপস্থাপন করলাম। 

তথাগতের লংকা গমন : পৌষ পূর্ণিমা দিনে অর্থাৎ বুদ্ধত্ব লাভের নয় মাস পরে ভগবান লংকাদ্বীপে সদ্ধর্ম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রথম যাত্রা করেছিলেন।তথাগত বুদ্ধ তিনবার সিংহলে গমন করেছিলেন। প্রথমবার উরুবেলা কশ্যপ, নদী কশ্যপ, গয়া কশ্যপ এই তিন ভাইকে স্বধর্মে দিক্ষীত করে উত্তর কুরুতে পিন্ডাচরণ করত: অনোবতপ্ত হ্রদের পাশে ভোজন করত: বুদ্ধত্ব লাভের নবম মাসে সিংহলের মহিয়দনায় পৌষ পূর্ণিমা তিথিতে তার ধর্ম প্রকাশ করার মানসে যক্ষ পরিপূর্ণ লংকা দ্বীপে গমন করেন।তিনি ধ্যানবলে বুঝতে পেরেছিলেন, লংকার মধ্যস্থলে গংগার মনোরম তটে তিন যোজন দীর্ঘ এবং এক যোজন বিস্তৃত যক্ষ দিগের সমাগমস্থান নাগভবন উদ্যানে লংকাবাসী যক্ষগণের বৃহৎ সমাগম চলছে। তথাগত সেই সমাগমে উপস্থিত হয়ে আকাশ মার্গে অবস্থান করত: বৃষ্টি, বায়ু, অন্ধকারাদির দ্বারা তাহাদিগকে সন্ত্রস্ত করিলেন। এতে যক্ষগণ ভয়ে বিচলিত হয়ে তথাগতের নিকট অভয় প্রার্থনা করলেন।ভগবান যক্ষগণের ভয় বিদূরিত করে ধর্মদেশনা করলে কোটি কোটি প্রাণীর ধর্মচক্ষু লাভ হয়েছিল। বুদ্ধত্ব লাভের ৫ম বর্ষে মহোদর এবং চুড়োদর নামক দুই নাগরাজ সিংহাসন নিয়ে দলে বলে সংগ্রামে উপস্থিত হতে দেখে তথাগত নাগদিগকে অনুকম্পা করার জন্য লংকাদ্বীপে গমন করেন। ঐখানে উপস্থিত হয়ে শূন্যে অবস্থান করত: চতুর্দিকে তমসাচ্ছন্ন করে দিলেন। এতে নাগেরা ভয়ার্ত হয়েছে দেখে ভগবান তাদেরকে ধর্মোপদেশ দিলেন এবং মিলেমিশে বাস করতে উপদেশ দিলেন। বুদ্ধের আগমনে নাগেরা ভীষণ আনন্দিত হল এবং বুদ্ধের নিকট প্রার্থনা করে বললেন, হে সুগত আপনি অনুকম্পা না করলে, এখানে না আসলে আমরা সংগ্রাম করতে করতে ভষ্মীভূত হয়ে যেতাম। বুদ্ধত্ব লাভের ৮ম বর্ষে ভগবান ৫০০ ভিক্ষু সহ নাগরাজ মণি অক্ষিক এর আমন্ত্রণে যেখানে কল্যাণী চৈত্য নির্মিত হয়েছিল, সেই স্থানে রত্নদ্বারা সজ্জিত মন্ডপে সিংহাসনে সংঘের সহিত উপবেশন করলেন। নাগরাজ ভগবানকে যথাসাধ্য দান, সেবা করলেন। অত:পর তথাগত সুমনকুট পর্বতে গমন করত: সেখানে আপন চরণ চিহ্ন অংকিত করলেন এবং ঐ পর্বতের পাদদেশে যথাসুখে দিবাবিহার করে মহামুনি মহামেঘ বনারাম এসে মহাবোধিবৃক্ষের স্থানে সশিষ্য ধ্যানস্থ হলেন। এভাবেই তথাগত মহাকারুণিক লংকাবাসী যক্ষ, অসুর, নাগদিগের কল্যাণের জন্য তিনবার এই সুন্দর দ্বীপে গমন করেছিলেন। মহাকারুণিক বুদ্ধের আগমনে এই দ্বীপ ধর্মদ্বীপরূপে উদ্ভাসিত হয়েছিল।

তথ্যসূত্র ঃ শিক্ষক দীপংকর বড়ুয়া রচিত বুদ্ধ জীবন পরিক্রমা

Additional Info

  • Image: Image