২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৬ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭ইংরেজী

বৌদ্ধ দর্শন

কঠিন চীবর দান কঠিন কেন?

কঠিন চীবর দান কঠিন কেন? আমরা সবাই বলে থাকি কঠিন চীবর দান করব। আসলে আদৌ আমরা কখনো কি চিন্তা করে দেখি, কঠিন বলা হয় কেন? সারা বছর যে কোন সময় আমরা চীবর দান করে থাকি। তাহলে চীবর দান এবং কঠিন চীবর দানের মধ্যে পার্থক্য কি?এবার জানব চীবরকে কঠিন বলা হয় কেন? চীবরের আগে কঠিন শব্দটি যুক্ত হলো কেন?ভগবান বুদ্ধ প্রমুখ সাধু ব্যক্তিগণ উত্তম-উত্তম বলে প্রশংসা করেন, তাই কঠিন বলা হয়েছে।…

বুদ্ধ জগতে অসদৃশ ও অদ্বিতীয়

বুদ্ধ জগতে অসদৃশ ও অদ্বিতীয় বিশ্ব-ব্রহ্মান্ডে সত্য হতে শ্রেষ্ঠ কিছুই নেই। সত্যই শান্তিপ্রদ কল্যাণকর। ধর্ম প্রবর্তক মহাপুরুষেরা বিশ্ববাসীর মঙ্গলের জন্য আপন আপন উপলব্ধ সত্যই জগতে প্রচার করেছেন। প্রত্যেক ধর্ম ও ধর্মপ্রবর্তকের কতেক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। বুদ্ধ ও তাঁর ধর্মের বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে অতি সংক্ষেপে এখানে আমি কিছু পরিবেশন করতে চেষ্টা করব।পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র সিদ্ধার্থ ব্যতীত এমন একটি নিদর্শনও পাওয়া যায় না, যিনি রাজপুত্র হয়ে সকল মানবের দুঃখমুক্তি আকাঙ্খায় সর্বকাম্য রাজভোগ প্রাণসম স্ত্রী-পুত্র…

প্রবারণার শিক্ষা

প্রবারণার শিক্ষা ভিক্ষু বলুন আর গৃহী বলুন প্রবারণার শিক্ষা কি পেলাম!!! প্রবারণা শব্দটি আসলেই যে দৃশ্যটি সবার আগে আমাদের চোখের সামনে ভেসে আসে তা হচ্ছে ফানুস উড়ানো।আমাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা হলেও আড়ম্বরপূর্ণ উদযাপনের কথা চিন্তা করলে প্রবারণা বুদ্ধ পূর্ণিমার চেয়েও এগিয়ে। বুদ্ধ পূর্ণিমা কখন অনেক বৌদ্ধরা তার খবর রাখেনা, যেমনটি রাখে প্রবারণার কথা কারণ একটাই ফানুস উড়ানো। আর এতসব চিন্তা করলে যে প্রশ্নটি মনের মধ্যে ঘুরপাক খায় তা…

শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা: মৈত্রীতে পূর্ণ হোক ধরা

শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা: মৈত্রীতে পূর্ণ হোক ধরা শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধদের একটি আনন্দময় উৎসব। ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত পালন শেষে প্রবারণা পূর্ণিমা আসে শারদীয় আমেজ নিয়ে । প্রবারণার আনন্দে অবগাহন করেন সকলেই । এটি সর্বজনীন উৎসব । আকাশে উড়ানো হয় নানা রকম রঙ্গিন ফানুস । নদীতে ভাসানো হয় হরেক রকমের প্যাগোডা আকৃতির জাহাজ । সবাই আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে নানা রকমের কীর্তন , গান গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে । আবহমান বাংলার সংস্কৃতি ,…

বৌদ্ধ ধর্মীয় অনুশাসনে প্রবারণা ও ফানুস ইতিবৃত্ত

বৌদ্ধ ধর্মীয় অনুশাসনে প্রবারণা ও ফানুস ইতিবৃত্ত প্রবারণা : প্রবারণা বৌদ্ধ ধর্মীয় অনুশাসনের অন্যতম এক ধর্মীয় উৎসব। আত্নন্বেষণ ও আত্ন সমপর্ণ এর তিথি। এটি গৌতম বুদ্ধ তাঁর ভিক্ষু সংঘের জন্য প্রবারণা অনুজ্ঞা প্রদান করেছিলেন- ভিক্ষু তিন মাস বর্ষাবাস ব্রত পালনোত্তর আসে প্রবারণা। বর্ষাবাসব্রত পালন কালে ভিক্ষুসংঘ সদ্ধর্মাচারের গভীর ভাবে অনুধ্যান ও অনুবেদনে ব্যাপৃত থাকেন, তাই প্রতিটি বিহারে ভিক্ষুসংঘ পরস্পরের সাথে বাস করেও বর্ষাবাস কালীন প্রায় একাচারী জীবন যাপন করেন। কারণ…

প্রাণীহত্যার কর্মবিপাক

প্রাণীহত্যার কর্মবিপাক ১। যে ব্যক্তি অন্যকে উপবাস রাখিয়া মারে, সে বহু লক্ষ বৎসর ক্ষুধা-যন্ত্রণা ভোগ করে, ক্ষুধায় ক্লান্ত হয়, শুষ্ক-ম্লান হৃদয় হয়।২। যে অপরকে পিপাসা যন্ত্রণায় মারে, সে প্রেত হইয়া হীন, কৃশ, পরিশুষ্ক হৃদয়ে পিপাসা রোগে মৃত্যুবরণ করে এবং বহু জন্ম পর্যন্ত মনুষ্য হইয়া পিপাসায়, বাল্যকালে, যৌবনকালে বা বৃদ্ধাবস্থায় মারা যায়।৩। যে ব্যক্তি অপরকে সর্প দংশন করাইয়া মারে, সে বহু লক্ষ বৎসর অজগরের মুখ হইতে অজগরের মুখে, কৃষ্ণসর্পের মুখ হইতে…

শত্রুতা দ্বারা শত্রুতার উপশম হয়না

শত্রুতা দ্বারা শত্রুতার উপশম হয়না বুদ্ধের সময়ে কৌশাম্বীর ঘোষিতারাম সমৃদ্ধশালী নগরী ছিল। বুদ্ধ সেখানে নবম বর্ষাবাস যাাপনকালীন সময়ে জনৈক ভিক্ষু বিনয়-নিয়ম ভঙ্গ করে অপরাধ হয়েছে ভেবে প্রতিকার করতে চাইলে অন্য ভিক্ষুরা তাঁর অপরাধকে অপরাধ বলে মানলেন না। সেজন্য উক্ত ভিক্ষ ু অন্য সময়েও একে অপরাধ বলে মানতে রাজী না হওয়ায় ভিক্ষুরা তাঁর অপরাধ হয়েছে নিয়ে তাঁকে অপরাধ স্বীকার করতে বলেন। এতে ভিক্ষু বলেন----আমি এমন কিছু করিনি যাতে আমার অপরাধ হবে।…

বৌদ্ধধর্মে জীবন দর্শন ও এর অনুশীলন

বৌদ্ধধর্মে জীবন দর্শন ও এর অনুশীলন বৌদ্ধধর্মের অন্যতম মূল বাণী হচ্ছে অহিংসা এবং শান্তি, মৈত্রী ও প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সহাবস্থান করা। শুধু বৌদ্ধধর্মে কেন, অন্যান্য ধর্মের মধ্যেও এসব মর্মবাণী উচ্চারিত হয়েছে। তবে বৌদ্ধধর্মের মধ্যে যে পঞ্চনীতি তাঁর মর্মার্থ অতি গভীর এবং বিশাল মানবতা সম্পর্কযুক্ত যেমন বৌদ্ধধর্মে পঞ্চশীলে আছে কোনো প্রাণীকে বধ না করা বা কোনো প্রাণীকে হিংসা না করা, কোনো প্রকার চৌর্যবৃত্তি না করা, কোনো ধরনের মিথ্যা কথা না…

নির্বাণের স্বরূপ ও ধারণা

নির্বাণের স্বরূপ ও ধারণা বৌদ্ধ দর্শণের সর্বাপেক্ষা অবোধ্য কঠিন সমস্যা হল নির্বাণ কি? বৌদ্ধধর্ম বুদ্ধদেবের একশত বর্ষ পরে বিভিন্ন সম্প্রদায়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে; এইসব সম্প্রদায় ভিন্ন ভিন্ন মতবাদের প্রচলন করে। অতি প্রাচীন সম্প্রদায় এর স্থবির বাদীদের নির্বাণ সম্বন্ধে পালিশাস্ত্রে যে মত গৃহীত হইয়াছে তাহাই প্রকাশ করবার মনস্থ করতেছি। এখন প্রশ্ন এই যে স্থবিরবাদ ও মাধ্যমিক দর্শনের মতবাদ কি এক না বিভিন্ন? গ্রন্থকার কিন্তু বিভিন্নতার কোনো ইঙ্গিত দেন নাই। গ্রন্থগার লিখিয়াছেন…

বৌদ্ধ ধর্মান্তর প্রসঙ্গে

বৌদ্ধ ধর্মান্তর প্রসঙ্গে - ভদন্ত এস. ধাম্মিকা ভদন্ত শ্রাবস্তী ধাম্মিকা ভান্তে ১৯৫১ সালে অষ্ট্রেলিয়ার এক খ্রিষ্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বৌদ্ধধর্ম, বুদ্ধের শিক্ষা এবং বৌদ্ধ দর্শনের প্রতি তিনি গভীর থেকে গভীরতরভাবে অনুপ্রাণিত হতে থাকেন। অতঃপর ১৮ বছর বয়সে তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন। কুশল প্রশ্নোত্তর বইটি সম্পর্কে নিশ্চয় পরিচিত। এই বইটি ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত, প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের বৌদ্ধ দর্শন বিষয়ে বিদগ্ধ লেখকের প্রবন্ধ অবলম্বনে, ভদন্ত শ্রাবস্তী ধাম্মিকা ভান্তে প্রণীত, ‘Good…

শীল বিশুদ্ধিই নির্বাণের ভিত্তি

শীল বিশুদ্ধিই নির্বাণের ভিত্তি শীল হল সকল কুশল কর্মের ভিত্তি। বৌদ্ধ মাত্রই পঞ্চশীল পালন করা আবশ্যক। ধর্মময় উৎকৃষ্ট জীবন গঠনের নিমিত্তে অষ্টমী, অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে সারা বছর শীল পালন করা উচিত। তথাপি যাদের পক্ষে সম্ভব নয় তাদের অন্তত তিন মাস বর্ষাবাস সময়ে পালন করা একান্তই কর্তব্য। তাই দুর্লভ মানব জন্মকে আলস্য, অবহেলায় নষ্ট না করে শীল পালন ও অনুশীলনের মাধ্যমে ক্রমশ আত্মমুক্তি অর্থাৎ নির্বাণের দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত। ||শীলের…

আষাঢ়ী পূর্ণিমা বুদ্ধের পাঁচটি ঐতিহাসিক ঘটনার সমন্বয়

আষাঢ়ী পূর্ণিমা বুদ্ধের পাঁচটি ঐতিহাসিক ঘটনার সমন্বয় সিদ্ধার্থ গৌতম বা তথাগত বুদ্ধ মানবকুলে জন্ম নেয়ার জন্য তাঁর মাতৃগর্ভে (রাণী মহামায়া) প্রতিসন্ধি গ্রহণ, সিদ্ধার্থেও গৃহত্যাগ, সর্বপ্রথম গৌতম বুদ্ধ কর্তৃক ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্র দেশনা বা বৌদ্ধ ধর্মমত প্রচার, প্রাতিহার্য ঋদ্ধি তথা আধ্যাত্মিক শক্তি প্রদর্শন এবং গৌতম বুদ্ধের পরলোকগত মা (রাণী মহামায়া) কে অভিধর্ম দেশনা। মহামানব সিদ্ধার্থ গৌতম ও তথাগত সম্যক সম্বুদ্ধের জন্মপূর্ব এবং জন্মোত্তর জীবনের পাঁচটি ঐতিহাসিক এই ৫টি ঘটনার সমন্বয় আষাঢ়ী…

নির্বাণ কি? বৌদ্ধদের নিকট নির্বাণ গুরুত্বের কারণ

নির্বাণ কি? বৌদ্ধদের নিকট নির্বাণ গুরুত্বের কারণ সারকল্প, মন্ড কল্প, বর কল্প, সার মন্ড কল্প ও ভদ্র কল্প। এই পঞ্চ কল্পই হচ্ছে বুদ্ধগণের উৎপত্তি কল্প বা সময়। অন্যথায় বুদ্ধ শূণ্য কল্প বলা হয়। বুদ্ধ শূণ্য কল্পে নির্বাণ সাক্ষাৎ ও বুদ্ধগণের মুখনিঃসৃত বাণী এই নির্বাণ শব্দটি শ্রবণের সুযোগ কখনো সম্ভব হয় না। পূর্বোক্ত ঐ পঞ্চ কল্পের মধ্যে যে কোন কল্পে যখন দূর্লভ বুদ্ধগণ উৎপন্ন হন, তখনই অসংস্কৃত নির্বাণ সাক্ষাতের সুযোগ লাভ…

বৌদ্ধধর্মে প্রব্রজ্যা

বৌদ্ধধর্মে প্রব্রজ্যা তথাগত বুদ্ধ প্রব্রজ্যার ফল বর্ণনা করতে গিয়ে রাজা প্রসেনজিতকে বলেছিলেন -আপনার প্রাসাদের প্রহরী আপনাকে দেখলেই প্রণতি জানায়, আপনার আদেশ মত কাজ করার জন্য তটস্থ থাকে। সেই প্রহরী যদি হঠাৎ প্রব্রজ্যা নেয় এবং আপনি তাকে দেখতে পান তখন কি করবেন? প্রসেনজিত প্রত্যুত্তরে বললেন- আমি তাকে আগু বাড়িয়ে আমার প্রাসাদে নিয়ে আসবো প্রণাম করব, ছোয়াইং দান করব। বুদ্ধ বললেন- প্রব্রজ্যার এমনি গুণ। যে একটু আগেও আপনাকে প্রণাম করতো, আপনাকে প্রচন্ড…

দুঃখ মুক্তির উপায় ও অন্তরায়

দুঃখ মুক্তির উপায় ও অন্তরায় মহাকারুণিক তথাগত বুদ্ধ সম্যক সম্বুদ্ধ প্রাপ্ত হবার ঠিক একদিন আগে অর্থাৎ বৈশাখী পূর্ণিমার একদিন আগে রাত্রিতে পাঁচটা স্বপ্ন দেখেছিলেন। পাঁচটা স্বপ্নের মধ্যে একটা স্বপ্ন ছিল ঃ ঊনার নাভিদেশ থেকে টিরিয় নামক এক প্রকার ঘাস নাভি ভেদ করে আকাশমার্গে শূন্যে অনেকদূর উঠে গেছে। এই স্বপ্নের অর্থ বুদ্ধ পরে বুঝতে পারলেন যে, (শরীরের ঠিক মাঝখানে তো নাভি?) তিনি এই একত্রিশ লোকভূমির উদ্দেশ্যে মধ্যম প্রতিপদা ধর্ম দেশনা করবেন।…