২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১৮ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ সোমবার, ০১ মে ২০১৭ইংরেজী
মঙ্গলবার, 05 জানুয়ারী 2016 01:01

বিদর্শন ভাবনা কীভাবে শুরু করবেন? (পর্ব-১)

লিখেছেনঃ ইলা মুৎসুদ্দী

বিদর্শন ভাবনা কীভাবে শুরু করবেন? (পর্ব-১)

আজ থেকে ধারাবাহিকভাবে ধ্যান বিষয়ে কিছু উপস্থাপন করব। যারা এই বিষয়ে আগ্রহী আশা করি তারা উপকৃত হবেন। 
বিদর্শনকে পালিত বিপস্সনা বলা হয়। বিপস্সনা শব্দটি বিপস্সনা সহযোগে গঠিত হয়েছে। বিভিন্নতা অর্থে বি এবং দেখা অর্থে পসসনা ব্যবহৃত হয়েছে। 
এখন প্রশ্ন হতে পারে বিভিন্ন ভাবে কি দেখব? আমাদের দেহের ষড় ইন্দ্রিয় দ্বারে বর্তমান সময়ে যাহা কিছু বিষয় বা আলম্বন উৎপন্ন হয় সে সব বিষয়কে স্মৃতি দ্বারা দর্শন করতে হবে। এ অর্থে বিদর্শন। 
এ ভাবনা কোথায় করবেন? 
আমরা অঙ্গুত্তর নিকায়ে দেখা যায়, ভগবান বুদ্ধ আনন্দকে কর্মস্থান ভাবনা নির্দেশ করতে গিয়ে ভাবনার তিন আদর্শ স্থানের কথা উল্লেখ করেছেন, অরণ্যে, বৃক্ষ মূলে অথবা শূণ্যগারে গিয়ে ধ্যান করার সময়......। যদিও ভগবান অরণ্য, বৃক্ষ মূল, কিংবা শূণ্যগারকে ভাবনার সবচেয়ে আদর্শ স্থান বলে বর্ণনা করেছেন তথাপি যে কোন নির্জন স্থানকে আমরা ধ্যানের স্থান রূপে নির্বাচন করতে পারি। কারণ কোলাহল পূর্ণ স্থান প্রারম্ভিক যোগীদের পক্ষে ধ্যানের অনুকুল স্থান নয়। কোন অবস্থায় ভাবনা করবেন? 
তিট্ঠং, চরং, নিসিন্নং বা সয়ানো অর্থাৎ দাঁড়িয়ে, হেঁটে, বসে অথবা শুয়ে- এ চারি ঈর্যাপথে অবস্থান করে আমরা বিদর্শন ধ্যানাভ্যাস করতে পারি। 
ধ্যানে কেমন করে বসতে হবে তার নির্দেশ করতে গিয়ে বুদ্ধ বলেছেন- ভিক্ষুগণ ! পদ্মসনে উপবিষ্ট হয়ে মেরুদণ্ড সোজা করে স্থাপন করে কর্মস্থানাভিমুখে বা মুখ সমীপে স্মৃতি স্থাপন করবে। চোখ বন্ধ করার নির্দেশ না থাকলেও একাগ্রতা আনার জন্য চোখ বন্ধ করাও বাঞ্ছনীয়। কোন কিছুতে হেলান দিয়ে বসতে নেই। পদ্মসনে বসে সোজা হয়ে বসার নির্দেশ থাকলেও যদি কারো সেভাবে বসতে অসুবিধা হয় তাহলে সুখাসনে বা যেকোন সুবিধাজনকভাবে বসতে পারেন। বসা ধ্যান নয়, আসল কথা হল স্মৃতি স্থাপনই ধ্যান। 
কোন বিষয়ে ধ্যান করবেন? 
উৎপন্ন বিষয়াদির প্রতি স্মৃতি স্থাপন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করতে গিয়ে বুদ্ধ মধ্যম নিকায়ের উপরিপঞ্ঞাসের মহাকচ্চানভদ্দেকরত্ত সূত্রে বলেছেন-
অতীতের বিষয়ের দিকে চিন্তা করবেন না, ভবিষ্যতের প্রতিও মনোনিবেশ করবেন না, অতীত এবং ভবিষ্যতের বিষয়াদিকে পরিত্যাগ করে কেবল বর্তমানে ষড়-ইন্দ্রিয় দ্বারে যখন যে অবস্থা উৎপন্ন হয় সে সে বিষয়কে বিশেষভাবে দর্শন করতে হবে। ইহাই বিদর্শন। এখানে অতীতও নেই, ভবিষ্যৎও নেই। কেবল বর্তমান। কারণ, অতীত তো অতীত হয়েই গিয়েছে এ বিষয়ে অনুশোচনা বা আনন্দ প্রকাশ করে তো কোন উপকার আসতে পারে না। আর ভবিষ্যত তো অজানা। পরমুর্হুতে কি ঘটতে চলেছে তা আমাদের জানা সম্ভব না। সুতরাং বর্তমান জানাটা হচ্ছে জ্ঞান, বর্তমান জানাটাই হচ্ছে বিদ্যা।
ইলা মুৎসুদ্দী
সূত্র ঃ বুদ্ধ বন্দনা ও সাধনা পদ্ধতি

Additional Info

  • Image: Image