২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১০ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০১৭ইংরেজী

বৌদ্ধ দর্শন

বৌদ্ধ ধর্মের দার্শনিক বিচার

বৌদ্ধ ধর্মের দার্শনিক বিচার:১. ক্ষণিকবাদ (অনিত্য বাদ):২. প্রতীত্য সমুৎপাদ বা কার্যকারণ৩.অনাত্মাবাদ৪.অবস্তুবাদ৫. অনীশ্বরবাদ৬.দশ অকথনীয় (অব্যাকৃত)৭.বিচার স্বাতন্ত্র্য৮. সর্বজ্ঞতা ভ্রান্ত৯. নির্বাণ যাহোক আমরা বৌদ্ধ ধর্মের মূল তত্ত্বসমূহ এখন অনুধাবন করার চেষ্টা করব যা নিচে উল্লেখ করা হল:  চতুরার্য সত্য:পূথিবীতে এমন কোন মানুষ পাওয়া যাবে না বা এমন কোন মানুষ বলতে পারবে না যে সে দুঃখের মধ্য নেই বা সে প্রতিক্ষন সুখ অনুভব করে ।যদি কেউ ঠাট্টার খাতিরে ও বলে থাকে যে সে দুঃখ পাই…

রাহুল সাংকৃত্যায়ন ও বৌদ্ধ দর্শন

বৌদ্ধ পন্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শনকে সহজে অনুধাবন করার জন্য যথেষ্ট প্রয়াসী ছিলেন। তাঁর লিখিত গ্রন্থ ‘বৌদ্ধ দর্শন’-এ তিনি বৌদ্ধ ধর্ম বুঝার জন্য চারি সিদ্ধান্তের উপর জোড় দেন। এবিষয় নিচে উল্লেখ করা হল- রাহুল সাংকৃত্যায়ন ও বৌদ্ধ দর্শন: গৌতম বুদ্ধের মূল সিদ্ধান্ত বুদ্ধের উপদেশাবলিকে বুঝতে সুবিধে হবে, যদি পাঠক বুদ্ধের চার মূল সিদ্ধন্ত তিনটি অস্বীকারাত্মক এবং একটি স্বীকারাত্মক পূবাহ্নে জেনে নেন। এ চারটি হল – (১) ঈশ্বরকে অস্বীকার…

বুদ্ধের ধর্মে চিত্ত বা মন কতটা গুরুত্ত্বপূর্ণ ?

বুদ্ধের ধর্মে চিত্ত বা মন কতটা গুরুত্ত্বপূর্ণ তা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দিতে ,মারবিজয়ী জীবন্ত আরহত্ পরমপূজ্য উপগুপ্ত ভান্তের সাথে পরনির্মিত বশবর্তী দেবপুত্র মার এর একটি ঘটনা সংক্ষেপে তুলে ধরলাম:  জগতে বুদ্ধের কায়িক রুপের নিমিত্ত ধারণ করতে পারেন দুইজন । ১।মহাকাল নাগরাজ ২।দেবপুত্র মার ।অর্থাৎ এই দুইজন তাদের নিজ শরীর দিয়ে বুদ্ধের ৩২ প্রকার লক্ষণ এবং ৮০ প্রকারের অনুব্যঞ্জন সমন্বিত অতুলনীয় দেহপ্রভা প্রদর্শন করতে পারেন । যাই হোক সম্রাট অশোক যখন…

স্রোতাপন্ন কিভাবে হবো?

যিনি (সবসময়) কুশল মানসিকতা নিয়ে থাকেন, (সে বিষয়ে) সুষ্পষ্ট উপলব্ধি থাকে, এবং যার অন্ত রে কোন ঈর্ষা নেই, সে রকম ব্যক্তি সহজেই সুভাষিত বাক্যের (তাৎপর্য) বুঝতে পারেন। - ‘যমকবর্গ, ধম্মপদ’ আজ আমরা জানব কিভাবে স্রোতাপন্ন হবো? আমরা স্বর্গ প্রাপ্তির জন্য কতো দান দক্ষিণা করি। নিজের খাওয়া, নিজের পরাকে ত্যাগ করে করে আমরা কতো ত্যাগ করে দিই। এইভাবে আবার নিজের মনকে সংযত করে লোভ লালসা ত্যাগ করে কতো শীল পালন করি।…

বৌদ্ধধর্ম অনুশীলনের ধর্ম, আচরণের ধর্ম এবং বাস্তব দর্শনের ধর্ম

ধর্ম চর্চা নিয়ে বলতে গেলে সর্বপ্রথমে ধর্ম শব্দের তাৎপর্য নিয়ে বিবেচনাকরাটা সমীচীন । ইংরেজি Religion শব্দের উৎপত্তি Latin শব্দ Religio (n) / Religare (v) থেকে। এর অর্থ সম্পর্ক (relation), বন্ধন (binding), যোগাযোগ (connection) । বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, যে সকল ধর্ম ঈশ্বর, সৃষ্টিকর্তা-রপ্রতি বিশ্বাস রাখে (Atheist), তারা তাদের দৈনন্দিন আচার-আচরন ওঅনুষ্ঠানাদির মধ্যদিয়ে সেই সৃষ্টিকর্তার সাথে একটা সম্পর্ক কিম্বা যোগাযোগকরার চেষ্টা করে। এই দৃষ্টিকোণ দিয়ে বিবেচনা করলে Religion শব্দের উৎপত্তিরযথার্থতা যাচাই…

ধর্ম ও সম্প্রদায়ের পার্থক্য !

ধর্ম হল প্রকৃতির বিশ্ব জনীন নীতি অথবা স্বয়ংক্রিয় ক্রিয়া, প্রতিক্রিয়া মন এবং বস্তুর মধ্যে।  আর সম্প্রদায় হল একটা গোষ্ঠী বাঁ দল , যাদের নির্দিষ্ট আদর্শ, আচার, আচরণের উপর সীমাবদ্ধ।  সম্যকসম্বুদ্ধ তার অকল্পনীয় মৈত্রীতে প্রাণীগণের সুখের জন্য এই বিশ্ব জনীন ধর্মকে তিনি স্বয়ং প্রজ্ঞার মাধ্যমে প্রতক্ষ করেন যে তৃষ্ণা বাঁ ক্লেশই প্রাণীগণকে মায়ার বন্ধনে আটকিয়ে অকল্পনীয় দুঃখ দিচ্ছে, তাই ক্লেশ মুক্তির জন্য উনি আট-অঙ্গযুক্ত আর্যপথ আবিষ্কার করেন। অর্থাৎএই আর্যপথে একটা অঙ্গও…

অশূন্য কল্পে মঙ্গল কোলাহল

বুদ্ধোৎপত্তি অনুসারে কল্প দুই প্রকার।যথা-শুন্য কল্প এবং অশূন্য কল্প।অশূন্য কল্পে সম্যকসম্বুদ্ধগণ জন্ম গ্রহণ করে থাকেন।সে অশূন্য কল্প আবার পাঁচ প্রকার।যথা- (ক)সার কল্প,(খ)মন্ড কল্প,(গ)বর কল্প,(ঘ)সারমন্ডকল্প,(ঙ)ভদ্রকল্প।আমরা এখন ভদ্র কল্পে অবস্থান করছি।এ কল্পে বুদ্ধগয়ার বোধিবৃক্ষ মূলে পাঁচটি পদ্ম ফুল ফুটেছিল যা পাঁচজন সম্যকসম্বুদ্ধ আসবেন বলে নির্দেশ করা হয়েছিল।আমাদের গৌতম সম্যকসম্বুদ্ধ হচ্ছেন ভদ্রকল্পের চতুর্থ বুদ্ধ।পৃথিবী নতুনভাবে যখন সৃষ্টি হবে তখন আসবেন ভদ্রকল্পের পঞ্চম ও শেষ সম্যকসম্বুদ্ধ আর্য্য মৈত্রেয় বুদ্ধ।এর পরে শুন্যকল্প।শুন্য কল্পে সম্যকসম্বুদ্ধগণ এ…

ভিক্ষুণী প্রসঙ্গ

বুদ্ধের ধর্মে নারী পুরুষের সমান অধিকার বলা আছে ,কিন্তু নারী পুরুষ সমান এটা কোথাও বলেছে বলে আমার জানা নেই ।এই বিষয়টি সবাই গুলিয়ে ফেলে ।নারীরা আমাকে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন ।আমিও মোটেও নারীবিদ্ধেষী নয় ।নারী পুরুষ তো দূরের কথা ,পুরুষ পুরুষ ও সমান না ,প্রকৃতপক্ষে একটি মানুষ আরেকটি মানুষের সমান হয় না ।যেমন একজন বুদ্ধের সমক্ষ বা তুলনা চলে আরেকজন বুদ্ধের সাথে একজন অগ্রশ্রাবক সারিপুত্র ভান্তের তুলনা চলে আরেকজন অগ্রশ্রাবকের সাথে…

সংক্ষেপে শীলের মাধ্যমে দশপারমী পূরণ

প্রথমে বুদ্ধের নয় গুণ ধর্মের ছয় গুণ এবং সংঘের নয় গুণ শরণ এবং গহণ করে অতঃপর সাধারণত আমরা শীল গ্রহণ করে থাকি। শীলদশ পারমীর মধ্যে অন্যতম এবং শীলই সমাধি এবং প্রজ্ঞা উৎপাদক। তাই শীলই মুক্তির সোপান।গৃহীরা সাধারণত পঞ্চ এবং অষ্টশীল গ্রহণ করে থাকে। আমরা বৌদ্ধরা এমনিতেই পঞ্চশীল নিয়েথাকি। এই পঞ্চশীল দিয়েও আমাদের পারমীকে আমরা দ্রুত পূর্ণ করতে পারি। তবে এর জন্য চাইকিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং সচেতন হওয়া। আমরা…

ত্রিশরণ

অগ্নিদত্ত ছিলেন কোশলরাজ প্রসেনজিতের পুরোহিত। ঐ ব্রাহ্মণ বৃদ্ধ বয়সে সন্ন্যাসধর্ম গ্রহণ করে লোকের সম্মান আর যশ দুয়েরই অধিকারী হয়েছিলেন। তাঁর শিষ্যদের সংখ্যাও ছিল যথেষ্ট। অগ্নিদত্ত তাঁর ভক্তদের উপদেশ দিতেন যে সংসারের দুঃখতাপ থেকে নিষ্কৃতি পেতে হলে বনবাসী কি গুহাবাসী হতে হবে, বৃক্ষ প্রভৃতি নানা বস্তুর পূজা করতে হবে। একদিন বুদ্ধ তাঁর শক্তিবলে জানতে পারলেন যে অগ্নিদত্তের অর্হত্ত্বলাভের সময় এসে গেছে। তখন তিনি নিজেই জেতবন থেকে অগ্নিদত্তের আশ্রমে গেলেন। ত্রিশরণ ধর্মের…

জয়মঙ্গল অষ্ট গাথা : অঙ্গুলিমাল দমন কাহিনী

জয়মঙ্গল অষ্ট গাথায় তথাগত মহাকরুণিক সম্যক সম্বুদ্ধের জীবনের আটটি ঘটনার কথা উল্লেখ রয়েছে। আমার এই ক্ষুদ্রতম জ্ঞানে "জয়মঙ্গল অষ্ট গাথায়" বর্ণিত আটটি ঘটনার বিবরণ ধারাবাহিক ভাবে উপস্হাপন করার মধ্যেদিয়ে ধর্মদানপূর্বক পূণ্য অর্জনের প্রয়াস ব্যক্ত করছি। আজকের বর্ণনায়- অঙ্গুলিমাল দমন কাহিনী। সময় নিয়ে পড়ার অনুরোধ থাকল সবার প্রতি। চতুর্থ গাথা উক্খিত্ত-খগ্গমতি-হত্থ-সুদারুণন্তং, ধাবন্তি-যোজন-পথঙ্গুলিমালবন্তং। ইদ্ধিভি-সংখতমনো জিতবা মুনিন্দো, তন্তেজসা ভবতু তে জযমঙ্গলানি। অনুবাদ: উৎক্ষিপ্ত খড়গ হাতে ভয়ানক ও ত্রিযোজন পথ নিমেষে অতিক্রম করতে সমর্থ…

মূর্খের সংসর্গ দু:খের কারণ

মূর্খের সংসর্গ দু:খের কারণ: মহাকাশ্যপ স্থবির যখন রাজগৃহের পিপ্পলী গুহার বাস করছিলেন তখন দুটি শিষ্য তার সেবা করত। তাদের মধ্যে একজন সত্যিকারের সেবার মনোভাব নিয়ে ভক্তিভরে গুরুর পরিচযরআ করত। অন্যজন বিশেষ কিছুই করত না, শুধু অপরের করা কাজ নিজের বলে চালিয়ে বাহাদুরি নিত। এই শঠতা গুরুর কাছে ধরা পড়ে গেল একদিন। মহাকাশ্যপ তাকে উপদেশ দিয়ে বললেন- শঠতা একটা পাপ, কাজেই ওই পথ ছাড়। এই উপদেশের ফল কিন্তু হল উল্টো- শিষ্য…

মার্গ লাভীদের চেনার উপায়...

  মার্গ লাভীদের চেনার উপায় সমূহ নিম্নরুপঃ যেই অষ্টবিধ আর্য পুদগল (আর্যপুরুষ) বুদ্ধ কতৃক প্রশংসিত, যাঁহারা চারি মার্গস্থ ও চারি ফলস্থভেদে চারিযুগল (ষোড়), তাঁহারা সুগতের (বুদ্ধের) শ্রাবক এবং দক্ষিণার (দানের) উপযুক্ত পাত্র। তাঁহাদের দান করিলে মহাফল (মহৎপুণ্য) লাভ হয়। গভীর প্রাজ্ঞ বুদ্ধ কতৃক সুদেশিত চারি আর্য সত্যকে যাঁহারা জ্ঞানের গোচরীভূত করেন (জ্ঞান-চক্ষুতে দর্শন করেন) তাঁহাদের কেহও কেহও অত্যন্ত প্রমত্ত ভাবে থাকিলেও অষ্টম বার ভবে জন্ম গ্রহন করেন না – সপ্তম…

জয়মঙ্গল অষ্ট গাথা ও নালাগিরি হস্তী

জয়মঙ্গল অষ্ট গাথায় তথাগত মহাকরুণিক সম্যক সম্বুদ্ধের জীবনের আটটি ঘটনার কথা উল্লেখ রয়েছে। আমার এই ক্ষুদ্রতম জ্ঞানে "জয়মঙ্গল অষ্ট গাথায়" বর্ণিত আটটি ঘটনার বিবরণ ধারাবাহিক ভাবে উপস্হাপন করার মধ্যেদিয়ে ধর্মদানপূর্বক পূণ্য অর্জনের প্রয়াস ব্যক্ত করছি। আজকের বর্ণনায়- নালাগিরি হস্তী দমন কাহিনী। সময় নিয়ে পড়ার অনুরোধ থাকল সবার প্রতি। তৃতীয় গাথা - নালাগিরিং গজবরং অতিমত্তভূতং, দাবগ্গি-চক্কমসনীব সুদারুণন্তং। মেত্তম্বুসেক-বিধিনা জিতবা মুনিন্দো, তন্তেজসা ভবতু তে জয়মঙ্গলানি। অনুবাদ : দাবানলচক্র বা বিদ্যুৎ গর্জনের মত…

জয়মঙ্গল অষ্ট গাথা এবং আলবক যক্ষ দমন

জয়মঙ্গল অষ্ট গাথায় তথাগত মহাকরুণিক সম্যক সম্বুদ্ধের জীবনের আটটি ঘটনার কথা উল্লেখ রয়েছে। আমার এই ক্ষুদ্রতম জ্ঞানে "জয়মঙ্গল অষ্ট গাথায়" বর্ণিত আটটি ঘটনার বিবরণ ধারাবাহিক ভাবে উপস্হাপন করার মধ্যেদিয়ে ধর্মদানপূর্বক পূণ্য অর্জনের প্রয়াস ব্যক্ত করছি। আজকের বর্ণনায়- আলবক যক্ষ দমন কাহিনী। সময় নিয়ে পড়ার অনুরোধ থাকল সবার প্রতি। দ্বিতীয় গাথা - মারাতিরেকমভিযুজ্জিত সব্বরত্তিং, ঘোরম্পনালবক-মক্খ-মথদ্ধ-যক্খং, খন্তী-সুদন্ত-বিধিনা জিতবা মুনিন্দো, তন্তেজসা ভবতু তে জয়মঙ্গলানি। অনুবাদ : সারা রাত যুদ্ধে রত ঘোর, দুর্ধর্ষ ও…