২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৬ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭ইংরেজী
বৃহস্পতিবার, 17 মার্চ 2016 19:29

ধর্ম : চয়নিকা রিতিমা

লিখেছেনঃ চয়নিকা রিতিমা

ধর্ম : চয়নিকা রিতিমা

ধর্ম অথবা দর্শন ?

বুদ্ধ ভাষিত আগ্রাসী মনোভাব বিহীন নৈতিক এবং দার্শনিক মতবাদ যা অনুসারীবৃন্দের কাছ থেকে কোন অন্ধ বিশ্বাস দাবী করে না, কাল্পনিক মতবাদে বিশ্বাসী করে তোলে না, কুসংস্কারময় কোন আচার-অনুষ্ঠান কে উৎসাহিত করে না, কিন্তু এর পরিবর্তে এমন একটি সুবর্ণ সুযোগ প্রদান করে যাতে অনুসারীবৃন্দ বিশুদ্ধ জীবন যাপন এবং নির্মল চিন্তার অনুশীলনে সকল প্রকার অকুশল বীজ ধ্বংস করে সর্বোচ্চ প্রজ্ঞা অর্জন করতে পারে, একে ধর্ম বলা হয়, এবং এই বিষয়টি বৌদ্ধধর্ম নামে সুপরিচিত।

মহাকারুণিক বুদ্ধ পরিনির্বাণ প্রাপ্ত হয়েছেন, কিন্তু বিশ্ব মানবতার উদ্দেশ্যে প্রচারিত তাঁর সুমহান ধর্ম বর্তমান কালেও স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে বিরাজমান। যদিও শাস্তা তাঁর দেশনার কোন লিখিত নথিপত্র রেখে যান নি, তারপরেও তাঁর প্রখ্যাত শিষ্যম-লী তাঁর দেশনা স্মৃতিতে ধারণ করে মৌখিক শিক্ষণের মাধ্যমে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে পৌঁছে দিয়েছেন।

তাঁর পরিনির্বাণের অব্যবহিত পরে ৫০০ অর্হৎ ভিক্ষু ১) ধর্ম সংগীতি আহবান করে ধর্ম ২) এবং বিনয়৩) আবৃত্তি করেন। সম্মানিত আনন্দ স্থবির যিনি বুদ্ধের সকল দেশনা শ্রবণের অমৃতময় সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি ধর্ম বিষয়ক আবৃত্তি করেন এবং সম্মানিত উপালি স্থবির বিনয় আবৃত্তি করেন।

বর্তমানে পাওয়া ত্রিপিটক - এর গাঠনিক রূপটি এসেছে সুপ্রাচীন কালের অর্হৎম-লীর নিকট থেকে। ধার্মিক শ্রীলংকান রাজা বট্টগামিনি অভয় - এর রাজত্বকালে ৮৩ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে শ্রীলংকায় বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাসে সর্বপ্রথম ত্রিপিটক তালপাতায় [ওলা] লিখিত হয়।

বুদ্ধের দেশনাময় বাণী সমূহ ধারণকারী বৃহদাকার ত্রিপিটক প্রায় ১১টি বাইবেল - এর সমান হবে। ত্রিপিটক এবং বাইবেল - এর মধ্যকার একটি মৌলিক পার্থক্য হলো পরবর্তী গ্রন্থটি পূর্ববর্তী গ্রন্থের মতো ক্রমোন্নতির ধারা সম্বলিত নয়।

ত্রিপিটক শব্দের উৎসানুসারে ত্রিপিটক তিনটি আধার- এর সমষ্টি। এগুলো হচ্ছে নিয়ম-নীতির আধার [বিনয় পিটক ], দেশিত বাণী সমূহের আধার [ সুত্ত পিটক ], এবং পরমার্থিক সত্যের আধার [অভিধর্ম পিটক ]।

বিনয় পিটক কে বিবেচনা করা হয় ইতিহাস প্রসিদ্ধ সর্বপ্রাচীন ব্রহ্মচার্যিক সম্প্রদায় সংঘ এর ভিত্তিমূল, প্রকৃতপক্ষে ভিক্ষুসংঘ এবং ভিক্ষুণীসংঘ এর ভবিষ্যৎ শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন সময়ে বুদ্ধ প্রবর্তিত নিয়ম নীতি অনুযায়ী সংঘ পরিচালিত হয়। এখানে বুদ্ধ শাসনের ক্রমোন্নতির [ বৌদ্ধধর্ম বিকাশ ] ধারাবাহিক বর্ণনা আছে। বুদ্ধের জীবনকাল এবং ধর্ম প্রচারণা ও এই গ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত। পরোক্ষভাবে বিনয় পিটকে প্রাচীন ইতিহাস, ভারতীয় প্রথা, শিল্প, বিজ্ঞান ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এবং আকর্ষণীয় বিষয় প্রতিফলিত হয়।
নিম্নলিখিত পঞ্চ পুস্তকের সমন্বয়ে বিনয় পিটক গঠিত হয়

বিভঙ্গ: ১. পারাজিকা পালি [প্রধান অপরাধ সমূহ ]
২. পাচিত্তিয় পালি [ ক্ষুদ্র অপরাধ সমূহ ]

খন্দক: ৩. চুল্লবগ্গ পালি [ প্রধান ভাগ ]
৪. মহাবগ্গ পালি [ ক্ষুদ্র ভাগ ]
৫. পরিবার পালি [ বিনয়ের সংক্ষিপ্ত সার ]

সুত্ত পিটক মূলত: বিভিন্ন উপলক্ষে বুদ্ধ দেশিত বাণী সমন্বয়ে গঠিত। বুদ্ধ - এর প্রখ্যাত শিষ্যম-লী যেমন সম্মানিত সারিপুত্ত, আনন্দ, মোগ্গলায়ন সহ অর্হৎবৃন্দের দেশিত কিছু দেশনা ও এই গ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত। এই গ্রন্থটি চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র স্বরূপ, কারণ এখানে বিভিন্ন উপলক্ষে বিভিন্ন মানুষের মন - মানসিকতা অনুযায়ী ধর্মীয় বাণী লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। মনে হতে পারে এখানে বিপরীতধর্মী বক্তব্য রয়েছে, কিন্তু কোন নির্দিষ্ট সময়ে বলা বুদ্ধ বাণী সমূহের ভুল ব্যাখ্যা করা উচিত নয় ; উদাহরণস্বরূপ, তাঁকে করা কোন একটি প্রশ্নে তিনি নীরব থাকতেন [যদি প্রশ্নকর্তা শুধুমাত্র সময় ক্ষেপনের জন্য অকারণে প্রশ্ন করছে ], আবার একই প্রশ্নের সুগভীর ব্যাখ্যা প্রদান করতেন যখন তিনি জানতেন প্রশ্নকর্তা প্রকৃতপক্ষেই জানতে আগ্রহী। অধিকাংশ দেশনা ভিক্ষুসংঘের কল্যাণে দেশিত এবং তাঁরা এই দেশনা অনুযায়ী পবিত্র ভিক্ষু জীবন যাপন করেন। গৃহী অনুসারীবৃন্দের পার্থিব এবং নৈতিক উন্নতি বিধানের জন্য ও কিছু দেশনা এখানে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।

এই পিটক পাঁচটি নিকায়ে অথবা সংকলনে বিভক্ত, এগুলো হচ্ছে:
১. দীঘ নিকায় [ দীর্ঘ দেশনা সংকলন ]
২. মজ্জিম নিকায় [ মধ্যমাকৃতি দেশনা সংকলন ]
৩. সমুত্ত নিকায় [ মিশ্র দেশনা সংকলন ]
৪. অঙ্গুত্তর নিকায় [ সংখ্যানুযায়ী শ্রেণীবদ্ধ দেশনা সংকলন ]
৫. খুদ্দক নিকায় [ ক্ষুদ্র দেশনা সংকলন ]

পঞ্চম নিকায়টি পনেরটি উপখন্ডে বিভক্ত :
১. খুদ্দক পাঠো [সংক্ষিপ্ত পাঠ ]
২. ধম্মপদ [ সত্যপথ ]
৩. উদান [ জয়গীত ]
৪. ইতি বুত্তক [ বুদ্ধ বলেছেন, এরূপ বক্তব্য সংগ্রহ ]
৫. সুত্ত নিপাত [ সংগৃহীত বক্তব্য সংগ্রহ ]
৬. বিমান বথ্থু [ স্বর্গীয় বিমান কাহীনি ]
৭. পেত বথ্থু [ প্রেত কাহীনি ]
৮. থের গাথা [ স্থবিরগণের জীবনী ]
৯. থেরী গাথা [ স্থবির ভিক্ষুণীগণের জীবনী ]
১০. জাতক [ পূর্ব জন্ম বৃত্তান্ত ]
১১. নিদ্দেস [ ব্যখ্যা পুস্তক ]
১২. পটিসম্ভিদা মগ্গ [বিশ্লেষণাত্মক জ্ঞান ]
১৩. অপাদান [অর্হৎগণের পূর্বজন্ম বৃত্তান্ত ]
১৪. বুদ্ধবংস [ বুদ্ধগণের ইতিকথা ]
১৫. চরিয়া পিটক [আচরণ বিধি ]

এই গ্রন্থ তিনটির মধ্যে অভিধর্ম পিটক সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ এবং চিত্তাকর্ষক, এখানে সুত্ত পিটকে বর্ণিত বুদ্ধ দেশিত বাণী সমূহের সুগভীর ব্যাখ্যার প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে।
সুত্ত পিটকে আমরা পাই ব্যবহারিক দেশনা [ বোহার দেশনা ] যেখানে অভিধর্ম পিটকে আছে পরমার্থিক দেশনা [পরমাথ্থ দেশনা ]।

জ্ঞানীগণের জন্য অভিধর্ম এক অপরিহার্য পথ নির্দেশক ; আধ্যাত্মিক মার্গলাভী গণের জন্য কুশলচিত্ত বর্ধক ঔষধ, বিদ্বান ব্যক্তিবর্গের জন্য চিন্তার খোরাক। চিত্ত এখানে সুক্ষ্মরূপে বিশ্লেষিত। মূলত: নৈতিকতার মানদন্ডে চিত্তসমূহ বিশ্লেষণ এবং শ্রেণী বিভাজন করা হয়েছে। ক্রমান্বয়ে মানসিক অবস্থা সমূহ বর্ণিত হয়েছে। প্রত্যেক প্রকার চিত্তের গঠন সবিস্তারে বর্ণণা করা হয়েছে। কিভাবে চিত্ত উৎপত্তি হয় সে বিষয়ে সুক্ষ্ম বর্ণণা আছে। মানব মন কে আকর্ষণকারী কিন্তু নির্বাণ লাভের জন্য প্রয়োজনীয় নয় এমন কোন বিষয় এই গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করা হয় নাই।

রূপ বিষয়ে সুবিস্তৃত বর্ণণা আছে; রূপ এর মৌলিক উপাদান, রূপ-এর প্রকৃতি, রূপ উৎপত্তি ভূমি, নাম রূপ এর মধ্যকার সম্পর্ক ব্যাখ্যা সহকারে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
প্রতিটি বিষয়কে সম্যক রূপে অনুধাবনের জন্য অভিধর্ম জীব বলে কথিত সত্ত্বার দুইটি গঠনমূলক উপাদান নামরূপ বিষয়ক অনুসন্ধান করে, এভাবে এই ক্ষেত্রে একটি দার্শনিক মতবাদ গড়ে উঠেছে। সেই দর্শনের ভিত্তিতে মানব জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্বাণ লাভের জন্য একটি নীতিশাস্ত্র বিকশিত হয়েছে।
অভিধর্ম পিটক সাতটি গ্রন্থের সমন্বয়ে গঠিত।

১. ধম্মসংগণি [ ধর্মের শেণীবিভাগ ]
২. বিভঙ্গ [ বিশ্লেষণধর্মী গ্রন্থ ]
৩. কথাবথ্থু [ বৌদ্ধ দর্শন সম্পর্কীয় তর্কশাস্ত্র ]
৪. পুগ্গল পাঞঞত্তি [ ব্যক্তির শ্রেণীবিন্যাস ]
৫. ধাতু কথা [ মূলত্বত্ত বিষয়ক আলোচনা ]
৬. যমক [ বিপরীত ধর্মী ব্যক্তব্য সমন্বয় ]
৭. পঠঠান [ সম্পর্ক নির্ণায়ক গ্রন্থ ]

ত্রিপিটক বিষয়ে গবেষণাকারী এখানে শিশুর জন্য দুগ্ধ এবং পরিণত ব্যক্তির জন্য আমিষ উপাদান পাবেন কারণ বুদ্ধ সর্বসাধারণের উপযোগী করেই তাঁর বাণী প্রচার করেছেন। তাঁর অমৃতময় বাণীতে প্রচারিত পরমার্থিক ধর্ম কার্যকারণ তত্ত্ব সমন্বয়ে বাস্তবধর্মী হলেও এমন কোন তত্ত্ব বা দার্শনিক মতবাদের সাথে সম্পর্কিত নয় যা আজ সর্বশ্রেষ্ঠ রূপে বিবেচিত হলেও অনাগত দিনে ভুল প্রমাণিত হয়ে বিলীন হয়ে যাবে। বুদ্ধ আমাদের নিকট বিষ্ময়কর কোন দার্শনিক মতবাদ প্রচার করেন নাই কিংবা ভৌত বিজ্ঞানের নতুন কোন বিষয় আবিষ্কারে ব্রতী হন নাই। আমাদের পার্থিব বন্ধন মোচনের সাথে সম্পর্কিত সকল বিষয়ের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ব্যাখ্যা প্রদান করে পরিশেষে তিনি আমাদের নিকট মানবমুক্তির অনুপম এক পথ প্রদর্শন করেছেন। প্রসঙ্গক্রমে তাঁর বাণীতে তিনি আধুনিক বিজ্ঞানী এবং দার্শনিকবৃন্দের বক্তব্যের পূর্বাভাষ দিয়েছেন।


ওয়ার্ল্ড অ্যাজ উইল অ্যান্ড আইডিয়া গ্রন্থে শোপেন হাওয়ার পশ্চিমা দৃষ্টিকোণ থেকে দু:খের কারণ ও প্রকৃতি উপস্থাপন করেছেন। স্পিনোজা চিরস্থায়ী সত্ত্বার অস্তিত্ব অস্বীকার না করলেও সুনিশ্চিতভাবে বলেছেন যে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুসমূহের অস্তিত্ব ক্ষণস্থায়ী। তাঁর মতে দু:খ কে জয় করা যায় “এমন কোন জ্ঞানময় কারণ দ্বারা যা অনিত্য নয়, ক্ষয়শীল নয়, কিন্তু চিরন্তন, শ্বাশ্বত,চিরস্থায়ী”। বার্কলে প্রমাণ করেছেন অবিভাজ্য পরমাণুবাদ একটি অসার ধারণা মাত্র। মন বিষয়ক দীর্ঘ গবেষণা শেষে উপসংহারে হিউম বলেছেন পরিবর্তনশীল মানসিক অবস্থা সমন্বয়ে চেতনা গঠিত হয়। বার্গসোঁ পরিবর্তনশীলতার নীতি কে সমর্থন করেছেন। প্রফেসর জেমস চেতনা প্রবাহের প্রতি নির্দেশ করেছেন।

আজ থেকে প্রায় ২৫০০বছর আগে গঙ্গা উপত্যকায় ভ্রমণকালীন সময়ে বুদ্ধ অনিত্য [ অনিচ্চ ], দু:খ [দুকখা ], অনাত্ম [অনাত্তা ] বিষয়ক মতবাদ প্রদান করেন।
একথা মনে রাখতে হবে যে বুদ্ধ তাঁর অর্জিত সম্পূর্ণ জ্ঞান শেখাননি। একদিন কোন কারণে বুদ্ধ বনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন,তিনি একমুঠো পাতা হাতে নিলেন এবং বললেন, “ভিক্ষুসংঘ, আমি তোমাদের যা শিখিয়েছি তা আমার হাতে থাকা পত্ররাজির সমান। আমি যা বলি নাই সেটুকু এই বনের অন্য সকল পত্ররাজির সমান”।
একজন মানুষের বিশুদ্ধি অর্জনের জন্য যেটুকু জ্ঞান আবশ্যক সেটুকুই তিনি দিয়েছেন গোপনীয় বা প্রকাশ্যরূপে কোন বিভেদ সৃষ্টি করেননি। তাঁর সুমহান উদ্দ্যেশের সাথে সম্পর্কিত নয় এরকম সকল প্রশ্নের উত্তরে স্বভাবতই তিনি নীরব ছিলেন।

বৌদ্ধধর্ম বিজ্ঞান অনুরাগী এতে কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু উভয় ক্ষেত্র সমান্তরালভাবে শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ শেখায়, যেমন একটি ক্ষেত্র মূলত পার্থিব সত্য বিষয়ে কাজ করছে অন্য ক্ষেত্রটি নৈতিক এবং আধ্যাত্মিক সত্য বিষয়ে প্রশিক্ষিত করছে। প্রত্যেকের কাজের ক্ষেত্র ভিন্ন।

বুদ্ধের দেশিত ধর্ম শুধুমাত্র বই পুস্তকে লিপিবদ্ধ করার বিষয় নয় কিংবা ঐতিহাসিক অথবা সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে অধ্যয়নের বিষয় নয়। অন্যদিকে এই ধর্ম প্রত্যেকের প্রাত্যহিক জীবনে অধ্যয়ন এবং অনুশীলনের বিষয়, কারণ অনুশীলন ব্যতীত কেউ ধর্মকে উপলদ্ধি করতে পারে না। ধর্ম অধ্যয়নের চেয়ে অনুশীলন বেশী প্রয়োজন এবং সর্বোপরি উপলদ্ধি করা প্রয়োজন; প্রতক্ষ্য উপলদ্ধি ধর্মের চুড়ান্ত লক্ষ্য। এই কারণে ধর্মকে জন্মÑমৃত্যুর সমূদ্র [সমসারা] অতিক্রমের একমাত্র ভেলা রূপে বিবেচনা করা হয়।
এজন্য বৌদ্ধর্ধকে শুধুমাত্র দর্শনশাস্ত্র বলে অভিহিত করা যায় না কারণ এই ধর্ম শুধুমাত্র “অনুরাগ নয়, জ্ঞান অনুসন্ধানে ব্রতী হওয়ার ধর্ম।” বৌদ্ধধর্ম দর্শনশাস্ত্রের সাথে তুলনীয় হতে পারে কিন্তু বৌদ্ধধর্মীয় বাণী অনেক বেশী সুপ্রতিষ্ঠিত।

দর্শন শাস্ত্র জ্ঞান অনুসন্ধানী হলেও জ্ঞান অনুশীলনের সাথে সম্পর্কিত নয়; পক্ষান্তরে বৌদ্ধধর্ম উপলদ্ধি এবং অনুশীলন নীতিতে প্রতিষ্ঠিত।

১) অর্হৎ : সকল তৃষ্ণ্রা ক্ষয় করে বিশুদ্ধ জ্ঞানের অধীকারী বুদ্ধ শিষ্যগণ
২) ধর্ম : বুদ্ধ দেশিত বাণী
৩) বিনয় : বুদ্ধ প্রবর্তিত রীতি

এই প্রবন্ধটি BUDDHISM IN A NUTSHELL by Ven. Narada Thera নামক গ্রন্থ এর [ CHAPTER TWO ],THE DHAMMA নামক প্রবন্ধ, পৃষ্ঠা [ 8- 14] এর বাংলা অনুবাদ।

 

Additional Info

  • Image: Image