২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৯ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ শুক্রবার, ২৩ জুন ২০১৭ইংরেজী

বৌদ্ধ দর্শন

শ্রদ্ধা ব্যতিরেকে মুক্তিলাভ কি সম্ভব?

শ্রদ্ধা ব্যতিরেকে মুক্তিলাভ কি সম্ভব?  বুদ্ধ তথাগত সপ্ত আর্যধনের মধ্যে শ্রদ্ধাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। শ্রদ্ধাই মানব জীবনের পরম সম্পদ। তবে বৌদ্ধ দর্শনে অন্ধ বিশ্বাসের স্থান নেই। যুক্তি সংগত ভাবে বিশ্বাস করাই প্রকৃত শ্রদ্ধা। চিত্তের নির্মলতা, কার্পণ্য ময়লা ত্যাগ, সদ্ধর্ম শ্রবেণেচ্ছা, বুদ্ধাদি সৎপুরুষের দর্শনেচ্ছা শ্রদ্ধার লক্ষণ। স্বচ্ছ সলিলে যেমন চন্দ্র-সূর্যের স্বরূপ প্রতিফলিত হয় তেমনি শ্রদ্ধা প্রযুক্ত চিত্তেই কর্ম-কর্মফল ও বুদ্ধাদি শ্রদ্ধেয় বস্তু গৃহীত হয়, পঞ্চ নীবরণ দূরীভূত হয়। চিতের প্রসারতা ও প্রজ্ঞা…

বৌদ্ধিক চেতনায় মানবজীবন দর্শন

বৌদ্ধিক চেতনায় মানবজীবন দর্শন বুদ্ধ এক ধর্ম সভায় এ সত্য প্রকাশ করে দেশনা করেন, আমি নিজের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি, আমি যা ইচ্ছা করেছিলাম, আমার তা পরিপূর্ণ হয়েছে। ণ্ডিত ব্যক্তি হতাশা না হয়ে উচ্চাকাঙ্খাকে হৃদয়ে দৃঢ়ভাবে পোষণ করবেন। নদী যেমন পর্বত-শিখরে উৎপন্ন হয়ে অগ্রগতিতে বাধার পর বাধা অতিক্রম করে এবং পারিপার্শ্বিক জল ধারার সাহায্যে ক্রমে বড় হয়ে এবং উভয় কুলের অপ্রেমেয় জীবনের হিত করে তার লক্ষ্য মহাসাগরে মিশে যায়, তেমন গৌতমও…

প্রতীত্য সমূৎপাদ নীতি

প্রতীত্য সমূৎপাদ নীতি প্রতীত্য অর্থ কারণ অথবা কোন কিছুর নিয়ামক হওয়া [হেতু]; সমূৎপাদ অর্থ “উৎপন্ন হওয়া অথবা কোন কিছুর প্রভাবে সম্পন্ন হওয়া” [প্রত্যয়]। এজন্য প্রতীত্য সমূৎপাদ নীতির আক্ষরিক অর্থ কার্য-কারণ নীতি বা হেতু-প্রত্যয়। একথা মনে রাখতে হবে যে প্রতীত্য সমূৎপাদ নীতি শুধুমাত্র জন্ম-মৃত্যু বিষয়ক আলোচনা যেখানে জীবনের আদি উৎস সম্পর্কিত কোন ধারণাই নেই। “প্রতীত্য সমূৎপাদ”নীতিতে পুন:পুন জন্মগ্রহণ করে ক্রমাগত দু:খ যন্ত্রণা ভোগের কারণ বিশ্লেষিত হয়েছে , কিন্তু এখানে আদি কারণ…

বৌদ্ধ ধর্ম কি নীতিশাস্ত্র ?

বৌদ্ধ ধর্ম কি নীতিশাস্ত্র ? একটি সার্বজনীন নীতিশাস্ত্র নিজের পরিপূর্ণতা এবং পরার্থপর মনোভাবের ক্ষেত্রে অপ্রতিদ্বন্দী এতে কোন সন্দেহ নেই। নীতিকথা সংসার ত্যাগী সন্ন্যাসীবৃন্দের জন্য এক রকম এবং গৃহী অনুসারীবৃন্দের জন্য ভিন্ন অর্থ বহন করে। কিন্তু বৌদ্ধ ধর্ম সাধারণ নীতিকথা শিক্ষণ থেকে অনেক বেশি কিছু। নৈতিকতা শধুমাত্র নির্বাণ পথ যাত্রার প্রাথমিক ভিত্তি স্বরূপ, চুড়ান্ত লক্ষ্যে পৌছার গুরুত্ব বহন করে কিন্তু নিজে উপনীত করে দেয় না। সঠিক পথ নির্দেশনা প্রয়োজনীয় হলেও বন্ধন…

মার বিজয়ী অরহত উপগুপ্ত মহাথেরো

মার বিজয়ী অরহত উপগুপ্ত মহাথেরো পুণ্যভূমি মথুরা নগরে বাস করত সুপ্রসিদ্ধ স্বনামধন্য গুপ্ত নামের একজন সুপ্রসিদ্ধ সুগন্ধ বণিক। তাঁর ছিল প্রচুর ধন ঐশ্বর্য, বহু হস্তি-রথ-অশ্ব-শকট। আর ছিল সুরম্য প্রসাদ। গুপ্ত নামের সুগন্ধ বণিক ও তাঁর সহধর্মিনী এতো ধন ঐশ্বর্য্য থাকা সত্ত্ব্ওে একটি সন্তানের অভাবে ছিলেন অববই অসুখী। কিন্তু স্বামী-স্ত্রী উভয়েই ছিলেন ধর্মপরায়ন। দানে ছিলেন অকৃপণ, শীলগুণে ছিলেন বিমন্ডিত। দীন দুঃখীর দুঃখ মোচনে তাঁরা ছিলেন সদা তৎপর। সুগন্ধ বণিকের স্ত্রী সবসময়…

পরশ পাথর

পরশ পাথর একটি চীবর দানে গিয়েছিলাম। সেখানে একজন ভিক্ষুর দেশনা আমাকে খুব নাড়া দিয়েছে। সেই দেশনার একাংশ পাঠকদের সাথে শেয়ার করার জন্য আজকের লেখাটির অবতারণা। ভিক্ষু দেশনায় বলছেন, একজন শিক্ষক তাঁর একজন প্রিয় ছাত্রকে একদিন একটি ছোট পাথর দিয়ে বললেন, এই পাথরটি যত্ন করে রেখো। খুবই মূল্যবান পাথর। ছাত্রটি পাথর হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করে দেখলো। আর মনে মনে বলছে, একটি ছোট পাথর এত মূল্যবান হয় কি করে? সে ভেবে ভেবে…

বৌদ্ধধর্ম কি ধর্ম?

বৌদ্ধধর্ম কি ধর্ম? প্রচলিত অর্থে ধর্ম বলতে যা বোঝায় সেই অনুযায়ী বৌদ্ধধর্ম ধর্ম নয়, কারণ এই মতবাদ “বিশ্বাস এবং প্রার্থনার মাধ্যমে কোন অতিমানবীয় শক্তির কাছে আনুগত্য স্বীকার করা নয়।” বৌদ্ধধর্ম নিজের অনুসারীবৃন্দের নিকট অন্ধবিশ্বাসের প্রত্যাশী নয়। এই ধর্মে জ্ঞানের মাধ্যমে উৎপন্ন বিশ্বাসের ভিত্তিতে অন্ধ বিশ্বাসকে সমূলে উপরে ফেলা হয়। পালি ভাষায় এই জ্ঞানকে বলা হয় সদ্ধা [শ্রদ্ধা]। বুদ্ধ’র প্রতি একজন অনুরাগীর শ্রদ্ধা একজন সুবিখ্যাত চিকিৎসকের প্রতি একজন রোগীর নির্ভরতা কিংবা…

পুণ্যদান এবং প্রাসঙ্গিক প্রসঙ্গ

পুণ্যদান এবং প্রাসঙ্গিক প্রসঙ্গ ১ম পর্ব...আজ এই অনিত্য সভায় দাঁড়িয়ে পরলোকগত সুহৃদের পারলৌকিক সদগতি কামনায় আমি আমার জীবনের সঞ্চিত সকল পুণ্যরাশি দান করছি। যদি তিনি পাওয়ার স্থানে থাকেন তবে আমার এই পুণ্যরাশি লাভ করে মুক্তিলাভ করুন। অধিকাংশ অনিত্য সভায় মৃত জ্ঞাতির প্রতি সাধারণের সর্বশেষ প্রত্যাশা এমনই। পূজনীয় ভিক্ষুসংঘও একইভাবে তাঁদের শীলময়, ভাবনাময় পুণ্যরাশি দান করে থাকেন। তাছাড়া আমরা আমাদের জ্ঞাতির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ‘পরলোক’ ‘পারলৌকিক’ শব্দগুলো ব্যবহার করি। যদিও আমি আজ ‘পরলোক’…

বুদ্ধ

বুদ্ধ ৬২৩ খ্রীস্ট পূর্বাব্দে মে মাসের এক পূর্ণিমায় নেপালের একটি জেলায় সিদ্ধার্থ গৌতম নামক এক ভারতীয় শাক্যবংশীয় রাজপূত্র জন্ম নেন যাঁর নিয়তি ছিল তিনি ভবিষ্যতে বিশ্বময় সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মীয় গুরু রূপে স্বীকৃত হবেন। বিলাস প্রাচুর্যের মাঝে তিনি বেড়ে উঠলেন, রাজপূত্রের প্রয়োজনীয় শিক্ষা সমাপ্ত করলেন, বিবাহিত হয়ে এক পূত্রের জনক হলেন। তাঁর অসীম করুণাপূর্ণ এবং চিন্তাশীল মন রাজপ্রাসাদের ক্ষণিক বৈষয়িক সুখ উপভোগে বাঁধা হয়ে দাঁড়াল। দু:খ শোকের সাথে পরিচিত না হলেও তিনি…

রতন সূত্রের উৎপত্তির কথা

রতন সূত্রের উৎপত্তির কথা আজ আমরা জানব রতন সূত্রের উৎপত্তি সম্পর্কে ভগবান বুদ্ধের জীবদ্দশায় বৈশালী অতিশয় সমৃদ্ধশালী নগরী ছিল। সর্ববিধ উপভোগ্য, পরিভোগ্য বিত্তসম্পদে সমৃদ্ধ বৈশালীতে কালের কুটিল গতিতে একদা অনাবৃষ্টি দেখা দিল। ফলে শস্যক্ষেত্র বিনষ্ট হইল, দেশে দুর্ভিক্ষের করাল ছায়া নামিয়া আসিল। সহায়-সম্বলহীন অসংখ্য দরিদ্র মানুষ কাতারে কতারে মৃত্যুমুখে পতিত হইল। ক্রমে এত অধিক লোক মরিতে আরম্ভ করিল যে, মৃতদেহের সৎকার করা অসম্ভব হইয়া পড়িল। পচা-দুর্গন্ধময় মৃতদেহ দেখিতে দেখিতে ঘৃণা…

পণ্ডিত-শ্রামণের সংসর্গ লাভে সর্বদুঃখ হতে মুক্তি লাভ

পণ্ডিত-শ্রামণের সংসর্গ লাভে সর্বদুঃখ হতে মুক্তি লাভ আজ আমরা জানব বয়সে ছোট, কিন্তু ধর্ম জ্ঞানে জ্ঞানী এবং সর্ব আসব ক্ষয়প্রাপ্ত শ্রামণের গুণরাশি।সংকিচ্চ শ্রামণ শ্রাবস্তীর এক মহাধনী ব্রাহ্মণ-পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন। সপ্তবর্ষ বয়ঃক্রমকালে ধর্মসেনাপতি শারীপুত্রের নিকট তিনি প্রব্রজিত হন এবং কেশচ্ছেদনের সময় প্রতিসম্ভিদাসহ অর্হত্ত্ব সাক্ষাৎ করেন।একসময় ত্রিশজন ভিক্ষু বুদ্ধ হতে কর্মস্থান গ্রহণ করে ভাবনার জন্য অরণ্যে যাচ্ছিলেন। ভগবান অরণ্যে তাঁদের বিপদ হবে জেনে তাঁর ছোট শ্রামণ সংকিচ্চকে সঙ্গে নিতে বলেন। তাঁরা প্রথমে…

জন্মান্তর

জন্মান্তর র্কমফল বিদ্যমান থাকলেই  পূনর্জন্ম সংঘটিত হতে  থাকবে, কারণ জীব অদৃশ্য কর্মশক্তির দৃশ্যমান  প্রকাশ মাত্র ।  মৃত্যু এই জীবন প্রবাহের  সাময়িক বিলুপ্তি ব্যতীত আর কিছুই নয়।  মৃত্যু জীব বলে অভিহিত সত্ত্বার চির বিনাশ নয়। জীবন প্রবাহ রুদ্ধ হয়েছে, কিন্তু কর্মফল তখনও তার অখন্ড প্রভাব বজায় রেখেছে। কারণ পরিবর্তনশীল দেহের বিনাশে অপরিবর্তনীয় কর্মফল মৃত্যুক্ষণে সৃষ্ট চিত্তের সমন্বয়ে  পরবর্তী জীবনের নব বিজ্ঞানের সূচনা করে।                 অবিদ্যা  এবং তৃষ্ণার  মূলে…

সিগালোবাদ সুত্র এক পরিপূর্ণ গৃহী বিনয়

সিগালোবাদ সুত্র এক পরিপূর্ণ গৃহী বিনয় ভূমিকা ত্রিপিটকের সূত্রপিটকান্তর্গত দীর্ঘ নিকায়ের শৃগালোবাদ সূত্রকে অনেক পণ্ডিত গৃহী বিনয় হিসাবে আখ্যায়িত করেন। গৃহী জীবন যাপনের ক্ষেত্রে এ সূত্রের উপদেশ যথাযথভাবে প্রতিপালনের মাধ্যমে উন্নত গৃহী জীবন গঠন করা সম্ভব। এ সূত্রে গৃহী জীবনের নিত্য প্রতিপালনীয় বিষয় আলোচিত হয়েছে। আচার্য বুদ্ধঘোষ এ সূত্র সম্পর্কে বলেন, ‘গৃহী জীবনে প্রতিপালনীয় এমন কোন বিষয় নেই যা এ সূত্রে আলোচিত হয়নি’।যেভাবে শৃগালোবাদ সূত্র দেশনার প্রেক্ষাপট রচিত হয় ভগবান…

বুদ্ধের দর্শনঃপরকাল

বুদ্ধের দর্শনঃপরকাল বুদ্ধের দর্শন: বুদ্ধের দর্শনের প্রধান অংশ হচ্ছে দুঃখের কারণ ও তা নিরসনের উপায়। বাসনা হল সর্ব দুঃখের মূল। বৌদ্ধমতে সর্বপ্রকার বন্ধন থেকে মুক্তিই হচ্ছে প্রধান লক্ষ্য- এটাকেনির্বাণ বলা হয়। নির্বাণ শব্দের আক্ষরিক অর্থ নিভে যাওয়া (দীপনির্বাণ, নির্বাণোন্মুখ প্রদীপ), বিলুপ্তি, বিলয়, অবসান। কিন্তু বৌদ্ধ মতে নির্বাণ হল সকল প্রকার দুঃখ থেকে মুক্তি লাভ। এই সম্বন্ধে বুদ্ধদেবের চারটি উপদেশ যা চারি আর্য সত্য (পালিঃ চত্বারি আর্য্য সত্যানি) নামে পরিচিত। তিনি…

পণ্ডিত-শ্রামণের সংসর্গ লাভে সর্বদুঃখ হতে মুক্তি লাভ

পণ্ডিত-শ্রামণের সংসর্গ লাভে সর্বদুঃখ হতে মুক্তি লাভ আজ আমরা জানব বয়সে ছোট, কিন্তু ধর্ম জ্ঞানে জ্ঞানী এবং সর্ব আসব ক্ষয়প্রাপ্ত শ্রামণের গুণরাশি। সংকিচ্চ শ্রামণ শ্রাবস্তীর এক মহাধনী ব্রাহ্মণ-পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন। সপ্তবর্ষ বয়ঃক্রমকালে ধর্মসেনাপতি শারীপুত্রের নিকট তিনি প্রব্রজিত হন এবং কেশচ্ছেদনের সময় প্রতিসম্ভিদাসহ অর্হত্ত্ব সাক্ষাৎ করেন।একসময় ত্রিশজন ভিক্ষু বুদ্ধ হতে কর্মস্থান গ্রহণ করে ভাবনার জন্য অরণ্যে যাচ্ছিলেন। ভগবান অরণ্যে তাঁদের বিপদ হবে জেনে তাঁর ছোট শ্রামণ সংকিচ্চকে সঙ্গে নিতে বলেন। তাঁরা…